শ্রমিকের বেতন ক্যাশ আউটে হাজারে চার্জ ৪ টাকা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ আউটে চার্জ প্রতি হাজারে ৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এরমধ্যে শ্রমিকদের দিতে হবে ৪ টাকা। বাকি ৪ টাকা পরিশোধ করবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ প্যাকেজের আওতায় নতুন করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

জানা গেছে, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় ক্যাশ আউটে (টাকা উত্তোলনে) প্রতি হাজারে ১৮ থেকে ২০ টাকা চার্জ কেটে নেয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এজেন্টরা। স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের এ খরচ বহন করা কঠিন। বিষয়টি বিবেচনায় এ নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত সার্কুলারে বলা হয়, গত ২ এপ্রিল রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সকলকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় পরিশোধিত বেতন ভাতা ক্যাশ আউট এর ক্ষেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ফি আদায়ে শুধুমাত্র কষ্ট রিকভারি বা কোনো ক্ষেত্রে সাবসিডি প্রদানের জন্য অপারেটরদেরকে (নগদ সহ) অনুরোধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বা হাজারে ৮ টাকার বেশি চার্জ আদায় করা যাবে না। এর মধ্যেও এমএফএস অপারেটরদের নিজেদের কমিশন থেকে ৪ টাকা প্রদান করবে ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক। বাকি ৪ টাকা পরিশোধ করবে গ্রাহক বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক।

এর আগে গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিসচার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারবে। তবে এ ঋণ দিয়ে শুধুমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা প্রদান করা যাবে না। একইসঙ্গে এ বেতন সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে দিতে হবে। নগদ টাকা প্রদান করা যা‌বে না।

এ প্রেক্ষিতে গত ৬ এপ্রিল এ ঋণ সুবিধা নিতে চায় এমন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ২০ এপ্রিলের মধ্যে মোবাইল অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই হিসাব খোলার জন্য কোনো ধরনের চার্জ বা ফি না কাটা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা এবং বেতন-ভাতাদি মোবাইলে পৌঁছাতে এ নির্দেশনা দেয় এ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এতে করে শ্রমিকরা ঘরে বসেই নিজ নিজ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টেই বেতন-ভাতা পাবেন।