এখন থেকে সব কাজ কাগজবিহীন করবে ডিএসই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
এখন থেকে সব কাজ কাগজবিহীন করবে ডিএসই

এখন থেকে সব কাজ কাগজবিহীন করবে ডিএসই

  • Font increase
  • Font Decrease

এখন থেকে সব কাজ পেপারলেস বা কাগজবিহীন করবে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বুধবার ঢাকার নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে এর উদ্বোধন করেন স্টক এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ব্রোকারেজ হাউজ বা অন্য কোনো স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে যত নথি আসবে তার সবই ডিজিটাল নথিতে রূপান্তর হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে যাবে। এরপর ক্লাউডভিত্তিক অনলাইন ব্যবস্থায় ডিএসইর এক কর্মকর্তা থেকে অন্য কর্মকর্তা বা বিভাগে হস্তান্তর এবং মতামত, সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন যুক্ত হবে। চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অফিসে না থেকেও অনলাইনে কাজ সারতে পারবেন। কোনো কর্মকর্তার অফিসে অনুপস্থিত বা বিদেশ সফরের জন্য কোনো কাজ আটকে থাকবে না। আপাতত ডিএসইর অভ্যন্তরীণ সব দাপ্তরিক কাজ কাগজবিহীন হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে ক্রমে সব স্টেকহোল্ডারকে ইলেকট্রনিক নথি প্রেরণ ও গ্রহণ ব্যবস্থায় আনা হবে।

স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমে গতি আনতে ডিএসইকে পুরোপুরি ‘ডিজিটালাইজড’ এবং ‘অটোমেটেড’ করতে হবে মন্তব্য করে ইউনুসুর রহমান বলেন, দেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেলেও পুঁজিবাজার ও বীমায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এ দুই জায়গায় বিনিয়োগ করলে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা ঠকায় বলে সাধারণ মানুষ মনে করে। এ অনাস্থা কাটিয়ে তুলতে হবে। আমাদের ফ্রন্টিয়ার মার্কে থেকে ইমার্জিং মার্কেটে পরিণত হতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ডিএসইতে আসার আগে শুনতাম এখানে শতভাগ অটোমেটেড সিস্টেম। কিন্তু পরে দেখলাম বাস্তবে তা নেই। তবে অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন পুঁজিবাজারকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য অনেক কাজ করেছে। যার ফলে গত এক বছরে পুঁজিবাজারের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে পুঁজিবাজার নিয়ে গর্ব করার জায়গায় নেই। এখনো অনেক দূরে পড়ে রয়েছে আমাদের বাজার।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়ের ঘটনার পরে নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। তবে আমরা ক্লাউডভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান করলেও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কম। জমাকৃত তথ্য হ্যাকিং হওয়ার সুযোগ নেই। তবে তথ্য আদান-প্রদানের সময় ঝুঁকি আছে। কাগজবিহীন অফিস কার্যক্রমে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে বলে জানান ডিএসই এমডি।

জিআই সনদ পেল বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দশম পণ্য হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে বাগদা চিংড়ি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বাক্ষরিত ভৌগলিক নির্দেশক নিবন্ধন সনদে ‌‘বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি’কে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সংস্থাটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বেলাল হোসেন জানান, যাছাই বাছাই শেষে বাগদা চিংড়িকে জি আই সনদ দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদফতরের কাছে জিআই সনদ হস্তান্তর করা হবে।

সম্প্রতি দেওয়া এই স্বীকৃতি সনদে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যায়ন করা যাচ্ছে যে, ভৌগলিক নির্দেশক নিবন্ধন বইতে মৎস্য অধিদপ্তরের নামে ২৯ ও ৩১ শ্রেণিতে জিআই-১১ নম্বরে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি পণ্যের জন্য ০৪.০৭.২০১৯ থেকে নিবন্ধিত হলো।’

জানা গেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে বাগদা চিংড়ির জিআই সনদ পেতে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। গত বছরের ৬ অক্টোবর গেজেট এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে বিষয়টি প্রকাশ করে ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস বিভাগ। নিয়ম অনুযায়ী, জার্নালে প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে কেউ আপত্তি না করলে সেই পণ্যের জিআই সনদ পেতে আর কোনো বাধা থাকে না।গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ছিল এ বিষয়ে আপত্তি দেওয়ার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো দেশ এতে আপত্তি না করায় প্রথম আবেদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ জিআই সনদ পেয়ে যায়।ফলে বাগদা চিংড়ির একক স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশের।

দেশে প্রথম জিআই সনদ পায় জামদানি। পরে ঢাকাই মসলিন, রাজশাহীর সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, নেত্রকোনার সাদামাটি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ, কালিজিরা চাল, ইলিশ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায়। এসব পণ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।

;

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন



জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

ভিসতায় যোগ দিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন

  • Font increase
  • Font Decrease

চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিষেকের দিনেই গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নিজেদের উৎপাদিত ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ২০% ছাড়ের দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভিসতা ইলেকট্রনিক্স।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অভিনেতা,বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন ভিসতা ইলেকট্রনিক্সে।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক শিল্পেও ইলিয়াস কাঞ্চনের পথচলা নতুন নয়। এর আগেও তিনি ছিলেন ওয়ালটনের সাবেক ব্র্যান্ড এ্যাম্বাসেডর ও নির্বাহী পরিচালক।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে ঢাকা ওয়েস্টিন হোটেলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। "গ্র্যান্ড রিসিপশন টু ইলিয়াস কাঞ্চন' শীর্ষক অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভিসতা ইলেকট্রনিক্স এর চেয়ারম্যান সামছুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লোকমান হোসেন আকাশ, পরিচালক প্রকৌশলী মো. মইনুল হক, উদয় হাকিম, এইচভ্যাক এর পরিচালক প্রকৌশলী মো. শহীদ উল্লাহ, ভিসতার হেড অব মার্কেটিং তানভীর জিহাদ প্রমুখ।


ভিসতায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের নাম লেখানো ইলিয়াস কাঞ্চনের এদিনের অনুভূতিও ছিল অন্যরকম।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বললেন, ২০০৫ সালে যোগ  দিয়েছিলাম। সারা দেশের মানুষ তখন জানতো ওয়ালটনের একজন মালিক হিসেবে। সেটা আর সেভাবে তেমন কিছু হয়নি। এখন দেখছি আর অনেকেই ওয়ালটন ছেড়ে চলে এসেছেন। তাদের সাথে আমার কাজ করার বিষয় প্রাধান্য ছিল নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বিষয়টি। সে সময় তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বিষয়ে বেশ পৃষ্ঠপোষকতাও দিয়েছিল।

আপনারা জানেন, ওয়ালটনের প্রতিটি শোরুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত হতাম এবং প্রথমে গিয়ে বলতাম নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথা। কিন্তু ওয়ালটন নিরাপত্তা আন্দোলনের বিষয় থেকে সরে আসলো এবং আমিও সরে দাঁড়ালাম।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক চাই নামে একটি সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চলচ্চিত্র, মানুষের জন্য সামাজিক আন্দোলন, পণ্যের প্রচার-প্রসার সব ক্ষেত্রেই তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। উদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি সফল হবেন বলে ভিসতা পরিবারের প্রত্যাশা।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভিসতার যাত্রা শুরু। ভিসতা শব্দের অর্থ দূরদর্শী। এর ভাবার্থ সাফল্যের সিঁড়ি।

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে ভিসতা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের কারখানা স্থাপন করেছে। সেখানে অ্যান্ড্রয়েড এবং বিভিন্ন ধরনের টিভি উৎপাদন চলছে। চলতি বছরের মধ্যেই হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং এসি উৎপাদন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর স্মার্ট রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে যাবে ভিসতা। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বিভিন্ন ধরনের মনিটর, ভিডিও ওয়াল, ডিজিটাল সাইনেজ, ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ড, রাউটার, ল্যাপটপ, স্মার্ট মিরর, মেডিকেল ডিসপ্লে, ভিজারএফ এসি, এসেক্সরিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাত করতে যাচ্ছে ভিসতা।

;

‘ন্যাশনাল গ্রিড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বেসরকারি খাতের জন্য পলিসি গাইডের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ন্যাশনাল গ্রিড বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

মঙ্গলবার (১৭ মে) ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল কমিশন ফর এশিয়া প্যাসিফিক কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগে নিরাপত্তাসহ ১৫ বছরের ট্যাক্স ওয়েবার, আমদানি শুল্কে রেয়াতসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। স্রেডা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে লজিস্টিক ও কারিগরি সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করায় গত দশকে বিদ্যুৎ খাতে ১২ বিলিয়ন বিনিয়োগ হয়েছে এবং আগামী ১২ বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাত হতে ৪৪ শতাংশ আসছে। চলমান আটটি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টিই বেসরকারি খাতের। নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বেসরকারি খাতের ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সৌর বিদ্যুৎ রোডম্যাপ ২০২১-৪১ খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সমন্বিত বিদ্যুৎ জ্বালানি মাস্টারপ্ল্যানে ক্লিন এনার্জিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন উৎসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২৯টি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অফসোর উইন্ড, গ্রিন হাইড্রোজেন, ভাসমান সোলার, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, সোলার রূপটপ ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুনমাত্রা যোগ করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের (ইউএন) নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আসিজাবানা, ভারতের বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং, ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী আরিফিন তাসরিফ, নেপালের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সুরেন্দ্র লাব কর্ণ, ফিজির জ্বালানি বিষয়ক পরিচালক মিকেলি বেলেনা সংযুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন।

;

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের জন্য আত্মঘাতি হতে পারে



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকাঃ এই মুহূর্তে গ্যাস কিংবা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সরকারের জন্য চরম আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হয়ে দেখা দিতে পারে। বরং বিকল্প উপায়ে বিদ্যমান দর বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ক্যাব ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাব বলেছে, গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে বরং ইউনিট প্রতি ১৬ পয়সা কমানো সম্ভব আমরা অংক করে দেখিয়ে দিয়েছি। অস্বাভাবিক সিস্টেম লসের নামে পুকুরচুরি কমানো গেলেও দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয় না।

ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, সামগ্রিকভাবে ৮ শতাংশের উপর সিস্টেম লস দেখানো হচ্ছে, বিশ্বের কোথাও ২ শতাংশের উপর সিস্টেম লস নেই। দৈনিক কমবেশি ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পাইপলাইনে দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অন্যদিকে স্পর্ট মার্কেট থেকে গড়ে মাত্র ৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে যে গ্যাস টুকুর দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ গ্যাস ৫-৬ ডলারে পাওয়া যেতো এখন সেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ৩১ ডলার দিয়ে। চুরি যদি ৩ শতাংশ কমানো যায় তাহলেও স্পর্ট মার্কেট থেকে চড়া দামে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি করতে হয় না। আর স্পর্ট মার্কেট থেকে আমদানি করতে না হলে দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ আসে না।

সিস্টেম লস নিয়ে ক্যাবের আপত্তির সঙ্গে এক সুরেই গেয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। ২১ মার্চ গ্যাসের দাম ‍বৃদ্ধির গণশুনানিতে চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, গ্যাসের আদর্শ সিস্টেমলস ২ শতাংশের নিচে। বিশ্বের কোথাও এত বেশি সিস্টেমলস নেই। আমাদেরও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে এভাবে চলতে পারে না।

সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে। সবচেয়ে বৃহৎ বিতরণ কোম্পানিটির নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকার ৩০ শতাংশের উপরে সিস্টেম লস ধরা পড়েছে। যদিও তারা কাগজে কলমে সামগ্রিক সিস্টেম লস ১২ শতাংশের মতো উল্লেখ করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেছেন, গ্যাস সেক্টর সোজা পথে না গিয়ে ভুলপথে গিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। যথাযথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হলে আজকে এই সংকট তৈরি হতো না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অনুসন্ধান এবং পুরনো পরিত্যাক্ত কূপগুলো ওয়ার্কওভার করা যায়। স্লামবার্জারের একটি সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে সামান্য কিছু কাজ ও কিছু কূপের ওয়ার্কওভার করে ৩ থেকে ৪শ’ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। সেদিকে যাওয়া উচিত।

আশার কথা হচ্ছে, পেট্রোবাংলা সম্প্রতি এই পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে কৈলাশটিলা কূপ ৭ ওয়ার্কওভার করে ১৫ মিলিয়ন গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়েছে। সিলেট ৮ নম্বর কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে ৫ মিলিয়ন ও পরিত্যক্ত সালদা ২ নম্বর কূপে নতুন স্তর আবিষ্কার করে বাপেক্স।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে পেট্রোবাংলা বারবার বলেছে তার ভর্তুকির প্রতিশ্রুত ৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা পায় নি। মার্চ ২০২২ পর্যন্ত মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। অর্থমন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি। আর এই ৩ হাজার কোটি ভর্তুকি ধরেই আগামী বছরের অংক কষা হয়েছে। এতে বেজায় চটেছেন ক্যাব। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এমন আপদকালীন সময়ে ভর্তুকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উল্টো অর্ধেকে নামিয়ে আনা হলো, কে এই সিদ্ধান্ত দিলো। সরকার কি বলেছে আর ভর্তুকি দেবে না। গণশুনানিতে ক্যাবের জেরার মুখে টিইসি (কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি) স্বীকার করেন, সরকার যেটুকু দিয়েছে সেটাই ধরে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আর দেবে কি, দেবে না সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অবশ্য গণশুনানি পরবর্তী বিইআরসি জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে সরকার ভর্তুকি কত দিবে। সেই চিঠির কোন জবাব এখন পর্য ন্ত মেলেনি বলে জানিয়েছে বিইআরসি সূত্র।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থবিভাগ ও এনবিআর’র প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছেন, এনবিআর যেভাবে চর্তুদিক দিয়ে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে কিছুটা ছাড় দিলে দাম বাড়াতে হয় না। আগে যে তেলের দাম টন প্রতি ছিল ২৫০ ডলার, তখন ৩৪ শতাংশ ডিউটি আদায় করতো। সেই তেলের দাম ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এখনও ৩৪ শতাংশ ডিউটি অর্থাৎ ২৩৮ ডলার ডিউটি দিতে হচ্ছে। যা পূর্বের তেলের দামের সমান। এক ইউনিট এলএনজিতে ১৬ টাকার মতো ডিউটি দিতে হচ্ছে। এনবিআর’রতো লক্ষ্যমাত্রা থাকে, এখন যেহেতু কমহারে আদায় করলেও তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়, তাই হার কমিয়ে আনা উচিত। কিন্তু তারা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার বাহাবা নিতে গিয়ে জনগণকে চাপে ফেলছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, ভ্যাট-ট্যাক্সের বিষয়টি নিয়ে এনবিআর’র সঙ্গে বৈঠক করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি বিষয়টি সমাধান হবে। আর সমাধান হলে কিছুটা চাপ কমবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির বিষয়টি জনগণকে বুঝতে হবে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়ে টাকা থাকলেও পণ্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। দাম না বাড়িয়ে কিভাবে সামাল দেওয়া যায় তার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

করোনার ধাক্কা এখনও অনেকে সামলে উঠতে পারেন নি। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। কমবেশি সবপেশায় কিছু কিছু লোকজন চাকরি হারিয়ে বেকার জীবন যাপন করছেন। অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিসহ নানা কারণে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানা যাচ্ছে না। আজকে ভোজ্যতেল তো পরশু পেঁয়াজ, তার পরদিন রসুন কিংবা আদা এভাবেই বাজারকে অস্থির করে রেখেছে ভোগ্যপণ্য। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস কিংবা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হলে তার প্রতিঘাত অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে। গ্যাসের দাম সামান্য পরিমাণে বাড়লেও মধ্যস্বত্বভোগীরা সেই সুযোগ নিতে পারেন। যা সরকারের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে। অতীতে দেখা গেছে তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়লো আর বাস মালিকরা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় শুরু করে দিলেন। তারপর অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটে গেলো। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি হলে তেমনটি হবে না তার গ্যারান্টি নেই। আর সেটি হলে জনগণের ক্ষোভ গিয়ে পড়তে পারে সরকারের উপর।

পেট্রোবাংলা দাবি করেছে মিশ্রিত গ্যাসের পাইকারি ব্যায় (২০২২ সালে প্রতি ঘনমিটার) ১৫.৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। এ কারণে তারা ১১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির আবেদন করে। তবে বিইআরসি কারিগরি মূল্যায়ণ কমিটি ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পক্ষে মতামত দেয় গণশুনানিতে।

সবশেষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশে (২০১৯ সালে) পাইকারি দর প্রতি ঘনমিটার ১২.৬০ টাকা করা হয়। ভর্তুকি দিয়ে ৯.৭০ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয় বিইআরসি। মার্চে টানা ৪দিনব্যাপী গ্যাসের দামবৃদ্ধির উপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই রিপোর্ট চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোন দিন ঘোষণা আসতে পারে।

অন্যদিকে বুধবার (১৮ মে) বিদ্যুতের পাইকারি মুল্য বৃদ্ধির উপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পাইকারি পরেই স্বাভাবিকভাবে খুচরা দামবৃদ্ধির প্রসঙ্গ সামনে চলে আসবে।

;