‘উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য খাতকেও স্মার্ট করা হবে’



রুহুল আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৪ সোমবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইলিশ হলো মাছের রাজা, জাটকা ধরলে হবে সাজা’। এ উপলক্ষে চাঁদপুরের মোলহেড বড় স্টেশন এলাকায় জনসভা ও তৎসংলগ্ন নদীতে সচেতনতামূলক নৌ-র‍্যালির আয়োজন করে মৎস্য অধিদপ্তর। ঢাকা থেকে লঞ্চে করে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চাঁদপুর যান মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। ফেরার পথে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্ত আলাপে মন্ত্রণালয় নিয়ে তাঁর বিশদ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

একান্ত আলাপে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী কথা বলেন মৎস্যজীবিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে নেয়া তার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে। এ সময় তিনি মৎস্যজীবীদের ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়া, অবৈধ জাল ব্যবহারে কঠোর হওয়া ও উৎস্যমূল বন্ধ করা, মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্মার্ট পদক্ষেপ নেয়াসহ মৎস্যজীবীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। 

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বার্তা২৪.কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রুহুল আমিন।

বার্তা২৪.কম: মৎস্যজীবীদের ব্যাংক থেকে ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে সহজেই যেন ঋণ পায় তা নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

আব্দুর রহমান: এই বিষয়টা আমাদের এক ধরণের রোগ। যারা যেখানে দায়িত্ব পালন করেন সেখানে অবহেলা সাংঘাতিক খারাপ। আমরা চিন্তা করছি বাংলাদেশ ব্যাংকের  সঙ্গে বসব, আলোচনা করব। ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষি যদি তার বাড়ির আশপাশের পুকুরে বা নালায় মাছ চাষ করতে চান সে ক্ষেত্রে যদি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে কনভিন্স করতে পারি এবং তারা যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে দুটো বিষয় হবে। একটা হলো আমাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। লাখি লাখ বেকার-যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এটা বিরাট সম্ভাবনাময় খাত।

বার্তা২৪.কম: আপনাদের এবারের নির্বাচনি প্রতিজ্ঞা স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণ। সে ক্ষেত্রে আপনি মৎস্যখাতকে কিভাবে স্মার্ট করতে চান?

আব্দুর রহমান: স্মার্ট মৎস্য খাত করার লক্ষ্য একটাই, মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সে উৎপাদন বৃদ্ধি করার যথেষ্ট উপাদান আমাদের আছে। আমাদের দেশে নালা, খাল, নদ-নদী, আবদ্ধ জলাশয়, পুকুরকে মাছ চাষের উপযোগি করে তোলা এবং সেগুলোকে সংস্কার করা জরুরি। এভাবে যদি আমরা মাছ চাষে উদ্যোগী হই তাহলে অবশ্যই সেখান থেকে আমরা একটা ভাল ফলাফল পাব।

বার্তা২৪.কম: মৎস্য রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে কি ধরণের পদক্ষেপ নিবেন?

আব্দুর রহমান: মৎস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আমরা মূলত চিংড়ি রপ্তানি করে থাকি। ইতোমধ্যে আমরা ভেনামি নামের নতুন একটি চিংড়ির জাত চাষ শুরু করতে নানা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ চিংড়ির চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি। আমরা যদি সেখানে যেতে পারি ইনশাআল্লাহ চিংড়ি ও ইলিশ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সন্তোষজনক করা সম্ভব। আমাদের জিডিপিতে এই খাতটা অনেক বড় ভূমিকা পালন  করবে।

বার্তা২৪.কম: বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশ বড় একটি ভূমিকা পালন করে। এ ইলিশ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতে কি ধরণের পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাব?

আব্দুর রহমান: ইলিশ মূলত একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এটা চাষাবাদের বা লালন পালন করার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং একটা মাছ থেকে একশটা বাচ্চা তৈরিই হলো ইলিশ উৎপাদনের মূল কৌশল। সে জায়গাটাতে যদি প্রটেকশন দেয়া যায় তাহলে নিশ্চয় উৎপাদন বাড়তে বাধ্য। পোনা বা জাটকা ধরা যদি বন্ধ করতে পারি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নানা ধরনের উৎসাহ, প্রণোদনা দিয়ে যদি এ কাজটা সফলভাবে করা যায় তাহলে আমি মনে করি একটি অভূতপূর্ব ফলাফল আমরা পাব।

বার্তা২৪.কম: মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের যে সহযোগিতা দেয়া হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌছায় না। সে ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে ? 

আব্দুর রহমান: আপনারা দেখবেন, এ খাতের সঙ্গে মহাজন বা দাদনদারদের যুক্ততা আছে। এরা অফ সিজনে জেলেদের অল্প টাকা দিয়ে তাদের আগাম কিনে নেয়। তারপর এরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে। এই সংস্কৃতিটা কিন্তু আমাদের দেশে নতুন নয়।

এই ভূমিকাটা একেবারে নির্মূল করা যাবে বলে আমি মনে করি না। প্রকৃত অর্থে যারা মৎস্যজীবী, যারা মাছ আহরণ করে তাদের তালিকাটা যদি স্মার্টলি প্রণয়ন করা যায়, সরকারের কৃষি ব্যাংকগুলো যদি তাদেরকে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ দেয় তাহলে ঐ দাদন গোষ্ঠি বিলুপ্ত হতে বাধ্য।

বার্তা২৪.কম: অবৈধ জাল উৎপাদনকারীদের নির্মূলে কি ব্যবস্থা নিবেন?

আব্দুর রহমান: আইনি সহায়তা দিয়ে শুধু অবৈধ জাল নিধন করা কি সম্ভব? এই জাল নিধন করবে কারা? প্রশাসনের লোকজন। আমি প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে দেখার জন্য বললাম কিন্তু তারা কম মনোযোগ দিয়ে দেখল, তাহলে তো হবে না। তবে কোন জিনিস বিনা বাধায় যদি কেউ করবার সুযোগ পায় তাহলে সে যে সুবিধাটা পাবে কিন্তু নানা ভাবে যদি প্রতিবন্ধকতা আসে, নানাভাবে যদি তাকে সতর্ক রাখা যায় তাহলে কিন্তু সে কাজটা সে ততটা সহজভাবে করতে পারবে না।

আমি একটা উদ্যোগ গ্রহণ করে যদি ৮০ ভাগও ফল পাই তাহলে তো এটা যথেষ্ট ভাল। কিন্তু আমার প্রেশার টা রাখতে হবে শতভাগ ফল পাবার। হয়তো আমি ২০ শতাংশ হলো না তারপরেও একটা ভাল ফল পাবো। আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি হচ্ছে, যদি মানুষের প্রতি কমিটমেন্ট না থাকে তাহলে এটা খুবই কঠিন। কারণ উৎস্যমুখে যেখানে হানা দিতে বললাম, অবৈধ জাল নির্মূল করতে বললাম তারাও তো দাগি লোভী ব্যবসায়ী।

বার্তা২৪.কম: অভিযোগ আছে অনেক ক্ষেত্রেই জাটকা ধরার ক্ষেত্রে শিশুদের ব্যবহার করা হয়। এর সাথে স্থানীয় সরকারের লোকজনও জড়িত থাকার কথা শোনা যায়। এ ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নিবেন?

আব্দুর রহমান: স্থানীয় সরকারের লোকজনকেতো জড়িত করতেই হবে। তবে হতাশার জায়গাটা হলো ঐখানেই যে আপনি তাদের আন্তরিকতা, তাদের স্বদিচ্ছা কতটুকু কোথায় আছে এই জায়গাটা তো বিবেচনায় নিতে হবে। প্রয়োজনে শিশুদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে না দিয়ে তাদের বোঝাতে হবে, তোমাদের যারা ব্যবহার করছে তুমি যেনো ব্যবহার না হও সে জন্যই এই শাস্তি।

বার্তা২৪.কম: আপনি ছাত্রলীগ থেকে এখন আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ ফোরামে আছেন। কিন্তু এবারই প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন। এনিয়ে আপনার অনুভূতি কি?

আব্দুর রহমান: রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে এটা একটা বড় স্বীকৃতি। দলের জায়গা থেকেও একটা কাজ করার বড় সুযোগ আছে। আবার দল সরকার পরিচালনায় থাকলে সেখানেও। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর সরকারে। এটার একটা ইতিবাচক সন্তুষ্টি তো থাকেই। যথার্থ অর্থে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, এমন সুযোগ পেয়ে মানুষের কল্যাণে এই সুযোগটাকে কাজে লাগানোই হচ্ছে বড় কর্ম। সে কর্মটাই যদি সফলভাবে, সুন্দরভাবে করা যায় সেটাই বড় প্রাপ্তি।

বার্তা২৪.কম: সরকারের অংশ হিসেবে আপনার মন্ত্রণালয় নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? 

আব্দুর রহমান: মৎস্য মন্ত্রণালয় গণমানুষভিত্তিক মন্ত্রণালয়। আমাদের সামগ্রিক জনগোষ্ঠির দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত এই মন্ত্রণালয়। আমিষ জাতীয় খাদ্য স্বয়সম্পূর্ণভাবে মানুষকে দেয়া এবং নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে যেন রপ্তানিও করতে পারি সেটাই আমাদের পরিকল্পনা।

বার্তা২৪.কম: আপনার এই নতুন দায়িত্বকে কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?

আব্দুর রহমান: চ্যালেঞ্জ তো প্রত্যেকটা কাজেই আছে। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনা, সেটিকে প্রোডাক্টিভ ভিউজ থেকে মানুষের সামনে তুলে ধরা, মানুষের জন্য কাজে লাগানোতেই স্বার্থকতা। কোন মানুষ যদি তার কাছে নিষ্ঠা ও সততা নিয়ে এগুলো নিয়ে কাজ করতে চায় তাহলে সফলতা আসতে বাধ্য। আমার বিশ্বাস আমার সে ধরণের প্রবণতা, ইচ্ছা আছে। আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার যে ইচ্ছা সেটাই হচ্ছে বড় বিষয়। সে ইচ্ছেটা আমার মধ্যে আছে।

   

একীভূত হচ্ছে না ইসলামী ব্যাংক, তালিকায় রয়েছে অন্য ৯টি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার চূড়ান্ত একটি লিস্ট তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এর মধ্যে কোনো ইসলামি ব্যাংকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা যায়, দুর্বল যেসব ইসলামি ধারার ব্যাংক রয়েছে এসব ব্যাংক মালিকরা নিজেদের উদ্যোগেই ব্যাংকগুলোর স্বাস্থ্য ভালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, বিডিবিএল, বেসিক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

যদিও আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেয়ার বিষয়ে কথা হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকটির নাম ছিল দ্য ওরিয়েন্টাল ব্যাংক। সে সময় ব্যাংকটি ওরিয়ন গ্রুপের মালিকানায় ছিল। তবে দেউলিয়াপ্রায় অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তা মালয়েশিয়াভিত্তিক আইসিবি ইসলামি গ্রুপ ব্যাংকটির অধিকাংশ শেয়ার কিনে নেয়। তবে নাম, মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনলেও আইসিবি ইসলামি ব্যাংক আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এদিকে ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসব ব্যাংক নিয়ে নিউজও হয়। তবে এসব ব্যাংক এখনই একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

সূত্রমতে, গত মার্চ মাসে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চুক্তি করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংক একীভূত করার ধারা শুরু হয়। এছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে সরকারি মালিকানাধীন সমস্যাগ্রস্ত বেসিক ব্যাংক।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্র জানায়, সম্প্রতি আর্থিক খাতের নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়। কোন ব্যাংক কার সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা নিয়ে সেখানে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তার একটি খবরের পর আলোচনা ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে মিলিয়ে দেয়া হবে।

ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

এ ছাড়া একত্রীকরণের অনুমোদন হওয়ার পর হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী হস্তান্তর গ্রহীতা ব্যাংকের কর্মকর্তা হতে না চাইলে তাঁদের ক্ষতিপূরণ, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ভবিষ্য তহবিল ও অন্যান্য অবসরজনিত সুবিধা দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে গ্রহীতা ব্যাংক-নীতিমালায় এ বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া আছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ব্যাংক একীভূতকরণের ‍উদাহরণ খুব একটা নেই। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ও বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থাকে একীভূতকরণ করে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গঠন করা হয়েছিল ২০০৯ সালে।

;

ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। চলতি (এপ্রিল) মাসের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। সেই হিসেবে প্রতিদিন গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সোমবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম পাঁচদিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সবমিলিয়ে এপ্রিলের প্রথম পাঁচদিনে ৪৫ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।

এর আগে, মার্চের প্রথম ৫দিনে ৩২ কোটি ৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সেই হিসেবে চলতি মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। এই ধারা আগামী ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, রোজা-ঈদে প্রবাসীরা দেশে আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ পাঠান। তাই এই সময়ে স্বাভাবিকভাবেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। রেমিট্যান্সের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে। একইসঙ্গে ডলার সংকটও কেটে যাবে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে দেশে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা চলতি অর্থবছরে সর্বোচ্চ।

;

ঈদ উৎসবকে বর্ণিল করে তুলছে বিকাশ-এ সালামি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বার্তা, খুশির বার্তা নিয়ে আসে নতুন চাঁদ। নতুন জামা, নামাজ, মজাদার খাবার, প্রিয়জনের সান্নিধ্য সহ আরো নানান অনুষঙ্গের সাথে ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হয় সালামি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির কল্যাণে সালামিও এখন ডিজিটাল। ঈদ সালামি নিতে এবং দিতে বিকাশ-এ হয়ে উঠেছে অন্যতম মাধ্যম। ‘ঈদের চাঁদ আকাশে, সালামি দিন বিকাশ-এ’ স্লোগানে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশে ডিজিটাল সালামির জনপ্রিয়তা জানান দেয়।

একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নাইমুল করিম বলেন, “ঈদ আনন্দের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে সালামি, বিশেষ করে ছোটদের জন্য। আর এই যুগে সালামি দেওয়া বা চাওয়ার ধরণে পরিবর্তন এসেছে প্রযুক্তির কল্যাণে। ঈদের সময় সহকর্মী বা আত্মীয়-স্বজন সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কঠিনই বটে। তাই বলে তো আর ছোটদের সালামি থেকে বঞ্চিত করতে পারি না! গত কয়েক বছরের মতো এবারও তাই সবাইকে মজার ম্যাসেজসহ সালামি পাঠিয়ে দিবো বিকাশ-এ।”

নাইমুলের মত লাখ লাখ মানুষ স্নেহভাজনদের ঈদ সালামি পাঠাতে এবছরও ব্যবহার করবেন বিকাশ-এর সেন্ড মানি সেবা। সাথে বিকাশ অ্যাপে থাকা ডিফল্ট গ্রিটিংস কার্ড অথবা গ্রাহক চাইলে নিজের পছন্দমতো সেই কার্ডে নতুন ম্যাসেজ লিখে দিতে পারবেন বিনামূল্যে। বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই মেসেজ লেখার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে রমজানের দুই সপ্তাহ পার না হতেই কার কার কাছ থেকে সালামি পাওয়া যাবে তার একটি লিস্ট করে ফেলেছেন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা তাসনুভা ও তার স্কুলপড়ুয়া ছোট ভাই ফাহিম। চট্টগ্রাম নিবাসী এই তরুণী বলেন, “চাচা-মামা-ফুপু-খালা, কাজিনদের অনেকেই বাস করেন অন্যান্য জেলায়। ঈদের সময় তাদের অনেকের সঙ্গেই দেখা হওয়ার সুযোগ কম। তাই ঈদের আগেই কল করে বা ম্যাসেজ দিয়ে তাদের বিকাশে সালামি পাঠিয়ে দেয়ার আবদার জানাচ্ছি!”

বড় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই সাড়া ফেলেছে বিকাশ অ্যাপের সেন্ড মানি থেকে সালামি পাঠানোর এই উদ্ভাবনী ফিচার। টাকা পাঠানোর সাথে সাথে মজার ম্যাসেজসহ ডিজিটাল ঈদ সালামি হয়ে উঠেছে ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ। আর এবার ‘গ্রুপ সেন্ড মানি’ ফিচারের কল্যাণে একসঙ্গে অনেককে সালামি দেওয়ার সুযোগ যোগ করেছে বাড়তি আনন্দ।

;

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এবার বেসরকারি খাতের সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক।

সোমবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসিক ব্যাংক স্বেচ্ছায় একীভূত হচ্ছে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে। এ নিয়ে বেসরকারি খাতের দ্বিতীয় ব্যাংক হিসেবে আরেকটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক।

এর আগে, গত ১৯ মার্চ সিটি ব্যাংকের পর্ষদকে বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় সিটি ও বেসিক ব্যাংকের পর্ষদের মধ্যে।

জানা গেছে, একীভূত হলেও আগামী তিন বছর পৃথক আর্থিক প্রতিবেদন করবে ব্যাংক দুটি৷

এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত একত্রীকরণ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নীতি সহায়তা বাধ্যতামূলক একত্রীকরণ থেকে অনেক বেশি, তাই সবল ব্যাংক হিসেবে কোন দুর্বল ব্যাংককে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এ নিয়ে মোট চারটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি ব্যাংক দুটি আর বেসরকারি ব্যাংক দুটি। গত মার্চ মাসে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চুক্তি করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংক একীভূত করার ধারা শুরু হয়।

;