বিজয় দিবসে বেরোবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা



আদিব হোসাইন, বেরোবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছবি: বার্তা২৪.কম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্য বীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন ১৬ ডিসেম্বর। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন।

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিন অপরাহ্ণে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শক্তি হিসেবে কাজ করেছে আমাদের তরুণরা। তাই দেশের প্রতি তরুণদের উদ্যোগী হওয়া খুব জরুরি। তরুণ সমাজকে হতে হবে সচেতন, উদ্যমী ও সাহসী। বিজয় দিবস নিয়ে কী ভাবছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। এই ভাবনার কথা বার্তা২৪.কম-কে জানিয়েছেন তারা।

বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লাভলী সুলতানা বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৯ বছরে আমরা পদার্পণ করলাম। স্বাধীনতা বা বিজয় আমাদের মধ্যে যে স্পৃহা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, সেই স্পৃহাকে পাথেয় করে আমাদের সমনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা তরুণ প্রজন্মই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পারি। স্বাধীনতার চেতনাকে সকলের মধ্যে ধারণ করতে হবে, তবেই একটি স্বচ্ছ, সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠন হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেরোবি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, ক্যাম্পাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত ভাস্কর্য স্থাপন করার জন্য। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বা ম্যুরাল থাকলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। ভাস্কর্য স্থাপিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত রাখবে।’

অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘বিজয় দিবস বলতে একটা সময় ঈদ-পূজার মতোই উৎসব বোঝাতো। ঘরে ঘরে যেন আনন্দ উৎসব। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিজয় দিবস অনেকটা মেকি উদযাপনের মতো। দিনে দিনে আরও হারাচ্ছে তার নিজস্বতা। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ও চেতনা জাগ্রত করাটা ভীষণ প্রয়োজন। এ জন্য বইয়ের বিকল্প হিসেবে সিনেমা ও নাটকই হতে পারে অন্যতম পন্থা। শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই নয়, আমাদের নবীন প্রজন্মকে জানাতে হবে বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে। এই দেশে জন্মে এই দেশের আলো-বাতাস গায়ে মেখে শুধুমাত্র সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে তারা বড় হচ্ছে বিজাতীয় সংস্কৃতিতে।’

শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা মেধা বলেন, ‘বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে গৌরবময় ৪৮তম বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে আজ। আমাদের বিজয় দিবস যেন শুধু উদযাপনেই আর দেশপ্রেম যেন লাল-সবুজে আবৃত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেয়াতেই সীমাবদ্ধ না হয়। আমি স্বপ্ন দেখি এমন একটি রাষ্ট্রের যেখানে থাকবে না কোনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ বিভেদ বঞ্চনা আর শোষণ। আসুন, আমি আপনি আমরা সবাই মিলে এগিয়ে নিয়ে যাই আমাদের বাংলাদেশকে।’

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা কে মুরাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের স্বাধীনতা দিবস অন্যদের থেকে আলাদা। কারণ ত্রিশ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি বিজয় দিবস থাকার ঘটনা বিরল। একটা সময় ছিল যখন বিজয় দিবস মানে ছিল শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ। মুক্ত বাতাসে পতাকা ওড়ানো। লাল-সবুজকে সম্মান জানিয়ে কাগজের পতাকা দিয়ে বাড়ির ছাদ আর রাস্তা সাজানো। বিজয়ের ৪৮ বছরে এসে আরও কিছু নতুনত্ব যোগ হয়েছে। শুধু বাড়ির ছাদ কিংবা সামনের রাস্তা নয়, নিজেকেও সাজিয়ে নিতে হবে লাল-সবুজ দিয়ে। বিভিন্ন ধরনের লাল-সবুজের কম্বিনেশনের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি-শার্ট পরে বিজয় দিবস উদযাপন সত্যিই অনেক উৎসাহ জোগায়।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয়য় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনীম মোনোয়ারা সূচনা মনে করেন, ‘লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। তবে স্বাধীনতা অর্জন হলেও সর্বস্তরের মানুষের মুক্তি আজও অর্জিত হয়নি। আমাদের বিজয় সেদিনই সফল হবে, যেদিন বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের অবদানে বাংলার ১৬ কোটি মানুষের মুখ থাকবে হাস্যোজ্জ্বল, থাকবে না দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না অশিক্ষা। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ।’