যেন আজীবন এভাবে গেয়ে যেতে পারি: ক্যারিয়ারে ৬০ পেরিয়ে রুনা লায়লা



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
রুনা লায়লা / ছবি : শেখ সাদী

রুনা লায়লা / ছবি : শেখ সাদী

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামীকাল সঙ্গীত ক্যারিয়ারে বর্ণাঢ্য ছয় দশক (৬০ বছর) পার করবেন উপমহাদেশের অন্যতম সেরা শিল্পী রুনা লায়লা। বাংলা গানের ভাণ্ডার তার অসম্ভব সমৃদ্ধ। হিন্দি ও উর্দু ভাষায়ও রয়েছে তার কালজয়ী একাধিক গান। মোট ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান করেছেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ‘স্বাধীনতা পদক’-এ তিনি ভূষিত হয়েছেন অনেক বছর আগে। চলচ্চিত্রে গান পেয়ে পেয়েছেন ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। জীবন্ত কিংবদন্তী এই গায়িকা জীবনের এমন শুভলগ্নে কথা বলেছেন বার্তা২৪.কমের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ

মন্ত্রীর হাত থেকে এ বছর বাইফা আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা

ছয় দশক, বিরাট ব্যাপার। আপনি সমান ব্যস্ততার সঙ্গে গানের ক্যারিয়ারে ৬০টি বছর পার করলেন। বিষয়টি ভাবতে কেমন লাগছে?


সত্যি ভাবতে অবাক লাগছে! বুঝতেই পারছি না এতোটা বছর কিভাবে গানের সঙ্গে কেটে গেলো। আমি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে যে জীবনটা দিয়েছেন, তার কোন তুলনা হয় না। সৃষ্টিকর্তার রহমত, বাবা মায়ের সহযোগীতা এবং আমার গুরুদের আশির্বাদে এতোটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি।

আজ অন্তর থেকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করছে আমার ভক্ত-দর্শক-শ্রোতাদের। তারা আমার গান পছন্দ করেছেন সারাটা জীবন। তাই আমি এখনো গেয়ে যাচ্ছি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সমাদর আর শ্রদ্ধা আমি পেয়েছি তা বর্ননা করা যাবে না। এমন ভালোবাসা ক’জনের ভাগ্যে জোটে আমি জানি না।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আজীবন এভাবে গেয়ে যেতে পারি। এখনো অনেক গান করতে চাই। আরও ভালো ভালো কিছু গান সবাইকে উপহার দিতে চাই।

পারফরমেন্সের সময় রুনা লায়লার আইকনিক ভঙ্গি, বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে

স্কুল জীবন থেকেই পেশাদার শিল্পী হিসেবে পথচলা আপনার। যখন শুরু করেছিলেন তখন কি ভেবেছিলেন ছয় দশক পরও মানুষ আপনার গান শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে থাকবে?


(মৃদু হাসি) একদম ভাবিনি। এটা আসলে কেউ ভাবতে পারেও না। কারণ ভবিষ্যতে কি হবে সেটা তো আমরা আগে থেকে জানতে পারি না। তবে এটা স্বপ্ন দেখতাম, একদিন সবাই আমার গান পছন্দ করবে, আমাকে গানের মাধ্যমে ভালোবাসবে।

রুনা লায়লার হাত থেকে বাইফা পুরস্কার গ্রহণ করে আপ্লুত হন প্রখ্যাত অভিনেতা আফজাল হোসেন

ইউনিক গায়কীর জন্য আপনি প্রসিদ্ধ। এই গায়কী কতো শতাংশ সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত আর কতো শতাংশ চর্চার ফসল বলে মনে করেন?


গান আসলেই সাধনার বিষয়, গুরুমূখী বিদ্যা। তবে অনেকে কোন তালিম ছাড়াও গাইতে পারেন। তার মানে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত একটা বিষয় আছে আর চর্চারও একটা বিষয় আছে। সৃষ্টিকর্তা কাউকে গলায় সুর না দিলে চেষ্টা করেও সুরেলা করা যায় না। তবে কারও সুর ভালো হলেই হয় না। প্রতিনিয়ত চর্চা ও সাধনার ফলে কণ্ঠ শাণিত হয়। তখন সেই কণ্ঠে গান হয়ে ওঠে মোহনীয়।

একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে, বাংলাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা, বলিউড ডিভা শ্রীদেবী ও পাকিস্তানের কিংবদন্তি গায়িকা আবিদা পারভীন

৬০ বছর পার করার পরও আপনি আপনার গায়কী ধরে রেখেছেন। যেটা অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। এটি কিভাবে হয়েছে?


আমি আসলে জীবনটা বহুকাল আগে থেকেই ডিসিপ্লিনের মধ্যে এনেছি। শুধু নিয়ম করে গলা সাধলেই হয় না। পুরো জীবনপ্রণালী হতে হয় নিয়মতান্ত্রিক। এক্ষেত্রে সারগাম করা যেমন ইমপরটেন্ট, তেমনি রয়েছে খাদ্যাভ্যাস, শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়া, মোস্ট ইমপরটেন্টলি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া। শিল্পীকে দীর্ঘকাল তার শিল্পস্বত্তার মধ্যে নিবিষ্ট থাকতে হলে তার চারপাশটা সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হয়। পজিটিভ চিন্তা ভাবনা, পজিটিভ এনার্জির সঙ্গে ওঠাবসা করা এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত ইমপ্রুভ করার মানসিকতা থাকতে হয়।

রুনা লায়লাকে শুধু গানের শিল্পীরা নন, আইডল মনে করেন সব মাধ্যমের শিল্পীরা। তাকে চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহার মিমের সম্মান প্রদর্শণ

আমি মনে করি, গানের মহাসমূদ্রে আমি কেবল তীরে এসে পৌঁছানো এক মুসাফির! এখনো কতোকিছু শেখার বাকী। এখনো আমি শিখে চলেছি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শিখে যাবো, আর নতুন সৃষ্টিতে সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে যাবো। এই কাজটি করি বলেই হয়তো দর্শক আমার গান এখনো পছন্দ করেন, আমাকে নতুনভাবে ফিরে পান।

লতা মঙ্গেশকর ও রুনা লায়লা (জীবনের দুই সময়ে)

আপনার গান অসংখ্য শিল্পীর অনুপ্রেরণা। আপনি কোন শিল্পীর গান শুনে অনুপ্রাণীত হতেন?


লতাজি’র (লতা মঙ্গেশকর) কথা সবার আগে বলতে হয়। এছাড়া আশাজি (আশা ভোসলে), নুরজাহান ও আমাদের দেশের ফেরদৌসী রহমান আপা, আঞ্জুমান আরা আপার কথা বলতেই হয়। লতাজি-আশাজি’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল পরিবারের মতো। লতাজি চলে যাওয়ার আগে প্রায় প্রতিদিনই তার সঙ্গে ওয়াটস্যআপে ইন্টার‌্যাকশন হতো। যেদিন কথা বলতাম অনেক লম্বা হতো সেই আলাপ। এখন আশাজির সঙ্গেও একই রকম যোগযোগ রয়েছে।

যেখানেই যান রুনা লায়লাকে এভাবেই ভক্তরা ঘিরে ধরেন / ছবি : শেখ সাদী

মাইলস ছেড়ে একক ক্যারিয়োরে কতোটা সফল ছিলেন শাফিন!



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম নাম শাফিন আহমেদ। তার ব্যান্ড মাইলস দেশের শ্রোতাকে নতুন ধারার বাংলা সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। সেই মুগ্ধতা আজও অটুট। তাই তো চল্লিশ পেরিয়েও মাইলস এখনো নিজের গতিতে পথ হাঁটছে। করোনাকালে কেউ সেভাবে কাজ করতে পারেনি। বিশেষ করে ব্যান্ড দলের জন্য স্টেজ কনসার্টটাই প্রধান। সেটা কোনোভাবেই সম্ভব হয়নি। কিন্তু লকডাউন উঠে যাওয়ার পর যে কজন শিল্পী অল্প বিস্তর কনসার্টে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তার মধ্যে মাইলস ব্যান্ড ছিলো অন্যতম। ওপেন এয়ার কনসার্টে তার পারফরমেন্স ছিলো দেখার মতো। 

মাইলস নিয়ে বড় পরিকল্পনা ছিলো শাফিন আহমেদের। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়েছে মাইলসের কিছু মিউজিক ভিডিও গান করা দরকার। বড় পরিসরে কাজগুলো করব।’

তবে এই কথা বলার কিছুদিন পরেই ২০২১ সালের শেষের দিকে অন্তঃকোন্দলের কারণে মাইলস ছেড়ে একক সঙ্গীত ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করেন শাফিন।

মাইলসের বাইরের মিউজিশিয়ান নিয়ে নিয়মিত দেশে বিদেশে বড় বড় কনসার্টে গাইতেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চানেলে মিউজিক ভিডিওসহ প্রকাশ করতেন নতুন নতুন একক গান।

এরমধ্যে পপ ধাঁচের ‘শূন্যতা’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া ভারত, ইউরোপ ও আফ্রিকান মিউজিশিয়ানদের নিয়ে ভারতীয় রাগের ওপর একটি ব্লুজ- ফিউশন যন্ত্রসংগীতের ভিডিও প্রকাশ করেন নিজের ইউটিউব চ্যানেলে। চ্যানেল আইয়ের জন্য ‘পিয়ানো রাউন্ড’ নামের একটি অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পিয়ানোর ওপর বেইজ করে জনপ্রিয় গানের নতুন কম্পোজিশন করেছিলেন সম্প্রতি। সেই গানগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনিসহ দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা। বাবা উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ কমল দাশগুপ্ত’র গানেরও নতুন সংগীতায়োজন করেছিলেন। এই গানগুলো দর্শকের কাছে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনেন শাফিন।

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রে সলো কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর ভীষণ জনপ্রিয় ভোকাল, বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শোয়ের আগে অসুস্থ হয়ে ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ফেরানো যায়নি তাকে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শাফিন। হৃদরোগসহ বেশকিছু জটিলতার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই ও মাইলস সদস্য হামিন আহমেদ।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ ভার্জিনিয়ার সেই হাসপাতালেই রয়েছে বলেও জানান হামিন। তিনি জানান, আমেরিকায় তাদের বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তারাই আপাতত সব দেখছেন। তবে শাফিনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন হামিন।

;

কেন বার বার মাইলস ছাড়তেন শাফিন আহমেদ?



মাসিদ রণ, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

চার দশকের বেশি সময় ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা দেশের অন্যতম সফল ব্যান্ডদল ‘মাইলস’ থেকে ২০২১ সালের শেষের দিকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ। সে সময় এক ভিডিও বার্তায় তার ফেইসবুক পেজে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এই শিল্পী। একসাথে পথ চলা সম্ভব না হওয়ায় ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

ভিডিও বার্তায় শাফিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘মাইলসের সঙ্গে আমার পথচলা সেই ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছর পার হয়ে গেছে। অনেক বছর সময় দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি। অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ হয়েছে। মাইলসের যে অবস্থান আজকে সেটার পিছনে আমার কতটুকু অবদান, সেটা আপনাদের অনেকেই জানেন। তবে, একটা সিদ্ধান্ত নিতে আমি বাধ্য হয়েছি সম্প্রতি। সেটা হচ্ছে, এ বছরের শুরু থেকে-মাইলসের বর্তমান লাইন আপের সাথে আমার পক্ষে মিউজিকের কোন কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি-আমি এই লাইন আপের সাথে মিউজিক করা থেকে বিরত থাকবো।’

দেশের অন্যতম সফল ব্যান্ডদল ‘মাইলস’-এর পুরনো সদস্যরা

শুধু তাই নয়, মাইলসের গৌরবময় অতীত যেন ভেঙে যাওয়া মাইলসের মাধ্যমে ক্ষুন্ন না হয় এ জন্য ব্যান্ডটির কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলে শাফিন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে, মাইলস নামটার যেন কোন অপব্যবহার না হয়। মাইলসকে নিয়ে আমরা চল্লিশ বছর উদযাপন করেছি-খুব গৌরবজ্জ্বলভাবে। আমরা যদি একসাথে কাজ না করতে পারি তাহলে মাইলসের যে কার্যক্রম তা এখনই স্থগিত করা উচিত। এবং এটাই আমি মনে করি বেস্ট ডিসিশান। সুতরাং আমার প্রত্যাশা থাকবে, অন্য কেউ যেন মাইলস নামটার অপব্যবহার না করে।’

ভিডিওটি প্রকাশ করে শাফিন ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘দীর্ঘদিনের অন্যায় ও ভুল কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আমি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক অন্য ব্যান্ড সদস্যদের কোন মন্তব্য পাওয়া না গেলেও হামিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এই বিষয় তাকেই (শাফিন আহমেদ) পরিষ্কার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই ব্যক্তি (শাফিন আহমেদ) বারবার একই ধরনের কাজ করছে। এখন হায়ারড (ভাড়াটে) মিউজিশিয়ান নিয়ে মাইলসের অনুমতি ছাড়া মাইলসের গান গাইছে! এর মাধ্যমে দর্শককে যেভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এটা অনেকটা প্রতারণার মতো। কোন অধিকারে মিউজিশিয়ান হায়ার করে মাইলসের সুনামটাকে নষ্ট করছে, এটার উত্তর তো তাকে দিতে হবে। চারবার এই ব্যক্তি ব্যান্ড ছেড়েছে, কোনোবারই ব্যান্ড কিন্তু তাকে বলেনি, চলে যাও।’

প্রয়াত ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ

কিন্তু শাফিন আহমেদ কখনোই তেমন কিছু পরিস্কার করে বলেননি। বিভিন্ন সময় মাইলস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েও দলে ফিরেছিলেন শাফিন। এর আগে ২০১৯ সালে তার মাইলস ছাড়ার গুঞ্জন ওঠে। ২০১৭ সালে অক্টোবরে তিনি একবার ব্যান্ডটি ছাড়ার কয়েকমাস পর দ্বন্দ্ব ভুলে ফের ব্যান্ডে ফিরেছিলেন। ২০১০ সালের শুরুর দিকেও একবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যান্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েকমাস পর ফের ব্যান্ডে ফেরেন।

মাইলস ছাড়লেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গান ছাড়েননি জনপ্রিয় এই ব্যান্ড তারকা। স্টেজ কিংবা রেকর্ডিংয়ে তাকে আগের মতোই পাওয়া গেছে। শাফিন সে সময় বলেছিলেন বলেন, ‘সংগীত জগতে আমার পথচলা খুব স্বাভাবিক এবং আগের মতোই থাকবে।’

ফরিদ রশিদের হাত ধরে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা সংগীতের অন্যতম ব্যান্ড মাইলস যাত্রা শুরু করে। মাইলসের প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালে। তার আগে প্রকাশিত হয় দু’টি ইংরেজি গানের অ্যালবাম ‘মাইলস’ ও ‘এ স্টেপ ফারদার’। মাইলসে’র জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘চাঁদ তারা সূর্য’, ‘প্রথম প্রেমের মতো’, ‘গুঞ্জন শুনি’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’, ‘পাহাড়ি মেয়ে’, ‘নীলা’, ‘কি যাদু’, ‘কতকাল খুঁজব তোমায়’, ‘হৃদয়হীনা’, ‘স্বপ্নভঙ্গ’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘বলব না তোমাকে’, ‘জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন’ ও ‘প্রিয়তমা মেঘ’।

মাইলস ব্যান্ডের লাইন আপ ছিলো: শাফিন আহমেদ (বেজ গিটার, কণ্ঠ), হামিন আহমেদ (গিটার, কণ্ঠ), মানাম আহমেদ (কি-বোর্ড), ইকবাল আসিফ জুয়েল (গিটার) ও সৈয়দ জিয়াউর রহমান তূর্য (ড্রামস)।

;

শাফিনের মরদেহ আনতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন হামিন



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ

হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রে সলো কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর ভীষণ জনপ্রিয় ভোকাল, বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। শোয়ের আগে অসুস্থ হয়ে ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ফেরানো যায়নি তাকে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন শাফিন। হৃদরোগসহ বেশকিছু জটিলতার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই ও মাইলস সদস্য হামিন আহমেদ।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ ভার্জিনিয়ার সেই হাসপাতালেই রয়েছে বলেও জানান হামিন। তিনি জানান, আমেরিকায় তাদের বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তারাই আপাতত সব দেখছেন। তবে শাফিনের মরদেহ দেশে নিয়ে আসতে বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন হামিন।

জানালেন, বৃহস্পতিবারই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। সেখানে পৌঁছে যতো দ্রুত সম্ভব শাফিন আহমেদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করবেন।

কনসার্টে শাফিন আহমেদ

‘মাইলস’ এর বাইরেও সলো ক্যারিয়ারে সুনাম অর্জন করেছিলেন শাফিন। এছাড়াও বেশকিছু সলো কিংবা মিক্সড অ্যালবামে এই শিল্পীর গান রয়েছে।

শাফিন আহমেদের মা সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই শাফিন আহমেদ গানের ভেতরেই বড় হন। বাবার কাছে মাঝে মাঝে উচ্চাঙ্গ সংগীত শিখেছেন আর মার কাছে শিখেছেন নজরুলগীতি।

এরপর বড়ভাই হামিন আহমেদসহ ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সুবাদে পাশ্চাত্য সংগীতের সংস্পর্শে এসে ব্যান্ড সঙ্গীত শুরু করেন এবং মাইলস ব্যান্ড গড়ে তোলেন, যা পরবর্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগামী ব্যান্ডদলসমুহের মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি সেইসময় বিটিভিতে মাইলসকে নিয়ে করা অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। শাফিন আহমেদের জনপ্রিয় কিছু গানের মধ্যে আজ জন্মদিন তোমার, চাঁদ তারা সূর্য, জ্বালা জ্বালা, ফিরিয়ে দাও ও ফিরে এলেনা অন্যতম।

;

ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদ মারা গেছেন। সংগীতশিল্পীর ভাই হামিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব লিখেছেন, ‘কিছুক্ষণ আগে ভার্জিনিয়ার একটি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন l ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-লিল্লাহি রাজিউন। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুক।’

এ সংগীতশিল্পীর ভাই হামিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শাফিনের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। ২০ জুলাই তার একটা কনসার্ট ছিল ভার্জিনিয়াতে। শোয়ের আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন শাফিন। শো’টা ক্যানসেল করেন। সেদিনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার নানা অর্গান অকার্যকর হতে থাকলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর তাকে আর ফেরানো গেল না।’

শাফিন আহমেদের মা নজরুলসংগীতের মহাতারকা ফিরোজা বেগম এবং বাবা সুরকার কমল দাশগুপ্ত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়ার সুবাদে শাফিন ছোটবেলা থেকেই গানের মধ্যে বড় হয়েছেন। বাবার কাছে যেমন উচ্চাঙ্গ সংগীত মাঝে মাঝে শিখেছেন তেমনি মার কাছে শিখেছেন নজরুলসংগীত। এরপর বিদেশে পড়াশোনার কারণে পাশ্চাত্যর সংস্পর্শে এসে তার ব্যান্ড সংগীতের শুরু।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’ গঠিত হযওয়ার কিছুদিন পর এতে যুক্ত হন শাফিন ও হামিন। এরপর বাংলাদেশের অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান উপহার দিয়েছেন তারা। ব্যান্ডের বাইরেও শাফিনের জনপ্রিয় অসংখ্য গান রয়েছে।

;