কিসের ওমিক্রন! এটা ঢাকা এয়ারপোর্ট!



মাজেদুল নয়ন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংককের সঙ্গে নিয়মিত ফ্লাইট হিসেবে সপ্তাহে দু’বার উড়ালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ বিমান। তার প্রথম ফ্লাইট ডিসেম্বরের ২ তারিখ, বৃহস্পতিবার। প্রথম ফ্লাইটের যাত্রী আমি। বেলা তখন প্রায় ১ টা। বিমানের ভেতর সিট বেল্ট লাগিয়ে বসে আছি গত ১ ঘণ্টা ধরে, বিমানের কোন নড়চড় নেই। এরই মধ্যে ককপিট থেকে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে এক নারী কণ্ঠ ভেসে আসলো। জানানো হলো, কোভিডের পর ব্যাংকক রুটের প্রথম ফ্লাইটের যাত্রী হিসেবে আমাদের উপহার দেয়া হবে। বোঝা যাচ্ছিল, এসব কথা বলে যাত্রীদের একটি স্বস্তি দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছিলেন ভদ্রমহিলা। তবে যাত্রীদের মধ্যে কোন উৎসাহ দেখা গেলো না।

উৎসাহ না থাকার কারণ রয়েছে যথেষ্ট। যেমন আমার পাশের যাত্রী নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে বের হয়েছেন সকাল ৬ টায়। ৭ ঘণ্টা পরেও তিনি উড়তে পারেননি। প্রতিষ্ঠার পর গত ৪১ বছর ধরে একটি রানওয়ে নিয়ে চলা বিমানবন্দর থেকে ওড়া মাঝে মাঝেই ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ওই একটি রানওয়েতেই বিমান উড্ডয়ন, অবতরণ, জরুরি অবতরণ, সব হয়। আজ বিমানবাহিনীর একটি বিমানের জরুরি অবতরণ হওয়ায় এই দেরি হচ্ছে বলে জানালেন পাইলট।

barta24

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় যখন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালাম, তখনই বোঝা হয়ে গিয়েছিল দিনটা আজ হয়রানি আর ক্লান্তিতে ভর করবে। বিমানবন্দরে প্রবেশের প্রথম সড়কেই গাড়ি থেকে যাত্রী ছাড়া অন্যদের বের করে দেয়া হচ্ছে। গাড়ির চেয়ে সিএনজিগুলোতে কেন জানি সন্দেহ বেশি! এটা যে নিয়মিত চিত্র তা নয়। এর পূর্বের রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বোমা রয়েছে সন্দেহে তল্লাসী চালানো হয়। তাই আজ একটু বেশি কড়াকড়ি। মেনে নিয়ে গেটের দিকে এগোলাম।

barta24

এয়ারপোর্টের বহির্গমন ফ্লোরে একটা বিষয় খেয়াল করবেন। ১ থেকে ৩ নং গেইটে ভিড় বেশি থাকে। এরপর ধীরে ধীরে ভিড় কমে। যেমন আমি দেখলাম এই তিনটি গেটে মানুষ প্রবেশের দীর্ঘ লাইন। আবার আমি ৫ নং গেট দিয়ে যখন প্রবেশ করি, সেটি প্রায় ফাঁকা। ভেতরে প্রবেশ করেই প্রথমে করোনার আরটি-পিসিআর টেস্টের ফলাফল চেক করার পালা। প্রতিটি গেটের পাশে দুটি করে বুথ। তবে চোখ কান খোলা না রাখলে এগুলোর কিছুই আপনি বুঝতে পারবেন না। কারণ ‘এয়ারপোর্টে করণীয়’ যেমন কোন সাইন নেই, তেমনি আপনাকে দেখিয়ে দেয়ার কোন লোকও নেই। এর মধ্যে প্রতি দুটি বুথের একটিতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা নেই। তাই দীর্ঘ লাইন জমেছে সবখানেই। চেক করে সেখানে স্বাক্ষর করে দেন বিমানবন্দরের এসিসটেন্ট হেলথ অফিসার।

barta24

এরপর বাংলাদেশ বিমানের চেক-ইন কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ালাম। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম, অনেকেই টিকেট হাতে অন্যদিকে ছুটছেন। আমিও ছুটলাম। এখানে আবার তিনটি কাউন্টার রয়েছে সকল কাগজপত্র চেক করার। এতো যাত্রীর সব কাগজ চেক করতে ডিসেম্বরের সকালেও ঘাম ঝড়ছে বিমানের কর্মকর্তাদের।

যে দেশে যেতে যেসব তথ্য প্রয়োজন, যাত্রীর কাছে সেগুলো রয়েছে কিনা, যাচাই করে ‘চেক’ সীল মেরে দেয়া হচ্ছে। এই কাউন্টারে একেবারে বাঘে-নেকড়েতে বাঁধলো কিছুক্ষণ পর। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একটি দল যাচ্ছে থাইল্যান্ডে। এর মধ্যে একজনের হাতে লাল, কূটনৈতিক পাসপোর্ট। আরেকজনের হাতে নীল সরকারি পাসপোর্ট। থাইল্যান্ডে প্রবেশের নতুন নিয়মানুযায়ী ৫০ হাজার ইউএস ডলারের হেলথ ইন্সুরেন্স এবং কোয়ারান্টাইনের জন্য হোটেল রিজার্ভেশন প্রয়োজন। এই দুজনের এসব নেই। বিমানের কর্মকর্তা যখন এগুলো চাইলেন, তাদের দুজনের উত্তর সবকিছু এম্বেসি ম্যানেজ করেছে, আপনে সীল দেন। এ নিয়ে বাক বিতণ্ডা। অবশ্য পরে লাল পাসপোর্টধারী জিতলেন এবং সীল দিতে বাধ্য হলেন চেকের জন্য দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তি।

এই কাউন্টারে এসে খেয়াল করলাম, আমার সামনে লোক মাত্র ২ জন। কিন্তু তাদের হাতে পাসপোর্ট রয়েছে ৭ থেকে ১০ টি করে। সাদা পোশাক এবং কালো প্যান্টের এই ব্যক্তিদের প্রথমে আমার কাস্টমসের লোক মনে হলো। কিন্তু আশপাশে তাকিয়ে দেখলাম আরো অনেক ব্যক্তি তাদের। বাংলাদেশে যখন প্রতি ৩ জনে একজন ভিআইপি, তখন এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণদের পাসপোর্ট হাতেই এরা দ্বায়িত্বরত মনে হলো।

পরে চেক ইন কাউন্টারেও দেখলাম এই ধরনের ব্যজ আর পোশাক পরা আরেক ব্যক্তির হাতে বেশ কয়েকটি পাসপোর্ট। এরা লাইন অমান্য করে কাউন্টারে সরাসরি পাসপোর্টগুলো নিয়ে চলে যায়। খেয়াল করলাম, এদের গলায় ঝুলানো ফিতায় শাহজালাল আন্তর্জ াতিক বিমানবন্দরের ফাঁকে ফাঁকে ছোট করে লেখা রয়েছে ‘হেলপ লাইন লিমিটেড’।

এবার জানতে চাইলাম এমন একজনের কাছে।

আপনারা কি এয়ারপোর্টের কর্মকর্তা নাকি বাংলাদেশ বিমানের?

এয়ারপোর্টের।

হেলপ লাইন লিমিটেডের লোক আপনেরা? আগেতো দেখি নাই!

আমরা সিভিল এভিয়েশনের অধীনে।

ও। আপনাদের নিয়োগ কি স্থায়ী?

না। চুক্তি ভিত্তিক।

এরপর আরো এক ঘণ্টার চেক ইন শেষে এই হেলপ লাইনের সহযোগিতা নেয়া ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলাম। আপনারা যে হেলপ পেলেন, কিভাবে এই হেলপ পাওয়া যায়?

উত্তরে বললেন, টাকা না দিলে, কি এসব পাওয়া যায়!

ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়ালাম এবার। আমার সামনে বৃদ্ধ আর বৃদ্ধা দাড়িয়ে আছেন দীর্ঘ লাইনে। আমি বললাম, আপনারা বিশেষ কাউন্টারের জন্য যান। কারন সেখানে প্রায় ফাঁকা আর যারা দাঁড়িয়ে আছে, সবাইকে সুস্থ এবং তরুন মনে হচ্ছে।

ইমিগ্রেশনের লাইনে গাঁয়ে গা লেগে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। একজনের সীল মারা হলেই আরেকজন পাসপার্ট চেপে দিচ্ছে। পাশের এক যাত্রী বললেন, ওমিক্রনের কারণে নাকি অনেক এয়ারপোর্ট এখন কড়াকড়ি আরোপ করছে। দুবাইগামী একজন নিয়মিত যাত্রী প্রতি উত্তরে বললেন, কিসের ওমিক্রন! এটা ঢাকা এয়ারপোর্ট!

দুপুর তখন ২ টা ১০ মিনিট। আমাদের বিমানটি ধীরে ধীরে রানওয়ের দিকে এগোচ্ছে। আড়াই ঘণ্টার বেশি দেরি হয়ে গিয়েছে। অবশেষে উড়াল দেবার অপেক্ষায় আমরা।

‘গৈইলত থাকি, মোক ঘর করি দেয় কাই’



কল্লোল রায়, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুড়িগ্রাম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের সুরিরডারা গ্রামের বাসিন্দা মহেছেনা বেগম। স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ায় অসহায় জীবন যাপন করছেন এই ষাটোর্ধ্ব নারী। সন্তানরা থেকেও নেই। ফলে গোয়ালঘরে গরুর সাথে কয়েকমাস ধরে বসবাস করছেন মহেছেনা বেগম।

জানা যায়, তার স্বামী ছেড়ে গেছেন প্রায় ছয় বছর আগে। এরপর দুই ছেলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন মহেছেনা। ৫/৬ মাস আগে বড় ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। সাথে নিজের করা ঘরটাও ভেঙে নিয়ে গেলেও নিজের প্রথম পক্ষের ছেলেকে রেখে যান মা মহেছেনার কাছে। গৃহহীন মহেছেনার আশ্রয় হয় ছোট ছেলের গোয়াল ঘরে, গরুর সাথে। এই তীব্র শীতেও দশ বছর বয়সের নাতিসহ গরুর সাথে একই ঘরে বসবাস ষাটোর্ধ্ব মহেছেনার।

মহেছেনার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গোয়াল ঘরের একদিকে একটি মাঁচান আর একদিকে শোবার বিছানা। মাঝখানের কোনায় গরু রাখার স্থান। গোবর-মূত্রের গন্ধ নিয়ে সেই ঘরেই বসবাস মহেছেনার। যেন নিজ ভূমিতে পরবাসী তিনি। ছোট ছেলে বাড়িতে থাকলেও স্বল্প আয়ে মায়ের জন্য আলাদা ঘর তৈরি করে দেওয়ার ‘সামর্থ’ নেই তার। বিকল্প না থাকায় ছেলের গোয়ালঘরে আশ্রয় হয়েছে মহেছেনার।

মহেছেনা বলেন, ‘বড় বেটা প্রথম বউ ছাড়ি দিয়া ফির বিয়া করি অন্যটেই থাকে। নাতিটাক মোর কাছত রাখি গেইছে। ছোট বেটা দিন আনি দিন খায়। মোক ঘর করি দেয় কাই? নাতিটাক নিয়া ছোট বেটার গৈইলত (গোয়ালে) থাকি।’

গরুর গোবর আর মূত্রের গন্ধে সমস্যা হয় কি না, এমন প্রশ্নে মহেছেনা বলেন, ‘ সমস্যা হয় কিন্তু কী করমো বাবা, ঘর করারতো সামর্থ নাই!’

অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজের ও নাতির খাবার জোগান মহেছেনা। নিজের বয়স কত সেটাও ঠিকমতো বলতে পারেন না। তবে গোয়ালঘরে থাকা নিয়ে তাঁর ছোট ছেলের প্রতি কোনও অভিযোগ নেই। বরং ছেলের জন্য অনেকটা সাফাই গাইলেন ষাটোর্ধ্ব এই নারী।

‘নাতিসহ যাওয়ার আর জায়গা নাই। মাইনষের বাড়িত কামাই করি আনি নাতিসহ খাঙ। ছোট বেটা নিজে চইলবার পায় না মোক কেমন করি দিবে। উয়ারও (ওরও) একটায় ঘর। কাইয়ো ঘরও দেয়না, সাহায্যও করে না।’

মহেছেনার ছোট ছেলে কাজে যাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মহেছেনা যে বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ির বড় ছেলে মারুফ আহমেদ মহেছেনা ও তার নাতির জন্য আলাদা ঘর করে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে সেজন্য সমাজের সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মারুফ আহমেদ বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় ইতোমধ্যে কয়েকজনের সাড়া পেয়েছি। আরও কিছু সহায়তা দরকার। সকলের সহায়তা পেলে আগামী মাসেই মহেছেনা ও তার নাতির জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।’

;

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ায় পান্না কায়সারকে খেলাঘরের শুভেচ্ছা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পান্না কায়সারকে শুভেচ্ছা জানাতে খেলাঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা

পান্না কায়সারকে শুভেচ্ছা জানাতে খেলাঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ায় জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সভাপতি মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপক পান্না কায়সারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় পান্না কায়সারকে শুভেচ্ছা জানাতে খেলাঘরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা হাজির হন।

প্রথমে খেলাঘরের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের নেতাকর্মী ও ভাইবোনরা।

এসময় শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সারের স্ত্রী পান্না কায়সার বলেন, আমার স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় বিজ্ঞান মনষ্ক প্রজন্ম গড়ে তোলা। সে লক্ষে আরো বেশি বেশি কাজ করে যাব। আগামী প্রজন্মকে যদি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়ে তোলা যায় তাহলে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে ঠিক অন্যরকম।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিজ্ঞান মনষ্ক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে খেলাঘরের মাধ্যমে সারাদেশে আরো বেশি কাজ করতে চাই। সেইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নতুন নতুন বই ও গবেষণার ইচ্ছা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রণয় সাহা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুন মোর্শেদ, রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু, সাংবাদিক অশোকেশ রায়, সাংবাদিক রাজন ভট্টাচার্য, আশরাফিয়া আলী আহমেদ নান্তু, হাফিজুর রহমান মিন্টু, আব্দুল মান্নান, কোহিনুর আক্তার শিল্পী, নাদিয়া রহমান মেঘলা প্রমুখ।

গত রবিবার বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা হয়। এবারে পান্না কায়সার সহ ১৫ গুণীজনকে পুরস্কার সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে। অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করবেন।

;

শীতের সকালে কৃষকের খাবার



ফটো স্টোরি, বার্তা২৪.কম
শীতের সকালে কৃষকের খাবার/ ছবি: মেহেরাব হোসেন নাঈম

শীতের সকালে কৃষকের খাবার/ ছবি: মেহেরাব হোসেন নাঈম

  • Font increase
  • Font Decrease

আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাঠের ক্ষেতে বা আইলে কৃষকের খাবার-দাবার। কাজের ফাঁকে সকালে নাস্তা আর দুপুরের খাবার সারেন তারা। এই প্রথা চলে আসছে আদিকাল থেকে।


ভোর বা সকালে কৃষক ও শ্রমিক চলে যান মাঠের ক্ষেতের কাজে। কাঁধে থাকে লাঙ্গল-জোয়াল, মই।কারো হাতে কাস্তে বা হাসুয়া। কেউবা কোদাল হাতে মাঠে চলে যায়। রোদ, ঝড়-বৃষ্টিতে একমনে কাজ করেন তারা।


সকালে বাড়ি ছাড়েন বলে নাস্তা ও দুপুরের খাবারটি মাঠে সারেন তারা।

কৃষাণ বধূরা গামছায় বেঁধে নাস্তা নেন। কোনো সময় দুপুরে খাবার পোটলায় বেঁধে প্রিয় মানুষটির খাবার নিয়ে যান। সঙ্গে থাকে বাসি তরকারি, ভর্তা, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ।


তরকারি বাসি কিংবা টাটকা এবং পদ যাই থাক পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ থাকতেই হবে পাতে। কর্মজীবী মানুষটির অপেক্ষায় থাকেন খাবারের।


অবশেষে আসে সেই মহেদ্রক্ষণ। কাজের ফাঁকে মাঠের ক্ষেতে বা আইলে কিংবা উঁচু জায়গায় বসে খাবার খান। খাওয়া-দাওয়া শেষে কৃষাণী বধূ বাড়ির পানে ফিরেন।

;

খেজুর রস-গুড়ে ব্যস্ত গাছিরা



শিরিন সুলতানা কেয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুয়াশামাখা ভোর। এক হাতে হাঁড়ি নিয়ে ৪০ ফুট লম্বা খেজুর গাছে তর তর করে উঠে গেলেন আবদুল হান্নান। রসে টইটুম্বুর গাছের হাঁড়িটা ধরলেন এক হাতে। আরেক হাতে গাছে লাগিয়ে দিলেন ফাঁকা হাঁড়িটা। নেমে এসে সাইকেলে লাগানো জারকিনে ঢেলে দিলেন হাঁড়ির রস।

হান্নানের সঙ্গে দেখা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামে। ২১ জানুয়ারি, সকাল ৭টায়। একটু কথা বলতে চাইলে হান্নান বললেন, ‘এখুন কথা বুলার সুমায় নাই যে ভাই। আরও ২০টা গাছের রস নামান্যা বাকি।’ সত্যিই খেজুরের রস নিয়ে রোজ ভোরে হান্নানের খুব ব্যস্ততা। রস নামান, সেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় বানান। খেজুরে আলাপ করার সময় কোথায়!


হান্নান একা নন। রাজশাহীর পুঠিয়া, চারঘাট আর বাঘা উপজেলার অসংখ্য গাছির ব্যস্ততা এখন খেজুর রস এবং গুড় নিয়ে। ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঘের শীত গায়ে মেখে তাঁরা এখন বেরিয়ে পড়ছেন সাইকেল নিয়ে। একটার পর একটা গাছের রস নামিয়ে ফিরছেন বাড়ি। তারপর রস জ্বাল দিয়ে শুরু হচ্ছে গুড় বানানোর কাজ। এই কাজটা অবশ্য করে দিচ্ছেন বাড়ির নারীরা। পুরুষেরা আবার সেই গুড় বেচে আসছেন হাটে।

রসের জন্য খেজুর গাছ কাটা, হাঁড়ি লাগানো, রস নামানো, গুড় বানানো ও বেচে আসার কাজটা করছেন শিক্ষিত তরুণেরাও। এই যেমন ফতেপুর গ্রামের রতন আলী শান্ত স্নাতক দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র হয়েও এসব কাজ করছেন। কুয়াশামাখা ভোরে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের এই ছাত্রকেও সেদিন গাছ থেকে নামতে দেখা গেল হাঁড়িভর্তি রস নিয়ে। বললেন, ‘অগ্রহায়ন, পৌষ, মাঘ থেকে ফাল্গুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই কাজই করি। রোজগারও ভাল।’


ভোরের মিষ্টি রোদে তাউয়ার দু’পাশে দাঁড়িয়ে একটা কাপড় ধরে ছিলেন কালুহাটি গ্রামের মাসুরা বেগম আর তাঁর ছেলের বউ শিউলী খাতুন। কাপড়ের ওপর বড় জারকিন থেকে খেজুরের রস ঢেলে দিচ্ছিলেন মাসুরার ছেলে শহিদ রানা। জ্বাল দেওয়ার আগে সবাই এভাবেই রস ছেঁকে নেন কাপড়ে। চুলোর কাছে যেতেই বাড়ি থেকে চেয়ার এনে বসতে দিলেন মাসুরা। ‘এক গ্লাস রস খান’ বলে গ্লাসভর্তি করে খেতে দিলেন খেজুর রস। সকালে গাছিদের বাড়িতে কেউ গেলে এভাবেই খেজুর রস আর মুড়ি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অতিথিদের জন্য খেজুরের জ্বাল দেওয়া রস দিয়ে রান্না হয় পায়েস। খাঁটি খেজুরের গুড় দিয়ে বানানো হয় নানারকম শীতের পিঠা।

গাছিদের সবারই যে নিজের খেজুরের গাছ আছে তা নয়। মালিকদের কাছ থেকে তাঁরা এক মৌসুমের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় গাছ ইজারা নেন। তারপর গাছ কেটে প্রস্তুত করেন শীতের শুরুতেই। রস নামার সময় হলে গাছে গাছে নলির সঙ্গে বেঁধে দেন মাটির হাঁড়ি। গাছিরা এসব হাঁড়িকে বলেন ‘কোর’। টলটলে রস পেতে কোরের ভেতরে মাখিয়ে দেন কিছুটা চুন। ভোরে রস নামাতে গাছিরা সাইকেলে বাঁধা জারকিন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বাড়িতে রস আনার পর কাপড়ে ছেঁকে তা দেওয়া হয় চুলোয় বসানো তাউয়ায়।

তারপর বাড়ির নারীরা জ্বাল দিতে থাকেন চুলোয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাষ্প হয়ে উড়তে থাকে রস। আর বাষ্পের সঙ্গে উড়ে যায় খেজুর রসের মিষ্টি গন্ধ। জ্বাল দিতে দিতে একটা সময় তাউয়ায় থাকে শুধু নালি গুড়। অনেকে এই নালি গুড়ই বয়ামে ভরে বিক্রি করেন। কেউ কেউ আবার এই নালিকেই ফর্মাই বসিয়ে করেন খেজুর গুড়ের পাটালি। পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘার বাড়ির উঠোনে উঠোনে চলে এমন কর্মযজ্ঞ। এসব এলাকার প্রায় চার লাখ খেজুর গাছ থেকে আট হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

রাজশাহীতে শুধু যে খাঁটি খেজুর গুড় তৈরি হয় তা নয়। কেউ কেউ চিনি মিশিয়েও করেন খেজুর গুড়। তাই খাঁটি খেজুর গুড় দিয়ে পায়েস খাওয়ার আশায় অনেকেরই গুড়ে বালি হয়। তবে ইদানিং গ্রামের তরুণরা অনলাইনে গুড় বিক্রি করছেন। তাঁরা গাছিদের সঙ্গে চুক্তি করে ক্রেতাদের জন্য চিনিমুক্ত খাঁটি গুড়ই তৈরি করে নিচ্ছেন। সে কথা জানিয়ে বাঘার ভানুকর গ্রামের আফতাব আলী বললেন, ‘যাঁরা অনলাইনের লাইগি গুড় কিনে তাঁরা তো বেশি ট্যাকাই দ্যায়। লাভও ভালই হয়। তাইলি পারে গুড়ে চিনি মিশিয়্যা লাভ আছে?’

আফতাব জানালেন, হাটে চিনিযুক্ত গুড় পাইকারীতে বিক্রি হয় ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। আর তিনি খাঁটি গুড় বেচেন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। হাটে যেদিন গুড় বেচেন সেদিন বাজার করে আনেন। বাড়িতে ভাল রান্না হয়। ঈদ ঈদ ভাব থাকে বাড়িতে।

;