পেট্রোবাংলার নতুন চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত সচিব নাজমুল আহসান। তিনি পেট্রোবাংলায় যোগদানের পূর্বে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত ছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সোমবার (৬ ডিসেম্বর) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান পদে প্রেষণে নিয়োগ করা হয়।

নাজমুল আহসান বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচে ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল যোগদান করেন। কর্মকালীন সময়ে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার জেলা প্রশাসকসহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও তিনি বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাড়ল সবজির দাম, কমেছে আলু-মুরগির



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সপ্তাহের ব‍্যবধানে রাজধানীর বাজারে আরেক দফা দাম বেড়েছে সবজি, চাল, আটা ও তেলের। বিপরীতে কমেছে ব্রয়লার মুরগি, টমেটো ও আলুর দাম। ভরা মৌসুমে সবজির দাম আরেক দফা বাড়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও নিম্নমধ‍্যবিত্ত মানুষ।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচাবাজার, খিলক্ষেত বাজার, আজিমপুর কাঁচাবাজার ও হজ্জ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা কাঁচা বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। 

বাজারে আরেক দফা দাম বেড়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা ও বেগুনের। প্রতি পিস ফুলকপি ৪০-৫০, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা, শসা বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা কেজি এবং লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেছি দরে। তবে টমেটো ও আলুর দাম কমেছে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে ৫ টাকা কমে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা, নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম ৬০, পেঁপে ৩০, করলা ৬০, মুলা ২০, কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল কুমড়া প্রতি পিস ৩৫-৪০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


তবে আরও কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কেজিতে ১০ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা, সোনালী মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, লেয়ার ২২০ থেকে ২২৫, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি। গরুর মাংস কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৮০-৬০০, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা কেজি।

বাজারে কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে চিকন ও মাঝারি আকারের চালের। তবে একটাকা কমেছে মোটা বা গুটি চালের দাম। বাজারে এখন মোটা চাল কেজিপ্রতি ৪৪-৪৬, মাঝারি ৫৪-৫৫ ও চিকন চাল ৬২-৬৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে।খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, প্যাকেটজাত বিক্রি হচ্ছে ৪২- ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।

ভোজ‍্য তেলের দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা পযর্ন্ত। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৩-১৪৮ টাকা, বোতলজাত বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, খোলা পাম অয়েল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে  ১৩২- ১৩৬, পাম অয়েল সুপার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা লিটার।

বাজারে রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে  ৪৫০, শিং ও টাকি ৩৫০, শোল ৬০০ টাকা কেজি দরে। তেলাপিয়া ও পাঙাশ বিক্রি হয়েছে ১২০-১৫০ টাকা,  এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। ছোট ইলিশ ৬০০, নলামাছ ২০০ ও চিংড়ি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা, আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 

 

 

;

হয়ে গেল ‘স্বপ্ন’-এর গুলশান ১ শাখার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৭ বছরে পা রাখলো গুলশান ১ নাম্বারে অবস্থিত দেশের নাম্বার ওয়ান সুপারশপ ‘স্বপ্ন’

৭ বছরে পা রাখলো গুলশান ১ নাম্বারে অবস্থিত দেশের নাম্বার ওয়ান সুপারশপ ‘স্বপ্ন’

  • Font increase
  • Font Decrease

২০ জানুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার। এই দিনে ৭ বছরে পা রাখলো গুলশান ১ নাম্বারে অবস্থিত দেশের নাম্বার ওয়ান সুপারশপ ‘স্বপ্ন’-এর এই শাখাটি। গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় থাকা এই আউটলেটটি ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করেছিল।

বৃহস্পতিবার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল গ্রাহক ও স্বপ্নকর্মীদের মাঝে দারুণ এক আনন্দঘন সময়। রং বেরং-এর বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছিল পুরো আউটলেট প্রাঙ্গন। মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশে আউটলেটের পক্ষ থেকে প্রবেশপথে গ্রাহকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

দুপুর ১টায় আউটলেটে হাজির হান স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির (Sabbir Hasan Nasir)। গুলশান ১ শাখার ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আউটলেটের কর্মীদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন তিনি। কেক কাটার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বপ্ন’র হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সাইফুল আলম রাসেল -Saiful alam Rasel ( Head of retail admitistion), হেড অব বিজনেস ডেভলপমেন্ট এহসান মাহবুব (Eshan mahabub ( Head Of business Development), সিনিয়র রিজিওনাল অপারেশন ম্যানেজার কামরুজ্জামান স্বাধীন (Kamruzzaman shadhin (Snr. Regional operation Manager), রিজওনাল অপারেশন ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম (Ashraful Islam, Regional Head Of Operation), হেড অব বিজনেস (পিঅ্যান্ডপি)-এর সৈয়দ মমতাজ উদ্দিন Sayed montaz uddin ( Head of business PNP), হেড অব ইনভেন্টরি অ্যান্ড ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট নুরুল হাসান রুপক (Nurul Hasan Rupok (Head of inventory & cash management) , হেড অব কাস্টমার একুইজিশন এস.এন.নাজনীন (S. N. Naznin, Head of Customer Acquisition), মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী (Shah Md Rijvi Rony, Head of HR), গুলশান ১ শাখার আউটলেট ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, জুয়েল হাসান সহ অনেকে। আউটলেটের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শীর্ষ দশজন গ্রাহকদের হাতে আলাদাভাবে পুরস্কারও তুলে দেয়া হয়।

;

'অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে এসএমই খাত'



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন

  • Font increase
  • Font Decrease

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগ শিল্প ও ব্যবসা কুটিরসহ এমএসএমই খাতের আওতাভূক্ত। এ খাত দেশের অর্থনৈতিক  কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে। মোট শিল্প কর্মসংস্থানের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সৃষ্টি  হচ্ছে এসএমই খাতে। এসএমই খাত মোট অভ্যন্তরীণ শিল্পপণ্য চাহিদার শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে এসএমই ফাউন্ডেশনের দেশব্যাপী এসএমই ই-ডাটাবেজ তৈরির পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এটুআই এর সহযোগিতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার শ্যামপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, পিরোজপুরের নেছারাবাদ এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে- এই চার উপজেলায় পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী বলেন,  এসএমই ই-ডাটাবেজ কার্যক্রম অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের সকল এসএমই উদ্যোক্তার তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে পাওয়া গেলে এই খাতের উন্নয়নে সরকারের নীতি নির্ধারণ সহজ হবে। এ ধরনের কর্মসূচি অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এজন্য এসএমই ফাউন্ডেশন ও এটুআই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে আমি মনে করি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় এই খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু নিয়মিত হালনাগাদকৃত ডেটাবেজ না থাকার ফলে আমাদেরকে প্রায়ই সিএমএসএমই খাত নিয়ে নানাবিধ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেগ পেতে হত। তাই আমি মনে করছি, এসএমই ফাউন্ডেশন ও এটুআই’এর এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। আমি এটুআই’কে অনুরোধ জানাবো এসএমই ফাউন্ডেশন এর সাথে এই কাজ অব্যহত রাখতে এবং দেশের সকল সিএমএসএমই’কে কীভাবে এই ডেটাবেজের আওতায় আনা যায় তার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে। পাশাপাশি সকল সিএমএসএমই যেন তাদের সংশ্লিষ্ট সকল সেবা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরসমূহের সাথে যৌথভাবে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি এটুআই ও এসএমই ফাউন্ডেশনকে।

তিনি আরো বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, তহবিলের যোগান এবং ব্যবসার বিভিন্ন সেবা দেয়া নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করতে পারে এসএমই ফাউন্ডেশন ও আইসিটি বিভাগ।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

স্বাগত বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এ ২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান বর্তমান ২৫% থেকে ৩২% এ উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এটুআইয়ের সহযোগিতায় এসএমই ই-ডাটাবেজ সরকারের নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখবে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, এটুআই এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিগগিরই এসএমই ই-ডাটাবেজ তৈরির কাজ শেষ হলে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, পণ্য বাজারজাতকরণ এবং পণ্যের মানোন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, www.smef.nise.gov.bd এই ওয়েব লিংকে লগইন করে একজন উদ্যোক্তা নিজে/ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সহায়তায়/এসএমই ক্লাস্টার অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসএমই ই-ডাটাবেজের জন্য নিজেদের তথ্য আপলোড করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত সবশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশের মোট ৭৮ লাখের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ ভাগের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের।

;

ব্যাংকারদের সর্বনিম্ন বেতন বেঁধে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাংকারদের জন্য সর্বনিম্ন বেতন ২৮ হাজার টাকা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে বা অদক্ষতার অজুহাতে কোনও ব্যাংকারকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব‍্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব‍্যাংকের ব‍্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে। যা চলতি বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের একনিষ্ঠতা, নৈতিকতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা অটুট রাখার লক্ষ্যে তাদের যথাযথ বেতন-ভাতা প্রদান আবশ্যক। কিন্তু, সম্প্রতি লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, কতিপয় ব্যাংক কোম্পানির এন্ট্রি লেভেলের কর্মকর্তাগণের বেতন-ভাতাদি যথাযথভাবে নির্ধারণ না করে ইচ্ছামাফিক নির্ধারণ করা হচ্ছে; যা একই ব্যাংকের অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণের বিদ্যমান বেতন-ভাতাদির তুলনায় খুবই কম। উচ্চ এবং নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীগণের বেতন-ভাতাদির মধ্যে এতো অস্বাভাবিক ব্যবধান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, কোনো কোনো ব্যাংকে একইপদে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ভিন্ন ভিন্ন বেতন-ভাতাদি প্রাপ্ত হচ্ছেন। তাছাড়া, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে বিভিন্ন ব্যাংকে বেতন-ভাতাদির ভিন্নতার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিজ প্রতিষ্ঠান মনে করে একনিষ্ঠ ও অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে স্থায়ীভাবে ব্যাংকের কাজে মনোযোগী হওয়ার মনোভাব গড়ে উঠে না। ফলে অদক্ষতা, অসম প্রতিযোগিতা ও নৈতিক অবক্ষয়সহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতার উদ্ভব হচ্ছে যা সুষ্ঠু মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে অন্তরায় ও ব্যাংক কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর; যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে এবং ভবিষ্যতে মেধাৰী ব্যক্তিগণ যাতে ব্যাংকিংকে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহ হন সে লক্ষ্যে নিম্নবর্ণিত নির্দেশনাসমূহ ব্যাংকগুলোকে যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

>> এসিস্টেন্ট অফিসার/ট্রেইনি এসিস্টেন্ট অফিসার/ট্রেইনি এসিস্টেন্ট ক্যাশ অফিসার অথবা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, ব্যাংকের এন্ট্রি লেভেলে এরূপ নিযুক্ত কর্মকর্তাগণের শিক্ষানবিসকালে ন্যূনতম বেতন-ভাতাদি হবে ২৮,০০০ টাকা।

>> শিক্ষানবিসকাল সমাপনান্তে ৩.১ ক্রমিকে বর্ণিত কর্মকর্তাগণের প্রারম্ভিক মূল বেতনসহ ন্যূনতম সর্বমোট বেতন ভাতাদি হবে ৩৯,০০০ টাকা। নতুন নির্ধারিত বেতন-ভাতাদি কার্যকর করার পর একইপদে পূর্ব হতে কর্মরত কর্মকর্তাগণের বেতন-ভাতাদি আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে।

>> প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তার বেতন-ভাতাদির সাথে ব্যাংকে সর্বনিম্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের বেতন-ভাতাদির পার্থক্য যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। অনুরূপভাবে সকল স্তরের কর্মকর্তাগণের জন্যও আনুপাতিকহারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে।

>> কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীর বেতন-ভাতাদি কোনো অবস্থাতেই বর্তমান বেতন-ভাতাদির চেয়ে কম হবে না। এরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইনক্রিমেন্ট প্রদানপূর্বক বেতন ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে। এতদ্ব্যতীত, ব্যাংকের সার্ভিস রুলস্ অনুযায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগসুবিধা যথানিয়মে প্রাপ্য হবেন।

>> ব্যাংক-কোম্পানি কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মকর্তাগণের চাকরি স্থায়ীকরণ বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনের শর্ত আরোপ করা যাবে না।

>> শুধুমাত্র নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে ব্যাংক-কোম্পানীর কর্মকর্তাগণকে প্রাপ্য পদোন্নতি হতে বঞ্চিত করা যাবে না। অনুরূপ অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকুরিচ্যুত করা যাবে না, অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোনো অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকুরিচ্যুত করা বা পদত্যাগে বাধ্য করা যাবে না।

>> মেসেঞ্জার/পরিচ্ছন্নতাকর্মী/নিরাপত্তাকর্মী/অফিস সহায়ক অথবা সমজাতীয় পদে/সর্বনিম্ন যে কোনো পদে নিয়োগকৃত কর্মচারীগণের ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন-ভাতাদি হবে ২৪,০০০ টাকা।

>> উপরোক্ত ক্রমিকে বর্ণিত কর্মচারীগণের কাজ যদি চুক্তিভিত্তিক বা দৈনিক ভিত্তিতে বা আউট সোর্সিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগকৃত কর্মচারীগণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়, সেক্ষেত্রে ৩.৭ ক্রমিকে বর্ণিত কর্মচারীগণের বেতন-ভাতাদির সাথে সামজস্য রেখে এরূপ কর্মচারীগণের বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে হবে;

>> ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সেবা প্রদানে নিয়োজিত বিভিন্ন আউটলেটে নিযুক্ত ব্যাংকের এজেন্টগণ বা এজেন্টের মাধ্যমে নিযুক্ত ব্যক্তিগণের বেতন ভাতাদি/পারিশ্রমিক চুক্তি/স্ব স্ব এজেন্ট কর্তৃক নির্ধারিত হয় বিধায় তাদের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না:

>> রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের বেতন কাঠামো সরকার কর্তৃক জারিকৃত জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভূক্ত/অনুসরণে নির্ধারিত বিধায় উক্ত ব্যাংকসমূহের জন্য উপরে বর্ণিত নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না।

>> বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ পরিপালন নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ স্ব স্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী সভায় উপস্থাপনপূর্বক এ সকল নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকের এতদ্‌সংক্রান্ত নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনয়ন করবেন।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ এর উপ-ধারা (ঘ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হলো।

;