৫০ কোটি টাকা পাচার, ধামাকা শপিংয়ের ১৪ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পাচারের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধাকামা শপিং ডটকম সংশ্লিষ্ট ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জসিম উদ্দিন চিশতির ব্যক্তিগত পাঁচটি এবং তার মালিকানাধীন ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাতটি এবং মাইক্রো ট্রেড ও মাইক্রো ফুড এন্ড বেভারেজের একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রাথমিক তদন্তে এসব অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকদের ৫০ কোটি টাকা পাচারের ভয়াবহ তথ্য উঠে আসার পর অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে সংস্থাটি। গতবছর নভেম্বর থেকে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করলেও ধামাকার নিজস্ব কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খুলে এসব অ্যকাউন্টে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে কোম্পানিটি।

আপাতত ৩০ দিনের জন্য ব্যাংক একাউন্টগুলো জব্দ করে রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সিআইডিকে জানিয়েছে, আরও লম্বা সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করে রাখার দরকার হলে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।

এছাড়া গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার সিরাজুল ইসলাম রানাসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ তাদের ন্যাশনাল আইডেনটিটি নম্বর (এনআইডি) ব্লক করা হয়েছে। এই পাঁচ কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে সিআইডি। কোম্পানিটির এমডি জসিম উদ্দিন আগে থেকেই বিদেশে রয়েছেন।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে অর্থপাচারের তথ্য পাওয়ার পর ধামাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলাম। তার প্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠানটির ১৪টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বিএফআইইউ।

সিআইডি সূত্র বলছে, ধামাকা গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারসহ অন্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলেছে। তদন্তে ধামাকার গ্রাহকদের ২৮ কোটি টাকা বিনিয়োগের নামে ভিন্ন আরেক প্রতিষ্ঠান মাইক্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজের অ্যাকাউন্টে সরানো হয়েছে। পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ধামাকা শপিংয়ের নামে ই-কমার্স ব্যবসার কোনো লাইসেন্স নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকমের লাইসেন্সে ই-কমার্স ব্যবসার অনুমতি নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

গত বছরের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে ধামাকা। ইভ্যালির মতো গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ধামাকা ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত অফার দিয়ে গ্রাহকদের থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম হিসেবে তুলে নিয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি মার্সিডিজ বেঞ্জসহ নামীদামী বিভিন্ন ব্যান্ডের গাড়িতে ৩৫% অফার দিয়ে চমক সৃষ্টি করে।