ফিনটেক বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে: ড. সেলিম



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফিনটেক বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে: ড. সেলিম

ফিনটেক বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে: ড. সেলিম

  • Font increase
  • Font Decrease

টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি (ফিনটেক) অবলম্বনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ।

শনিবার (২ এপ্রিল) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি (আইবিটিআরএ) আয়োজিত এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে চিফ মডারেটর হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। গেস্ট পারটিসিপেন্ট ছিলেন ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী ও মোঃ ওমর ফারুক খান। সভাপতিত্ব করেন আইবিটিআরএ এর প্রিন্সিপাল এস এম রবিউল হাসান। ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, চিফ রিস্ক অফিসার, ক্যামেলকো, ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, জোনপ্রধান ও শাখাপ্রধানগণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়্যাল প্লাটফর্মে যুক্ত হন।

প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ বলেন, বাংলাদেশে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজ, ই-গভর্নেন্স ও ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর সহজলভ্যতার ক্ষেত্রে ভালভাবেই এগোচ্ছে। বাংলাদেশে ফিনটেক ইকোসিস্টেমের আকার বাড়ছে এবং আগামী বছরগুলোতেও তা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আর্থিক কার্যক্রমে অটোমেশন ও ডিজিটালাইজ করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের তুলনায় আরো বেশি গতিশীল হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইট ক্যাসেল পার্টনার্সের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফিনটেক ইন্ডাস্ট্রির বাজার বর্তমানে অসম্পৃক্ত অবস্থায় রয়েছে যেখানে উদ্ভাবনী আর্থিক পরিষেবা প্রসারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। জাতীয় ডাটাবেজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আর্থিক খাতে গতি বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, জাতীয় ডাটাবেজ ব্যবহার করে বিশ্বের কোন কোন দেশে ১৫ সেকেন্ডে মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়। এক্ষেত্রে আমাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে আমাদেরকে ইন্টারনেট সংযোগের অ্যাক্সেস, মান ও গতি এবং মোবাইল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব ও মনোযোগ দিতে হবে। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সামনে সফলভাবে মুখোমুখি হওয়ার অবকাঠামো, মানব সম্পদ, আর্থিক ও নীতিগত প্রস্তুতি সহ ডিজিটাল বাংলাদেশের ৪টি মৌলিক স্তম্ভের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগসমূহের কথা তুলে ধরেন। চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি,সাইবার-ক্রাইম, আস্থা ও সুসম্পর্ক তৈরি করা আর ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে এর সুযোগসমূহ হচ্ছে বর্ধিত গ্রাহক অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ফিনটেকের জন্য সহজলভ্যতা। তিনি বলেন, বিশ্বে  সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি-(সিডিবিসি) দ্রুত বাড়ছে। ৮৭টি দেশ সরকারি ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে কাজ করছে এবং ৭টি দেশে এটা পূর্ণরুপে চালু হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের কল সেন্টারের পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বট, এটিএম বুথের পরিবর্তে ক্যাশবিহীন লেনদেন এবং অডিট এড়াতে ব্লক-চেইনের উপর ফোকাস করতে হবে। টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য তিনি অ্যাপস এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের ৫২২ কোটি ইউনিক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে ফিনটেকের আওতায় আনার উপর জোর দেন।

তিনি বলেন বাংলাদেশের সরকারি কমিটমেন্ট, সহায়ক নীতি ও নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ল্যাব রয়েছে যা টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক জাতীয় নীতি অনুসরণ করে বলেই এই ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক টেকসই ব্যাংকের স্বীকৃতি দিয়েছে। তিনি বলেন, গ্লোবাল ফিনটেক মার্কেট ২০২৬ সালের মধ্যে ৩২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এ পরিবর্তন ও উন্নয়নকে গ্রহণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয়ভাবে উচ্চ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফিনটেক সলিউশনের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইসলামী ব্যাংক কাজ করছে। এই ব্যাংক সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক সেবা প্রদান করছে।  এছাড়া তিনি জানান ফিনটেক ব্যবহার করে আর্থিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিদের আর্থিক সেবার আওতায় আনতে ইসলামী ব্যাংকের ৬ হাজারের অধিক ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সকলকে ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।

‘স্বপ্ন’ এখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
‘স্বপ্ন’ এখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে

‘স্বপ্ন’ এখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে

  • Font increase
  • Font Decrease

রিটেইল চেইন শপ স্বপ্নের নতুন আউটলেট তেল ঘাট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ বাছের উদ্দিন, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, শুভাড্ডা ইউনিয়ন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোঃ নুরুল আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সোহেল শেখ (ইনভেস্টর), বিল্পব চন্দ্র দাস (ইনভেস্টর), মোঃ আলাউদ্দিন (ইনভেস্টর), মোঃ এনামুল হক সবুজ (ইনভেস্টর)। আরো উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নের হেড অব বিজনেস এক্সপেনশন মো. শামছুজ্জামান, মোঃ এস এম কাজিম, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার, স্বপ্ন ।

‘স্বপ্ন’র রিটেইল এক্সপ্যানশন বিভাগের পরিচালক সামসুদ্দোহা শিমুল বলেন, আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ পরিবেশে এখানকার মানুষ স্বপ্নতে নিয়মিত বাজার করবেন। স্থানীয়দের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পণ্য রাখা হয়েছে এ আউটলেটে।

নতুন এই আউটলেটের ঠিকানা : হাউজ: ০১, রোড: ০১, অলিনগর পারভীন কমিউনিটি সেন্টার, তেল ঘাট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ।

আউটলেটের উদ্বোধন উপলক্ষে গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মাসব্যাপী আকর্ষণীয় অফার। থাকছে হোম ডেলিভারি সেবা।

;

ট্রেনের টিকিট কেনা যাচ্ছে ‘নগদ’-এ, সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ট্রেনের টিকিট কেনা যাচ্ছে ‘নগদ’-এ, সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক

ট্রেনের টিকিট কেনা যাচ্ছে ‘নগদ’-এ, সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক

  • Font increase
  • Font Decrease

ট্রেনের যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল সাইট কিংবা নতুন মোবাইল অ্যাপ ‘রেল সেবা’ থেকে টিকিট কাটার সময় এখন থেকে ‘নগদ’-এ পেমেন্ট করতে পারছেন। ঈদের সময় সাধারণ যাত্রীদের বাড়ি যাতায়াতের ভোগান্তি দূর করতে ঘরে বসেই ট্রেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে পেমেন্টে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক চালু করেছে ‘নগদ’।

সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি ও ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মধ্যে এই সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে দেশের সাধারণ যাত্রীরা যেকোনো সময় ট্রেনের টিকিট কিনতে পারবেন, যা তাদের জীবনকে করবে ঝামেলাহীন।

যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল অনলাইন ই-টিকেটিং ওয়েবসাইট [eticket.railway.gov.bd] কিংবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ থেকে ‘নগদ’-এর গেটওয়ে ব্যবহার করে ট্রেনের টিকিট কিনতে পারবেন। ওয়েবসাইট কিংবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ থেকে টিকিট কিনে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট দিয়ে পেমেন্ট করলে যাত্রীরা পাবেন ১০ শতাংশ বা সর্বমোট ৫০ টাকা পর্যন্ত ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক।

তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাকের এই অফারটি চলবে আগামী ১৪ জুলাই ২০২২ পর্যন্ত। যেখানে ট্রেনের যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপ থেকে টিকিট কিনে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।

ক্যাশব্যাক অফারের সকল শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যাত্রীরা এই অফারটি উপভোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া এই অফারটি নিশ্চিত করতে যাত্রীদের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট অবশ্যই সচল থাকতে হবে। 

‘নগদ’-এর মাধ্যমে পেমেন্ট সুবিধার ফলে ট্রেনের টিকিটের জন্য এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। ফলে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য যাত্রীরা বাঁচাতে পারবেন তাদের মূল্যবান সময় ও অর্থ। পাশাপাশি বর্তমানে করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেও মিলবে মুক্তি।

ট্রেনের টিকিটের পেমেন্ট সুবিধা চালু নিয়ে দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ বলেন, ‘‘মানুষের জীবন ঝামেলাহীন করতে ট্রেনের টিকিট কেনার সেবা নিয়ে এসেছে ‘নগদ’। এখন থেকে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে কেনা যাবে ট্রেনের টিকিট। ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য ‘নগদ’-এর এই অফার ট্রেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে অনেকটা স্বস্তি দেবে। এভাবে ‘নগদ’ হয়ে উঠছে সবার ওয়ালেট, জাতীয় ওয়ালেট।’   

ট্রেনের টিকিট ক্রয় ও তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাকের এই অফার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যাত্রীরা ভিজিট করতে পারেন https://nagad.com.bd/campaign?offer=utshober-khushi-nagade-beshi-ticketing&utm_source=Facebook&utm_medium=Post&utm_campaign=UKNB-Railway&utm_content=UKNB-BR-19062022 এই লিংকে। অথবা কল করতে পারেন ১৬১৬৭ বা ০৯৬ ০৯৬ ১৬১৬৭ নম্বরে।

;

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট আজ সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

আজ বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯ টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।

এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ  দেয়া  হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির  ৬.২ শতাংশ।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২  হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা  হয়েছে।

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬  শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

;

২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা

২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ ঋণ বাড়ানোর প্রক্ষেপণ করে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকায় নতুন মুদ্রানীতিতে এই ঋণ প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ কম ধরা হয়েছে। এ মুদ্রানীতি কিছুটা সংকোচনমুখী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকেলে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের এটাই শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা। আগামী ৩ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হবে।

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ফজলে কবির বলেছেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং সম্প্রতি সংঘটিত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যার অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয় যে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জ হবে টাকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মান অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখাও আসন্ন মুদ্রানীতির জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সে বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি ও টাকার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বমুখী চাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করার নিমিত্তে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে, যা কিছুটা সংকোচনমুখী। সে আলোকে পুরো অর্থবছরের জন্য অর্থ ও ঋণ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট বক্তৃতার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সরকারের কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো হলো যথাক্রমে ৭.৫ ও ৫.৬ শতাংশ। এ লক্ষ্য ঠিক রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুরো ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১৩ শতাংশ ৬০ শতাংশ। চলতি জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ঋণ গ্রহণের প্রবৃদ্ধি ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে, তার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

;