বিমা গ্রাহকদের ২ হাজার কোটি টাকা লোপাট!

মাহফুজুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
আইডিআরএ

আইডিআরএ

  • Font increase
  • Font Decrease

নিয়মবহির্ভূত ব্যয় দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডার এবং গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে দেশের ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানি। কোম্পানিগুলো ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সময়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে ২ হাজার ৪০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লোপাট করেছে।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য চিত্র ফুটে উঠেছে।

বিমা কোম্পানির মালিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) মিলে এই টাকা কোম্পানির বিভিন্ন জিনিসপত্র ও জমি কেনা, বাসা ভাড়া দেওয়া এবং গাড়ি-বাড়ি বাবদ খরচ দেখিয়ে লোপাট করেছেন। পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্বজনদের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন তারা।

এছাড়াও দাবি নিষ্পত্তি হওয়ার পরও বিমা দাবি পরিশোধ করেনি কোম্পানিগুলো। মৃত্যু কিংবা দুর্ঘটনার বিমা দাবি পরিশোধে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে।

আইডিআরএ’র তথ্য মতে, সরকারি-বেসরকারি জীবন বিমা কোম্পানিগুলো ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গত সাত বছরের ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়েছে ২০ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আইন অনুয়ায়ী কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনা ব্যয় করতে পারতো ১৮ হাজার ৪৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ গ্রাহকদের ২ হাজার কোটি ৪০৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে লোপাট করেছে কোম্পানিগুলো।

অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক ও শেয়ার হোল্ডারদের অর্থ লোপাটের শীর্ষে রয়েছে বায়রা, ফারইস্ট ইসলামি ও প্রাইম ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে ২০১৭ সাল থেকে নির্ধারিত মীমার মধ্যে ব্যয় করেছে ডেল্টা, গার্ডিয়ান, প্রগতি, মেঘনা, প্রাইম, রূপালী ও মেটলাইফ এবং সোনালী ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।

২০১৪ সাল থেকে আইডিআরএ অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বিষয়ে কঠোর হওয়ার পর থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমে আসতে শুরু হয়। এর মধ্যে ২০১৭ সালে ৩২টি জীবন বিমা কোম্পানি মাত্র ১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এ বিষয়ে বিমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, জীবন বিমা কোম্পানিগুলো আইন বহির্ভূত অর্থ ব্যয় দেখিয়েছে। বিষয়টি আইডিআরএ আমাদের জানিয়েছে। আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের আইনটি বেশ পুরনো। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। তাহলে এখানে যে ফিগার দেখানো হয়েছে, তা কমে আসবে।

আইডিআরএ’র কঠোর পদক্ষেপের কারণে কোম্পানিগুলোতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমে আসছে। তবে আর কিছু কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান শেখ কবির হোসেন।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এক সময়ে বিমা কোম্পানিগুলোর দাবি পরিশোধ না করার সংস্কৃতি ছিল, এখন সেই সংস্কৃতির পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় থেকেও বেরিয়ে আসছে।

নতুন প্রজন্মের কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গত ২ বছর ধরে আমাদের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় নেই। আমাদের মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলোও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনছে।

আপনার মতামত লিখুন :