ঢাকা-১০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের আশঙ্কার মধ্যেই ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯টায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। একইসঙ্গে গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচন হচ্ছে। এ দুই আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হচ্ছে।

যদিও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতান বলেছেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করায় করোনা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেননা ফিঙ্গারপ্রিন্টযুক্ত ইভিএমে ভোটদান থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি আছে।

তবে ভোটারদের করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে করোনা সতর্কীকরণ ব্যানারসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, টিস্যু পেপারের ব্যবস্থা রেখে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একইসঙ্গে ভোটারদের ভোট প্রদান করে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। হাত ধুয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর শতাধিক সদস্য ঢাকা টিটার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্র থেকে ইভিএম ও নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করেন।

রিটার্নিং অফিসার ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহতাবউদ্দিন বলেন, ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে হাত ধোয়া, মাস্ক পরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সামগ্রী বিতরণকালেও আমরা সচেতন ছিলাম, জনসমাগম না করেই বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ভোটের দিনের জন্যও কেন্দ্র-ভোটকক্ষ ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টিস্যু ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্যকর্মীরাও থাকবেন নির্বাচনী এলাকায়।”

স্বাস্থ্য সচেতনতায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে করোনাভাইরাস মোকাবিলা সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ব্যানার থাকবে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৪ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে এই সংসদীয় আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮১জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১১৭, আর ভোটকক্ষ ৭৭৬টি। কেন্দ্র প্রতি অন্তত ১৮ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ১১৭, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৭৭৬ জন, পোলিং অফিসার ১৫৫২ জন। ছয় প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট থাকবেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। ইভিএম পরিচালনায় প্রশিক্ষিত লোকবলও থাকবে।

নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের মো. শফিউল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির শেখ রবিউল আলম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি-জাপার হাজী মো. শাহজাহান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী (হারিকেন) ও পিডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী আব্দুর রহিম (বাঘ)।

প্রসঙ্গত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হতে ঢাকা-১০ আসন থেকে পদত্যাগ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। গত ১ ফেব্রুয়ারি মেয়র নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে বিজয়ী হন।

আপনার মতামত লিখুন :