‘মা'গো, ভালোবাসি তোমায়’



মানসুরা চামেলী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মা! এই একটা শব্দ-এমন যেন আমাদের জীবনে জীবনের সমান। এই শব্দটা যেন আবেগে জড়ানো উন্মাদনা! মা হচ্ছে সেই গাছতলা যেখানে জীবনের কঠোর তপ্ত রোদের মধ্যে প্রশান্তির ছায়া; যে ছায়ায় চলার পথে বিশ্রাম নিয়ে প্রাণ জুড়াই।

আমাদের জীবনে ‘মা’ একটা এমন জায়গা যা আমরা ঠিক সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যায় করতে পারি না। সন্তানের অসুখে-সুখে, কষ্ট-আনন্দে এই শব্দটা যেন প্রশান্তি, ভালোবাসা জড়ানো।

যখন মায়ের থেকে দূরে থাকা হয়, সেই সময় যখন তার অভাব অনুভব হয়; তখন তার স্নেহমাখা মুখটার কথা মনে হয়। মায়ের গায়ের একটা গন্ধ থাকে, মিষ্টি গন্ধ, মা মা গন্ধ। তার সেই শরীরের মায়াবী গন্ধটার কথা মনে হয়।

জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের ভাষায়-

“মায়ের গায়ে একটা গন্ধ থাকে, ঘামে ভেজা

হোক কিংবা কোনো সুগন্ধির হোক;

সুনির্দিষ্ট একটা ঘ্রাণ।

শুধু সন্তানরাই সে গন্ধ পায়।

মায়ের ভালোবাসা কোনো নিক্তি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তেমনি সব সন্তানেই মাকে ভালোবাসেন! পৃথিবীর সকল সন্তানের জন্য মমতার একই রূপ ‘মা’। মায়ের জন্য কোন বিশেষ দিবস নয়। তবে মা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য- জননীর প্রতি একটি দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে যথাযথ সম্মান দেখানো। তাই আসুন এই দিনে জড়তা-দ্বিধা কেটে উপলক্ষ্যটাকে খুঁজে নিয়ে মুখ ফুটে বলে ফেলি, ‘মা'গো, ভালোবাসি তোমায়’। তাতে না হয় খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠুক মায়ের মুখটি।

মানুষের এখন নেট দুনিয়ায় বিচরণ। তার খারাপ লাগা ভালো লাগা সবকিছু শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আজ ‘মা’ দিবস উপলক্ষে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নেটিজেনদের মায়ের ছবিতে সয়লাব। আপলোড করে অনেকেই মা’কে অনুভূতি নিয়ে প্রকাশ করছেন।

সিনিয়র সাংবাদিক লুৎফুর রহমান হিমেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মাকে লিখেছেন, হাড়কাঁপানো শীতের রাত। চারিদিক চরাচর কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে। এমন রাতে দূরন্ত কিশোর ছেলেটা দূরগ্রামে যাত্রাপালা দেখে এসে ভোররাতে চুপি চুপি তার শোবার ঘরে ঢুকেছে ঘুমানোর আয়োজন করতে! কোনো টুশব্দটি হয়নি তার। তারপরও পাশের ঘর থেকে আদুরে এক ডাক ভেসে আসে, ‘‘বাজান, আইছস! এত রাইত করছস ক্যা! পাকের ঘরে খাবার আছে, তোর বাপ জাগার আগে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়।’’ এই যে ঘুমিয়ে থেকেও যার হৃদয় জেগে থাকে সর্বদা, ঘুমিয়ে থেকেও যার চোখ দুটো থাকে বিনিদ্র, তিনিই হচ্ছেন মা। জগতের সব মা-ই হয়ত এমন। ঘুমিয়ে থেকেও যিনি সন্তানদের দেখভাল করতে ভুলে যান না। জগতের বিস্ময়কর এক সৃষ্টি। মা।

যুক্তরাষ্ট্রে মা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয় আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড হোই নামে এক নারীর হাত ধরে। ১৮৭০ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পৈচাশিকতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শান্তির প্রত্যাশায় জুলিয়া একটি ঘোষণাপত্র লেখেন। এটি মাদার’স ডে প্রোক্লেমেশন নামে পরিচিত ছিলো। এ ঘোষণার মধ্যে জুলিয়া রাজনৈতিক স্তরে সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। এরপর যুদ্ধ শেষে পরিবারহীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন মার্কিন সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও তার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস। এসময় তারা জুলিয়া ওয়ার্ড ঘোষিত মা দিবস পালন করতে শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে আনা রিভিজ জার্ভিস ১৯০৫ সালের ৫ মে মারা যান।

মায়ের মৃত্যুর পর আনা মেরি জার্ভিস মায়ের শান্তি কামনায় ও তার সম্মানে সরকারিভাবে মা দিবস পালনের জন্য প্রচারণা চালান। তিন বছর পর ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার অ‍ান্দ্রেউজ মেথডিস্ট এপিসকোপাল চার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মা দিবস পালিত হয়। চার্চটি বর্তমানে International Mother's Day Shrine নামে পরিচিত।

১৯১২ সালে তিনি স্থাপন করেন মাদার’স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন। এসময় জার্ভিস মা দিবসকে ছুটির দিন করার লক্ষ্যে ও দিনটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে ব্যাপক প্রচারণা চালান। তা ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কানাডা, মেক্সিকো, চীন, জাপান, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায়।  ১৯১৪ সালের ৮ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করে চুক্তিপক্ষ স্বাক্ষর করে। 

তখন থেকে সারাবিশ্ব মা দিবস পালিত হয়। মা দিবস সকল মায়েদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা, সুস্থ ও নিরাপদে থাকুন সকল মা।