ঢাবির হলে ৪ শিক্ষার্থী‌কে রাতভর নির্যাতন



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চার শিক্ষার্থীকে ‘বিশেষ দলের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। আহত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান হলের একাধিক শিক্ষার্থী।

মারধ‌রের শিকার চার শিক্ষার্থী হ‌লেন, মুকিনুল হক চৌধুরী (ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ২য় বর্ষ), সানোয়ার হোসেন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ), মিনহাজ উদ্দিন (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃ‌তি বিভাগ, ২য় বর্ষ) ও আফসার উদ্দিন (আরবি বিভাগ, ২য় বর্ষ)।

ঢাবি শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ ওঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, হল সংসদের ভিপি সায়ফুল্লাহ আব্বাসীসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জহুরুল হক হলের একাধিক শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কম-কে জানান, দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে হলের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে যায়। শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন নানা প্রশ্ন করে মানসিক চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে জোরপূর্বক শিক্ষার্থী (মুকিনুলের) মোবাইল কেড়ে নিয়ে মারধর করা শুরু করে। পরে তার সঙ্গে আরও তিনজন শিক্ষার্থী যুক্ত আছে বলে তাদেরকেও গেস্টরুমে ডাকা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের রড-স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করা হয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিক্ষার্থীরা মেঝেতে শুয়ে পড়ে এবং চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে । পরে তাদের আহত অবস্থায় প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

অভিযুক্ত শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি সাইফুল্লাহ আব্বাসী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে (স্ক্রিন শর্ট) আমাদের কাছে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল যে তারা শিবিরের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। আমরা তাদের এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে ডাকি এর আগে হল প্রভোস্টকে জানানোর চেষ্টা করি। প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় আবাসিক শিক্ষক বিল্লাল হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বলেন, তাদের নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা নির্যাতন করবো কেন? তাদের হল আবাসিক শিক্ষক এবং প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে থানায় দেওয়া হয়েছে। মারধর না করা হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুলিশ কেন হাসপাতালে নিয়ে গেছে সেটা আমরা জানি না।

হলের আবাসিক শিক্ষক বেল্লাল হোসেন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, শুধু আমি নয়, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ছিল। তাদের জিজ্ঞাস করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এমন একটা খবর পাওয়ার পর আমরা প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে পাঠাই। পরে প্রক্টরিয়াল টিম তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছে। মারধরের বিষয়ে তিনি জানেন না বলেও দাবি করেন।

এদিকে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, আমি বাইরে আছি। তবে ৪ জন শিক্ষার্থীকে থানায় আনা হয়েছে। তাদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত এখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।