সংবেদনশীল তথ্য গোপন করছে ডিএসই

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার বিক্রি না করার মতো সংবেদনশীল তথ্য গোপন করছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

পূর্বঘোষিত কোম্পানির করপোরেট পরিচালক ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার লিমিটেডের ১ কোটি শেয়ার বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আর এতে করে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছে। অনেকে ইউনাইটেড পাওয়ার বিদেশি কোন কোম্পানির কাছে শেয়ার বিক্রি করেছেন ভেবে শেয়ার কিনেছেন। কেনার পর দেখা গেছে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমছে আর কমছে । আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এই অনৈতিক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ডিএসইর প্রধান রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জিয়াউল হক। এর আগেও একবার রহিমা ফুডের গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্য গোপন করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের পরিচিত ব্যক্তিদের কোম্পানির তথ্য পাচার করেছেন। এবং তাদের শেয়ার বিক্রির সুযোগ করে দিয়েছেন।

অথচ নিয়ম অনুসারে কোম্পানির কোন তথ্য ডিএসইতে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোম্পানি যদি ভুল তথ্য দেয়, তাও প্রকাশের পর কোম্পানির কাছে জবাব চেয়ে তা সংশোধন করতে হবে।

সংবেদনশীল তথ্য গোপনের ঘটনার পর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সিআরও এর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিআরওকে শোকজের পরামর্শ দেন। কেন এমন ঘটনা ঘটছে বারবার। কারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশও দেন তারা।

তথ্য গোপন করার বিষয়ে সিআরও এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, যা বলার এমডি বলবেন।

ডিএসইর এমডি আব্দুল মতিন পাটোয়ারি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পূর্বঘোষিত নিয়ম অনুসারে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ার বিক্রির শেষ সময়। ঠিক তার আগে এক চিঠিতে জানায় সঠিক দাম না পাওয়ার পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় শেয়ার বিক্রি করবে না। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এই তথ্য নিয়ম অনুসারে ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিধান থাকলেও আজ পর্যন্ত তা প্রকাশ হয়নি। এ বিষয়টি সিআরও এর কাছে জানতে চাওয়া হবে বলে জানান এমডি।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

ডিএসইর তথ্য মতে, চলতি বছরের ৬ আগস্ট ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে কোম্পানির করপোরেট পরিচালক ইউনাইটেড ময়মনসিংহ পাওয়ার লিমিটেডের ৪৩ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪টির মধ্যে ১ কোটি শেয়ার ব্লক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণা দেয়। নিয়ম অনুসারে ঘোষণা পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করতে হবে। ৩০ কার্যদিবসের শেষ সময় ছিল ২৬ সেপ্টেম্বর।

এদিকে, শেয়ার বিক্রির ঘোষণার দেওয়ার পর থেকে কোম্পানির শেয়ারের দাম ৩৯০ দশমিক ৪ টাকা থেকে বেড়ে ২২ আগস্ট দাঁড়ায় ৪১০ দশমিক ৮ টাকা। তবে তারপর থেকে শুরু হয় পতন। যা ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মঙ্গলবার শেয়ারের দাম কমে ২৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :