করোনা মোকাবিলায় ‘উদাসীন’ জাবি

জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: সংগৃৃহীত

ছবি: সংগৃৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মোকাবিলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশ্বের বর্তমান আতঙ্ক এ ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই কোনো পরিকল্পনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের গণরুমগুলোতে গাদাগাদি করে থাকছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি রুমে ৩০-১০০ জন শিক্ষার্থী থাকছেন। ফলে বাড়ছে আশঙ্কা, আতঙ্ক কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ক্লাস পরীক্ষা চলমান থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে আতঙ্কে সময় পার করছেন এসব শিক্ষার্থী।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রেও করোনা মোকাবিলায় নেই কোনো রকম প্রস্তুতি। কোয়ারেন্টাইন, থার্মাল স্ক্যানার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা মাস্কেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া করোনা ঠেকাতে প্রতিরক্ষামূলক কোনো কমিটি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চিকিৎসক ডা. শামছুর রহমান।

ডা. শামছুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার কোনো ধরনের ব্যবস্থা আমাদের কাছে নেই। তবে তেমন কোন অবস্থা বা আশঙ্কা পেলে আমরা ঢাকা মেডিকেল বা সোহরাওয়ার্দীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করবো সেখান থেকে আইইডিসিআরের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করার জন্য আমি গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সে ব্যাপারে কোন অগ্রগতি দেখছিনা। এর মধ্যে কিছু প্রটেকশনমূলক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের লক্ষ্যে বাজেট চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারকে চিঠি দিয়েছি সেটারও কোনো উত্তর আমাকে জানানো হয়নি। এ অবস্থায় আমরা প্রত্যেকটি হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি এবং নির্দেশনাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। মেডিকেল সেন্টারের ছোট্ট পরিসরে আসলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় কাভার দেওয়া সম্ভব না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছু করার থাকে না।

করোনা মোকাবিলায় পদক্ষেপ ও করনীয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর (চলতি) ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সভাপতি তাজউদ্দিন সিকদার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের গণরুমগুলোর যে অবস্থা সেক্ষেত্রে কোনোভাবে যদি একবার ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তবে তা আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে। ভাইরাস প্রতিরোধে আসলে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে সেটাই আমরা জানি না। একটা কাজ করার আছে সেটা হলো সেলফ কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে ভাবছে তবে সরকারের কাছ থেকে কোন একটি নির্দেশনা না আসলে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া কঠিন। সম্ভবত এ সপ্তাহের মধ্যেই কোন সিদ্ধান্ত আসবে।

আপনার মতামত লিখুন :