ইভিএম মেশিন ছিনতাই হলে তাৎক্ষণিক ভোট বন্ধ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ছিনতাই হলেও কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর কোনো কেন্দ্রে ইভিএমের মেশিন ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখবে কমিশন।

জানা গেছে, দুই সিটি নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করেছে ইসি। এই সেলে ভোটের দিন কমিশনকে ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি জানাবে। এছাড়াও ইভিএমসহ সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে এই সেল কমিশনকে অবহিত করবে। ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ের জন্য গঠিত মনিটরিং সেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলামকে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা, পুলিশ হেডকোয়াটার্সের একজন কর্মকর্তা, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি একজন কর্মকর্তা এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একজন কর্মকর্তা এই সেলে থাকবেন।

ভোটার দিনের সার্বিক শৃঙ্খলা বিষয়ে সেলের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে সার্বক্ষণিক তথ্য দেবো। কোথাও কোনো শৃঙ্খলা পরিপন্থী ঘটনা ঘটলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবো, এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। বিশেষ করে গোপনকক্ষে ভোটার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে চাইলে আমরা কঠোর শাস্তি দেবো, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর রাখব।

ইভিএম মেশিন ছিনতাই হলেও সমস্যা নেই, সম্প্রতি তার এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন্দ্রগুলোতে আমাদের যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে কোনো দুষ্কৃতিকারীর কিছু করার সুযোগ নেই। তারপরেও যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে সেক্ষেত্রে আমরা কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষনিক সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখব।

ইসির গঠিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমন্বয়ে মনিটরিং সেলের কর্মপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে- নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবগতকরণ, সেলে অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি কর্তৃক নির্বাচন উপলক্ষে মোতায়েন করা আইন-শৃঙ্খলা সদস্যদের অবস্থান ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাতকরণ, সংস্থার নিজস্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কমিশনের নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে অবহিতকরণ, ভোটকেন্দ্র বা নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় সাধন, ইভিএমসহ বিভিন্ন নির্বাচনী মালামাল পরিবহন, বিতরণ এবং ভোটগ্রহণ কাজে নিরাপত্তা বিধানের জন্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে রিটার্নিং অফিসারও প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তা প্রদান।

উল্লেখ্য আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :