কোভিড-১৯ পরবর্তী পৃথিবী



মূল: আন্দ্রে হফম্যান, ভাষান্তর: তোফায়েল আহমেদ
আন্দ্রে হফম্যান, ছবি: সংগৃহীত

আন্দ্রে হফম্যান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রকৃতি ধ্বংসের ফলেই যে মানবজাতি ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পড়ছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সামান্যই মতভেদ রয়েছে। যেমন কোভিড-১৯, যা পৃথিবীজুড়ে ইতোমধ্যে লাখ লাখ মানুষকে অসুস্থ করার পাশাপাশি অগণিত মানুষের প্রাণহানির কারণ হচ্ছে।

এই মহামারি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করবে। কারণ পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি জিডিপি কোনো না কোনোভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কোভিড-১৯ মহামারি কি সবাইকে এ সম্পর্কে জাগ্রত করবে? বা এর ফলে মানুষের সচেতনতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কি বর্তমান ব্যবস্থাকে পাল্টানো যাবে?

কিছু সংখ্যক রাজনীতিক বলছেন, এই মহামারি এই সময়ে ভাবনার মধ্যে ছিল না। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিন দিন জোনোটিক রোগের যে বিস্তার হচ্ছিল (ক্ষুদ্র অনুজীব দ্বারা সংগঠিত রোগ যা প্রাণীর দেহ থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে) তার ফলাফল হিসেবে এ মহামারি অপরিহার্য ছিল।

এই প্রবাহ মানবসৃষ্ট কাজের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রকৃতির সহ্যক্ষমতা থেকে অধিক চাষাবাদ, বনধ্বংস থেকে শুরু করে মাইনিং, পশু নিধন এসব ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, যাকে আমরা “স্বাভাবিক ব্যবসায়ীক কাজকর্ম” দাবি করছি। ফলাফল হিসেবে জীবজন্তুর সাথে আমাদের মিথস্ক্রিয়া সর্বচ্চো পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরিণতি হিসেবে রোগব্যাধি বিস্তারের আদর্শ ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ইবোলা, এইডস, সেবিয়ের একুইট রেসপেটরি সিনড্রোম বা সার্স এবং মিডল ইস্ট রেসপেটরি সিনড্রোম বা মার্স, সবগুলো রোগই সবাইকে আগাম সতর্কবানী দিয়েছে যাতে বিশ্ব কর্ণপাত করেনি।

কিন্তু কোভিড-১৯ অন্য যে কোনো মহামারি বা ব্যাধি থেকে ভিন্ন হতে পারে। পরিশেষে এটা অন্য যে কোনো সময়ের মহামারি থেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার করল যে কীভাবে প্রাণপ্রকৃতির ভালো থাকার সাথে মানবজাতির সুস্থতা ও উন্নতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিবেশ সংরক্ষণ অর্থনীতিতে ধ্বংস নামাবে এই দাবি শুধু অদূরদর্শিতাই নয় বরং তা হিতেও বিপরীত। বরং পরিবেশগত ধ্বংসের ফলেই আজ বিশ্ব অর্থনীতি থমকে গেছে।

অধিকন্তু, সাম্প্রতিক কালের অন্য যে কোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে কোভিড-১৯ এ রাষ্ট্রগুলো নজিরবিহীন এবং ব্যাপকভাবে বৈশ্বিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ও কৌশলপত্র প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। রাষ্ট্রগুলোর এসব পদক্ষেপ পরিবেশ রক্ষা ও পুনরায় সংরক্ষণের এক সুবর্ণ সুযোগ হাজির করেছে। এসব পুনরুদ্ধার কার্যক্রম দু’টি বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত। প্রথমত. ভর্তুকিই একমাত্র সমাধান নয়, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিবেশগত আইন আরও দৃঢ়তর করতে হবে। দ্বিতীয়ত. সরকারি ব্যয় এমনভাবে করা উচিত, যাতে সামাজিক স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়। এর অর্থ হলো সবুজ কলকারখানাগুলোতে বিনিয়োগ করা, বিশেষ করে ওইসব কাজে যা আমাদের টেকসই অর্থনীতির (circular economy) দিকে নিয়ে যাবে।

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং নোবেল লরিয়েট জোসেফ স্টিগলিজ ও নিকোলাস স্টার্ন তাদের গবেষণায় পেয়েছেন, ‘‘সবুজ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ’’ প্রথাগত অর্থনৈতিক উদ্দীপকের (stimulus) চেয়ে উচ্চ হারে লাভ, সাময়িক চাকরির নিশ্চয়তা এবং ভালোমানের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় কমিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি অবকাঠামো তৈরি, বিশেষ করে শ্রমনিগূঢ় কার্যক্রম জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের চাইতে প্রতি ডলারে দ্বিগুণ পরিমাণে চাকরির সংস্থান করে।

অন্যান্য অগ্রাধিকারের মধ্যে ‘প্রাকৃতিক পুজি’তে বিনিয়োগের মধ্যে বৃহৎ পরিসরে বাস্তুচক্রের পুনরুদ্ধারও অন্তর্ভুক্ত। এসব কার্যক্রম অনেক মূল্যবান সুবিধা তৈরি করবে, যেমন জৈবচক্রের শক্তিশালীকরণ থেকে শুরু করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ যা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বনডাইঅক্সাইড অপসারণে সহায়তা করবে। এসব প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে প্রকৃতি ও জলবায়ুকে সংকটে ফেলে এমন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি ও ঋণপ্রদানকারী ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

কিছু সংখ্যক আইন প্রণেতা এর প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা বা আইএমএফ সবুজ পুনরুদ্ধার কীভাবে করা যায়, সে সম্পর্কিত বৃহৎ পরিসরে নির্দেশনা দিয়েছে। একই সাথে আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিনা জর্জিয়েভা কর্পোরেট বেইলআউটে যাতে পরিবেশগত শর্ত জুড়ে দেয়া হয় সেজন্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। অধিকন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোভিড-১৯ এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সবুজ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা আঁকছে, যা ইতোমধ্যে নেওয়া ‘ইউরোপীয় গ্রিন ডিল’ এর সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য জীববৈচিত্র্যের পুনঃসংরক্ষণ এবং শূন্য কার্বন অর্থনীতির দিকে নিজেদের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা।

ইউরোপের রাজনীতিবিদ, কোম্পানি, ট্রেড ইউনিয়ন, প্রচারণা গ্রুপ, থিংক ট্যাংকের ১৮০ জন সদস্য এর সদস্য দেশগুলোকে চিঠি দিয়ে সবুজ উদ্দীপক কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বৈশ্বিক টেকসই পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বহুসংখ্যক রাষ্ট্রকে নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদকে পরিবেশ ধ্বংসকারক কলকারখানা ও কার্যক্রমে কাজে লাগিয়ে এখনো পর্যন্ত অনেক সরকারই এর বিপরীতে কাজ করছে।

উদাহরণ হিসেবে স্টিগলিজ এবং স্টার্ন দেখিয়েছেন- নিঃশর্ত বিমান বেইলআউট অর্থনীতির গতিশীলতা এবং জলবায়ুর স্বাভাবিক ছন্দে সবচেয়ে খারাপ প্রভাব ফেলে। এবং এখনো পর্যন্ত বিলিয়ন ডলার কোনো শর্তারোপ ছাড়াই সরকারি বিমান কোম্পানিগুলোকে দেয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক গ্রিন স্টিমুলাস ইনডেক্স এর রিপোর্ট অনুসারে এসব উদ্দীপকের তৃতিয়াংশেরও বেশি যে বৃহৎ ১৬ অর্থনীতির দেশে ব্যয় করা হয়েছে, তা সম্ভবত বিরূপভাবে পরিবেশের ক্ষতি করবে।

ক্রমবর্ধমানভাবে এই কর্মপন্থার পক্ষে সাফাই গাওয়া কঠিন এবং এটা যাতে ভুলে না যাই যে এই মহামারির কিছুদিন আগেও বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন দাবানল ও বন্যার প্রকোপ ছিল। যেহেতু দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, তাই এসব রোগব্যাধির জন্য দায়ী যেসব কারণ, তা প্রায়ই ঘটবে এবং তা আরও তীব্রতর হবে। রাজনৈতিক এবং কায়েমি স্বার্থবাদীরা হয়ত সামনের এসব চ্যালেঞ্জ থেকে মনোযোগ সরাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু এটা ভবিষ্যৎ কোনো সংকটের সমাধান করবে না এবং একই সাথে এটি অবশ্যই তাদের কোভিড-১৯ এর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষাও করতে দেবে না। অন্যদিকে, প্রথাগত ব্যবসায়ীক কার্যক্রমে প্রত্যাবর্তনও এসব মহামারির আগমনকে ত্বরান্বিত করবে।

এক সংকট থেকে অন্য সংকটে পতিত হওয়ার চেয়ে আমাদের অবশ্যই স্থিতিমাপক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

পরিশেষে, কোভিড-১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার এটাই সুবর্ণ সুযোগ।

অনুবাদক তোফায়েল আহমেদ

তোফায়েল আহমেদ: স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

মূল: আন্দ্রে হফম্যান, সুইস ধনকুবের।

   

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;

কী ছিল টাইটানিকের সকাল-বিকাল-রাতের খাবারের তালিকায়?



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ থেকে প্রায় ১১২ বছর আগে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ টাইটানিক। বিলাসবহুল ওই প্রমোদতরী নিয়ে এখনো আগ্রহের কমতি নেই মানুষের মধ্যে। এতো সময় পরও এখনো টাইটানিক সম্পর্কে অনেক কিছুই মানুষের অজানা। তবে এবার বের হয়েছে এক নতুন তথ্য।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টাইটানিক জাহাজের প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের খাবারের তালিকা।

এক্স হ্যান্ডলে ফ্যাসিনেটিং নামের একটি পেজে প্রকৃত মেনুকার্ডের দুই পাশের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেই সূত্র ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যমটি।

ওই ছবিতে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মেনু দেওয়া ছিল।

প্রথম শ্রেণির মেনুকার্ডের শিরোনাম ছিল ‘আরএমএস টাইটানিক’। তারিখ ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। প্রথম শ্রেণির খাবারের তালিকায় কনসোমে ফার্মিয়ার, ফিলিটস অব ব্রিল, চিকেন আ লা ম্যারিল্যান্ড, লবণে জারিত গরুর মাংস, ককি লিকি সবজি ও ডাম্পলিং ছিল।

‘ফ্রম দ্য গ্রিল’ ক্যাটাগরিতে ছিল গ্রিলড মাটন চপ, ম্যাসড, ফ্রায়েড এবং বেকড জ্যাকেট পটেটোজ, কাস্টার্ড পুডিং, আপেল মেরিঙ্গু ও প্যাস্ট্রি।

বুফেতে স্যামন মেয়োনিজ, পটেড চিংড়ি, নরওয়েজিয়ান অ্যাঙ্কোভিস সসড হেরিংস, প্লেইন এবং স্মোকড সার্ডিনস, রোস্ট গরুর মাংস, মসলাযুক্ত গরুর মাংসসহ ছিল নানা পদ।

তৃতীয় শ্রেণির সকালের নাশতার মেনুতে ছিল ওটমিল পোরিজ ও দুধ, স্মোকড হেরিংস, জ্যাকেট আলু, হ্যাম ও ডিম, গরম–গরম রুটি ও মাখন, মার্মালেদ, সুইডিশ রুটি, চা ও কফি। রাতের খাবারে ছিল চালের স্যুপ, রুটি, ব্রাউন গ্রেভি, কেবিন বিস্কুট, মিষ্টি ভুট্টা, সেদ্ধ আলু, পাম পুডিং, মিষ্টি সস ও ফল।

ছবি দুটি দিয়ে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগের দিন। ১৪ এপ্রিল, ১৯১২। টাইটানিক ১ম শ্রেণীর খাবারের তালিকা বনাম ৩য় শ্রেণির খাবারের তালিকা।

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে অনেকেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেছেন। 

একজন লিখেছেন, তৃতীয় শ্রেণীর মেনু আমার কাছে ভাল লেগেছে।

অন্য একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, লক্ষ্য করেছেন ৩য় শ্রেণির মেনুতে রাতের খাবারের জন্য গ্রুয়েল (দুধ অথবা পানিতে ফোটানো তৈরি তরল খাবার) অফার করা হয়। এটা সবার কাছে ভালো খাবার নাও হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯১২ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে এক বরফ খণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাহাজটি। তখন জাহাজটিতে থাকা প্রায় এক হাজার ৫০০ যাত্রী মারা যায়।

;

ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দ যুদ্ধ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা/ছবি: নূর এ আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের বাড়ি যাওয়ার এই দৃশ্য চিরচেনা। বাড়ি ফেরা নয়, যেনো এক যুদ্ধে। ভোগান্তির পরও এই যুদ্ধ যেনো আনন্দের ঘরমুখো মানুষের কাছে। যে করে হোক প্রিয়জনের কাছে যেতে ট্রেনে উঠতেই হবে। শুক্রবার (৫ এপ্রিল) ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার ২য় দিন। এদিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিটি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। তবে ঘরমুখোর মানুষের প্রচণ্ড চাপ ছিল। 

ঈদে বাড়ি যাচ্ছে মা, বাবার ছুটি আরও পড়ে। তাই তো বাবার কোল ছাড়তেই দিল কান্না জুড়ে/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুটিও ফিরছেন গ্রামে/ছবি: নূর এ আলম


 

প্ল্যাটফর্মের বাইরে এভাবে ট্রেনে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও উঠছেন এই নারী/ ছবি: নূর এ আলম


 

গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে একটি পরিবার/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে উঠতে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়/ছবি: নূর এ আলম


 

গরম থেকে বাঁচতে ছোট্ট ব্যাটারিচালিত পাখা সঙ্গে নিয়েছে শিশুটি/ছবি: নূর এ আলম


 

হাজারো যাত্রী ছাড়ছেন ঢাকা গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে/ছবি: নূর এ আলম


 

ট্রেনে ওঠার যুদ্ধ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার কাছে কোনো বাধাই বাধা নয়/ছবি: নূর এ আলম


 

টিকিট চেক করে তবেই যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে/ছবি: নূর এ আলম


 

ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ করতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও বেশ তৎপর/ছবি: নূর এ আলম


 

;