এটিই হচ্ছে আমার সোনার বাংলা: শাকিব খান



বিনোদন রিপোর্ট, বার্তা ২৪.কম
লালু চরিত্রে শাকিব খান

লালু চরিত্রে শাকিব খান

  • Font increase
  • Font Decrease

নিজেকে বদলে গ্রামীণ যুবকের চরিত্রে হাজির হচ্ছেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। এস এ হক অলিকের ‘গলুই’ চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যাবে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বিপরীতে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে চলচ্চিত্রটির শুটিং চলছে বগুড়া ও জামালপুরে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের গ্রামীন আবহে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটিতে শাকিব খানের চরিত্রের নাম লালু। চরিত্রটি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত শাকিব। সঙ্গে গ্রামীন আবহে শুটিং অভিজ্ঞতাও তার দারুণ। এ নিয়ে বুধবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। শাকিব খানের অফিসিয়াল ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে সিনেমাটি নির্মাণের কিছু দৃশ্য শেয়ার করে শাকিব খান জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।



শাকিব খান বলেন, “‘গলুই’ সিনেমাটি সকলের কাছে ভালো লাগবে। এটি চমৎকার একটি মৌলিক গল্পের সিনেমা। লালু ও মালার প্রেম কাহিনী। চমৎকার একটি ভালোবাসার গল্প বলবে ‘গলুই’। আর এই ভালোবাসার গল্পের মধ্য দিয়েই আমাদের গ্রাম বাঙলার অনেক ঐতিহ্য উঠে এসেছে। ”

নির্মাতা ও প্রযোজকের প্রশংসায়ও ডুবলেন, বললেন, “আমাদের ডিরেক্টর এস এ হক অলিকের ভালো সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে তার অনেক সুনাম আছে। তিনি সবসময় বালো সিনেমা বানান। ভালো গল্পের, ভালো গানের চমৎকার সিনেমা বানান। তাই বলা যায় ‘গলুই’ নিঃসন্দেহে একটা বড় সিনেমা। বড় আঙ্গিকের সিনেমা। এই ছবির যিনি প্রোডিউসার তিনি অনেক পুরানো একজন প্রোডিউসার। তার প্রোডাকশনে আমি অনেক সিনেমা করেছি। আমাদের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক আছে। বড় ভাই ছোট ভাইয়ের চমৎকার একটি সম্পর্ক আছে। তাই সবকিছু মিলিয়ে প্রজেক্টটা আমার কাছে চমৎকার লেগেছে। আমার মনে হয়েছে যতো কষ্টই হোক কাজটি আমি করবো। ”



চলচ্চিত্রটির একটি দৃশ্যে নৌকাবাইচের মাঝি হয়েছিলেন শাকিব। জানালেন এটিই তার প্রথম নৌকা বাইচ দেখা। “আমি স্বচক্ষে কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। এটিই আমার প্রথম নৌকাবাইচ। সিনেমায় দেখেছি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেখেছি। কিন্তু এবার আমি স্বচক্ষে দেখেছি এবং সেখানে অংশগ্রহণ করেছি তাই বিষয়টি নিয়ে আমি খুব উচ্ছ্বসিত ছিলাম। সুন্দর হয়েছে। চমৎকার হয়েছে। বাস্তবের নৌকাবাইচের যে ফিলটা ছিলো সেটিই ছিলো।”

নৌকাবাইচ দেখতে জড়ো হয়েছিলো লাখো মানুষ। কেননা শুধু নৌকা বাইচ নয়, সেখানে অভিনয় করছেন তাদের প্রিয় নায়ক শাকিব খান। কিন্তু তাদের উপস্থিতিতে শুটিংয়ে বিন্দুমাত্র ব্যঘাত ঘটেনি। যা বিস্মিত ও আপ্লুত করেছে শাকিব খানকে।



“দৃশ্যটিতে অভিনয়ের সময় লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছিলো। মেলা বসেছিলো। নৌকাবাইচ যে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসবমুখর পরিবেশে হয় সেটিই কিন্তু হয়েছে। কখনও মনে হয়নি যে শুটিং হচ্ছে। অন্তত আমার কাছে তেমনটি মনে হয়নি কখনও। এতো চমৎকার একটি উৎসব হয়েছে, মেলা বসে গেছে, বাচ্চারা সব দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে, হৈহুল্লোর করেছে। আম নৌকাবাইচের বাস্তব অনুভূতিটি পেয়েছি। খুব আনন্দ করেছি। ”



বাংলাদেশের যে রূপ শাকিব খানের কখনও দেখা হয়নি তাই যেন দেখলেন। যুগ যুগ ধরে নৌকা বাইচের এ ঐতিহ্যবাহী আয়োজন যে কতোটা কষ্টসাধ্য তা অনুভব করেছেন শাকিব। পাশাপাশি গর্বিত হয়েছেন বাংলাদেশি হিসেবে। শাকিব বলেন, “আমি এটি দেখে অবাক হয়েছি যে প্রতিটি নৌকায় ৬০ থেকে ৭০ জন করে মাঝি মাল্লা ছিলেন। যারা নৌকাগুলোকে পরিচালনা করেন। তাই এখানে কিন্তু অনেক খরচের একটা ব্যাপার থাকে। এটিই হচ্ছে আমার সোনার বাংলা। এটিই হচ্ছে আমার বাংলাদেশ।”