১৩টি ‘মহাবিপন্ন’ বাংলা শকুনের মৃত্যু



বিভোর, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বাংলা শকুন। ছবি: বন বিভাগ

বিষক্রিয়ায় মৃত্যু বাংলা শকুন। ছবি: বন বিভাগ

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি প্রাণ হারিয়েছে ১৩টি মহাবিপন্ন বাংলা শকুন (White-ramped Vulture)। তবে এদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। বিষক্রিয়াজনিত কারণে এদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ দাবি করেছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের কালারবাজারের কাছে বড়কাপন গ্রামের বুড়িকোনা বিল থেকে বনবিভাগের কর্মকর্তারা ১০টি মৃত শকুন উদ্ধার করেন। পরে সেদিন দুপুরে সেখান থেকে আরও ৩টি মৃত শকুন উদ্ধার করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর সর্বশেষ ২০১৪ সালে জরিপ অনুযায়ী, দেশে ২৬০টি শকুন ছিল। এর মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে ছিল ৮০টি। এই ১৩টি শকুনের মৃত্যুর পর সংখ্যাটি আরও কমে গেল।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘মৃত ১০টি শকুন আইইউসিএন কর্মকর্তারা বস্তায় করে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। এগুলো ১০-১২ দিন আগে মরেছে বলে ধারণা করছি। সব পচে-গলে গেছে। শকুনগুলোর মৃত্যুর কারণ জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিলেট ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছি। ধারণা করছি, মৃত গরু, ছাগল, কুকুর বা শিয়ালের মাংশ খেয়ে শকুনগুলো মারা যেতে পারে। অনেক সময় গরুর চিকিৎসায় নিষিদ্ধ ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় এবং কুকুর-শিয়াল নিধনে গ্রামগঞ্জে বিষ জাতীয় পদার্থ ব্যবহৃত হয়। এই প্রাণীগুলোর কোনোটি মারা যাওয়ার পর তার মাংস শকুন ভক্ষণ করলে তারাও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে।’

ঘটনাস্থলে বনবিভাগের কর্মকর্তাগণ। ছবি: বন বিভাগ

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শ্যামল কুমার মিত্র বলেন, ‘মহাবিপন্ন বাংলা শকুন এক সঙ্গে এতগুলো মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুজির পর আরো তিনটি শকুন মৃত অবস্থায় পেয়ে উদ্ধার করেছি। এর আগে ১০টি মৃত শকুন আইইউসিএনের কর্মীরা সিলেটে নিয়ে গেছেন। অর্থাৎ মোট ১৩টি শকুন বা তার বেশি মারা গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বিষক্রিয়ায় শকুনগুলো মারা গেছে। এই শকুনগুলোর মৃত্যুর ব্যাপারে স্থানীয় কেউই তথ্য দিয়ে আমাদের সহায়তা করেনি। তবে এই শিশু আমাদের জানিয়েছে এই এলাকায় শিয়াল একাধিক ছাগল খেলে ফেলায় মৃতছাগলের পরিত্যক্ত মংশে বিষ মিশিয়ে দেয়া হয় শিয়ালদের মারার জন্য। সেই বিষ থেকে শকুনগুলো মারা যেতে পারে বলেও আমাদের ধারণা। তবে সিলেট ল্যাব থেকে রিপোর্ট পেলে শকুনগুলোর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাখি গবেষকেরা বলছেন, পশু চিকিৎসায় বিশেষ করে গরুর চিকিৎসায় ব্যবহার হওয়া দুটি ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেন জাতীয় ওষুধের বহুল ব্যবহারের ফলেই মূলত শকুন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে। এই দুইটি ওষুধ খাওয়া প্রাণীর মাংস খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে কিডনি বিকল হয়ে মারা যায় শকুন।

পাখি বিশেষজ্ঞ, পাখিপ্রেমী এবং পরিবেশকর্মীদের জোর দাবীর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সরকার ২০১০ সালে পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক এবং ২০১৭ সালে দেশের দুইটি এলাকায় কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

   

ইতিহাসের পাতায় ২ মার্চ



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৯১ সালে তামিল টাইগারের বোমা হামলায় ১৯ জন শ্রীলঙ্কানের মৃত্যু

১৯৯১ সালে তামিল টাইগারের বোমা হামলায় ১৯ জন শ্রীলঙ্কানের মৃত্যু

  • Font increase
  • Font Decrease

বছর পার হলে বার বার ফিরে আসে তারিখগুলো। সময়ের সাথে সাথে বর্তমান হয় অতীত, অতীত হয় ইতিহাস। মানবজাতির সেসব ইতিহাস, প্রতিবছর তার তিথিলগ্নে এসে স্মরণ করিয়ে দেয় ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো। 

আজ ২ মার্চ ২০২৪। ইতিহাসের পাতায় আজকের তারিখে কি ঘটেছিল, জেনে নেওয়া যাক!

স্বাধীন বাংলার পতাকা

বাংলাদেশের ছাত্রনেতারা ১৯৭১ সালের ২ মার্চ স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রথমবার উত্তোলন করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথমবার উম্মোচিত হয় স্বাধীন বাংলার নিজস্ব পতাকা।  

৯০ দশকে শ্রীলঙ্কার উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ছিলেন রঞ্জন উইজেরাত্নে 

শ্রীলঙ্কায় ১৯৯১ সালে তামিল টাইগাররা রাজধানী কলম্বোতে উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রঞ্জন উইজেরাত্নেকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালায়। নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় রিমোট নিয়ন্ত্রিত সেই বোমায় নিহত হন ৫৯ বছর বয়সী রঞ্জনসহ আরও ১৯ জন।

রোডেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ান স্মিথ

৮০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ব্রিটেন রাজতন্ত্র থেকে রোডেশিয়াকে সম্পূর্ণ পৃথক করে ফেলেন ইয়ান স্মিথ। ১৯৭০ সালে রোডেশিয়াকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের থেকে রোডেশিয়া স্বাধীনতা চায়নি। বরং তাদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়া হয়।’

 

বিশ্বের ত্রুটিমুক্ত সবচেয়ে গতিশীল বিমান কনকর্ম প্রথম আকাশে উড়েছিল। ১৯৬৯ সালের ২ মার্চ সুপারসনিক সেই বিমানটি প্রথমবার চালিয়ে পরীক্ষা করা হয়, যা ২৭ মিনিট শূন্যে ভেসেছিল। অ্যাংলো-ফরাসি নির্মিত এই বিমানের গতি শব্দের গতির প্রায় দ্বিগুণ মানে প্রতি ঘণ্টায় গতি ছিলো ২১৮০ কিলোমিটার।

নেপোলিয়ান বোনাপোর্টকে ১৭৯৬ সালে ইতালিতে থাকা ফরাসি সেনাবাহিনীর কমান্ড-ইন-চিফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ফ্রান্স থেকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে মরোক্কো

প্যারিসে সাক্ষর করা শান্তিচুক্তি অমান্য করে মরক্কো ফ্রান্স থেকে নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা করে ২ মার্চ ১৯৫৬।

দিন যায়, বছর গত হয়। তবে তারিখগুলো বার বার আসে, তার  ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো স্মরণ করাতে। 

;

২ মার্চ: জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম পতাকা উত্তোলন

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম পতাকা উত্তোলন

  • Font increase
  • Font Decrease

পতাকা একটি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক। বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার পরিচয়। প্রতিটি স্বাধীন দেশের একটি করে জাতীয় পতাকা থাকে। সেই দেশের মানুষ, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পতাকা। সোনার বাংলার প্রকৃতি ফুটে উঠেছে লাল-সবুজ রঙের পাতাকায়। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর অর্জিত স্বাধীন দেশের রক্তিম সূর্য সবুজ প্রকৃতির মাঝে উদিত হয়েছে পতাকার লাল বৃত্তের মাধ্যমে। তার সঙ্গে সুজলা-সুফলা বাংলার মাটিতে ফলা সবুজ প্রকাশ করে চির-নবীন বাংলা। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় ১৯৭১ সালের ২ মার্চ।     

প্রথম পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে স্মরণ করে ২ মার্চ বাঙালিরা ‘জাতীয় পতাকা দিবস’ উদযাপন করেন। দিনটিকে 'পতাকা উত্তোলন দিবস'ও বলা হয়ে থাকে। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের কথা সগৌরবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ার কারণে বাঙালিরা আন্দোলনে নামে। শান্তিপ্রিয় বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্পৃহায় হয়ে ওঠে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো দৃঢ়।

নিজেদের সেই চেতনা ফুটিয়ে তুলতে এবং সমগ্র বাঙালি জাতিকে জাগ্রত করতে তরুণ ছাত্রনেতারা সিদ্ধান্ত নেন, নিজেদের পরিচয় হিসেবে পতাকা উত্তোলনের। ২ মার্চের পতাকা আমাদের মুক্তির প্রতীক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের লড়াই শুরুর দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে পরাধীন পাকিস্তানের শাসনামলে।

স্বাধীন বাংলার পতাকা

১৯৭১ সালের ২ মার্চ সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় সমাবেত হন ছাত্র নেতারা। সবার দৃষ্টিগোচর করার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেখানে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলাভবনের দক্ষিণ-পশ্চিমের গাড়ি বারান্দা থেকে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ডাকসু‘র তৎকালীন সভাপতি আ.স.ম. আবদুর রব। এছাড়াও ডাকসু’র তখনকার জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ প্রধান নূর-এ-আলম সিদ্দিকী এবং ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজসহ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যান্য নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।  

পতাকাটি তৈরি করেছিলেন প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বুয়েট)-এর ছাত্ররা। বঙ্গবন্ধুকে জানিয়ে ১৯৭০ সাল থেকেই এই পতাকা বানানোর কাজ শুরু হয়েছিল। সিরাজুল আলম খান, কাজী আরেফ আহমেদ, শিবনারায়ণ দাসসহ আরো কিছু ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। তাদের নেতৃত্বেই পতাকা তৈরি এবং উত্তোলনের সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়। (বিবিসি বাংলার তথ্যমতে)   

মুক্তিযদ্ধের আগেই উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা
 

মূল পতাকার রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেই দলের অন্যতম সদস্য শিব নারায়ণকে। ৬ জুন রাতে বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (তৎকালীন ইকবাল হল) ১১৬ নম্বর কক্ষে শিবনারায়ণ দাসসহ অন্যান্যরা পতাকার ডিজাইন করার উদ্দেশ্যে বসেন। তথ্যমতে, ২২ জন সদস্যের সেই দল রাত ১১টার পর এই নকশার কাজ শেষ করেন।    

২ মার্চ পতাকা উত্তোলনের পর থেকে স্বাধীনচেতা বাঙালিদের কাছে প্রায়ই দেখা যেতো পতাকা। বিভিন্ন আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরোটা সময় বাঙালির মুক্তিলাভের অনুপ্রেরণা হয়েছিল স্বাধীন বাংলার পতাকা। বাঙালিদের রুখতে বরাবরই মরিয়া হয়ে ছিল পাকিস্তান সরকার। ১৯৫২ সালে শহীদ মিনার ভাঙা বা বাংলা নববর্ষে আলপনা আঁকায় বিধিনিষেধ থেকে শুরু করে, বাংলার ঐতিহ্য রক্ষাকারী এবং স্বাধীনতা প্রত্যাশী বাঙালির সব পদক্ষেপেই বাধা দিয়েছে পাকিস্তানি সরকার। সেই দাসত্ব থেকে মুক্তি পায়নি জাতীয় পতাকাও।

২৩ মার্চ, ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু প্রথমবার নিজ হাতে পতাকা উত্তোলন করেন

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা ভবনে হামলা চালানো হয়। 'অপারেশন সার্চলাইট' বাস্তবায়ন এবং গ্রেফতার হওয়ার দু’দিন আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজহাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ।   

এরপর ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আচমকা হামলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। জাতীয় পতাকা বুকে নিয়ে লাখ রাখ বাঙালি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে স্বীকৃতি পায়।   

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকার শিল্পী কামরুল হাসানকে পতাকার নকশা সংস্করণের কাজ দেন। পতাকার মানচিত্র বাদ দিয়ে সূক্ষ্ম এবং সঠিক মাপসহ নকশা  করেন কামরুল হাসান। সবুজ জমিনে টকটকে লাল রক্তিম সূর্য রাঙা পতাকা সেই বছরের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। অর্ধশতাধিক বছর ধরে বাঙালির ত্যাগ, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বয়ে চলেছে আমাদের এই- জাতীয় পতাকা।

;

সজনে ফুলের শুভ্রতায় বসন্তের প্রতিচ্ছবি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শ্বেতশুভ্র পাপড়ির মাঝে যেন গ্রামীণ নববধূর মূল্যবান অলংকারের মতো স্বর্ণালি মহামূল্যবান শোভা বিস্তার করে সজনে ফুল। এই ফুলের অপার সৌন্দর্য ও মাদকতায় মুগ্ধ হলেও, বাংলা সাহিত্যে এর উপস্থিতি বিরল। তবে, প্রকৃতির কবি হিসেবে পরিচিত জীবনানন্দ দাশের কলমে এই ফুলের সৌন্দর্য অমরত্ব পেয়েছে।

সজনে ফুল শুধু গ্রামীণ বাংলার সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এর মধ্যে নিহিত আছে বাঙালির জীবনধারা ও পুষ্টির এক অনন্য মাত্রা। যেখানে আধুনিক নগরায়ণের ব্যস্ততায় এই ফুলের মোহ অনেকটাই অবহেলিত হয়ে পড়েছে, সেখানে জীবনানন্দ দাশের কবিতা ‘বাতাসে ধানের শব্দ শুনিয়াছি’ এই ফুলের প্রতি এক অনন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। তিনি লিখেছেন, ‘…আনারস বন; ঘাস আমি দেখিয়াছি; দেখেছি সজনে ফুল চুপে চুপে পড়িতেছে ঝরে’। এই লাইনগুলো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে সজনে ফুলের বিশেষ স্থান তুলে ধরে।

ফুলে ফুলে ভরে গেছে সজনে গাছ

সজনে ফুলের মোহনীয় সৌরভ ও সৌন্দর্য যেমন কবিদের কলমে বিরল, তেমনি এর মূল্যবান উপাদান কৃষিতে এবং পুষ্টি বিজ্ঞানে গুরুত্ব পায়। এর প্রতি আকর্ষণ শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত গুণাবলি মানুষের জীবনে অপরিসীম উপকার বয়ে আনে।

জীবনানন্দ দাশের কবিতার মাধ্যমে সজনে ফুলের প্রতি আমাদের আকর্ষণ ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। তার কবিতা প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের প্রতি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং ভবিষ্যতের কবিদের জন্য এক অনুপ্রেরণা হতে পারে।

সজনে ফুল কেবল তার সৌন্দর্যের জন্য নয়, পুষ্টির জন্যও বিখ্যাত। এই ফুল ও গাছ দেশের পুষ্টি ও সৌন্দর্যের এক অপরিহার্য অনুসঙ্গ। তাই সজনে ফুলের এই মুগ্ধতা ও মায়াবী সৌন্দর্যের বন্দনায় আমাদের আরও বেশি করে মনোনিবেশ করা উচিত। একদিন হয়তো আমাদের কবি ও সাহিত্যিকরা এই ফুলের মুগ্ধতা ও সৌন্দর্যের বন্দনায় নতুন কবিতার মালা গাঁথবেন।

বসন্তের শুরুতেই রাজশাহী নগরীর সজনে গাছে-গাছে ফুলে-ফুলে ভরে গেছে। থোকায়-থোকায় ঝুলছে শত-শত, লাখ-কোটি ফুল। গাছে-গাছে ফুলের পরিমাণ এতটাই বেশি যে গাছের পাতা পর্যন্ত দেখার উপায় নেই। অনেক গাছ ফুলের ভারে নুয়ে পড়েছে। কোনো কোনো গাছের ডাল ফুলের ভারে ভেঙেও পড়েছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত ফুলের ভারে যেন গাছটিই না পড়ে যায়; এ শঙ্কায় কিছু ডাল ছেঁটে দিয়েছেন। কেউ দিয়েছেন বাঁশের ঠেকা (সাপোর্ট)।

আর এ অতিভারে বিপর্যস্ত গাছের ফুলে ফুলে যেন আর্শীবাদ হয়ে ভ্রমরের আগমন। সঙ্গে উপকারী অন্য পোকারাও রয়েছে। ভ্রমর ও মৌমাছি সংগ্রহ করছে মধু। তাদের যখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ততা, তখন পরাগায়ণ করে ফুল থেকে পরিপূর্ণ সজনে ডাটায় পরিণত হওয়ার সংগ্রাম চলছে ফুলেদের মাঝে। কারণ প্রতি মুহূর্তেই ঝরছে ফুল। ঝরেপড়া এ ফুলগুলোর মূল্যহীন গন্তব্য। অপরদিকে, টিকে থেকে যে ফুলগুলো আনবে ফল; দিনশেষে তা আনবে চাষীর মনে তুষ্টি। কারণ ফুল নিয়ে সৌন্দর্য পিপাসু, বিশেষজ্ঞ ও কবির আগ্রহ থাকলেও, চাষীর আগ্রহ ফল ও পাতা।

ফুলের ভারে নুয়িয়ে পড়েছে গাছের ডাল

সজনে ফুল গবেষকদের কাছে মহামূল্যবান। এটি নিয়ে দেশীয় পর্যায়ে গবেষণা চলমান। কৃষি খাতের অপ্রচলিত সবজি নিয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলমান। গবেষণার প্রথম পর্যায়ে সজনে পাতা ও বীজ নিয়ে বিস্ময়কর সফলতা এসেছে। এখন অপেক্ষা ফুল নিয়ে। গবেষকরা সজনে পাতাকে 'নিউট্রিশন্স সুপার ফুড' এবং সজিনা গাছকে 'মিরাকেল ট্রি' হিসেবে উল্লেখ করছেন।

রাজশাহীতে কয়েক দশকে সজনে আবাদ বেড়েছে। রাস্তার পাশে সজনের সাদা ফুল পথচারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করছে। নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকায় রাস্তার পাশে সারি সারি বেশকিছু সজনে গাছের সৌন্দর্য যাত্রী ও পথচারীদের চোখ এড়াতে পারছে না। এখানকার প্রতিটি গাছ ফুলের ভারে নুয়ে পড়েছে।

এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন মো. ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, "শহরের মধ্যে এতো ফুলসহ সজিনা গাছ অন্য কোথাও দেখি নি। গত বছরও প্রচুর ফুল ছিলো। এবার আরও বেশি ফুল। নব-নির্মিত রাস্তার পাশে এই সৌন্দর্য আরও চমৎকার হয়ে উঠেছে।

;

গদখালী যেন এক ফুলের স্বর্গ উদ্যান!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি : নূর এ আলম

ছবি : নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে যশোরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। যশোর জেলা থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কি.মি. আগালেই গদখালী ফুলের বাজার।

ছবি : নূর এ আলম

দেখে মনে হবে সৃষ্টিকর্তা যেন নিজ হাতে তৈরি করে দিয়েছেন ফুলের এক স্বর্গ রাজ্য। কাকডাকা ভোরে সাইকেল, ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে ফুল চাষিরা ফুল নিয়ে আসেন গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজারে।


 সূর্যের আলো ফোটার আগেই রাস্তার দু'পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে পড়েন ফুল বিক্রেতারা। শুরু হয় ফুল বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

আর এই বাজারের মূল ক্রেতা দূরদূরান্ত থেকে আসা ফুলের ব্যাপারীরা। তারা এখান থেকে স্বল্প দামে ফুল কিনে নিয়ে পরে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হয় বিদেশেও। 


গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিক্রি হয় বাহারি সব ফুল। ফুল চাষিরা যে বাহনে করে ফুল আনেন সেটাতে বসেই চলে বেচা-বিক্রি।

ছবি : নূর এ আলম

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাজারে ফুল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো দিবস বা বিশেষ দিন এলেই দিনে প্রায় কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেন গদখালীর ফুল চাষি ও বিক্রেতারা।

ছবি : নূর এ আলম

ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয় বাজারে আসা ফুলগুলো। দেশের ফুলের মোট চাহিদার একটা বড় অংশের জোগান দিয়ে থাকেন ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার এই ফুলচাষিরা।


এখানে আছে ফুলের সুঘ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসা চিরন্তন সুন্দরের বার্তা। প্রায় সব ধরনের ফুলের দেখা মিলবে এই ফুলের রাজ্যে।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০% ফুলের জোগান আসে যশোরের গদখালি থেকে। এখন গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ অথবা বিক্রি পেশার সাথে জড়িত।

ছবি : নূর এ আলম

ফুলের বাগানগুলোতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেকটি পরিবার।

ছবি : নূর এ আলম

দেশের এই বৃহত্তম ফুলের রাজ্য ঘুরে আসলে আপনার মন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।

;