বিয়ন্ড বাফেট মিরপুর শাখার উদ্বোধন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিয়ন্ড বাফেট মিরপুর শাখার উদ্বোধন

বিয়ন্ড বাফেট মিরপুর শাখার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অভিজাত রেস্তোরা বিয়ন্ড বাফেটের মিরপুর শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে। রেস্টুরেন্টটিতে ১০০টির বেশি আইটেমে জনপ্রতি বুফে লাঞ্চ মাত্র ৮৫০ টাকা (অফার প্রাইস) এবং ১২০টির বেশি আইটেমে জনপ্রতি বুফে ডিনার মাত্র ৯৯৯ টাকা (অফার প্রাইস)। আলাদা কোনো হিডেন চার্জ নেই।  

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের রূপায়ন লতিফা শামসুদ্দিন স্কয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন করেন।

রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধন করেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য চিত্র নায়ক ফেরদৌস, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক, জেসিএক্স গ্রুপের এমডি ও চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েলসহ আমন্ত্রিত অতিথিগণ।

দেশি-বিদেশি ভোজনবিলাসীদের জন্য ২০ বছরের অভিজ্ঞ শেফ এর তৈরি মেইন মেনুর পাশাপাশি সালাদ, স্টাটার, স্যুপ আর আকর্ষণীয় ডেজার্ট পরিবেশন করা হবে বিয়ন্ড বাফেটে। বিএসটিআই অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর থেকে মাংস সংগ্রহ করে অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত পোলট্রি এবং নিজস্ব তত্ত্বাবধানে গুণ ও মান বজায় রেখে বিয়ন্ড বাফেট রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করা হবে রসনা বিলাসীদের মজাদার সব খাবার।

এবিষয়ে বিয়ন্ড বাফেটের উদ্যোক্তা আসিফ মাহমুদ চৌধুরী ও শাহীন আক্তার বলেন, আশা করছি রেস্টুরেন্টের খাবার মিরপুরবাসীর মধ্যে সাড়া ফেলবে। এছাড়াও বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং বুকিং সংক্রান্ত কোনো কিছু জানতে: ০১৭৮০-৮০৮০৬২ ও ০১৯৬১-৯৯২২৫৫ কল করতে পারে এসব নম্বরে।

বিয়ন্ড বাফেটের প্রথম শাখা রয়েছে গুলশানের পিংক সিটিতে।

   

একঝাঁক তরুণদের নিয়ে বেসিস নির্বাচনে সোহেলের টিম স্মার্ট



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর (বেসিস) ২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে একঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয়েছে প্যানেল ‘টিম স্মার্ট’। স্মার্ট বেসিস গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরব প্রচারে রয়েছে প্যানেলটি।

এডভান্সড ইআরপি বিডি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের নেতৃত্বে গড়া এই প্যানেলে একঝাঁক তরুণ প্রার্থীরা রয়েছেন। এই প্যানেল থেকে জেনারেল ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে লড়ছেন নগদ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, কনটেন্ট ম্যাটার্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী এ এস এম রফিক উল্লাহ, ব্যাবিলন রিসোর্সেস লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) লিয়াকত হোসাইন, ইনুমেন্ট সলিউশন্স লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আল মামুন, লুজলি কাপল্ড টেকনোলজিস-এর (এলসিটি সল্যুশন সেন্টার) চিফ অপারেটিং অফিসার সৈয়দা নওশাদ জাহান প্রমি, অ্যানালাইেজন বাংলাদেশ লিমিটেডের দ্য ম্যান অব স্টিল (চেয়ারম্যান) এবং ক্রান্তি অ্যাসোসিয়েটস্ লিমিটেডের পরিচালক ও সিইও ড. মুহম্মদ রিসালাত সিদ্দীক এবং বন্ডস্টাইন টেকনোলজিস লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শাহরুখ ইসলাম। এই প্যানেল থেকে অ্যাসোসিয়েট পরিচালক প্রার্থী ম্যাগনাস সফটওয়্যার ওয়ার্কস-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমান আহমেদ খান, অ্যাফিলিয়েট পরিচালক প্রার্থী এডফিনিক্স লিমিটেড-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুতফি চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক পরিচালক পদে প্রার্থী দারাজ বাংলাদেশ-এর চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার হাসিনুল কুদ্দুস (রুশো)।

টিম স্মার্টের প্যানেল লিডার মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, আমরা তারুণ্য নির্ভর টিম স্মার্ট গড়ে তুলেছি। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট বেসিস বিনির্মাণে স্মার্ট টিম প্রয়োজন। আমরা তেমন প্যানেলই দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পূর্ণ প্যানেলে টিম স্মার্ট নির্বাচিত হলে বেসিসকে আমরা স্মার্ট সংগঠনে রূপান্তর করব। বেসিস সদস্যরা আমাদের পক্ষে রায় দিলে সংগঠনটি আরও গতিশীল ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সংগঠনে রূপান্তর হবে।

এর আগে, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটিতে তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

;

‘তেঁতুলিয়ায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ল্যান্ডকো নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জমি ক্রয় ও জোরপূর্বক দখলের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে গড়া ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঘুরে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

রোববার (২১ এপ্রিল) ভার্চুয়াল এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ক্লিন (কোস্টাল লাইভলিহুড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক) ও বিডব্লিউজিইডি।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, কৃষি জমিতে কোন স্থাপনা করার সুযোগ নেই। ল্যান্ডকো এখানে মৌসুমী কৃষি খামারের সাইনবোর্ড কিনেছে। তবে ভূমি অফিস বলছে ওই কোম্পানির নামে কোন জমি নেই। জমি কিনেছেন ওসমান কায়সার চৌধুরীর সন্তান নীলাঞ্জনা চৌধুরী ও দীপ্ত কায়সার চৌধুরী। ওসমান কায়সার চৌধুরী বেক্সিমকো গ্রুপের সিইও হিসেবে রয়েছেন। তাদের জন্য ১২.৫ একর জমি নামজারি করা হয়েছে।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। তেঁতুলিয়া উপজেলার শেখগছ গ্রামে পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নাম করে জমি দখলের অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয়রা। জোরপূর্বক জমি দখল করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে কয়েক দফায় সংঘাত হয়েছে। কিছু মামলাও চলমান রয়েছে।

ক্লিন ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী এসকেএমডি বহলুল আলম বলেন, জমি নামজারি হয়েছে ১২,৫ একর, আর ৭০ একরের মতো জমি রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

ল্যান্ডকো নামে কোন কোম্পানির অস্তিত্ব আমরা কোথাও দেখতে পাইনি। এটি একটি বায়বীয় কোম্পানি বলে জানায় প্রতিনিধিদল।

রেজওয়ানা হাসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেন, আগে করতোয়া সোলারের নামে যে ১৫০ একর জমি কেনার পারমিশন দিয়েছিলেন, সেটি এখন বাতিল করবেন। দুই ফসলি কোন জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প করতে পারবেন না। তার অনুমোদন আপনি দিতে পারেন না।

তেঁতুলিয়ার স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন, করতোয়া সোলার পাওয়ার প্লান্ট নামে জমি কেনার অনুমতি নেয়। অনেক আগেই তাদের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার খুলনা ব্যুরো চিফ গৌরাঙ্গ নন্দী ছিলেন ওই টিমে। তিনি বলেন, তেঁতুলিয়ায় সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ল্যান্ডকো জোরপূর্বক ১০০ একর জমির দখল নেয়। তারা দাবি করে ২৩৭ একর জমি কিনেছে। ২০১৭ সালে জমি কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে। মধ্যস্বত্বভোগীরা কাগজ নিয়েছেন, কমবেশি টাকা দিয়েছেন। তবে বিক্রেতারা অভিযোগ করেছে, এক একর বিক্রি করলেও তারা দাবি করেছে ১০ একর। জমি কেনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। একটি ট্যাপের মধ্যে দিয়ে তারা জমি কিনেছেন।

প্রচন্ড রকমের অস্বচ্ছতা ছিল, তারপর তারা জমি দখল করতে যান। যারা বিক্রি করেননি তারা বাঁধা দিতে গেছেন। ইউএনও একটি তদন্ত করেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। যদিও এখনও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। মৌসুমী কৃষি খামারের সাইনবোর্ড সেখানে দেখতে পেয়েছি। সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে দেখেছি আরেক নাম, বলেন তিনি।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। এতে ভুক্তভোগী, স্থানীয় প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি সরকারের প্রতিনিধি থাকা উচিত। এরমাধ্যমে প্রকল্প নিয়ে যে রাখঢাক রয়েছে সেগুলো পরিষ্কার হওয়া উচিত বলে মনে করেন গৌরাঙ্গ নন্দী।

ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ বলেন, ভয়ভীতি পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা গেলাম তখন অনেকে মোটরবাইক নিয়ে এলেন যারা ছিলেন কোম্পানির লোকজন। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, প্রশাসনও কোম্পানির পক্ষে কাজ করেছেন।

টিমের সদস্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালেয় শিক্ষক বায়েজিদ খান বলেন, তেঁতুলিয়ায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ল্যান্ডকো যাদের মাধ্যমে জমি কেনে, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, তারা বলতে চায় জমি বিক্রেতারা বেশি অপরাধী।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন ভাইয়ের মোট জমি ১১ একর। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১১ একর করে মোট ৩৩ একর জমি কেনা দেখানো হচ্ছে।

মিজানুর রহমান ১ একর জমি বিক্রি করেছেন, তার ৪ একর জমি দখল করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তিনি ২ একর ফেরত পেয়েছেন, আর ১ একর তারা জবরদখল করে রেখেছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানজিউল ইসলাম ছিলেন ওই টিমের সদস্য। তিনি বলেন, কৃষকরা ল্যান্ডকো র বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ তোলেন। একজন বিধবা মহিলা ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করেন। বিধবার ভাই জমি বিক্রি করেছেন, সেই জমি দখল করতে এসে তার ঘরও ভেঙে দিয়েছে। কৃষকের ফসল তারা নষ্ট করে ফেলেছেন।

তেঁতুলিয়া থানার ওসি ও ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়। ইউএনও বেশ চতুরতার সঙ্গে জবাব দিয়েছেন। কোম্পানি যে দাবি করেছে তার চেয়ে অনেক কম জমি কিনেছে বলে জানান তিনি।

;

একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. বিরূপাক্ষ পাল

‘ডিজিটাইজেশন প্রশ্নে ঢাকঢোল বাড়ছে, অগ্রগতি নয়’



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেছেন, ডিজিটাইজেশনের প্রশ্নে যতটা ঢাকঢোল আমরা পিটাই, অগ্রগতি ততটা নেই। এক্ষেত্রে প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ইন্টারনেটের অ্যাকসেসের দিক থেকে নেপালের চেয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে জানিয়ে বলেন, ঢাকঢোল যতটা বাজছে, সেইভাবে আমদের অগ্রযাত্রা ততোটা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কোর্টল্যান্ডে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এর অর্থনীতির অধ্যাপক ও বাংলাদেশের ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল আরও মনে করেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অর্থনৈতিক অন্তর্ভূক্তির পূর্বে জ্ঞানের অন্তর্ভূক্তি প্রয়োজন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে ‘নলেজেবল পার্সন বা ইনোভেটিভ পার্সন’ না দেওয়া যায়-তাহলে সেটা ক্লারিক্যাল ওয়েতে চলে বলেও মন্তব্য এই অর্থনীতিবিদের।

সম্প্রতি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সমসাময়িক নানা ইস্যুতে বার্তা২৪.কম-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ড. বিরূপাক্ষ পাল। সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আর্থিক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব, প্রান্তিক মানুষদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্তকরণ, আর্থিক খাতে ডিজিটাইজেশনের ঝুঁকি ও উত্তরণের উপায়সহ অন্যান্য প্রসঙ্গে ড. পালের মূল্যায়ন। কথা বলেছেন বার্তা২৪.কম এর পরিকল্পনা সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম

বার্তা২৪.কম: প্রযুক্তির আধিপত্যের যুগের দেশের আর্থিক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বের প্রশ্ন যখন আসে, আপনার বিবেচনায় কোন দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত?

বিরূপাক্ষ পাল: আমি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দিলাম তার আগে থেকেই গভর্নর ড. আতিউর রহমান এই ডিজিটাল নির্ভর আধুনিক চিন্তাটি বহন করছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তি গরীবকে ক্ষমতায়ন করে। যেমন ধরুন, কৃষকের হাতে একটি সেলফোন তাকে উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি করতে কিংবা বাজারের খবর নিতে সহয়তা করে। বাজার থেকে কোন যানবাহন এনে সেগুলো বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা তিনি নিজেই করতে পারেন। সুতরাং ক্ষমতায়নটা ডিজিটাইজেশন থেকে শুরু করে ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন ও ফিজিক্যাল ইনক্লুশনের মধ্য দিয়ে একসঙ্গে এগোয়। ড. আতিউর রহমান এটি বড় অর্থে দেখেছিলেন, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ববাবরই গ্রিন ব্যাংক, ডিজিটালাইজড ব্যাংক-এরকমের অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। যদিও অ্যাওয়ার্ডটিই বড় কথা নয়, আমাদের সাবেক অর্থমন্ত্রীও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কিন্তু অর্থনীতিকে ডুবিয়ে গেছেন। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই স্বীকৃতিগুলো ছিল। আমি উনার (ড. আতিউর রহমান) গল্প থেকে শুনেছি, যখন তিনি একটি ব্যাংকে গিয়ে দেখতেন মাথা সমান উঁচু ফাইল, তিনি ভেবেছিলেন এগুলো কিভাবে রিপ্লেস করা যায়... এটাই! আসলে প্যাশন থাকতে হয়। যেমন-‘এত উঁচু ফাইলগুলোকে কিভাবে রিপ্লেস করতে হয়’-হঠাৎ করে একজন আমলার মাঝে এই চিন্তা আসবে না। তিনি দেখবেন সার্কুলারে কি আছে। কিন্তু যখন একজন ইনোভেটরকে একটি ইনস্টিটিউশনের দায়িত্ব দেওয়া হয় তখন পরিবর্তন আসে। যা বিদেশে সব সময় দেখা যাবে..। যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে যদি একটু নলেজেবল পার্সন বা ইনোভেটিভ পার্সন না দেওয়া যায়-তাহলে সেটা ক্লারিক্যাল ওয়েতে চলে।

বার্তা২৪.কম: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন...

বিরূপাক্ষ পাল: আমি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াই, এখান থেকে দেশে গিয়েছি দায়িত্ব পালন করতে। যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত কিছুর মধ্যে আধুনিকায়ন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের প্রতি ওয়েলকামিং। সেটা আমরাও বহন করি। সেই বিষয়গুলো কাজ করেছে। সুতরাং আমার সঙ্গে একটি সোনায় সোহাগা সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল (তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক নেতৃত্বের সঙ্গে) চিন্তাধারার দিক দিয়ে। কারণ আমি আমলাতন্ত্র থেকে যাইনি। উনিও (গভর্নর ড. আতিউর রহমান) আমলাতন্ত্র থেকে আসেননি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে, ট্র্যাপে তিনিই পড়ে গেলেন! হঠাৎ করে যে হ্যাকিংটা হলো, সেটার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নাই। ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাইজেশনের শিকার তিনিই হয়ে গেলেন! হতেই পারে, কারণ ইন্টারনেট যিনি করেছিলেন আজ থেকে ৩২ বা ৩৩ বছর আগে ইউরোপের একজন, তিনি দুঃখ করে বলেছিলেন-আমি ইন্টারনেটের প্রযুক্তিটাকে যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে গড়ায়নি। এর মাঝে হ্যাকাররা বেশি ঢুকে গেছে। কিন্তু এর দ্বারা তাঁর সব কর্ম ব্যর্থ হয় না। এখন যেটা হয়েছে, অনেকটা স্থিমিত হয়ে রয়েছে।

ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন ইনডেস্কে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার যদি একটি ম্যাপ করেন তবে দেখবেন ইদানিং খুব একটা এগোচ্ছে না। ওই সময়টাতে প্রগ্রেসটা খুব ফাস্ট হয়েছিল। আমরা মনে করতাম, আমি যেমন বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে বলেছি-বাংলাদেশের অর্থনীতিটা খুব ভালো জায়গায়, কনজামশনটা চাঙ্গা করতে মানুষকে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যায় কিনা। মানুষকে ১০ হাজার টাকা করে ক্রেডিট কার্ড দেওয়া যায় কিনা? অন্য দেশে আছে বড়লোকের জন্য। পরবর্তীতে যদিও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে যেটা বলতে পারি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ও তাঁর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তাঁরও অনেক ড্রাইভ আছে। নিউ জেনারেশনকে তিনি বুঝতে পারছেন, ডিজিটাইজেশন সমাজে একটা বিরাট ইনক্লুশন আনবে। কিন্তু আমরা যতটা ঢাকঢোল পিটাই, ডিজিটাইজেশনের প্রশ্নে ভারত থেকে আমরা পিছিয়ে। ইন্টারনেটের একসেসের দিক থেকে নেপালের মতো দেশগুলো থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে। ঢাকঢোল যতটা বাড়ছে, সেইভাবে আমরাদের অগ্রযাত্রা হচ্ছে না। কাজ করার অভিজ্ঞতা তাই বলে।

বার্তা২৪.কম: বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার যে অর্থনীতি তাতে ডিজিটাল সিস্টেম একটি বড় নিয়ামকের ভূমিকা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতা কেমন ছিল...

ড. বিরূপাক্ষ পাল: প্রান্তিক মানুষদের আর্থিক ক্ষমতায়নে ডিজিটাল সিস্টেম নিশ্চয়ই বড় অবদান রেখে যাচ্ছে। তাদের অ্যাকসেস আছে। সমস্ত তথ্য একটি ফোনের মধ্যে বসে পাওয়া যাচ্ছে। আজ রিজার্ভ কত, কারেন্সি রেট কত এসব বিভিন্ন তথ্য ব্যাংকে সামনের ডিসপ্লে বোর্ডে পাওয়া যাচ্ছে। আমি যেহেতু পাবলিক ইনস্টিটিউটে কাজ করেছি-আমি অনুভব করেছি, একটি ইনক্লুসিভ অর্থনীতি করার জন্য ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং দরকার। যেহেতু ইনক্লুসিভ ক্যাপিটাল মার্কেট নেই আমাদের, বিদেশে একজন বৃদ্ধাও ঘরে বসে স্টক কিনতে পারছেন; বাংলাদেশে ওই সিস্টেমটা এখনও ডেভেলপ করেনি।

ফাইনান্সিংয়ের দুইটা সেক্টর থাকে-একটি ব্যাংকিং আরেকটি ক্যাপিটাল মার্কেট। এটাতো আমেরিকা নয়। ইউরোপীয় বা উপমহাদেশের দেশগুলোতে ব্যাংকিং সিস্টেমের মধ্যে যে ডেভেলপমেন্টটা হয়েছে তাতে ব্যাংকিং সিস্টেমটাকে যদি ইনক্লুসিভ করা না যায়, শুধু মুষ্ঠিমেয় মানুষের জন্য রাখা হয় তাহলে এটা ঠিক অর্থে ইনক্লুসিভ ইকনমি সৃষ্টি করবে না। যেটার প্রমাণ আমরা কিছু দেখতে পাচ্ছি। ধণিক শ্রেণি, কোটিপতি শ্রেণির সংখ্যা বেড়েছে। এই ধণিক শ্রেণি সমস্ত ডিপোজিটরের শতকরা আশিভাগ ডমিনেট করছে। এটা ইনক্লুসিভ নয়। ৪৭ ভাগ এডাল্টরা ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে রয়ে গেছে। আবারও বলব যে ১০টাকার একাউন্ট নিয়ে ড. আতিউর রহমানকে প্রচেষ্টাকে নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছিল-উন্নত দেশেও তা হয়; যেমন প্রেসিডেন্ট ওবামা সবার জন্য স্বাস্থ্যে ইনস্যুরেন্স চেয়েছিলেন। ওবামা কেয়ার বলে তারা বিদ্রুপ করতো। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন বলতেন, এটা বিদ্রুপের কিছু নেই। এর মধ্যে মমতা আছে। একইভাবে বলব, ১০ টাকার একাউন্ট নিয়ে তখন অনেককে বলতে শুনতাম, ‘একেবারে কৃষক-চাষাভূষাদের ব্যাংকে ঢুকাচ্ছে’, এটা ঠিক না। এটা করেও কিন্তু আমরা অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংয়ের বাইরে রেখে দিয়েছি।ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং নেই, ক্রেডিট বিতরণে ইনক্লুসিভিটি নেই; সুতরাং এই জায়গাটাতে মূল ধাক্কাটা খাচ্ছে। কিছু মানুষ কোটি কোটি টাকা পাচ্ছে, তাদের ফাইন্যান্স, তাদের ব্যাংকিং, তাদের ইন্ডাস্ট্রি..। কিছু মানুষ অতি সামান্য..একটি রুটির দোকান শুরু করবে; সেই জন্য যে লোন সাপোর্ট পাওয়া দরকার, সেটা তারা পাচ্ছে না। সুতরাং এধরণের বৈষম্যমূলক ঋণ বিতরণ আমাদের সমাজকে খুব অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে দিবে না। সেজন্যই প্রবৃদ্ধির মধ্যে একটা ঝিমানো ভাব এসেছে। ৮ ভাগে পৌছে যাওয়া প্রবৃদ্ধি এখন ৫ ভাগের ঘরে হাবুডুব খাচ্ছে। সুতরাং ইনক্লুসিভ না হলে ইকনমিতে ড্রাইভ দেওয়া সহজ হবে না।

বার্তা২৪.কম: সংকট উত্তরণে তাহলে কোন পথে যাওয়া উচিত...

ড. বিরূপাক্ষ পাল: আরেকটা ড্রাইভ দিতে হলে ইকনমিতে রিফর্ম আনতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টর বরাবরই বড়। সম্প্রতি অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, হৃদপিণ্ডে রক্তক্ষরণ। আসলে তো এটা হৃদপিণ্ড নয়। দুই খাত-ব্যাংকিং এবং ক্যাপিটাল মার্কেট। যেহেতু ক্যাপিটাল মার্কেট অনেকটা ডিফ্যাক্টিভ; এখানের দুষ্টু লোকেরা কোনদিন শাস্তির মুখোমুখি হয়নি, তাই ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রতি মানুষের ভরসা কম। লুটেরা শ্রেণিরা ক্যাপিটাল মার্কেটে যায় না, গেলে তাদের এজিএম ডাকতে হবে। শেয়ার হোল্ডারের কাছে একাউন্টিবিলিটি থাকতে হবে, বিকজ অব দ্য কর্পোরেট স্ট্রাকচার। কিন্তু ব্যাংক থেকে গেলেই তখন ..আপনি ডিপোজিট করেছেন আমি ডিপোজিট করেছি-এই ডিপোজিটরদের চোখে দেখতে হয় না লোনগ্রহণকারীদের। জবাবদিহিতা নাই। শুধুমাত্র এমডি বা পরিচালকদের খুশি করে টাকা নিয়ে যায়। সেই জায়গাগুলোতে যদি সংস্কার আনা না যায় তাহলে প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা খুব সমস্যায় পড়ব।

বার্তা২৪.কম: আর্থিক খাতে ডিজিটাইজেশনের মোটাদাগে কি কি ঝুঁকি দেখছেন?

ড. বিরূপাক্ষ পাল: প্রথমতঃ আমরা যখনই আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ভাবছি তখন আমাদের মনে রাখতে হবে টেকনোলজির কিন্তু জাত নাই। বাই নেচার সবই গ্লোবাল হচ্ছে। গ্লোবাল ঝুঁকির একটা অংশ বাংলাদেশকে বহন করতে হবে। সেই অনুযায়ী তাদের প্রিপেয়ারনেস থাকতে হবে। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা কাজ করি, আমরা জানি আমাদের ঝুঁকি আছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যে ইক্যুইপমেন্টগুলো দেয়, সেগুলো নিয়ে বলা হয়-ইউনিভার্সিটি আমাদের প্রটেক্ট করবে। সেন্ট্রাললি আমরা সেই প্রটেকশনটা পাচ্ছি। সেটার পেছনে তাদের খরচ আছে। আমেরিকার মতো দেশগুলো যতোটা টেকনোলজি বিকাশে গবেষণা করে, হ্যাকারদের প্রতিরোধেও তাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। জাহাজের নির্মাণে যতো টাকা খরচ করবে তেমনি এন্টি পাইরেসি প্রটেকশনগুলোও খরচ করে তৈরি করতে হবে। ওই প্রিপেয়ারনেসটা বাংলাদেশের মাথার মধ্যে আসে না। আমরা অনেকটা ভাগ্যবাদী মানুষ...এজন্য অনেক সময় আমাদের পুকুরচুরিটা হয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সেক্ষত্রে কিছুই না। ড. আতিউর রহমানের মতো গৌরবময় মানুষকে তারা মুহুর্তের মধ্যে ম্লান করে দিলো। অনেক সময় অনেক আমলারা বলছেন যে, এখানে একাডেমিকরা ভালো কাজ করতে পারেন না। কিন্তু একাডেমিকরাই পৃথিবীতে ভালো কাজ করে। তার প্রমাণ হলো আমেরিকা। এখানে সেন্ট্রাল ব্যাংক চালানোর জন্য প্রিন্সটন থেকে বেন্ডামনকে নেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী যিনি হয়েছেন তিনি হার্ভার্ডে পড়াতেন। তিনি জেনেটিকালের, তিনি আবার সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। নলেজেবল মানুষগুলোকে নলেজের জায়গায় রাখতে হয়। নলেজেবল বলেই পৃথিবীর সেরা মানুষগুলোকে নিয়ে সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো সিইও, এমডি বানায়। ভারতের বহু লোক আছেন যারা আমেরিকার অনেক কোম্পানির সিইও। ওই জায়গাগুলিতে আমাদের প্রস্তুতি নাই। কারণ কথা বলার মতো মানুষ আমরা পাচ্ছি না। আনুগত্যকে মেধার আগে বসিয়ে দিয়েছি। সেই জায়গাগুলিতে আমরা সেভাবে প্রটেক্টেড হচ্ছি না। প্রটেকশনের পেছনে থাকতে হয় ভাবনা ব বোধ। যেমন আমরা প্লাস্টিক পেয়েছি, ব্যবহার করেছি দেদারসে। আমরা যে পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়েছি দেদারসে, সেটা ভাবিনি। আমাদের লং টার্ম ভিশনগুলো আমাদের লিডারশিপে উহ্য থেকে গেছে।

আমরা যেমন কালো তারের ঝুলের একটি বিচ্ছিরি নগর তৈরি করেছি, সিঙ্গাপুরে কোথাও কোন তার দেখিনি, নির্বাচনের আগে কোন পোস্টারও দেখি না। সেখানে গিয়ে জানলাম সিঙ্গাপুরে চুইঙ্গাম খাওয়া যাবে না। এটা বিধি। সিঙ্গাপুরের ড্রাগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সামারি ট্রায়াল হয়ে যায়। এই জিনিসগুলোকে যদি নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে সুফল আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। তাতে দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি পেছনে পড়ে যায়।

এখন কিন্তু আমাদের হাই গ্রোথের সময় ছিল। ভারতের মতো হাতি অর্থনীতিও ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ফেলেছিল। তারা অনেক ভালো অবস্থানে আছে। কৌশিক বসু সম্প্রতি বলেছেন যে, ইন্ডিয়া ইজ এ সুইট স্পট। উনি ক্রিটিক মানুষ, কিন্তু এটা বলেছেন। সবকিছু অনুসরণ করতে হবে তা কথা নেই কিন্তু ভালো দিকগুলো গ্রহণ করলে ক্ষতি নেই। ভারত হাতি অর্থনীতির দেশ, তার অর্থনীতির অনেক সমস্যা, সেটা হাতি, আমরা সে তুলনায় আমরা খরগোস। খরগোসের দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সিঙ্গাপুর যেভাবে মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, আমাদেরও কিছু সুযোগ আছে। সেই জায়গাগুলো আমরা সেই স্মার্টনেসগুলো ব্যবহার করিনি। আমরা অনেকি কছু করিনি। ভূমির যে ডিজিটাইজেশন, ভূমির পেমেন্ট সিস্টেমগুলোকে ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন ও ডিজিটাইজেশনের আওতায় আনলে একসেস টু ইনফরমেশন যেটা হয়, তাতে কারোর সঙ্গে অবিচারের সুযোগ কমবে।

গ্রামে গিয়ে জানলাম, একজনকে সরকার টাকা পাঠাতো; কিন্তু দু’দিন আগে ফোন হারিয়ে ফেলেছে, এখন আর টাকা পাচ্ছে না। প্রটেকশনটা কি হবে ওই জায়গাগুলো আমরা তৈরি করিনি। ইউরোপে মদের দোকানের যেমন বিকাশ হয়েছে আবার ফিউনারেল হাউজের সংখ্যাও বেড়েছে। মদ খেয়ে মারা গেলে কে দেখবে, তার জন্য ফিউনারেল হাউজও আছে! আমাদের সমাজে লংটার্ম প্রিপেয়ার্ডনেস নিয়ে আরও ভাবতে হবে। সত্যিকারের মমতা না থাকলে কাজ করতে পারব না।

বার্তা২৪.কম: বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ডিজিটাইজেশন সুবিধার জন্যই হয়েছে তাই বলে কি ডিজিটাইজেশন থেকে সরে যেতে হবে? অনেকের এমন মূল্যায়ন প্রসঙ্গে আপনার মত কি?

ড. বিরূপাক্ষ পাল: আমরা নীলক্ষেত থেকে প্যাকেজ কিনে ফেলি, কিন্তু এন্টিভাইরাস কিনি না। হ্যাকাররা যে টাকাটা নিয়েছে ৬৬০-৬৬৪ কোটি টাকা। হাজার কোটি টাকাও না। ৭ দিনে কত হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তার গড় দিয়ে যদি হিসাব করি তাহলে ড. আতিউর রহমানের সময় যদি ৬০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি থাকে এখন যে তা দেড় লক্ষ কোটি টাকায় ঠেকেছে। সে অনুপাতে হ্যাকারের বিষয়টাকে এমপ্লিফাই করে রেখেছে আমলাতন্ত্রের একটা গ্রুপ। কারণ আলোচিত এই হ্যাকিং নিয়ে আমেরিকাতে নিউইয়র্ক কোর্টে পর্যন্ত রায় হয়ে যায়, বিদেশে সিনেমা বানিয়ে ফেলে কিন্তু বাংলাদেশের সিআইডি কমপক্ষে ৭০ বার পিছিয়ে দিয়েছে রিপোর্ট দিতে পারেনি। রিপোর্ট সাবমিট করে ফেললে তো জিনিসটা বেরিয়ে পড়বে, বের না করলে তো একটা মানুষকে অপরাধী বানিয়ে রাখা যায়। ব্লেইম করে বের করে ফেললে তো মানুষটা দায়মুক্ত হয়ে গেল! বা যারা দায়ী তারা চিহ্নিত হবেন। এগুলোর পেছনে কিছু চক্র থাকে। আমার মনে হয়, একাডেমিকদের একটা এন্টি চক্র থাকে, যাতে একাডেমিশিয়ানরা কখনো কোন ভালো জায়গায় না আসতে পারেন। বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার তো কিছু ছিল না।

অন্যদিকে, দেখা যাচ্ছে-তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু গণমাধ্যমে রিপোর্ট হয়ে যাচ্ছে। এটাতো এক ধরণের ইন্টিগ্রিটির প্রশ্ন। তার মানে এই শ্রেণিটা চাচ্ছে, বদনামটা শুরু হোক কিন্তু সমাধানটা না হোক। এটাতো বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মতো। বিচার দীর্ঘায়িত করতে করতে শেষ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় না এলে তো বিচারই হতো না। সেজন্য বলি যে হ্যাকাররা যে টাকাটা নিয়েছে, তার একটা আন্তর্জাতিক লম্বা প্রসেস আছে তা হতে থাকুক, কাজ চলতে থাকুক; কিন্তু যে মানুষগুলি সত্যিকার অর্থে কাজ করতে পারে তাদের কাজ করতে দিন। যদি এমন কিছু মানুষকে নেন যে তারা অনুগত কিন্তু তার মান-মেধা, একাডেমিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে তাহলে?

যেমন এক রাজার একটি পোষা বানর ছিল, তাকে বলা হল, তুমি মশা তাড়াও। সে মশা তাড়াতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজ দেখাতে গিয়ে দেয়াল থেকে তরবারি এনে মশাকে কুপিয়ে মারতে গিয়ে রাজাকেই দু’ভাগ করে ফেলেছে। অনুগতদের ক্ষেত্রে একটা বিপদ হয়, তাদের মেধার দিকটা ওরকমভাবে থাকে না বলেই আনুগত্যের আশ্রয় নেয়। আমি বলব, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিডারশিপের র‌্যাংকিং হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকেরও হয়েছে। র‌্যাংকিং হলেই হলো না। করাপশনের র‌্যাংকিং পাই, প্রথমে বলা হলো এটা চক্রান্ত, আমি তা মনে করি না। সারা পৃথিবীর ১৯০টি দেশের মধ্যে শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত করতে যাবে কেন? অনেকে বলে আমেরিকার চক্রান্ত। আমি এতদিন আমেরিকায় আছি, ওরকম হদিস পাই নাই। কনস্পিরিসি থিওরির সঙ্গে আমি একমত নই। এগুলো নিজের দায় ঢাকার ব্যাপার বলেই মনে হয়।

এই জায়গাগুলোতে একটা মানবিক শুদ্ধি ও জ্ঞানের অন্তর্ভূক্তি আনতে হবে। যদি ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন আগে আনতে চান তাহলে তার আগে নলেজের ইনক্লুশন আনতে হবে। যেন আমাদের মেরিটরিয়াসরা দেশে থাকতে পারে। তারা দেশে না থাকলেও যাতে দেশে এসে কাজ করতে পারে সেরকম কিছু করা উচিত। বাঙালি স্বভাব হলো তৃতীয় শ্রেণির রেলযাত্রীর মতো, তারা রেলগাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে আর আরেকজন উঠতে চাইলে উঠতে দেয় না। নিজে উঠার সময় কষ্ট করে উঠে। উঠার পর আর কাউকে উঠতে দেয় না। দরজার মধ্যে আটকে রাখে।

বার্তা২৪.কম: তার মানে হ্যাকিংয়ের অজুহাতে ডিজিটাইজেশন থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ কি আমাদের আছে?

ড. বিরূপাক্ষ পাল: বাংলাদেশে তাঁতীরা যখন কাজ হারিয়ে ফেলে তারা কিছু করে না। তারা মেনে নেয়। ওরা আক্রোশে যন্ত্রপাতি রাস্তায় এনে পিটিয়ে ভাঙে না, যদিও যন্ত্রকে থামানো যাবে না। আমেরিকায় ওয়ার্ল্ডমার্টে দেখতে পাই, ২০টা কাউন্টারে সমানে কাজ হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সে স্ক্যান করে বেরিয়ে যাচ্ছে সবাই। তার মানে যদি বলি লোকগুলোকে নিয়োগ করা বন্ধ করে দেব...এটা নন্দলালের মানসিকতা ‘গাড়িতে চড়িও না, দুর্ঘটনাও হবে না’। দেবদাসের মত ‘গরুর গাড়িতে যাব, যেতে যেতে পার্বতীর কাছে যাওয়ার আগেই মারা যাব’। তারা অতীতকে নিয়ে থাকতে চায়। পত্রিকায় রিপোর্ট দেখলাম, পদ্মাব্রিজ হওয়ায় তীরের কিছু মানুষের যে কি কষ্ট মাঝিদের জীবনে! মাঝিদের প্রতি ভালোবাসা আছে। কিন্তু মাঝিদেরও ভাবতে হবে এখানে ব্রিজ হচ্ছে, আমাকে অন্য পেশায় যেতে হবে। এটিই জগতের নিয়ম।

সম্পাদনা: মাহমুদ মেনন, এডিটর-অ্যাট-লার্জ, বার্তা২৪.কম 

;

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকার বদ্ধপরিকর: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করা হচ্ছে।

শনিবার (২১ এপ্রিল) আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিঃ (এপিএসসিএল) পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ ত্রুটি মেরামত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রাথমিক জ্বালানি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এই গরমের বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে। এই চাহিদা পূরণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। একটিই চ্যালেঞ্জ – অর্থ।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোন সঞ্চালন বা বিতরণে সমস্যা থাকলে তা যেন দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিঃ একটি সরকারি মালিকানাধীন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পাওয়ার হাব। এর ৬টি ইউনিটের বর্তমান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ৫৮৪ মেগাওয়াট। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিঃ এর লক্ষ্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমান এক হাজার ৫৮৪ মেগাওয়াট থেকে তিন হাজার ৩০২ মেগাওয়াট-এ উন্নীত করা।

এপিএসসিএল সমাজের দায়বদ্ধতার স্থান থেকে নীতি গ্রহণ করে আসছে। ২০২২-২৩ সময়কালে, এপিএসসিএল সিএসআর কার্যক্রমের জন্য ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও এপিএসসিএল গতবছর বেশ কিছু বড় ভূমিকা পালন করেছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশএর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.কে.এম গাউছ মহীউদ্দিন আহমেদ, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদ একরাম উল্লা ও এটুআই (এসপায়ার টু ইনোভেট )কার্যক্রমের পলিসি এডভাইজার আনীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

;