অকালে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য !



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
অকালে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য !

অকালে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য !

  • Font increase
  • Font Decrease

এক সময়ে আমাদের দেশে বর্ষা ও শরৎ কালে বিলে-ঝিলে শোভাবর্ধণ করে ফুটে থাকতো সৌন্দর্য, বিশুদ্ধ ও পবিত্রতার প্রতীক পদ্ম ফুল। সময়ের বিবর্তনে প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়ায় এখন সৌন্দর্য হারাচ্ছে এই ফুল। এখন বর্ষা মৌসুমেও তেমন একটা চোখে পড়েনা এই পদ্ম ফুলের।

কিন্তু বৈশাখের প্রখর রোদে যখন হাহাকার করছে প্রকৃতি। এক ফোটা পানির জন্য ফেটে চৌচির মাঠ-ঘাট। ঠিক এই সময়ে অকালে বিস্তৃর্ণ জলাভূমিতে ফুটে আছে অজস্র পদ্ম ফুল।

কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার কেউ কথা রাখেনি কবিতায় ১০৮টি নীল পদ্ম ফুলের কথা বলেছিলেন। প্রিয়াকে দেওয়া কথামতো ১০৮ টি নীল পদ্ম নয়, অগণিত পদ্ম ফুল তুলে দিতে পারবেন অনায়াসে  আপনার প্রিয়ার হাতে।

পদ্ম ফুল

আর এ জন্য আপনাকে আসতে হবে ফরিদপুরের পুরান মধুখালীর বৈকুণ্ঠপুর বাওড়ে। এক নং খাস খতিয়ানের ৪২ একর জমির উপর অবস্থিত এই বাওড়টি এখন সৌন্দর্য্যের প্রতীক। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্য যেন আগত সকল দর্শনার্থীকেই মুগ্ধ করছে।

স্নিগ্ধতার রঙ আর পূব আকাশের অস্তমিত সূর্য মিলে একাকার এখানকার প্রকৃতি। বিশুদ্ধতম এই পদ্ম ফুল দেখতে প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী ভিড় করছে বাওড়টির চারপাশে। তবে বাওড়ের অকালের পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে চলে যাওয়ার সময় দর্শনার্থীরা নিষ্ঠুর ভাবে ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে পদ্ম ফুল। ফলে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বাওড়ের প্রকৃতি।

পদ্ম ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থী নমিতা সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের পূজার সময় এই ফুলের প্রয়োজন হয়। এই পদ্ম ফুল পবিত্রতার প্রতীক। এই সময়ে সাধারণত এই ফুল দেখা যায়না। তাই আমরা সপরিবারে এই বাওড়ে এসেছি পদ্ম ফুল দেখতে।

আরেক দর্শনার্থী কবির মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, যেহেতু এই বিলে সব সময় পদ্ম ফুল ফোটে এবং প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে দেখতে। তাই প্রশাসনের উচিত এই বাওড়টিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা।

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মোস্তফা মনোয়ার বার্তা২৪.কমকে বলেন, দীর্ঘদিন এই বাওড়টি অবৈধ দখলে ছিল। বর্তমান এটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাওড়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রয়েছে। সেটি নিষ্পত্তি হলেই আমরা এই বাওড়টিকে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলবো এমন একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।