উপজেলা নির্বাচন ঘিরে বরিশালে প্রার্থীদের জনসংযোগ বাড়ছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জানাজা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জোর প্রতিযোগিতা চলছে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে। যদিও সাধারণ মানুষের এ নিয়ে খুব একটা ভাবনা নেই। নির্বাচন নিয়ে চা দোকানেও নেই কোনো আলোচনা। এমনকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করার পর সোজা সরল উত্তর- ‘পেটনীতি কইরা বাঁচি না, উপজেলায় আর কি? জাতীয় নির্বাচনেইতো উপজেলা লেখা আছে। যান তো ভাই।’ এমন আচরণ চন্দ্রমোহন ও চাঁদপুরা ইউনিয়নের বাজারে।

আবার টুঙ্গিবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চরবাড়িয়া ও চরমোনাই এলাকার গ্রামের সাধারণ মানুষের মুখে এখন নির্বাচন মানেই চরম বিরক্তি। এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহ না থাকলেও সোমালিয়া থেকে বাংলাদেশের নাবিকরা উদ্ধার হয়েছে কিনা, পাকিস্তানের ইমরান খান সরকারে আসবে কিনা, জানার আগ্রহ গ্রামবাসীর। কেউ কেউ আবার বাজারের দরে বিএনপির সিন্ডিকেট কীভাবে করল, দেশে এতো আত্মহত্যা কেন হচ্ছে, জাহাঙ্গীর নগর ও জগন্নাথের আত্মহত্যা হইলো কেন? এমন অসংখ্য প্রশ্ন তোলেন গ্রামের সাধারণ মানুষরা।

সরেজমিনে বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার চেষ্টায় রোববার (১৭ মার্চ) এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল টুঙ্গিবাড়িয়ার লাহারহাট ও চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের চন্দ্রমোহন বাজারে। বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এবার মনিরুল ইসলাম ছবি, মাহমুদুল হক খান মামুন, এসএম জাকির এবং মাহবুবুর রহমান মধু নামে চারজনের ব্যানার পোস্টার ও প্রচারণা চোখে পড়ে। কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী এলাকাসহ ওপারে ঝুলছে এসব ব্যানার পোস্টার।

বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৪৭টি গ্রামকে ঘিরে চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত চারজনের প্রচারণা চোখে পড়ে। সকলের চেষ্টা এই উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লক্ষ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার। এদের মধ্যে ভোটার সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই লক্ষ। তবে ২০১১ সালের জনসংখ্যা পরিসংখ্যানে মোট লোকসংখ্যা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৯ জন, পুরুষ ৯৭ হাজার ৭৩২ জন, মহিলা ১ লাখ ০১ হাজার ৭ জন উল্লেখ রয়েছে। একই হিসেবে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮১ জন, পুরুষ ভোটার ৫৯ হাজার ৪৫৫ জন।

তবে আপডেট করা হলে এ সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হবে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরা। এ অঞ্চলের বরাবরই নারী ভোটার বেশি। তাই জাতীয় বা স্থানীয় উভয় নির্বাচনেই নারীদের ভোট বেশি গুরুত্ব বহন করে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যানরা।

বরিশাল এক বা সদর আসনের ১০ ইউনিয়নের মধ্যে নদীর ওপারে চরকাউয়া, চাঁদপুরা, চরমোনাই, চন্দ্রমোহন এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় সব জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান) জানালেন, তারা নিজেদের এলাকার সড়ক ও ব্রিজের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছেন না। অনেক সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টের কারণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এগুলো নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এর কাছে ছুটোছুটি করছেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না বলে জানান বেশিরভাগ চেয়ারম্যান।

তারা বলেন, এখনোতো তফশিল ঘোষণা হয়নি। যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের অনেকেই হয়তো ততদিনে উইড্র হয়ে যাবেন বলে জানান টুঙ্গি বাড়িয়ার চেয়ারম্যান নাদিরা রহমান। তার এলাকায় বদিউল্লাহ, শালুকা ও চর কেউটিয়া গ্রামে ফুলতলা নদীর উপর তিনটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে গ্রামবাসী। যা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন চেয়ারম্যান নাদিরা রহমান।

তিনি বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক চর কেউটিয়াতে একটি ব্রিজের ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে একই ইউনিয়নে আরো দুটি ব্রিজ কি করে চাইবো?

এদিকে চরমোনাই ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ গ্রামেই কোনো উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি। যতটুকু উন্নয়ন তার সবটাই চরমোনাই মাহফিল ময়দান ও মাদ্রাসা এলাকায়। আশেপাশের গ্রামগুলোতে এখনো মাটির সড়ক চোখে পড়ে

চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক অবশ্য চারজন প্রার্থীকেই সময় দিয়েছেন দাবি করে বলেন, মনিরুল ইসলাম ছবি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী, আবার এসএম জাকির যখন এসেছেন তখন ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবার মাহমুদুল হক খান মামুন এসেছিলেন একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে। এলাকার মানুষের সাথে আমিও ছিলাম সেখানে।

চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বললেন, বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এর নির্দেশনার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। চাঁদপুরা ইউনিয়ন বাসী জাহিদ ফারুকের সমর্থন যেদিকে সেদিকেই তারা থাকবে বলে জানান চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন।

চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম নিজেই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পরপর চারবারের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাংগঠনিক ভাবে আমার অবস্থান প্রচণ্ড শক্ত রয়েছে। তাই মানুষের ভোটও আমি পাবো।

এদিক দিয়ে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মধু। লাহারহাটের গ্রামে প্রচারণারত মধুর দাবি ১০ ইউনিয়নের ১৪৭টি গ্রামের প্রতিটি ঘরে আমি গিয়েছি। যতটুকু পেরেছি ততটুকু সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারপরও সংবাদমাধ্যমগুলোতে অনেকের নাম লেখা হয়, আমার নাম লেখা হয় না।

তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, সাংবাদিকরাতো সবাই জাকিরের লোক। কেউ কেউ অবশ্য প্রতিমন্ত্রীর সমর্থন যেদিকে সেদিকে থাকবেন। তার ওপর খান মামুন এর অঢেল টাকাও রয়েছে। তিনি তা দিয়ে দান দক্ষিণা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান মধু। তিনি আরো বলেন, দৈনিক মতবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম জাকিরতো শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুযোগে সাংবাদিকদের বড় একটা অংশের সুনজরে রয়েছেন। যে কারণে তার নিজের পত্রিকাসহ অনেক পত্রিকার প্রভাব বিস্তার হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মহলে। তাই তার জনসভায় সব চেয়ারম্যান মেম্বার উপস্থিত থাকতে বাধ্য হয় বলে জানালেন ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান মধু।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক কাউন্সিলর এসএম জাকির বলেন, মানুষেরা জানেন আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমাকে ভোট দিলে কারো প্রতারিত হওয়ার ভয় নেই। আমি দুই লক্ষ ভোটারের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবো বলে জানান এসএম জাকির।

অন্যদিকে প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রীর ছবি সমেত ব্যানার পোস্টার ঝুলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মধু দুজনেই। এই দুজনের মধ্যে খান মামুন প্রচার প্রচারণায় এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অবদান রাখছেন। এপারে কাশীপুর, কড়াপুর, চরবাড়িয়া ও শায়েস্তাবাদের প্রতিটি সড়কের মোড়ে মাহমুদুল হক খান মামুন এর ব্যানার পোস্টার লক্ষ্য করা গেছে। যা তাকে স্থানীয়ভাবে আলোচিত করে তুলছে। তার সম্পর্কে লোকেরা জানান, ত্যাগী নেতা তিনি। রাজনৈতিক জীবনে দল থেকে প্রাপ্তির খাতা শূন্য হলেও জনগণের কাছ থেকে অনেক ভালবাসা পেয়েছেন তিনি।

তবে বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, কোনো পদপদবি মোহে নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করা, তাদের বিপদে এগিয়ে আসা, ছোটখাটো উপকার এসব আমরা পারিবারিকভাবেই করছি। কারণ বংশপরম্পরায় আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার বাবা প্রয়াত শামসুল হক এই বরিশালের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে আমি বিএম কলেজে ছাত্রলীগের ভিপি ছিলাম। তিল তিল করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি। এবার কেন্দ্রসহ স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করছি।

আগামী ৪ মে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান- বরিশালের নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান মুন্সি। তিনি বলেন, ৪ মে থেকে ২৫ মে সারাদেশের উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বরিশালে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে।

   

দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত

দুই ইউপি নির্বাচনের ভোট স্থগিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীর ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২৮ এপ্রিল এই দুই ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হওয়ার কথা ছিল।

 

সোমবার (০৮ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানায়।

ইসি জানায়, মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ৩৫৮৬/২০২৪ ও রিট পিটিশন নং ৩৫৮৭/২০২৪ এর গত ২০ মার্চর আদেশ প্রতিপালনার্থে আগামী ২৮ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলাধীন ধলীগৌরনগর ও লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

এই অবস্থায়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

;

উপজেলা নির্বাচন: প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 

প্রার্থীর মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে ইসির চিঠি 

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ উপলক্ষে প্রার্থী মনোনয়নকারীর নাম জানাতে দলগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আগামী সাতদিনের মধ্যে নাম জানাতে হবে।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়। 

জনসংযোগ শাখা জানায়, আগামী ২১ মে ১৬১টি উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩ এর বিধি ১৫ এর উপবিধি (৩)(গ)(ইইই) অনুযায়ী চেয়ারম্যান/ভাইস চেয়ারম্যান/মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাহাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরসহ তালিকা বর্ণিত বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে ও অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ০২ মে।

;

এনডিআই আইআরআই’র প্রতিবেদনে খারাপ কিছু দেখিনি: ইসি আলমগীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) ও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিবেদনে খারাপ কিছু দেখেননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ রুমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে তারা যা বলেছে আমাদের দৃষ্টিতে দেখিনি যে খারাপ কিছু বলেছে। আমরা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে করেছি। কতটা গ্রহণযোগ্য হয়েতে সেটা দলগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।

আউয়াল কমিশন পর্যবেক্ষণ সংস্থা দুটির চূড়ান্ত রিপোর্ট দেখেছে জানিয়ে এই কমিশনার বলেন, আমরা তাদের রিপোর্ট দেখেছি। ফরমালি বসতে পারিনি। আমাদের সময়ে জাতীয় নির্বাচন তো হবে না। কাজেই অনেক সময় আছে। প্রাথমিক রিপোর্ট আমরা দেখেছি। আমাদের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। এখন সামারি করার জন্য বলা হয়েছে, যে তারা আমাদের ভালোদিক এবং দুর্বল দিক কী দেখেছে। সচিবালয় খসড়া করেছিল, আমরা বিস্তারিতভাবে আবার করতে বলেছি। এক্ষেত্রে পর্যালোচনা করে আমরা পরবর্তী কমিশনের জন্য সাজেশন রেখে যাবো।

পর্যবেক্ষণ সংস্থা দুটি টোটাল নির্বাচন নিয়ে মতামত দিয়েছেন বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তার মতে, প্রার্থী, দল, সরকার, ভোটকেন্দ্র নানা বিষয়ে কথা বলেছে। আমরা কেবল আমাদের দিকটা দেখবো। তারা যে সুপারিশ করেছে সেটা করা যায় কিনা, সেটা আমরা দেখবো। যেগুলো আমাদের জন্য করা সম্ভব সেগুলো পরবর্তী কমিশনের জন্য সুপারিশ রেখে যাবো।

প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে এই কমিশনার বলেন, তারা একটা জায়গায় বলেছে ভোটে কারচুপি হয়ে বেশ কয়েকটা কেন্দ্রে, যেখানে কমিশন ব্যবস্থাও নিয়েছে। যদি বলতো কমিশন অবহেলা করেছে, এমন তো বলেনি। তারা কমিশনের বিরুদ্ধে নেতিবাচক কিছু বলেনি, যে কমিশনের এমন সক্ষমতা ছিল অথচ ব্যবস্থা নেয়নি। অথবা কমিশন এখানে ভোটের এই সমস্ত কেন্দ্রগুলোতে জাল ভোট হয়েছে, কিন্তু কমিশন বন্ধ করেনি, এমন কোনো রিপোর্ট নাই। বরং কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে তাদের রিপোর্টে আছে। প্রশাসনে রদবদল করেছে এগুলোও আছে। এখন টোটাল গণতান্ত্রিক বিষয় তো আর নির্বাচন কমিশন দেখে না।

;

উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ

উপজেলা নির্বাচন: এনআইডিতে ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনাও দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে নতুন ভোটার অন্তর্ভূক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী নির্দেশনাটি সকল উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের নিমিত্ত ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পুর্বের ন্যায় অব্যাহত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দিয়েছেন।

এই অবস্থায় উপজেলা পরিষদ সধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের জন্য ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণের নিমিত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণের তারিখ ৮ মে নির্ধারণ করে ২১ মার্চ প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। এছাড়া ২১ মে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ১৬১টি উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের পূর্ণাঙ্গ তফসিল না হলেও ২৯ মে ও ৫ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।

দ্বিতীয় ধাপের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। আর ভোটগ্রহণ হবে ২১ মে।

এই ধাপের নির্বাচনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি সেখানে একাধিক সহকারি রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হবে।

;