কৈশোরে মায়ের জ্ঞাতসারেই ধর্ষিত হন ডেমি মুর

জাভেদ পীরজাদা, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
ডেমি মুর

ডেমি মুর

  • Font increase
  • Font Decrease

হলিউডের অভিনেত্রী ডেমি মুর। নামেই বিখ্যাত সারা দুনিয়ায়। ডেমি মুরের প্রথম ছবি মুক্তি পায় ১৯৮২ সালে। নাম প্যারাসাইট। ড্রাইভ-ইন গোষ্ঠীতে ছবিটি জনপ্রিয় হয় এবং মোট ৭ মিলিয়ন ডলার লাভ করে। তবে মুর বিপুল পরিচিতি পান ১৯৮২-১৯৮৩ সালের এবিসি সোপ অপেরা ‘জেনেরাল হসপিটাল’-এ জ্যাকি টেম্পেলটনের চরিত্রে অভিনয় করে। ১৯৮২ সালে ‘ইয়াং ডক্টরস ইন লাভ’ নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক (স্পুফ) ছবির শেষের দিকে মুর একটি অস্বীকৃত ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন।

তার পেশাদারী নাম ডেমি মুর (জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৯৬২)। একজন সুপ্রতিষ্ঠিত আমেরিকান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। মুর তার প্রথম স্বামী ফ্রেডি মুরের কাছ থেকে নিজের পেশাদারী নামটি গ্রহণ করেন। পরে তিনি ব্রুস উইলিসকে বিয়ে করেন এবং তাদের তিনটি কন্যাসন্তান আছে। ২০০৫ সাল থেকে ডেমি মুর অ্যাস্টন কুচারের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন এবং পরে ২০০৯ সালে তিনি তৃতীয় বিয়ে করেন।

মুরের প্রথম জীবনের নাম দেমেত্রিয়া জিনি গাইনেস। তার জন্ম হয় নিউ মেক্সিকোর রজওয়েলে; একটি পত্রিকায় এক সৌন্দর্য পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে তার মা তার নাম দেমেত্রিয়া রাখেন। শৈশবে তার বাড়ির পরিবেশ ছিল খুবই কঠিন ও টালমাটাল। তার আসল পিতা চার্লস হার্মন বিয়ের দু মাসের মধ্যে ও মুরের জন্মের আগেই মুরের মা ভার্জিনিয়া কিং-কে ছেড়ে চলে যান। ফলে মুরের জন্ম পরিচয়পত্র বা বার্থ সার্টিফিকেটে মুরের সৎপিতা ড্যানি গাইনেসের নাম রয়েছে। ড্যানি গাইনেস ১৯৮০ সালে আত্মহত্যা করেন। তিনি বারবার চাকরি বদল করতেন। এর ফলে তার পরিবারকে মোট চল্লিশবার স্থান পরিবর্তন করতে হয় এবং এর মধ্যে একবার তারা পেন্সিলভানিয়ার রজার্স ম্যানর বলে একটি ছোট শহরে বসবাস করেন। মুরের সৎবাবা মা দুজনেই ছিলেন মদ্যপ এবং তারা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে সঙ্গে ঝগড়াঝাটি, মারামারি করতেন। শৈশবে মুর ছিলেন ট্যারা এবং সেটি ঠিক করার জন্য একটি আই প্যাচ পরতেন। পরে সমস্যাটি দুটো শল্যচিকিৎসার পর ঠিক হয়। কিডনি বা মূত্রাশয়ের সমস্যাতেও ভুগতেন তিনি। ডেমি মুরের হেটেরোক্রমিয়া রয়েছে, অর্থাৎ তার একটি চোখের মনি সবুজ বর্ণের, অন্যটি হ্যাজেল (বাদামি ও সবুজের মিশ্রণ)।

আত্মজীবনীগ্রন্থ হাতে ডেমি মুর


 

সম্প্রতি তার স্মৃতিকথা (Memoir) ‘ইনসাইড আউট’-এ তার জীবনের অনেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই স্মৃতিকথা থেকে জানা যাচ্ছে, অভিনেত্রীর বয়স যখন ১৫, তখন তাঁকে ধর্ষণ করেছিল এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি ছিলেন তার মায়ের পরিচিত। তিনি জানান, একদিন বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন তাদের অ্যাপার্টমেন্টে এক বয়স্ক মানুষ তার অপেক্ষায় রয়েছেন। অ্যাপার্টমেন্টের চাবি খুলে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি। ইউএস টিভির টিভি শো ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ থেকে এমনটা জানা যাচ্ছে।

ডেমি মুর জানিয়েছেন, ওই লোকটি তাকে জানান, তার মা ৫০০ ডলারের বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই টিভি শো-তে বইটির বিভিন্ন অংশ পড়েও শোনানো হয়। ডেমি মুর বইতে ওই ঘটনার প্রসঙ্গে লিখেছেন, “ওটা ছিল ধর্ষণ। এবং এক ভয়ঙ্কর বিশ্বাসঘাতকতা। ওই মানুষটির প্রশ্নেই প্রকাশ পেয়েছিল সেকথা।” নিজের মায়ের দ্বারা ৫০০ ডলারে বিক্রি হয়ে গণিকায় পরিণত হতে কেমন লাগছে? সত্যিই কি মা তার মেয়েকে এমন চরম দুর্গতির দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন? ডেমি মুরকে এই প্রশ্ন করেন শো-এর সঞ্চালক ডায়ান সয়্যার। ৫৬ বছরের অভিনেত্রী বলেন, তিনি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে মনে করেন এমন সোজাসুজি কোনো লেনদেন হয়নি। কিন্তু তার মা-ই যে ওই লোকটিকে অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার সুযোগ করে মেয়েকে ভয়াবহ বিপদে ফেলেছিলেন, তা জানান ডেমি মুর। ওই স্মৃতিকথায় ডেমি মুর জানিয়েছেন, কিভাবে অ্যালকোহলের আসক্তি ও মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়তে হয়েছিল তাকে। তিনি জানান, তার বয়স যখন ১২, তখন তার মা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ওই মুহূর্তকে জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত বলে মনে করেন তিনি। তিনি এও বলেন, যেদিন তিনি জানতে পারেন যে মানুষটিকে তিনি বাবা বলে জানেন, তিনি আদৌ তার জন্মদাতা নন, তখন তিনি নিজেকে বলেছিলেন, তাকে মোটেই চাওয়া হয়নি। হাইস্কুল থেকে বেরিয়ে আসতে হয় তাকে। মায়ের বাড়ি ছেড়ে অভিনয়ের পথে বাড়ানো কিশোরী বয়সেই। তিনি এও জানান তিনি কোকেন ও অন্য ড্রাগ নিতেন। এর আগে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ডেমি মুর ওই স্মৃতিকথায় জানিয়েছেন, অ্যাস্টন কুচেরের সঙ্গে ডেট করার সময় তার গর্ভপাতও হয়েছিল। বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন তার মা ও তিন কন্যাকে।

আপনার মতামত লিখুন :