ইবির 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়



রাশেদ রহমান, ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্য , ছবি: বার্তা২৪.কম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্য , ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৭১ সালের মার্চ মাস। এই মাসেই শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যার যা ছিল, তাই নিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলার দামাল ছেলেরা। এরপর দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা।

যুদ্ধে সেই দিনগুলো স্মরণ, শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শত্রুর বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিময় ভাস্কর্য রয়েছে। যেগুলো চির জাগ্রত হয়ে যুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এমনি একটি ভাস্কর্য 'মুক্তবাংলা'।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের অন্যতম এই স্মারক ভাস্কর্যটি আধুনিক স্থাপত্য শিল্পের আঙ্গিকে ১৯৯৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের পূর্ব পাশে স্থাপন করা হয়। খ্যাতিমান স্থপতি রশিদ আহমেদের নকশার ভিত্তিতে এটিকে অপরূপ এক সৌন্দর্যে রূপ দেওয়া হয়। যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে।

'মুক্তবাংলা'র সাতটি স্তম্ভ সম্বলিত গম্বুজের ওপর রয়েছে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার রাইফেল, যা সাত সদস্যের মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভার প্রতীক। প্রতিটি স্তম্ভ বিস্তৃত প্রসারিত হাত উল্লাসিত অবয়বে স্থাপত্য ভিত্তিক আর্চ রচিত, চোখে লাল সূর্য উদয়ের প্রত্যাশা। সর্বনিম্নে বিস্তৃত সিরামিক বড় ইট লাগাতর আন্দোলনের নির্দেশক।

এছাড়া উপর থেকে চতুর্থ ধাপে লাল সিরামিক ইট আন্দোলন ও যুদ্ধের প্রতীক, দ্বিতীয় ধাপে কালো পাথর শোক ও দুঃখের প্রতীক, তৃতীয় ধাপে সাদা মোজাইক সন্ধি ও যোগাযোগের প্রতীক এবং বেদির মূল মেঝে সবুজ মোজাইক নীল টাইলস শান্তির প্রতীক। সম্পূর্ণ অবকাঠামোটি সাতটি আর্চ সম্বলিত একটি অর্ধ উদিত (উদীয়মান) সূর্য।

মুক্তবাংলার এই সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব উপভোগ করতে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও প্রতিদিন দর্শনার্থীর পদচারণা ঘটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণ প্রিয় মানুষের আগমন ঘটে এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকতে ডানদিকে সবার নজর কাড়ে ব্যতিক্রমী মুক্তিযুদ্ধের এই স্থাপত্য কর্মটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহসান নাইম বলেন, 'ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের বিজয়। আর এই বিজয়ের স্মারক আমাদের মুক্তবাংলা ভাস্কর্য। এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রাম ও বিজয়ের কথা মনে মনে করিয়ে দেয়। যাতে করে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও চির কাঙ্ক্ষিত বিজয়কে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।'

ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, 'আমরা স্বাধীনতাকে আমাদের হৃদয়ে ধারণ করি। এরপরও যখন প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর আমরা মুক্তবাংলার সম্মুখে উপস্থিত হই, তখন এর মহাত্ব্য ও বিশেষত্ব সম্পর্কে ধারণা পাই। এর মাধ্যমে জানতে পারি আমাদের পূর্ব প্রজন্মের ত্যাগ ও বিজয়ের স্বাদ সম্পর্কে।'

বিজয়ের মাসে 'মুক্তবাংলা' ভাস্কর্যটি আমাদের কি বার্তা দেয়, সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, 'আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ভাস্কর্যই আলাদা গুরুত্ব বহন করে। এর মধ্যে মুক্তবাংলা ভাস্কর্য নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয়ের বার্তা দেয়। যাতে এর মাধ্যমে আমাদের যে গৌরবান্বিত ইতিহাস রয়েছে, সে সম্পর্কে তারা ধারণা পেতে পারে।'

১০৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বাজেট পেল হাবিপ্রবি



হাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হাবিপ্রবি

হাবিপ্রবি

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ৫১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১০ হাজার ৫১৫ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) । বাজেটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি ০৪ লক্ষ টাকা এবং ইউজিসি’র জন্য ৭১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১০৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে ২য় অবস্থানে হাবিপ্রবি।

সোমবার (১৬ মে) ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে ১৬২তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদিত হয়। পরে সভার কার্যপত্র তুলে ধরেন ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান।

সূত্র হতে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেটে ৬ হাজার ২৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার রাজস্ব বাজেট ও ৪০টি প্রকল্পের অনুকূলে ৪ হাজার ৪২০ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার উন্নয়ন বাজেট রয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ০৯ হাজার ৫৭৭ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। সে হিসাবে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৩৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৬৪ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা এবং সবচেয়ে কম বাজেট পেয়েছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা ৩ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা।

উচ্চশিক্ষায় ইউজিসি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ৩২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে মূল বাজেটে গবেষণা খাতে ১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। উল্লেখ্য, আগামী অর্থবছরে ইউজিসি’র জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত ৭১ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য ২০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি।

;

‘ইতিহাসে শিক্ষাখাতে বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল বঙ্গবন্ধুর আমলে’



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক বাজেট সংলাপ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক বাজেট সংলাপ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষা খাতে বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে, ১৯৭৩ সালে। আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের একচুয়াল বাজেট এবং মূল বাজেটের মধ্যে ২৫% এর মত একটি গ্যাপ থেকে যায়। যার মৌলিক কারণ হলো গুড গভর্নেন্সের অভাব।

মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুরে অধ্যাপক মুজাফফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির উদ্যোগে ‘বাজেট ২০২২-২৩: অতিমারি থেকে সমৃদ্ধির পথে অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক প্রাক বাজেট সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রাক বাজেট সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

;

ঢাবি সিনেট নির্বাচন: ৩ শিক্ষককে অযোগ্য ঘোষণা করতে আইনি নোটিশ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতে অভিযুক্ত তিন শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেটের আসন্ন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করতে আইনি নোটিশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই ও দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আর আই চৌধুরী।

গত সোমবার (১৬ মে) সিনেটের নির্বাচন কমিশনার ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ডাকযোগে এ নোটিশ পেয়েছেন বলে জানা যায়।

অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষকের মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন তারই বিভাগের এক ছাত্রী, যা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে তদন্তাধীন।

এছাড়া গত বছরের ২২ নভেম্বর লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও যৌন হয়রানি নিয়ে ঢাবির প্রযুক্তি ইউনিটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (নিটার) ৩৭ জন শিক্ষক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অন্যদিকে, ডিন থাকাকালীন ফার্মেসি অনুষদের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন মর্মে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এস এম আব্দুর রহমানের বিরদ্ধে দুদকে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে (১৭ মে) এটি (আইনি নোটিশ) আমার অফিসে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি নিয়মমাফিক রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি। তিনিই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল অ্যাডভাইজারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন।

আইনি নোটিশে বলা হয়, অত্যন্ত লজ্জা ও পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঢাবির মতো একটি পবিত্র বিদ্যাপীঠের অতীব গুরত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বডি (কমিটি) সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে নীল দলের প্যানেলে মনোনয়ন পেয়েছেন যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুজন ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় দুদকে অভিযুক্ত একজন শিক্ষক, যা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুলভাবে প্রচারিত হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও টানা ৩য় মেয়াদে সরকারে থাকা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের শিক্ষক প্যানেলের ৩৫ সদস্যের মধ্যে উল্লেখিত তিন শিক্ষক থাকায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু একজন অ্যালামনাই হিসেবেই নয়, দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সমর্থক হিসেবে আমি অত্যন্ত মর্মাহত, ব্যথিত ও লজ্জিত।

তিন শিক্ষককে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে নোটিশে বলা হয়, দেশের মিনি পার্লামেন্ট খ্যাত সকল আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার পবিত্র এ বিদ্যাপীঠের সিনেটে ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে অভিযুক্তদের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আপনার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১২ মে নির্বাচনের প্যানেল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নীল দল ও সাদা দল (বিএনপি-জামায়াত সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন) তাদের ৩৫ সদস্যের মনোনীত প্যানেল রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্বাচন শাখায় জমা দেয়। তবে অভিযুক্তদের কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি বলে জানিয়েছেন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদ।

অধ্যাপক সামাদ বলেন, আমাদের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। যাদের নাম জমা দেওয়া হয়েছে তারাই চূড়ান্ত।

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেটে ৩৫ জন শিক্ষক প্রতিনিধির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রায় ২ হাজার শিক্ষক ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন এ নির্বাচনে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

সিনেটে সর্বশেষ শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ২২ মে। সে সময় আওয়ামীপন্থী নীল দলের ৩৩ জন ও বিএনপিপন্থী সাদা দলের দুই জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়।

;

নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের

নতুন কমিটির দায়িত্বের পর ঢাবিতে উপস্থিতি বাড়ছে ছাত্রদলের

  • Font increase
  • Font Decrease

নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উপস্থিতি বাড়ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিয়ামসহ হলে হলে গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নির্যাতনের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

সোমবার (১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহবস্থান নিশ্চিতের দাবি করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি ও ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে কাজী রওনকুল ইসলামকে সভাপতি ও সাইফ মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ছাত্রদলের আংশিক কমিটির অন্যান্য পদে এসেছেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।

;