তিতাস গ্যাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
তিতাস গ্যাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন

তিতাস গ্যাসে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিতাস গ্যাস কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ ম্যুরাল উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন শেষে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ মোল্লাহ স্বাধীকার আন্দোলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুরদর্শিতার চিত্র তুলে ধরে স্বাধীনতার সুফল নিয়ে আলোচনা করেন।

সোনার বাংলা বিনির্মাণে জাতির জনকের দেখানো পথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সভাশেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও তার পরিবার, জাতীয় চারনেতা, সকল শহীদদের আত্বার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আলিনুরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিবিএ সভাপতি সভাপতি কাজিম উদ্দিন, সহসভাপতি জাকির হোসন, মেট্রো ঢাকা উত্তর এর মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. ইমাম উদ্দিন শেখ,পরিচালক (অপারেশন ) প্রকৌশলী সেলিম মিয়া।

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তাতে যেমন বাড়তে পারে অনেক পণ্যের দাম, তেমনি কমতেও পারে অনেক পণ্যের মূল্য।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে-

কৃষি যন্ত্রপাতি

বাজেটে শুল্ক ছাড়ের কারণে কমতে পারে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতি তৈরির সরঞ্জামের দাম।

এলইডি বাল্ব

এছাড়া কমতে পারে দেশীয় বৈদ্যুতিক এলইডি বাল্ব ও সুইস-সকেটের দাম। দেশীয় উৎপাদনকে আরও উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক ২০-২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। আসন্ন বাজেটে ওই শুল্ক ১০-৫ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব আসছে বাজেটে। সে হিসাবে দেশীয় এলইডি বাল্ব ও সুইস-সকেট মিলতে পারে তুলনামূলক কম দামে।

মাংস ও মাংসজাত পণ্য

এবারের বাজেটে মাংস ও মাংসজাত পণ্যকে নিত্যপণ্যের ক্যাটাগরিতে আনার প্রস্তাব আসতে পারে। এর উদ্দেশ্য নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া পণ্যটির দাম কমিয়ে আনা। এ পণ্যের উৎসে অগ্রিম আয়কর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হতে পারে। অগ্রিম আয়কর কমালে মাংসের দাম কমতে পারে।

মিষ্টি

দাম কমার তালিকায় আরও রয়েছে মিষ্টি। কারণ মিষ্টির ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে মিষ্টি জাতীয় আরও কিছু প্যাকেটজাত পণ্যেও ভ্যাট কমানো হচ্ছে।

বিদেশি পোশাক

আসন্ন বাজেটে অভিজাত বিদেশি কাপড় আমদানির ওপর শুল্ক কমানো বা অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, এসব পণ্যে শুল্ক কর ২০-২৫ কমিয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে বিলাসবহুল কাপড়ের শুল্ক যদি কমানো হয়, তাহলে কম দামে পাওয়া এসব পোশাক।

ই-কমার্সের খরচ

বর্তমানে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিক্রয়ের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক), ডেলিভারি চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট, বাড়ি ভাড়ার ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি মেনে নিয়ে বিক্রির ওপরে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। এর ফলে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো ভ্যাট অব্যাহতি পেলে কমবে ডেলিভারি চার্জ।

ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জাম

বাজেটে আরও ওষুধ ও মেডিক্যাল সরঞ্জাম উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক রেয়াত দিতে পারে সরকার। অ্যান্টি-ক্যানসার এবং অ্যান্টি-ডায়াবেটিস ওষুধের কাঁচামাল আমদানিকে শুল্ক মওকুফের আওতায় আনা হবে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন

একইসঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও টয়লেট্রিজের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদও একবছর বাড়তে পারে। এসব কিছুই জনস্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অপরিহার্য।

সাবান ও শ্যাম্পু

সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামাল লাবসা ও এসএলইস- এর উৎপাদন পর্যায়ে বর্তমানের হ্রাসকৃত ৫ শতাংশ ভ্যাট সুবিধা আরও একবছর বাড়ানো হতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে-

ফ্রিজ

রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে ফ্রিজের দাম বাড়তে পারে।

অবশ্য ফ্রিজ তৈরির উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানি এবং স্থানীয় ক্রয়ের ক্ষেত্রে কর ছাড় সুবিধা রয়েছে। তা ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

রেলের টিকিট

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত/তাপানুকুল সার্ভিসের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির রেলওয়ে সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে টিকিটের দাম বাড়বে।

মোবাইল ফোন

মোবাইল ফোন সেটের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে মোবাইল ফোনের দাম বাড়তে পারে।

পনির

বাটার ও চিজ বা পনির পণ্য দুটি সমজাতীয় উল্লেখ করে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাটার আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান থাকলেও চিজ আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত নেই। তাই বাটারের মতো চিজ আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কফি

প্রক্রিয়াজাত ও রেডি টু কনজিউম কফি আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

মোবাইল ফোনের বিদেশি চার্জার

দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে বিদেশি চার্জারের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

দেশলাই

বর্তমানে দেশে গ্যাস লাইটার বা দেশলাই উৎপাদিত হচ্ছে। তাই দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য পণ্যটি আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই বিবেচনায় লাইটারের যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র

বাসাবাড়িতে পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ব্যবহৃত ওয়াটার পিউরিফায়ারের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

ক্যাশ রেজিস্ট্রার

ব্যবসার ক্যাশ রেজিস্ট্রার আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ। অপরদিকে টিকিট ক্যালকুলেটিং যন্ত্রের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ। মেশিন দুটি প্রায় একই ধরনের হওয়ায় শুল্কহার সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তাই ক্যাশ রেজিস্ট্রারের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদেশি পাখি

বর্তমানে দেশে পাখি আমদানি হচ্ছে। উক্ত পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। পাখিগুলো বিলাসবহুল বিধায় আলোচ্য ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ল্যাপটপ

ল্যাপটপ কম্পিউটার আমদানিতে মূসক অব্যাহতি রয়েছে। ফলে দেশীয় কম্পিউটার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ল্যাপটপ কম্পিউটার আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পণ্যটি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মোট করভার হবে ৩১ শতাংশ।

গাড়ি

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পূরক শুল্ক অনেকটা বাড়ানো হয়েছে। এতে করে এবার গাড়ির দাম বাড়তে পারে।

বিড়ি-সিগারেট

কম বা বেশি দামি—সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বাড়ছে বিড়ির দামও। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট ও বিড়ির শুল্ক কর বাড়ানো হয়েছে। আর তাতেই বিড়ি-সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। সিগারেট ও বিড়ির পাশাপাশি ধোয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যান্য

আরও কিছু পণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর মধ্য রয়েছে প্রিন্টিং প্লেট, লিফট, সোলার প্যানেল, মিটার, কাগজের কাপ–প্লেট, জিআই ফিটিংস, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল, কম্পিউটার প্রিন্টার, ল্যাপটপ, টোনার, চেয়ারের পণ্য।

অন্যদিকে ধনীদের ছাড় দিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে করজালের মধ্যে আনার ছক থাকছে বাজেটে। কারণ শূন্য আয় (করযোগ্য সীমার নিচে বার্ষিক আয়) দেখিয়ে আগে রিটার্ন জমা দেওয়া গেলেও আগামী দিনে স্লিপ (প্রাপ্তিস্বীকারপত্র) পেতে ন্যূনতম দুই হাজার টাকা কর দিতে হবে। আর রিটার্ন জমার স্লিপ না নিলে সঞ্চয়পত্র কেনা এবং ব্যাংক ঋণ নেওয়া যাবে না। ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস নবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, বাড়ির নকশা অনুমোদনসহ সব মিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি ৪৪ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে না।

;

সাত লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বিকেলে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য সবচেয়ে বড় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এটি হবে অর্থমন্ত্রীর টানা পঞ্চম এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বাজেট।

বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারের সঙ্গে মিল রেখে একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক-প্রবৃদ্ধির পথে দেশকে চালিত করা এবং ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের ওপর এই বাজেটে জোর দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা এবং বাজেট কর্মকর্তারা বলছেন, যদিও সরকার রাজস্ব সংগ্রহ এবং সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে এবং কৃচ্ছ্রতা সাধনের কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে সরকারের বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, বাজেটে ২০২৪ অর্থবছরের জন্য ২ দশমিক ৬১ লাখ কোটি টাকা ঘাটতিসহ রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। যার মধ্যে ১ দশমিক ০২ লাখ কোটি টাকা ঋণ করা হবে বাহ্যিক উৎস থেকে এবং ১ দশমিক ৫৫ লাখ কোটি টাকা আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে।

অর্থমন্ত্রী ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ দশমিক ৩২ লাখ কোটি টাকা, সঞ্চয় প্রশংসাপত্র থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা, নন-ব্যাংক উৎস থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছেন।

এছাড়া সরকারের পরিচালন ব্যয় ৪ দশমকি ৭৫ লাখ কোটি টাকা এবং মোট উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যতিক্রমী হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও সমস্যায় ফেলেছে।

অর্থমন্ত্রী উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ২ দশমকি ৭৭ লাখ কোটি টাকা প্রাক্কলন করেছেন। আগামী অর্থবছরে দেশীয় সুদ পরিশোধে সরকার ব্যয় করবে ৮২ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ ১২ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা।

প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা মূলধন ব্যয় হিসাবে ব্যয় করা হবে, ৫০২ কোটি টাকা খাদ্য খাতে ব্যয় করা হবে এবং ৮ হাজার ৪০২ কোটি টাকা ঋণ ও অগ্রিম হিসাবে রাখা হবে।

২০২৩-২৪ সালের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নের জন্য ২ দশমিক ৬৩ লাখ কোটি টাকা, নন-এডিপি বিশেষ প্রকল্পের জন্য ৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা, নন-এডিপি কাজের বিনিময়ে খাদ্য এবং স্থানান্তর হিসাবে ২ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা এবং স্কিম হিসাবে ৩ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা যা কিছু উন্নয়ন কর্মসূচী অন্তর্ভুক্ত করে যা নিজস্ব উৎস থেকে অর্থায়ন করা হয় কিন্তু এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

আসন্ন অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা যার মধ্যে ৪ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকা আসবে কর-রাজস্ব হিসেবে এবং ৫০ হাজার কোটি টাকা অ-কর রাজস্ব হিসেবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৪ দশমিক ৩ লাখ কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে যেখানে এনবিআর বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার কোটি টাকা।

বৈদেশিক অনুদান হিসেবে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা আসবে বলে অনুমান করেছে সরকার।

;

আবারও প্রবাসী ও রফতানি আয়ে ডলারের দাম বাড়ল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ৫০ পয়সা, আর রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম এক টাকা বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে রফতানিকারকরা রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম পাবেন ১০৭ টাকা। আর প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম হবে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। নতুন এ দাম বৃহস্পতিবার (১ জুন ) থেকে কার্যকর হবে।

বুধবার ( ৩১ মে ) ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০৮ টাকা পাওয়া যেত । আর রফতানি আয়ে প্রতি ডলারে ১০৬ টাকা পাওয়া যেত।

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এ অবস্থা তৈরি হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতো বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। দায়িত্ব দেয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর থেকে এ দুই সংগঠন মিলে রফতানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে।

;

বাংলাদেশকে বাড়তি ২ মিলিয়ন টন এলএনজি দেবে কাতার



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে বছর আরও ২ মিলিয়ন টন এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ বাড়াতে সম্মত হয়েছে কাতার। ১ জুন কাতারে ঢাকা ও দোহার মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরে প্রস্তুতির বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

কাতার পুর্বের চুক্তি মোতাবেক বছরে ২.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ দিয়ে আসছে কাতার। নতুন এলএনজি যুক্ত হলে পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে ৩ মিলিয়ন টনে। তবে এই গ্যাস এখনই বাংলাদেশে আসছে না। ২০২৫ সালের পর থেকে পর‌্যায়ক্রমে বাড়তে থাকবে। পুর্ণমাত্রায় আসবে ২০২৭ সাল থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সুত্র জানিয়েছে।

১ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নসরুল হামিদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর‌্যায়ের টিম কাতারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। টিমে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার ও রূপান্তরিক প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী আব্দুল মুকিত।

এলএনজির দামের বিষয়ে সব সময়েই লুকোচুরি করার রেওয়াজ লক্ষ্যণীয়। যথারীতি এবারও তাই চলছে, কোন কর্মকর্তাই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুর্বের চুক্তির তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম ধরা হয়েছে। তবে অন্যান্য শর্ত বাংলাদেশের জন্য কিছুটা অস্বস্তির হতে পারে। শর্তের বিষয়ে তিনি ধারণা দিতে পারেন নি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাতার সফরের পুর্বে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, কাতার থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। আগে চুক্তিতে ছিল কাতার যদি সাপ্লাই দিতে না পারে তাহলে, সেই সময়ে স্পর্ট মার্কেটে এক কার্গো এলএনজি কিনতে যে বাড়তি দাম পড়বে সেই টাকা কাতার বাংলাদেশকে দিবে। নতুন চুক্তিতে এই শর্ত উঠিয়ে দিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। অর্থাৎ খোলা মার্কেটে দাম বেশি হলে তারা যদি বিক্রি করে দেয় বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা সেই শর্ত বিভিউ করার জন্য বলেছি।

পেট্রোবাংলা সুত্র জানিয়েছে, কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিতে বলা হয়েছে সরবরাহ বছরে ১.৮ মিলিয়ন টনের নিচে হবে না, আবার ২.৫ মিলিয়ন টনের উপরে যাবে না। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ২.৫ মিলিয়ন টন, ওমান থেকে ১ মিলিয়ন টন আমদানি করা হচ্ছে। কাতারের পাশাপাশি ওমান থেকেও আরও ১ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি বাড়াতে উভয়দেশ সম্মত হয়েছে।

আরপিজিসিএল সুত্র জানিয়েছে, আমাদের দু’টি এফএসআরইউ এর দৈনিক সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার মিলিয়ন ঘটফুট। গড়ে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ বছরে ৬ মিলিয়ন টন পর‌্যন্ত আমদানির সক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশের।এছাড়া আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য সামিট গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তৃতীয় এফএসআরইউ হলে দৈনিক ১৫’শ মিলিয়ন আমদানির সক্ষমতা হবে। চতুর্থ এফএসআরইউ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি একটি এলএনজি টার্মিনালের কাজও চলমান রয়েছে। সেটির সক্ষমতা হবে ১ হাজার এমএমসিএফডি।

সরকার দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তির পাশাপাশি খোলা বাজার থেকেও এলএনজি আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে অনেক বেড়ে যায় খোলা বাজারে এলএনজির দাম। খোলাবাজার থেকে প্রথমবার প্রতি ইউনিট এলএনজি কেনা হয়েছিল চার ডলারের নিচে। একই পরিমাণ এলএনজি কিনতে ৩৭ ডলার পর‌্যন্ত দিতে হয়েছে। বর্তমানে ১৪ ডলারের কাছাকাছি বেচাকেনা চলছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসকে শীতলকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই এলএনজি বলা হয়। যখন প্রাকৃতিক গ্যাসকে সাধারণ বায়ুমন্ডলীয় চাপে তরল করে ফেলা হয় তখন এর আয়তন কমে যায় প্রায় ৬০০ গুন। অর্থাৎ ৬০০ লিটার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরিত করে মাত্র এক লিটারের ছোট্ট একটা বোতলে ভরে ফেলা যায়। পরিবহনের সুবিধার জন্য এলএনজি করা হয়। বাংলাদেশে আনার পর আবার রিগ্যাসিফিকেশন করে লাইনে সরবরাহ করা হয়।

 

;