বিছানা সম্পৃক্ত ব্যথা

ডা. মারুফা মান্নান
ছবি:  বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দিনের বেশির ভাগ সময় আমরা বিছানায় কাটাই। এর মাঝে ৭-১০ ঘণ্টা ঘুমতো অত্যাবশ্যক। এর বাইরেও অনেকে জায়গা সংকুলানের কারণে হাঁটাহাঁটি বাদ দিয়ে বিছানায় বিভিন্ন পজিশন/অবস্থায় কাটায়। এর ওপর আমরা বাঙালি তাই কিছু বদ অভ্যাসতো থাকবেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বদ অভ্যাস হচ্ছে বিছানার নিচে সিন্দুক বানানো! একটু মজা করলাম। আচ্ছা একটা ছোট্ট গল্প শোনাই।

রিদিমা ও শ্রাবণ নতুন দম্পতি। এর মধ্যে রিদিমা ফিজিওথেরাপিস্ট। বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী (শ্রাবণ) ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় ব্যথা বা কোমর ব্যথা থাকতো। তবে দুই এক ঘণ্টা পর ব্যথা কমে যেতো। রিদিমা একদিন বিছানার নিচে তুলে দেখলো তার বর পলিথিন, কাগজ, নেট জমিয়ে রাখতো বিছানার নিচে। যার ফলাফল বিছানা কোথাও উঁচু কিংবা কোথাও নিচু! একদিন রিদিমা তার বরকে না জানিয়ে বিছানার নিচে যাবতীয় জিনিস সরিয়ে ফেলে এবং বিছানা সমতল করে দেয়। এরপর দিন ঘুম থেকে উঠে তার স্বামী উপলব্ধি করতে পারে আজ তার কোথাও ব্যথা হচ্ছেনা।

গল্প থেকে কী বুঝতে পেরেছেন? ব্যথার উপসর্গ কী?

আচ্ছা আমি বলছি এখানে প্রধান উপসর্গ হচ্ছে উঁচু-নিচু বিছানা। বিছানা সম্পৃক্ত আরো কিছু সমস্যা নিচে তুলে ধরছি—

* উঁচু-নিচু বিছানা

* অতিরিক্ত শক্ত বিছানা

* অতিরিক্ত নরম বিছানা

* খাটের মাপ অনুযায়ী জাজিম/ম্যাট্রেস না হওয়া। যেমন: খাটের তুলনায় বড় কিংবা ছোট।

* কিছু ম্যাট্রেস আছে যেগুলো স্প্রিং করে উপরে পুশ করে। প্রথমে নরম ও আরামদায়ক মনে হলেও এই বিছানা মাংসপেশি ব্যথাসহ ঘাড় ও কোমর ব্যথা বাড়াতে পারে।

কিছু ভ্রান্ত ধারণা:

* কোমর ব্যথা হলে শক্ত বিছানায় ঘুমাতে হয়

* ব্যথার ওষুধ খেলেই ব্যথার সমাধান হয়

সঠিক তথ্য:

১. মেরুদণ্ডের গঠন অনুযায়ী বিছানার ধরণ ভিন্ন হবে। আপনার বিছানার ধরণ কেমন হবে তা জেনে নিন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে।

২. যেকোনো ব্যথায় কারণ খুঁজে বের করা চিকিৎসকের কর্তব্য। এক্ষেত্রে কারো যদি বিছানা সম্পৃক্ত সমস্যার কারণে ব্যথা হয় ওনাকে যতই ব্যাথানাশক দেয়া হোক সাময়িক আরাম দিলেও কোনো উপকারে আসবে না। বিছানা সম্পৃক্ত সমস্যায় বিছানাকে তার গঠন অনুযায়ী সঠিক করতে হবে তবেই ব্যথা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

পরামর্শ:

১. একজন ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে পরামর্শ থাকবে আজ থেকেই বিছানার নিচে সিন্দুক বানিয়ে নিজের ক্ষতি ডেকে আনবেন না।

২. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতিত কোনো ভিডিও দেখে বা শুনে কোনো প্রকার ম্যাসাজ/ব্যায়াম/চিকিৎসা থেকে বিরত থাকুন। এক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে।

৩. গবেষণা মতে প্রতি ৮-১০ বছর পর পর বিছানা পরিবর্তন করতে হবে।

ডা. মারুফা মান্নান বিপিটি (নিটোর-ঢাবি)

ডা. এফ এম আকরাম হোসাইন (ডক্টর অফ ফিজিকাল থেরাপি, ইউএসএ লাইসেন্সড এন্ড রেজিস্টার্ড ইনইউএসএ)