ভালোবাসা ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে আটকে আছে : মম



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
মম / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট, গয়না : গয়নার মেলা, মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

মম / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট, গয়না : গয়নার মেলা, মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েই দর্শকের প্রশংসা কুড়ান। এরপর টিভি নাটক, চলচ্চিত্র ও সমসাময়িক প্ল্যাটফর্ম ওটিটিতেও দাপিয়ে কাজ করছেন সাবেক এই লাক্স সুপারস্টার। নতুন বছরের শুরুতে নানা বিষয়ে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে অকপটে কথা বললেন মম। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ


খুব ফুরফুরে মেজাজে আছেন। এই মুহূর্তে কোথায় আপনি?


আসলেই মনটা খুব ভালো। আমি এখন সেন্ট মার্টিনে। মন ভালো না থাকার উপায় আছে বলুন? তাছাড়া দীর্ঘকাল পর এখানে বেড়াতে এলাম। এবার এসেছি বন্ধু-বান্ধব ও তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে। আর প্রথমবার এসেছিলাম আমার প্রথম সিনেমা ‘দ্বারুচিনি দ্বীপ’-এর শুটিং করতে। এরমধ্যে কক্সবাজারে কতোবার এসেছি তার হিসেব নেই। তবে সেন্ট মার্টিনে আর আসা হয়নি। সেই হিসেবে ১৭ বছর পর সেন্ট মার্টিন এলাম।


এতো বছর পর সেন্ট মার্টিন গেলেন। আগের থেকে কোন পরিবর্তন চোখে পড়ল?


হ্যা। নানা ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রথমবার যখন এসেছিলাম তখন যাতায়াতের ব্যবস্থা অতো ভালো ছিল না। ছোট্ট জাহাজে আসতে হতো। সেটা আবার বেশ দূরে নোঙর ফেলত। এরপর আমরা নৌকায় করে সেন্ট মার্টিন আসতাম। আর এখন সেই জায়গাটা বড় জাহাজ আর ফেরীর ব্যবস্থা হয়েছে। এজন্য দিনে দিনে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তবে সেই সঙ্গে মন খারাপের কারণও ঘটেছে। জায়গাটা আগের মতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নেই। আশেপাশে প্রচুর প্ল্যাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেটসহ ময়লা আবর্জনা। এগুলো শুধু সেন্ট মার্টিনের সৌন্দর্য্যই নষ্ট করেনি, পরিবেশের অনেক ক্ষতি করছে। পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা সমূদ্র সৈকত পেয়েছি আমরা। এখনো এখানের পানি কি চমৎকার নীল! সেই সম্পদের তো যথার্থ যত্নটা করতে হবে। এই সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলার কারণ হলো, দুজন মানুষও যদি বিষয়টি নিয়ে সচেতন হয় সেখানেই আমাদের সার্থকতা।

জাকিয়া বারী মম / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট, গয়না : গয়নার মেলা, মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

অভিনয়ের প্রসঙ্গে আসি। সর্বশেষ কি কাজ করলেন?


একটি ঈদের একক নাটকের কাজ করেছি। এহসান বাপ্পীর পরিচালনায় নাটকটি এনটিভিতে প্রচার হবে। আসছে ঈদুল ফিতরের জন্য এর আগেও একটা কাজ করেছি।


ভালোবাসা দিবসে নতুন কোন কাজ আসছে?


ভ্যালেন্টাইন ডে’র জন্যও একটা কাজ করার কথা রয়েছে। এখনো সিডিউল চূড়ান্ত হয়নি। তবে ভালোবাসা দিবসের কথা যেহেতু তুললেন, আমাদের এখনকার ভালোবাসার গল্প নিয়ে একটু কথা বলতে চাই। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, আমাদের কাজগুলোতে ভালোবাসা ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে আটকে আছে! পরিণত বয়সের ভালোবাসার গল্প লেখাও হয় না, বানানোও হয় না। আমাদের এই গতানুগতিক চিন্তা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। তাহলে ভালোবাসার গল্পে অনেক বৈচিত্র্য আসবে। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশে অনেক পরিণত নারী অভিনয়শিল্পী রয়েছেন, যারা ভালো চরিত্রের অভাবে অভিনয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কারণ ভালো স্ক্রিপ্ট না পাওয়াটা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যারা পেশাদার শিল্পী তাদের টিকে থাকতে গেলে ভালো স্ক্রিপ্ট সবচেয়ে জরুরী। কিন্তু আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে সামগ্রিকভাবে ভালো স্ক্রিপ্টের অভাব। সেটি হয়ত এতোদিনে অনেকেই অনুধাবন করেছেন। এটা আসলে পৃষ্ঠপোষকতার ফসল। এক সময় যারা ভালো চিত্রনাট্য লিখতেন তারা এখন আর লিখছেন না। কারণ তারা কোন ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন না। ফলে আমরা নতুন আইডিয়া নিয়ে কোন গল্প হতে দেখছি না। এটা ধরনের একঘেয়ামিতা তৈরী করছে। ফলে এদিকেও আমাদের অতি দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।


প্রায় দুই দশকের শোবিজে ক্যারিয়ার আপনার। ২০২৪-এ এসে ইন্ডাস্ট্রিকে কেমন মনে হচ্ছে?


২০০৬-এ যখন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগীতা থেকে বের হয়ে কাজ শুরু করলাম, তখন টেলিভিশন স্টেশনগুলো অনেক পাওয়ারফুল ছিল। চ্যানেলের তদারকি থাকতো কাজ নিয়ে। প্রিভিউ কমিটি ছিল, কাজের মানের ওপর আলাদা জোর দেওয়া হতো। আর এখন তো টিভি নাটকও ইউটিউব চ্যানেলের ওপর নির্ভরশীল! এটা একটা বড় পরিবর্তন।

জাকিয়া বারী মম / মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

এই পরিবর্তনটা ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক?


সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যপট বদলাবে, এটাই নিয়ম। কিন্তু এখন নাটকের নাম, গল্প কিংবা কাস্টিং যেহেতু ইউটিউব ভিউ-এর ওপর নির্ভরশীল ফলে সেই উদ্দেশ্যটাই শুধু পূরণ হচ্ছে। বাকী বিষয়গুলো কি হচ্ছে সেটা হয়ত কেউ ভাবছে না। এখন নাটকের দর্শকের টেস্ট লেবেল আগের চেয়ে অনেক ভিন্ন।
তবে সিনেমা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। নানা ধরনের সিনেমা হচ্ছে। কুড়া পক্ষীর শূণ্যে ওড়া, নোনা জলের কাব্য, হাওয়া, সুড়ঙ্গ’র মতো ভালো ছবি তো আমরা দেখেছি। আবার পরাণ, প্রিয়তমার মতো ব্যাবসাসফল ছবিও হয়েছে।


ইতোপূর্বে ‘আলতাবানু’র মতো জীবনঘনিষ্ট সিনেমা যেমন করেছেন, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর মতো গ্ল্যামারাস ছবিও করেছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন এসেছে কি?


না, তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। আমি শুরু থেকেই চেয়েছি নানা ধরনের ছবিতে কাজ করব। ছুঁয়ে দিলে মন’ রোমান্টিক ঘরানার ছবি, দর্শক খুব পছন্দ করেছে। আবার ‘আলতাবানু’র মতো গল্পনির্ভর ছবিও করেও প্রশংসা পেয়েছি। পলিটিক্যাল থ্রিলার ঘরানার ‘দহন’ করেছি, আবার ‘দারুচিনি দ্বীপ’-এর মতো সাহিত্যনির্ভর ছবিও করেছি। আমি এখনো একটি প্রপার গল্প, চরিত্র ও নির্দেশক পেলে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর মতো গ্ল্যামারাস ছবি করতে চাই।


গত বছর ওটিটিতে বেশ ব্যস্ত ছিলেন?


হ্যা। যেখানে ভালো গল্প, চরিত্র, নির্মাতা ও বাজেট পাব আমি সেখানেই কাজ করব। গত বছর কয়েকটি ভালো কাজ এসেছিল ওটিটির জন্য। তারমধ্যে ‘অগোচরা’, ‘সাড়ে ষোল’, ‘মারকিউলিস’ কাজগুলো দর্শক পছন্দ করেছে। এ বছরও একটি ওটিটির কাজ করেছি। দেশিয় একটি প্ল্যাটফর্মের জন্যই করেছি। কিন্তু এখন সব কাজই একটি প্রসেসের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে এখনই কিছুই ফাঁস করতে পারব না। হয়তো শিগগিরই প্রযোজনা সংস্থা থেকেই আপনাদের জানানো হবে। আরও কয়েকটি ওটিটির কাজে কথাবার্তা চলছে।

জাকিয়া বারী মম / পোশাক : ট্রেন্ড মার্ট, গয়না : গয়নার মেলা, মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

ইদানিং অভিনেত্রীদের মুখে ‘নারীকেন্দ্রিক গল্প’ বিষয়টি খুব ট্রেন্ডিং। কাজ বাছাইয়ে এটা আপনার কাছে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ?


(হেসে) এটা একটা মার্কেটিং টুল আসলে। তবে নারী একটি বিষয় বটে! আসলে গল্প গল্পই। তবে আমার কাছে মনে হয়, ওটিটিতেও পুরুষ চরিত্রের প্রাধান্যই বেশি। কিন্তু নারী যেহেতু সমাজের বড় একটি অংশজুড়ে, ফলে তাদের গল্প নিয়ে অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেটি অবশ্য নির্ভর করছে রাইটার, ডিরেক্টর ও প্রোডিউসারের ওপর। তারা কি ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করবেন সেটা একান্তই তাদের চয়েস।

 


যে গুটিকয়েক গল্প নারীকে প্রাধান্য দিয়ে হচ্ছে সেটিও কতোটা নারীর মতো হয়ে উঠছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। আপনি কি বলবেন?


সেটা তো বটেই। আনফরচুনেটলি আমাদের দেশে এ পর্যন্ত যতোগুলো নারীপ্রধান কাজ আমরা দেখেছি তার সিংহভাগই একজন পুরুষের লেখা এবং পুরুষের নির্মাণ করা। একজন পুরুষ হয়ে নারীর সাইকোলজি কতোখানি বোঝা সম্ভব আমি ঠিক জানি না। বন্যা আপু ঠিকই বলেছেন যে, পুরুষের চোখেই আমরা এতোকাল নারীকে দেখে এসেছি। পুরুষতান্ত্রিক সোসাইটিতে এটাই ক্রমাগত হয়ে আসছে।

জাকিয়া বারী মম / মেকাপ : শোভন মেকওভার, ছবি : নূর এ আলম

এই পরিস্থিতিতে কি কখনো মনে হয়েছে নিজে কিছু গল্প লিখতে বা পরিচালনা করতে হবে? কারণ আপনার লেখাপড়া নাট্যকলায়, নিয়মিত পড়ার চর্চাও রয়েছে...


একটি গল্প মাথায় ভাবা আর সেটিকে স্ক্রিপ্ট আকারে দাঁড় করানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ফলে আমি ঠিক সিওর না যে উন্নত মানের কিছু লেখার দক্ষতা আমার রয়েছে কি না। এজন্য এতোদিন লেখা হয়নি। তবে কখনো যদি কনফিডেন্স পাই তাহলে হয়ত লিখব।

   

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চলছে ভোট গণনা, আসেননি অনেক তারকা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফেরদৌস আহমেদ, মৌসুমী, শাকিব খান ও পপি

ফেরদৌস আহমেদ, মৌসুমী, শাকিব খান ও পপি

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ১৯ এপ্রিল সকাল থেকে বিএফডিসি প্রাঙ্গণে চলছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক (২০২৪-২৬) নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি ছিল, ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৫টায়। এখন চলছে ভোট গণনা। 

ভোট দিতে সকালে তেমন কোন ভোটার উপস্থিত না থাকলেও জুমার নামাযের পর কিছু তারকা এফডিসি প্রাঙ্গণে ভিড় জমান। ভোট গ্রহণের সময় শেষ দিকে চলে এলেও দেখা যায়নি চলচ্চিত্রের অনেক জনপ্রিয় তারকাদের। জানা গেছে, তাদের অনেকেই ব্যক্তিগত কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যার কারণে ভোট দিতে পারছেন না।

এরমধ্যে রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তিনি বর্তমান নতুন সিনেমার শুটিংয়ে ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থান করছেন।

গত নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়ী হলেও এবার ভোটের মাঠ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন অরুণা বিশ্বাস। দেশে না থাকার কারণে এবার ভোট দিতে আসতে পারছেন না।

৮ বছর পর এফডিসিতে ভোট দিতে এলেন কাজী মারুফ

এছাড়াও এদিন ভোট দিতে পারছেন না এমন তালিকায় রয়েছেন সুপারস্টার শাবনূও, চিত্রনায়ক ও সাংসদ ফেরদৌস আহমেদ, প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, শাহরিয়ার নাজিম জয়, আজিজুল হাকিম, আনিসুর রহমান মিলন, রেসি, বিপাশা কবির, সোহানা সাবাসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী।

২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির এই নির্বাচনে ছয়জন স্বতন্ত্রসহ দুইটি প্যানেল থেকে ৪৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একটি মিশা-ডিপজল পরিষদ, অন্যটি কলি-নিপুণ পরিষদ।

এর মধ্যে সভাপতি পদে লড়ছেন একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক মাহমুদ কলি ও দাপুটে খল-অভিনেতা মিশা সওদাগর। আর সাধারণ সম্পাদক পদে গেল আসরের মতো এবারও প্রার্থী হয়েছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫৭০ জন। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু।

;

নতজানু হয়েও কোন পক্ষের সমর্থন পেলেন না জোভান



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
ভিডিও বার্তায় জোভান ও ‘রূপান্তর’ নাটকের দৃশ্য

ভিডিও বার্তায় জোভান ও ‘রূপান্তর’ নাটকের দৃশ্য

  • Font increase
  • Font Decrease

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান পড়েছেন দারুণ ঝামেলায়। তার একটি নাটককে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একপক্ষের সমালোচনায় অবশেষে নতজানু হয়ে ভিডিও বার্তা দিলেন তিনি। তাতেও সেই পক্ষের মন গলাতে পারলেন না। উল্টো তারা জোভানের বাকী নাটকগুলোকেও বয়কটের সুর তুলছে!

ঝামেলা এখানেই শেষ নয়। জোভান নতজানু হয়ে দুঃখ প্রকাশ করায় আরেকপক্ষ তাকে দারুণভাবে করছেন সমালোচনা। এই পক্ষে আবার রয়েছেন তারই সহকর্মীরা। তারা জোভানের সাহস ও শিনদাঁড়ার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গেল ঈদুল ফিতরে প্রচারিত জোভানের নাটক ‘রূপান্তর’ নিয়ে। রাফাত মজুমদার রিংকু পরিচালিত এই নাটক প্রচারের পরই এটি নিয়ে অন্তর্জালে ফুঁসে ওঠে একাংশ দর্শক। নিরুপায় হয়ে নাটকটি ইউটিউব থেকেও নামিয়ে ফেলা হয়।

 ‘রূপান্তর’ নাটকের দৃশ্যে সামিরা খান মাহি ও জোভান

কিন্তু রেহাই মেলেনি তাতেও। অগত্যা অভিনেতা জোভান নিজেই গা ঢাকা দেন, বন্ধ করে রাখেন নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল। অবশেষে আজ ১৯ এপ্রিল ভোর রাতে দেখা দিয়েছেন তিনি। একটি ভিডিও বার্তা নিয়ে হাজির হলেন। যেখানে আকুতিভরা কণ্ঠে ক্ষমা চেয়েছেন দর্শকের কাছে।

আতঙ্ক আর অসহায়ত্বে ভরা চাহনিতে জোভান বলেন, ‘এই ঈদে আমার বেশ কিছু নাটক এসেছে। প্রথম দিন থেকেই ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। এই ঈদটা আমার খুব সুন্দর ঈদ হতে পারতো আপনাদের ভালোবাসায়, সাপোর্টে। কিন্তু সেটা হয়নি। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে আপনারা যেমন কষ্ট পেয়েছেন, আমিও কষ্ট পাচ্ছি। আমি কিন্তু একদমই ভালো নেই।’

‘রূপান্তর’ নাটকের প্রসঙ্গে জোভানের জবাবদিহি এরকম, “রূপান্তর’ নাটককে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা একদমই অপ্রত্যাশিত। এই নাটকের মাধ্যমে কারও ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। আমি নিজেও একটা মুসলিম পরিবারের ছেলে। আমি জানি, ধর্মকে কতটা বিশ্বাস করি, আল্লাহকে শ্রদ্ধা করি। এই নাটকের মাধ্যমে আমরা কোনও কিছুকে নরমালাইজ করা বা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করিনি। কেবল একটি চরিত্র উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটার মাধ্যমে এতগুলো মানুষকে কষ্ট দিয়েছি, এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সবার কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

ফারহান আহমেদ জোভান

সবশেষে অনুরোধের সুরে জোভান বলেছেন, ‘দীর্ঘ এগারো বছর যাবত নাটক করছি। আজকে আমার যে অবস্থান, এর পেছনে আমার একার নয়, অবশ্যই দর্শকের ভালোবাসা ও সাপোর্ট ছিল। আমার কাজ করার মূল উদ্দেশ্য হলো দর্শককে একটু বিনোদন দেওয়া, সেজন্যই এত কষ্ট। এরপর থেকে আরেকটু বেশি সচেতন থাকবো চরিত্র বাছাই করতে। যাতে তাদের মনঃক্ষুণ্ণ না হয়, কষ্ট না পায়। আমার যে কাজগুলো আপনাদের ভালো লেগেছে, তার চেয়েও ভালো কাজ উপহার দেবো। শুধু একটাই অনুরোধ, আমার ওপর কষ্ট রাখবেন না। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

যদিও জোভানের ভিডিও বার্তার কমেন্ট বক্স দেখলে আঁচ করা যায়, তার এই আর্তনাদ গলাতে পারছে না নেটিজেনদের মন। গণহারে তার নাটক বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে তারা। বিপরীতে অনেকেই জোভানের এই পরাজিত কণ্ঠ ও মুখ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বলছেন, প্রকৃত শিল্পী কখনোই এতোটা নতজানু হয় না।

উল্লেখ্য, নীহার আহমেদের চিত্রনাট্যে ‘রূপান্তর’ নাটকটি নির্মিত হয়েছে। এর গল্পটি মূলত একজন তরুণ চিত্রশিল্পীকে ঘিরে। যিনি শৈশবে ট্রেন দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের। যার ফলে তিনি জানতেই পারেননি তার বাবা-মা কে কিংবা কোন ধর্মের মানুষ। বড় হয়েছেন শিশু আশ্রমে। বড় হয়ে হয়েছেন চিত্রকর। পেয়েছেন খ্যাতিও। এর মধ্যে একজন ধনীর দুলালী তার আঁকায় মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পড়েন। বিয়ের জন্য পারিবারিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয় চিত্রকরকে। কিন্তু তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তাকে দিয়ে সেটা সম্ভব নয়। এরপর তার চিকিৎসকের মাধ্যমে জানা যায়, তিনি আসলে একটি হরমোন জনিত বিরল জটিলতায় ভুগছেন। তিনি দেখতে পুরুষের মতো হলেও মানসিকভাবে তিনি একজন নারী।

ফারহান আহমেদ জোভান

গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় ‘রূপান্তর’ নাটকটি উন্মুক্ত করা হয় ইউটিউবে। রাতে বেশ কিছু দর্শকের পক্ষ থেকে আপত্তি পেয়ে সেটি ১৬ এপ্রিল সকালে তুলেও নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। একই নাটক ডাউনলোড করে অসংখ্য ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করছে সমালোচনাকারীদের একটা বড় অংশ। তারাই আবার এমন নাটক নির্মাণ ও প্রচারণার প্রতিবাদ করছেন! এমনকি নির্মাতা-শিল্পীদের হুমকিও দিচ্ছে অনেকে। যা নিয়ে আতঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা।

;

আগামী মাসেই সোহেল-নীলা জুটির ‘শ্যামাকাব্য’



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
‘শ্যামাকাব্য’র জুটি সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি : নূর এ আলম

‘শ্যামাকাব্য’র জুটি সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

গুণী নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমা ‘শ্যামাকাব্য’ নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে। এই ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন সদ্য ভারতের ফিল্মফেয়ার পুরস্কারজয়ী অভিনেতা সোহেল মণ্ডল ও জনপ্রিয় লাক্স তারকা নীলাঞ্জনা নীলা। তারা ছাড়াও এক ঝাক তারকা শিল্পীকে নিয়ে নির্মিত সরকারি অনুদানের এই সিনেমাটি গত ২৪ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা ছিল।

সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি : নূর এ আলম

কিন্তু সে সময় ছবিটি আর মুক্তি পায়নি। তখন নির্মাতা সৌদ জানিয়েছিলেন, ‘‘দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত। চিন্তা ভাবনা করে দেখলাম, এমন পরিস্থিতিতে দর্শক সিনেমা হলে এসে ছবি দেখতে চাইবেন না। দর্শকের জন্যই তো আমাদের সিনেমা। তাদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করা জরুরী। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘শ্যামাকাব্য’ জাতীয় নির্বাচনের পরেই মুক্তি দেব।’’

নীলাঞ্জনা নীলা ও সোহেল মণ্ডল। ছবি : নূর এ আলম

অবশেষে ছবিটি মুক্তির নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ছবিটির নায়ক সোহেল মণ্ডল জানান, ‘‘আসছে ৩ মে আপনার নিকটস্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘শ্যামাকাব্য’।’’

সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি : নূর এ আলম

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ধাচের ছবিটিতে প্রেমের বিষয়টিও বেশ স্পষ্ট। এতে নীলাকে দেখা যাবে শ্যামা’র চরিত্রে। আর সোহেল মণ্ডল রয়েছেন আজাদ নামের একটি চরিত্রটি।

নীলাঞ্জনা নীলা ও সোহেল মণ্ডল। ছবি : নূর এ আলম

নায়ক-নায়িকা দুজনই বললেন, তাদের চরিত্র দুটি একেবারেই নতুন। তাদের রসায়নও দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে বলে তারা আশাবাদী। নীলার ভাষায়, শ্যামা মেয়েটি খুব শান্ত। দেখলে চোখে আরাম দেবে। আর সোহেল এখনই তার চরিত্রের কোন গোমর ফাঁস করতে চান না।

সোহেল মণ্ডল ও নীলাঞ্জনা নীলা। ছবি : নূর এ আলম

ছবিতে একটি মাত্র গান রয়েছে। নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদের লেখা ‘পাখি যাও যাও’ শিরোনামের সেই গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ইমন সাহা। চমকপ্রদ বিষয় হলো সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভারতের বিখ্যাত দুজন শিল্পী। একজন হিন্দুস্তানি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের কিংবদন্তি পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, অন্যজন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ইমন চক্রবর্তী।

;

ধর্মকর্মে মন দিয়েছেন অশ্লিল যুগের নায়ক মেহেদি



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চিত্রনায়ক মেহেদির একাল-সেকাল

চিত্রনায়ক মেহেদির একাল-সেকাল

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢালিউডে যে সময়টা অশ্লিলতায় ছেয়ে গিয়েছিল, সে সময়ের অন্যতম ব্যস্ত নায়ক ছিলেন মেহেদি। ‘পাগল মন’ চলচ্চিত্র দিয়ে সিনেমা জগতে জায়গা করে নেওয়ার পর অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে অশ্লিল ছবির সংখ্যাই বেশি। এখনো ইউটিউবে তার অশ্লিল নাচ গানের ভিডিও’র দেখা মেলে।

কিন্তু মানুষ মাত্রই বদলায়। বাংলা সাহিত্যে বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।’

তেমনি বদল ঘটেছে চিত্রনায়ক মেহেদির জীবনেও। অনেক দিন থেকেই চলচ্চিত্র আঙিনায় তাকে দেখা যায় না। আজ তাকে দেখা গেল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে। সেখানেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মেহেদি।

চিত্রনায়ক মেহেদি

জানালেন, তিনি এখন ধর্মীয় কাজে মনোনিবেশ করেছেন। বললেন, নিয়মিত তবলিগ জামাত চিল্লায় যেতে হচ্ছে। যেহেতু আমি মুসলিম, তাই আমাকে নিয়মিত নামাজ রোজা করতে হবে। এখন সেটা খুব মনোযোগের সঙ্গে করতে হচ্ছে।

চলচ্চিত্র থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হননি তিনি, সামনে তার চলচ্চিত্র আসছে বলেও জানালেন। বললেন, আমি চলচ্চিত্র থেকে একেবারেই হারিয়ে যাইনি। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আমার চারটি চলচ্চিত্র।

;