রঙ উৎসব ঘিরে চা শ্রমিকদের সংস্কৃতি প্রকাশ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
সন্ধ্যা আলোয় ফাগুয়া উৎসবের অপূর্ব নৃত্যমুর্ছনা। ছবি: বার্তা২৪

সন্ধ্যা আলোয় ফাগুয়া উৎসবের অপূর্ব নৃত্যমুর্ছনা। ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বসন্ত সবার প্রাণেই দোল দেয়। বসন্ত মানেই রঙের খেলা। বৈচিত্র্যের খেলা। চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীরা তাই রঙ নিয়েই বসন্তকে বরণ করে নেয় তাদের প্রাণের অন্যতম ফাগুয়া উৎসব হিসেবে।

সন্ধ্যা নেমে আসার সাথে সাথে মঞ্চের আলোগুলো জ্বলজ্বল করে উঠলো। রঙের বর্ণচ্ছটায় সেই মঞ্চকে দেখা গেলো নানান রঙের মাঝে। মঞ্চ ছাপিয়ে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ফাগুয়া রঙ জীবনের পূর্ণতা এনে দিলো যেন।

লাল, হলুদ, সাদা প্রভৃতি রঙ ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠীদের প্রতীকী রঙ হয়ে মঞ্চ ঝলমল করেছিল। গানের ছন্দে নেচে নেচে চা বাগানের ক্ষুদে শিল্পীরা জানান দিচ্ছিলো তাদের আত্মসংস্কৃতিধারা।

নানান বয়সের শতসহস্র নারীপুরুষ আবির নিয়ে রঙের খেলায় মেতে উঠলে সবুজ চায়ের বাগানের হৃদয় কিছুক্ষণের জন্য যেনো নানান রঙে বর্ণিল হয়ে ওঠে।

রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগানে ফাগুয়া উৎসব-১৪২৮ আয়োজন করে ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদ। চা জনগোষ্ঠি থেকে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতৃত্বে ওঠে আসা ব্যক্তিদের সম্মিলনে শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরে ফুলছড়া চা বাগানের মাঠে আয়োজন করা হয় এই ফাগুয়া উৎসবের।

চা শ্রমিকদের পরিবেশিত ঝুমুরনৃত্য। ছবি: বার্তা২৪

উৎসবে কেবল রঙের হোলি খেলাই নয়, ছিল ভিন্ন ভিন্ন ২০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলো। পত্রসওরা, নৃত্যযোগি, চড়াইয়া নৃত্য, ঝুমর নৃত্য, লাঠিনৃত্য, হাড়িনৃত্য, পালা নৃত্য, ডং ও নাগরে, ভজনা, মঙ্গলানৃত্য, হোলিগীত, নিরহা ও করমগীত, ভৃমিজদের ঝুমুর নৃত্য, মুন্ড়াদের লাঠি নৃত্য, সাঁওতালদের ডং ও নাগড়ে, মাহাতো কুর্মীদের লাটি ও ঝুমুর নৃত্য একসাথে উপভোগ করতে পেরে যেমন আনন্দে ভেসেছেন চা শ্রমিকরা তেমন অভিভূত হয়েছেন উৎসবে আসা দর্শকরাও।

চা শ্রমিক সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় চল্লিশটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। তাদের মধ্যে বৃহত্তর অংশ চা-জনগোষ্ঠী। তাদের রয়েছে পৃথক পৃথক ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। এ ফাগুয়া উৎসবে ছিলো এই কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পুনঃবিন্যাসের গতিধারা।

ফাগুয়া উৎসবটি উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিভাগের উপ-পরিচালক মল্লিকা দে।

বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কীম প্রমুখ ব্যক্তিগণ। সাংস্কৃতিক এই অনুষ্ঠানে দ্বৈত-উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন চা শ্রমিক সন্তান প্রকাশ ভর ও মিনা রবিদাশ।

দেউন্ডি চা বাগানের থেকে আসা প্রতীক থিয়েটারের সভাপতি সুনিল বিশ্বাস বলেন, শত দুঃখ-কষ্ট, শত অভাব-অনটনের মধ্যেও উৎসবের কয়েকটি দিন তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করেন। শ্রমিকেরা এই আনন্দ ভাগাভাগি করে থাকেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। দূর-দূরান্তের চা-বাগান থেকে মেয়েরা নাইওর আসে জামাইসহ। আমাদের সংস্কৃতির এই উৎসবটি করতে পেরে নিজেকে স্বার্থক মনে হচ্ছে।

দ্বিতীয় বারের মতো এই আয়োজন হলেও আয়োজনটি জাতির জনককে উৎসর্গ করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে চা শ্রমিকদের এটি একটি বিশেষ আয়োজন। আশা করি পরবর্তী বছর আরো বড় আয়োজনে ফাগুয়া উৎসব করা হবে বলে জানান কমিটির সদস্য সচিব এবং কালীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা।

ফাগুয়া উৎসব-১৪২৮ কমিটির আহ্বায়ক এবং রাজঘাট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান বিজয় বোনার্জী জানান, দিনে দিনে চা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চা জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিগুলো ধরে রাখার জন্যই এই উৎসবের আয়োজন করছি। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা বাগান থেকে চা জনগোষ্ঠী এই উৎসবে এসে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।

সাশ্রয়ী জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ জ্বালানি উপদেষ্টার



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানির খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানির খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্য ক্রমবর্ধমান হওয়ায় ইউরোপ এখন কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। আমাদের কার্বন ইমিশন খুবই কম, আমাদের ফুয়েল মিক্সে সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানির অংশ বাড়ানো যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানির খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

রোববার (৩ জুলাই) ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার অন্তবর্তী প্রতিবেদনের উপর আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মহাপরিকল্পনাটি জাইকার কারিগরি সহায়তায় প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সাশ্রয়ী জ্বালানি বলতে গ্যাস ও কয়লাকে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কয়লাকে সাশ্রয়ী জ্বালানির উৎস বিবেচনা করা হয়। জ্বালানি উপদেষ্টা তবে কি কয়লার  ব্যবহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন। যা এতোদিন ধরেই অনাদরে পড়ে রয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ চেইন পুনঃপরীক্ষা করা উচিত। কৃষিতে সার ও জ্বালানির ব্যবহারে কৃচ্ছতা,পরিবহন খাতে, শিল্প বা আবাসিকে জ্বালানি তেলের সাশ্রয়ীব্যবহার আমাদের জন্য কল্যাণকর ।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভাবনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। এই উদ্ভাবনই সাফল্যের চাবিকাঠি। আমাদের থ্রী হুইলার এক সময় হয়তো জ্বালানি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার ল্যান্ডমার্ক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

টেকসই উন্নয়নকে লক্ষ্য রেখে পূর্বের মহাপরিকল্পনাপর্যালোচনা, ২০৫০ পর্যন্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ চাহিদা, প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, ২০৫০ পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের উপর ভিত্তি করে Nationally Determined Contribution (NDC) হালনাগাদ, সর্বপরি অংশীজনদের সাথে আলোচনা করে সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।। অর্থনীতি জ্বালানি এবং পরিবেশের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টি  সংযুক্ত করে সুষম উন্নয়ন করতেই এই মহাপরিকল্পনা। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন ইমিশন নেট জিরো করার নির্দশনাও এখানে থাকবে।

জ্বালানির চাহিদা নিরুপণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্য বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সহজ্বালানি হিসেবে এমোনিয়া, ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সহ জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হবে বা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব মো: হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাকি,

জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি হায়াকায়া ইউহ ও জাইকা ষ্টাডি টীমের প্রধান ইচিরোকুতানি বক্তব্য রাখেন।

;

কয়েক বছর পর লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করল পিডিবি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কয়েক বছর পর লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করল পিডিবি

কয়েক বছর পর লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করল পিডিবি

  • Font increase
  • Font Decrease

খোদ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া গেছে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের খবর। গত কয়েকদিন ধরেই দিনে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক।

কয়েকবছর ধরে লোডশেডিং হলেও স্বীকার করা হতো না। কখনও টেকনিক্যাল কখনও বিতরণ সংস্থা আবার কখনও সঞ্চালন সমস্যা বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো। এবার মনে হয় সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে চাইছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিব)।

খোদ বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, গ্যাস স্বল্পতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক জায়গাতেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় স্বাভাবিক হবে।  যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ অন্যান্য সব দেশের মতো আমাদেরকেও সমস্যায় ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে আপনাদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।

তবে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন নি কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে। যে কারনে অনেকের মধ্যে হতাশা কাজ করছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক সাইফুল হাসান চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাদের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। তার বিপরীতে গতকাল ১ হাজারের নিচে পেয়েছি। আজকে (৩ জুলাই) আরও কম পাচ্ছি। এতে করে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসে রয়েছে।

আজকে বিদ্যুতে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪ হাজা ২৫০ মেগাওয়াট ধরা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট । প্রায় ৮শ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সুত্র জানিয়েছে, এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি না আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। যে কারনে লাইনে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। দৈনিক প্রায় ৪ হাজার এমএমসিএফ গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে  ২৫০০ এমএমসিএফডির মতো উৎপাদন হচ্ছে। আর দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির আওতায় আমদানি করা হচ্ছে ৫শ এমএমসিএফডি গ্যাস। ঘাটতি মোকবেলায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অনেকদিন ধরেই রেশনিং করতে হচ্ছে।

;

৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করতে হবে



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করতে হবে

৭ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ করতে হবে

  • Font increase
  • Font Decrease

সাত জুলাই এর মধ্যে গার্মেন্টসসহ সকল সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

রোববার (৩ জুলাই) শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন,  গার্মেন্টসসহ রাষ্ট্রায়ত্ব, বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল খাতের শ্রমিকদের ঈদুল আযহার বোনাস, জুন মাসের বেতন এবং যদি কোন শ্রমিকের কোন মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থাকে তাও ঈদের ছুটির আগে ৭ জুলাই এর মধ্যেই মালিকগণ প্রদান করবেন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় ঈদের ছুটি সরকারি ছুটির সাথে মিলিয়ে মালিক-শ্রমিক আলোচনার মাধ্যমে মালিকগণ শ্রমিকদের ছুটি দিবেন। তবে জরুরি রপ্তানির প্রয়োজনে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ছুটি সুবিধামতো প্রদান করতে পারবেন। সবাই যাতে ভালোভাবে ঈদ উদযাপনে করতে পারে সেজন্য তিনি মালিক -শ্রমিক সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সবাইকে অগ্রীম ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানান। 

;

বাড়ল এলপিজির দর, ১২ কেজি ১২৫৪ টাকা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারে দাম বাড়ল ১৪ টাকা। ১২ কেজির দাম ১২৫৪ টাকা ও যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৫৮.৪৬ টাকা নির্ধারন করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গতমাসে ১২ কেজি সিল্ডারের মূল্য ছিল ১২৪২ টাকা, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৫৭.৯১ টাকা ছিল। নতুন দর সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কার্য্কর হবে। টানা কয়েকমাস উধমূখী থাকার পর মে মাসে থেকে কমতে থাকে এলপি গ্যাসের দাম। মে মাসে এলপি গ্যাসের দর ছিল ( ১২ কেজি) ১৩৩৫ টাকা, অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৬২.২১ টাকা নির্ধারন করা হয়।

রোববার (৩ জুলাই) ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করে বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। অন্যদের মধ্যে অংশনেন কমিশনের সদস্য মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী, মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, সচিব খলিলুর রহমান খান।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ন্ত এলপি গ্যাসের দর এপ্রিলে ( ১২ কেজি) গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৩৯ টাকায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এ বছর। এপ্রিল মাসে (সৌদি আরামকো) সর্বোচ্চ দর ওঠে প্রপেন ৯৪০ বিউটেন ৯৬০ ডলার। ২০১৪ সালের পর আর কখনও এতো বেশি দরে বেচাকেনা হয় নি বাংলাদেশে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত জ্বালানি পন্যটি।মে মাসে কমে যথাক্রমে টন প্রতি দাম দাঁড়ায় ৮৫০ ও ৮৬০ ডলারে। চলতি মাসে ৭২৫ ডলার দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, কেউ বেশি দাম চাইলে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ দিন, অথবা আমাদেক জানান। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ভোক্তা অধিদপ্তর বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করেছে।

গত বছরের ১২ এপ্রিলের আগে পর‌্যন্ত এলপিজির দর ছিল কোম্পানিগুলোর ইচ্ছাধীন। ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে ভিত্তি মূল্য ধরা হবে। সৌদির দর উঠানামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠানামা করবে। অন্যান্য কমিশন অরপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

;