আমাদের মনে একটু মমতা জন্মাক: জয়া আহসান



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম
শেরপুরে নিহত হাতি ও জয়া আহসান

শেরপুরে নিহত হাতি ও জয়া আহসান

  • Font increase
  • Font Decrease

পশু-পাখি ভালোবাসেন জয়া আহসান। প্রাণীদের প্রতি যেনো একটু অন্যরকম টান রয়েছে এপার-ওপার দুই বাঙলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর। অবশ্য তার প্রমাণও পাওয়া গেছে বহুবার।

মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার কারণে লকডাউন ঘোষণা করায় যেখানে মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। সেখানে মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে পথে থাকা কুকুরদের জন্য খাবার রান্না করে বাড়ির পরিচারিকাকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন জয়া আহসান।

এমনকি গত বছর রাজধানীর বেওয়ারিশ কুকুর স্থানান্তরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

এমনকি কোথাও যদি কোন প্রাণীর সঙ্গে অত্যাচার হয় আর সেটি যদি জয়ার চোখে পড়ে তাহলে নিজের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সেই চিত্র তুলে ধরেন এপার-ওপার দুই বাঙলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। অনুরোধ করে এই প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর। এ কারণে সম্প্রতি পেয়েছেন ‘প্রাণবিক বন্ধু’ খেতাব।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দুটি নিউজ পোর্টালের স্ক্রিনশর্ট শেয়ার করেছেন জয়া। যার একটির শিরোনাম ‘শেরপুরে বিদ্যুতের ফাঁদ পেতে হাতি হত্যা’। আর অপরটির শিরোনাম ‘মাথায় গুলি করে বন্য হাতি হত্যা’।

স্ক্রিনশর্টগুলো দিয়ে এর ক্যাপশনে জয়া আহসান লিখেছেন, “হাতির এমন অপূর্ব একটি সৌন্দর্য আছে, যা অন্য আর কোনো প্রাণীর মধ্যে নেই। আর কী রকম নিমেষেই যে হাতি আমাদের ছেলেমানুষীতে ভরা নিটোল শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে! খবর পেলাম, অনিন্দ্যসুন্দর তেমন একটি হাতিকে নাকি গুলি করে মারা হয়েছে চকোরিয়ায়। দেশে হাতি মারার খবর প্রায় নিয়মিতই পাচ্ছি।

বনবিভাগ আর আইইউসিএনের একটি হিসেবে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বনে মাত্র ২৬৮টি এশীয় হাতি বাস করছে। তাদের এক তৃতীয়াংশ বাস করে পার্বত্য চট্টগ্রাম আর কক্সবাজারে।

জয়া যোগ করেন, “খুব মনের আনন্দে নয়। কারণ বন উজাড় করে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরার পথগুলো দখল করে নিচ্ছে মানুষেরা। ফলে তারা যখন নিজেদের পথে চলতে–ফিরতে আসছে, দখলদার মানুষেরাই উল্টো তাদের গুলি করে মারছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২০টি হাতি মারার খবর পাওয়া গেছে। আজকে (১৬ নভেম্বর) আরেকজন। গত ৬ দিনে ৪ জন হাতি মারা হল ; বাংলাদেশ হাতির জন্য হয়ে উঠছে এক নির্মম গোরস্থান।”

হাতির এই বিপন্নতা আক্রান্ত করেছে জয়াকে। তিনি বলেন, “হাতি মহাবিপন্ন তালিকায় থাকা একটি প্রাণী। আমাদের অনন্য সৌভাগ্য যে বাংলাদেশ হাতির একটি সুন্দর বিচরণক্ষেত্র। তারা আমাদের ঐশ্বর্য। আগামী পৃথিবীর জন্য কি আমরা তাদের রক্ষা করব না? আমি দাবি করি, আলাদা করে একটি বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর বা বিভাগ খোলা হোক। নইলে অচিরেই আমাদের জীববৈচিত্র্য শূন্যের কোঠায় দৌড়ে নামতে শুরু করবে। কপাল চাপড়েও আর উদ্ধার পাব না।”

যদিও দেশে বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে বন অধিদপ্তরের নানা কার্যক্রম রয়েছে। আছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে বিশেষ হটলাইনও। তবু, যেহেতু মানুষের মনে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না। তাই জয়ার আহ্বান খুবই প্রাসঙ্গিক।

জয়া লিখেছেন- “আমাদের মনে একটু মমতা জন্মাক। আমরা জীবে দয়া করি। ‘জীবে দয়া করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’”