ভিসা ‘এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক’ পুরস্কার পেল নগদ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভিসা ‘এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক’ পুরস্কার পেল নগদ

ভিসা ‘এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক’ পুরস্কার পেল নগদ

  • Font increase
  • Font Decrease

‘নগদ’ ওয়ালেটের মাধ্যমে ভিসা কার্ডে অ্যাড মানি এবং বিল প্রদানসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি ও সাশ্রয়ী সেবা নিয়ে আসার জন্য ভিসা ‘এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক প্রোডাক্ট ইনোভেশন ২০২২’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ‘নগদ’।

বিশ্বের অন্যতম পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিসা প্রথম কোনো এমএফএস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার প্রদান করল।

সম্প্রতি রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল শেরাটনে ভিসা আয়োজন করে ‘ভিসা লিডারশিপ কনক্লেভ-ডিজিটাল পেমেন্টস ফর স্মার্ট বাংলাদেশ ২০২২।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, এমপি।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক খুরশিদ আলম, ইউএস এম্বাসি ঢাকার পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কাউন্সিলর স্কট ব্র্যান্ডন, ভিসা ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার সদ্বীপ ঘোষ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মেজবাউল হক, ‘নগদ’-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (সিসিও) সাদাত আদনান আহমেদ ও চিফ সেলস অফিসার (সিএসও) মো. শিহাব উদ্দিন চৌধুরী।

ভিসা বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সৌম্য বসু বলেন, এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক প্রোডাক্ট ইনোভেশন ২০২২ পুরস্কারের মাধ্যমে ‘নগদ’-এর অবদানকে স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং তাদের অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, নগদ’ এবং ভিসা যৌথভাবে কয়েক মাস আগে দেশে প্রথমবারের মতো গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ওয়ালেট থেকে সরাসরি ভিসা কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করার সল্যুশন চালু করেছে।

‘আমরা বিশ্বাস করি, এমএফএস এবং ব্যাংকের মধ্যে আন্তলেনদেন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি এই উদ্যোগটি ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজ করেছে। যার ফলে গ্রাহকেরা যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন,’ যোগ করেন সৌম্য বসু।

ভিসা ‘এক্সিলেন্স ইন ফিনটেক প্রোডাক্ট ইনোভেশন ২০২২’ পুরস্কার গ্রহণ করেন ‘নগদ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য নগদ সবসময় চেষ্টা করে বৈপ্লবিক কিছু সমাধান নিয়ে আসতে।’

‘আমরা মানুষের জীবনকে সহজ করতে চাই। সামনের দিনে আরও বেশকিছু সমাধান নিয়ে আসতে ভিসার এই পুরস্কার অবশ্যই আমাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ যোগ করেন ‘নগদ’-এর সিইও রাহেল আহমেদ।

‘নগদ’ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি আধুনিক সেবা হিসেবে শুরু থেকে মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছে। কোনা ধরনের কাগজ ছাড়া মোবাইল অ্যাকাউন্ট খোলার প্রযুক্তি এ দেশে নিয়ে এসেছে ‘নগদ’। এখন *১৬৭# ডায়াল করে পিন সেট করে মুহূর্তেই ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। যার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ছয় কোটির বেশি গ্রাহক ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ‘নগদ’।

ভিসা লিডারশিপ কনক্লেভ মূলত একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র এক্সিকিউটিভরা পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে মূল্যবান আলোচনা ও তথ্য শেয়ার করে থাকেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভিসা প্রতিবছর তার অংশীদার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফলতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান করে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানটির সহযোগীদের অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ বাড়াতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখনও তিমিরেই



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এখনও তিমিরেই রয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু সরকার ছাড়া সব সরকারেই যথাযথ মনোযোগ দিতে ব্যর্থ, যার সামগ্রিক ফল আজকের জ্বালানি সংকট বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু সরকার তার সাড়ে ৩ বছরে সময়ে ৯টি কূপ খনন করেছিলেন। এর মধ্যে অফসোরে (সাগরে) ৭টি, মূল ভূ-খণ্ডে ছিল ২টি। ১৯৭৫ সালে এই ৯ আগস্ট ৫টি গ্যাস ক্ষেত্র (তিতাস, বাখরাবাদ, হবিগঞ্জ, রশিদপুর ও কৈলাশটিলা) নামমাত্র মূলে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো মাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড। যার ওপর ভিত্তি করেই এখন দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে ওই ৫ গ্যাস ফিল্ড থেকে জুন ২০২২ পর‌্যন্ত ১০.১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। এসব ফিল্ডে আরও ৫.৪৬ টিসিএফ গ্যাস মজুদ আছে বলে ধারণা করা হয়। যার বাজার মূল্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু সরকারের পরের ৩৬ বছরে অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে মাত্র ১২টি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর‌্যন্ত মাত্র ২টি কূপ খনন করেছিল বিএনপি ও তত্বাবধায়ক সরকার।

গ্যাস সেক্টরে উন্নয়নের দিক থেকে বঙ্গবন্ধু সরকারের পরেই রযেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। তারা বঙ্গবন্ধু সরকারকে ছুঁতে না পারলেও অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। অনুসন্ধান কূপ খননের পাশাপাশি রিগ ক্রয়, বাপেক্সকে ঢেলে সাজানোসহ নানা রকম কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে ৪১টি কূপের মধ্যে বর্তমান সরকারের ১৩ বছরে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ১৯টি কূপ খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ ভু-খণ্ডে স্বাধীনতার পর মাত্র ৪১টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। প্রতিবেশী ত্রিপুরা রাজ্যে ছোট্ট আয়তনে কূপ খনন করেছে ১৬০টি। তারা ১৬০টি কূপ খনন করে মাত্র ১১টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার করেছে, এরমধ্যে ৭টি থেকে উৎপাদন করছে। বাংলাদেশ সীমানায় ১১১ বছরে (প্রথম কূপ খনন ১৯১০ সালে) ৯৬টি কূপ খননের মাধ্যমে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে মোবারকপুর ও কশবার মতো কয়েকটি ফিল্ড। যেগুলোতে গ্যাসের আঁধার পেলেও বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করা হয় নি।

সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গভীর সমুদ্র এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে গেছে এখনও হিসেবের বাইরে। সাগরে আমাদের পাশের সীমানা থেকে মায়ানমার গ্যাস উত্তোলন করছে, অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের পাশে অশোকনগরে তেল আবিষ্কার করেছে ভারত। এতে করে এতোদিন যারা দেশের পশ্চিমাঞ্চলে (রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা অঞ্চল) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা নেই মনে করতেন তারাও এখন নড়েচড়ে বসেছেন।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল অনেকটাই অবহেলিত থেকে গেছে। আশির দশকে নটোরের সিংড়ার পর বর্তমান সরকার পাবনার মোবারকপুরে কূপ খনন করেছে। এখানে সম্ভাবনা দেখলেও আরও বিষদ বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখছে সংশ্লিষ্টরা। ভোলা নর্থগ্যাস ফিল্ড ও মোবারকপুরের মাঝামাঝি শরীয়তপুরে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স। বাংলাদেশ প্রতি ৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের একটি করে কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে, আমেরিকা প্রতি ১৪ বর্গকিলোমিটারের ১টি এবং ভারত ১৮.৬ বর্গকিলোমিটারের ১টি কূপ খনন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। শুধুমাত্র অনুসন্ধান কার‌্যক্রমের ঢিলেমির কারণে দেশকে চরম মাসুল দিতে হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত স্থবিরতা দেশকে চরম সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার আন্তরিক হলেও অতীতের ব্যর্থতায় তাদের ভূগতে হচ্ছে। গ্যাস সংকট সামাল দিতে গিয়ে বিদেশ থেকে উচ্চদরে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। যার ফল এখন ভুগতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো।

যদি বাংলাদেশে প্রচুর গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা দেখছে সংশ্লিষ্টরা। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তেল-গ্যাস সম্পদের সম্ভাবনা নিরূপনে কাজ করে। কিছু সংস্থা সারাদেশে এবং কিছু সংস্থা বিশেষ এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০০১ সালে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) ও পেট্রোবাংলা, হাইড্রোকার্বন ইউনিট ও নরওয়েজিয়ান পেট্রোলিয়াম ডাইরেক্টরেট সমীক্ষা পরিচালনা করে। ইউএসজিএস-পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৪, গড় ৩২ দশমিক ১ ও সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৭ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ঘনফুট) গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে হাইড্রোকার্বন ইউনিট ও নরওয়েজিয়ান পেট্রোলিয়াম ডাইরেক্টরেট সর্বনিম্ন ১৯, গড় ৪২ ও সর্বোচ্চ ৬৪ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছে।

বিইআরসির সদস্য মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন ‘১৯৯৫ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতিমালা ফলো করলে আজকে এই সংকট হতো না। ‘ওই নীতিমালায় প্রতি বছরে মোট ৪টি করে অনুসন্ধান কূপ খনন করার কথা থাকলে কোনো সরকারেই তা মেনে চলেনি। তেল-গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা, সফলতা ও অনুসন্ধানস্তর বিবেচনায় এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, এদেশে ব্যাপক ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা হলে তেল-গ্যাস প্রাপ্তির আরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর খন্দকার সালেক সুফী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। এখানে মাত্র ৯৬টি কূপ খনন করা খুবই হতাশারা। আমরা সহজ প্রাপ্তির বিষয়গুলো অর্জণ করেছি, কিন্তু এখন জটিল বিষয়গুলোর দিকে যেতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ একই ধরণের কাঠামো তারা ১৫০টি ওয়েল করেছে। ঘুরে দাঁড়াতে হলে বড় ধরণের ঝাঁকুনি দিতে হবে।

সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে সাগরে বিশাল অঞ্চলে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পাশের ব্লকগুলো থেকে মায়ানমার বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করছে। আর বাংলাদেশ অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলেও তেমন সাড়া মিলছে না। এর দু’টি কারণ রয়েছে একটি হচ্ছে গ্যাসের দাম কম, আর ডাটার অভাব। বলা হচ্ছে আমাদের হাতে পর‌্যাপ্ত ডাটা নেই কারণে বহুজাতিক কোম্পানি আগ্রহি হচ্ছে না। মাল্টিক্লেইন সার্ভে করার পর পর‌্যাপ্ত ডাটা সামনে এলে অনেকে আগ্রহী হবেন।

গ্যাসের দামের বিষয়ে একমত হলেও ডাটার অভাব মানতে নারাজ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছে আমাদের কাছে যে ডাটা রয়েছে তাতেই অনেকে আগ্রহী হতেন। কিন্তু সেসব ডাটা পেট্রোবাংলা সিলড করে রেখেছে। বিদেশি কম্পানি কেনার কিংবা দেখার কোনো সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সূফী বলেছেন, পর‌্যাপ্ত ডাটা নেই, আমি এই কথা মানি না। ১৯৭৪ সালে যে কোম্পানিগুলো এসেছিল তারা এসে ডাটা রেখে গেছে।

বাংলাদেশে আবিষ্কৃত ২৮টি গ্যাস ফিল্ডে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মিলে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস বিবেচনা করা হয় ২৮.৬ টিসিএফ। ২০২২ সালের জুন পর‌্যন্ত ১৯.৫৩ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট মজুদ ধরা হয় মাত্র ৯ টিসিএফ। এক সময় ২৭০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলন করা হলেও  এখন  ২৪০০ এমএমসিএফডির নিচে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে যাচ্ছে পুরাতন কূপগুলোতে আরও কমতে পারে। অন্যদিকে ৩ থেকে ৪ বছরে মধ্যে  এলএনজি আমদানি বৃদ্ধির সুযোগ নেই। প্রাইমারী ফুয়েল এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা ২০২৩ সালের মধ্যে ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এরমধ্যে ৫টি অনুসন্ধান ‍কূপ, ৪টি উন্নয়ন কূপ ও ৬টি ওয়ার্কওভার কূপ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৬টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, অতীতের সরকারগুলোর সামগ্রিক অবহেলার কারণে আজকের এই সংকট। আমরা কাটিয়ে উঠতে অনেক কার‌্যক্রম হাতে নিয়েছি। এতদিন সব ঠিকঠাকেই ছিল। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্পর্ট মার্কেটে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক ভাবে আমদানি বন্ধ। দাম কমলে আমদানি হবে, তখন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে। অন্যদিকে দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধ্যানেও জোর দেওয়া হয়েছে।

১৯৭৫ সালে ৯ আগস্ট ৫টি গ্যাস ফিল্ড কিনে নেওয়াকে এ খাতের টার্নিং পয়েন্ট বিবেচনা করা হয়। যার কারণে এখনও স্বল্পদামে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ঐতিহাসিক ওই ক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১০ সালে ৯ আগস্টকে ‘জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ বছরও  সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

;

উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহার জরুরি



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ভার্চুয়াল সেমিনার

ভার্চুয়াল সেমিনার

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজস্ব গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধান উত্তোলন এবং আরও পরমাণু বিদ্যুৎ-কেন্দ্রের কথা বিবেচনা নিতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি জোগানের সকল উৎসকে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি’র (বিইএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন অভিমত উঠে আসে।

বক্তারা বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি সামনে চলে আসছে। বিশেষ করে পরমাণু বিদ্যুতের ছোট মড্যুলার রিয়েক্টর (এসএমআর) সিস্টেম ব্যবহারের কথাও ভাবা যেতে পারে। প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সকল বিকল্প উৎস নিয়ে কাজ করতে হবে। একক জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার দূরদৃষ্টি ও সাহসিকতা দিয়ে দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার সেই ভিশনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমরা দেশব্যাপী সোলার এনার্জি বা সৌরশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে অন্যান্য জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরতা কমবে। একইসাথে দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও সচেতন হতে হবে। আমাদের বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা বিচেবনা করে নীতিমালা নির্ধারণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ খান বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে সক্ষম হলেও জ্বালানি খাতে আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। তবে যুগোপযোগী পলিসি নির্ধারণ, স্থানীয় বিনিয়োগ এবং সরকারি খাত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা জ্বালানি চাহিদা, সরবরাহ পূরণে সক্ষম হতে পারবো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম.তামিম বলেন, বাংলাদেশ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক একটি দেশ এবং আমাদের মোট জ্বালানির বড় একটি অংশ তেলভিত্তিক। পূর্ববর্তী সময়ে আমরা শুধু তেলের ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করতাম, তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা দিতে হতো না। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে। তাই এখন যথাযথ নীতি নির্ধারণের মাধ্যমে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিইএস’র সভাপতি ও সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানিতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের খনিজ সম্পদও ক্ষতির সম্মুখীন। তাই আমাদের যথাসম্ভব জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং বিকল্প সমাধানগুলো কাজে লাগাতে হবে।

এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি কনসাল্টেন্ট ইঞ্জি. খন্দকার আবদুস সালেক (সুফি)। আলোচনায় অংশ নেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু , বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সাবেক সদস্য এবং বাংলাদেশ এনার্জি সোসাইটি’র (বিইএস) সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

;

ইসলামী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ইসলামী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

ইসলামী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (০৭ আগস্ট) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী ব্যাংক শাখার সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, ইসলামী ব্যাংকের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন ও প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল আলম এবং ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ স¤পাদক প্রফেসর আ. ব. ম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান লাল্টু, ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মাকসুদুর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইসলামী ব্যাংক শাখার সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম (মেহেদী) ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান সাইদ।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ব্যাংকের শরী‘আহ সেক্রেটারিয়েটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করটিয়া বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করটিয়া বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করটিয়া বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ০৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের বাসাইলে করটিয়া বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে উক্ত আউটলেটের উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মশিউর রহমান জেহাদ। এসময় ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউস সামাদ ও সামি করিম, এজেন্ট ব্যাংকিং ডিভিশনের বিভাগীয় প্রধান এ কে এম নূরুল আফসার, প্রধান কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত সম্মানীত অতিথি ও গ্রাহকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশ^স্ত ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক দেশে ও দেশের বাইরে তাঁর স্বকীয়তা বজায় রেখে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শাখা, উপশাখা সম্প্রসারণ করবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

;