করোনার থাবায় কর্মক্ষম মানুষ!



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
করোনার থাবায় কর্মক্ষম মানুষ/ছবি: সংগৃহীত

করোনার থাবায় কর্মক্ষম মানুষ/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস নিয়ে বিভিন্ন তথ্য-পরিসংখ্যান প্রতিদিনই দেশবিদেশে প্রকাশ পাচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার পাশাপাশি জানা যাচ্ছে সুস্থ হওয়া মানুষদের সংখ্যাও। এসবের বাইরে অঞ্চল, শ্রেণি, বয়স, লিঙ্গ ভেদে করোনার গতি-প্রকৃতি শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে তথ্য-পরিসংখ্যানের মাধ্যমে।

প্রথম দিকে প্রাপ্ত পূর্বাভাসে করোনায় শিশু ও বৃদ্ধরা অধিকতর আক্রান্তের ঝুঁকিপূর্ণ, এমন একটি কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বে কর্মক্ষম জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশই করোনায় কো-মর্বিডিটির শিকার। এই তথ্যে করোনার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরো জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম জনসংখ্যা অধিক। কর্মক্ষম জনশক্তি বলতে ধরা হয় ২৫ থেকে ৬৫ বছরের বয়সসীমার মানুষদের, যা উৎপাদনশীলতা নিরিখে ইতিবাচক, যারা রয়েছেন করোনার ঝুঁকিতে।

ভয়ের বিষয় হলো, এই কর্মক্ষম মানুষেরা করোনার থাবার বাইরে নেই। কারণ বিশ্বের নানা দেশে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলেতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা যে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, এমন বলা চলে না। সকল নাগরিকের মতো কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীও সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যার শিকার। করোনা তাদেরকে সুযোগ পেলেই আক্রান্ত করছে।

সর্বসাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনেকেই ত্রিশের কোঠা পার না হতেই অকালবার্ধক্যের শিকার হয়ে পড়েন। পেশা ও লাইফস্টাইলের কারণে বিভিন্ন অনিয়ম হেতু তাদের শরীরে বাসা বাঁধে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগের মতো নানা অসুখ।

আরেকটি মারাত্মক তথ্যও সবার নজরে এসেছে। তা হলো, কোভিডের কারণে ইউরোপ-আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় সেসব দেশে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের মৃত্যুহার প্রায় ২০ শতাংশ অধিক। কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকেই প্রাথমিক ভাবে দায়ী করা হয়েছে। দেখা গেছে, করোনাক্রান্ত শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় অশ্বেতাঙ্গদের গড় বয়স কম এবং তাদের অন্যান্য জটিল অসুখও কম। কিন্তু তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ অত্যধিক বা তারা কমবেশি ডায়াবেটিস আক্রান্ত।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যানুযায়ী, উত্তর গোলার্ধে বসবাসকারী প্রায় ৪০ শতাংশ দক্ষিণ এশীয়ই টাইপ-ওয়ান অথবা টাইপ-টু ডায়াবেটিসের শিকার। করোনার ন্যায় মহামারির ক্ষেত্রে এসব অসুখ মৃত্যুহার অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। করোনায় দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য অনুন্নত দেশেও মধ্যবয়সীদের অধিক মৃত্যুহার পরিলক্ষিত হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের সতর্কতামূলক পূর্বাভাস বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে।

ফলে করোনা প্রতিরোধের পটভূমিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে মনোযোগী হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী অনুযায়ী কর্মক্ষম মানুষদের নিয়মিত নজরদারিতে রেখে কো-মর্বিডিটির আশঙ্কা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।

অবশ্য এক্ষেত্রে বাস্তবতা বেশ বিরূপ। কারণ, করোনার তীব্র প্রকোপে সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিকাঠামোই রাতারাতি মহামারি প্রতিরোধ কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণ-আতঙ্কে বন্ধ বহু হাসপাতালের বহির্বিভাগ, চিকিৎসকের চেম্বার। গৃহবন্দি রোগীরাও রক্তচাপ, শর্করার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন না।

তদুপরি লকডাউন বা সামাজিক দূরত্বের কারণে অত্যাবশ্যক ওষুধের সরবরাহেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘ লকডাউনে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো প্রাত্যহিক খরচ বাঁচাতে রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের পরীক্ষা ও ওষুধ ক্রয় কমিয়ে দিতেও বাধ্য হচ্ছে। এমনই আত্মঘাতী পরিস্থিতিতে নীরব ঘাতক রূপে কিছু কিছু রোগ মানুষের শরীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা করোনায় আক্রান্তের ক্ষেত্রে অধিকতর বিপদের সম্মুখীন।

এসব মানুষের মধ্যে পেশাজীবী ও কর্মক্ষম মানুষই বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া বিশেষজ্ঞরা অল্পবয়সীদের মধ্যে ‘ক্রনিক মর্বিডিটি’-র অত্যধিক বৃদ্ধির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। এসব রোগ যে নিঃশব্দ ঘাতক, তা সবার জানা। জাতিসংঘের ইএসসিএপি-র গবেষণাপত্রেও তেমনই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। অথচ চলমান মহামারির সময় এসব বিষয়ে বাড়তি স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা গৃহীত হয়নি।

এ কথা সবার জানা, করোনার মধ্যে ক্রমে ক্রমে পেশাগত ও আর্থিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষম মানুষদের কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতেই হবে। তখন সংক্রমণের আশঙ্কাও তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে, মৃত্যুহার ও আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়বে, এমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ফলে করোনার বিরুদ্ধে চলমান অতি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য নীরবঘাতক রূপী রোগ, যথা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যার ব্যাপারে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরে-বসা চিকিৎসকদের পেশায় তৎপর করে সাধারণ ক্লিনিক-হাসপাতালের নৈমিত্তিক কাজ পুনরায় সচল করতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো বড় বড় শহর এবং মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে এসব নীরব ঘাতক নামে চিহ্নিত রোগের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এজন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ান না থাকলে নতুন নিয়োগের ব্যবস্থাও করতে হবে।

বাস্তবতা হলো এই যে, স্বাস্থ্যখাতের সবাই করোনাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উত্তেজিত বলে অপরাপর রোগের জন্য স্বাস্থ্যসেবার হাল নাজুক, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়ানক জটিল করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন করোনার মতোই অন্যান্য রোগে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষত কর্মক্ষম জনসংখ্যা সকল দেশের জন্যেই অমূল্য সম্পদ। তারা অধিকহারে আক্রান্ত হলে দেশের চালিকা শক্তির কাঠামো ভেঙে পড়বে। এতে যে আর্থিক-সামাজিক প্রভাব পড়বে, তা হবে অতি ভয়াবহ। ফলে এদেরকে অন্যান্য রোগের নিয়মিত চিকিৎসা সুযোগ দিয়ে সুস্থ-সবল এবং করোনার বিপদমুক্ত রাখাও বিদ্যমান স্বাস্থ্য-চিকিৎসা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বলে বিবেচনা করা কর্তব্য।

   

শহুরে হস্তশিল্প প্রেমীদের সৌখিনতার রাজ্য দোয়েল চত্বর

  ‘এসো হে বৈশাখ’



গুলশান জাহান সারিকা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
শহুরে হস্তশিল্প প্রেমীদের সৌখিনতার রাজ্য দোয়েল চত্বর

শহুরে হস্তশিল্প প্রেমীদের সৌখিনতার রাজ্য দোয়েল চত্বর

  • Font increase
  • Font Decrease

শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ হয়ে বাঙালির জীবনের সাথে মিশে আছে নানান হস্তশিল্প। আবহমান বাংলা ও বাঙালির জীবন বৈচিত্র্যের সাথে জড়িয়ে আছে কারুশিল্প, মৃৎশিল্প। এসব কুটির শিল্প শুধু সৌখিন হাতের কারুকাজই নয়, এগুলো যেন বাঙালির জীবনের গল্প বলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের বিপরীতে শিশু একাডেমির পাশে দোয়েল চত্বরে সারা বছরই চলে হস্তশিল্প মেলা। সারি সারি বাহারি কারুকাজের নানান হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। ছোট- বড় মাটির ফুলদানি, টব, ওয়ালমেট, কলমদানি, মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া, ব্যাংক, প্লেট, বাটি, গ্লাস, চামচ, সহ দেওয়াল ও ঘর সজ্জার জিনিস মেলে এখানে। সামনে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মাটির হাড়ি কলসিতে চড়ছে নতুন রঙ। 

দোকানগুলোতে দেখা যায় পুরোদস্তুর বাঙ্গালিয়ানার ছাপ। মাটির তৈরি হরেক রকম জিনিস, পোড়ামাটির টেরাকোটার কাজ, কাঠের খোঁদায় করা বিভিন্ন কারুকার্য। শহুরে হস্তশিল্প প্রেমীদের জন্য সৌখিনতার রাজ্য যেন রাজধানীর দোয়েল চত্বর এলাকা। মৃৎশিল্প, কারুশিল্প, বেত শিল্পের মেলবন্ধনে হস্তশিল্প প্রেমীরা তাই হারিয়ে যায় সৌখিনতার এ রাজ্যে।


দোয়েল চত্বরে মৃৎশিল্পের পাশাপাশি কাঠ, বেত, পাট, পিতল, ও কাঁসার তৈরি পণ্য গুলো ও আকর্ষণীয় করে ক্রেতাদের। কাঠের খোঁদায় করা গহনার বাক্স, টেবিল ল্যাম্প, ওয়ালম্যাট, পাটের তৈরি ব্যাগ, পুতুল শোপিস সহ কাঠের ও মাটির গহনা কিনতে দোয়েল চত্বর যান সৌখিন মানুষেরা। বাংলা নববর্ষে এসব পণ্যের চাহিদা বেশি হয়।

ঢাকা গেট থেকে শিশু একাডেমির পথে যেতে ফুটপাত জুড়ে ৪০ টির অধিক দোকান রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর আগে কয়েকটি দোকানে মাটির তৈরি নানা জিনিস দিয়ে বিক্রি শুরু হয় পরে তার সাথে যুক্ত হয় নানা হস্তশিল্পের বাহারি পন্য, চাহিদাও সময়ের  সাথে বাড়ে দোকানের সংখ্যাও। সাভার, পটুয়াখালী সহ নানা স্থানের কুমোরটুলি থেকে তারা এসব জিনিস নিয়ে এসে বিক্রি করেন। কুমোরটুলিতে চলে কুমোরের মাটির সাথে হাতের আর মনের খেলা। মাটির তাল বানিয়ে, চাক ঘুরিয়ে, হাতের আদলে তৈরি করে নানা রকম সৌখিন জিনিস। সেসব জিনিস স্থান পায় শহুরে বৈঠক খানার সৌন্দর্য বর্ধনে। আর শহরের মানুষ এসব জিনিস খুব সহজে পায় ঢাবির দোয়েল চত্বর এলাকায়।


প্রায় ২৫ বছর ধরে দোয়েল চত্বরে ব্যবসা করছেন গোলাম মৃৎশিল্পের স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম। তিনি বার্তা ২৪ কে বলেন, "অনেক বছর ধরেই এখানে ব্যাবসা করছি বছর পঁচিশেক হবে । দেশি-বিদেশি নানা পর্যটক সহ শহরের অনেক মানুষ আমাদের থেকে জিনিস নিয়ে যায়। শৌখিন মানুষ ঘর সাজাতে এদিক থেকে কিনে নিয়ে যায়। আমরা পটুয়াখালী থেকে মাটির জিনিস আনি। পহেলা বৈশাখের সময় এসব জিনিস বেশি বিক্রি হয়। তাছাড়া সারাবছরই চাহিদা থাকে। "

রেওয়ান হ্যান্ডি ক্রাফট থেকে শাহাদাত হোসেন জানান, " আমাদের এখানে বাঁশ, কাঠ বেত, পিতল, পাট ও মাটির সামগ্রী খুচরা, পাইকারি ভাবে বিক্রি হয়। ঘর সাজানোর জিনিসপত্র বেশি। মাটির ডিনারসেট, গহনা, পাটের ব্যাগও আছে। পহেলা বৈশাখ আসলে বিক্রি দিগুণ হয়। সাভার, পটুয়াখালী থেকে তৈরি জিনিস আসে এখানে আমরা আবার রংকরি, কাচ বসাই আরও সুন্দর করি, সারাবছর মাস প্রতি ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা বিক্রি হয় প্রায় প্রত্যেক টা দোকানে। পহেলা বৈশাখের সময় মাটির পাত্রের চাহিদা বাড়ে। "

দোয়েল চত্বর থেকে ঘর সাজানোর জিনিস কিনতে আসা শাহনেওয়াজ খানম জানান, " আমার বাসার মাটির বেশিরভাগ জিনিস এখান থেকে নেওয়া। ৫০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত জিনিস পাওয়া যায়। মাটির গহনা, কাঠের গহনা, টেরাকোটা সবই কম দামে পাওয়া যায়। "

বাঙালির লোক সাংস্কৃতির ঐতিহ্য গ্রাম ছাড়িয়ে শোভা পায় শহুরে জীবনের সৌখিনতায়। কারুশিল্প, মৃৎশিল্প ছাড়া ও কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি বিভিন্ন হস্ত শিল্পের ঐতিহ্য বাংলার মানুষ আষ্টে পিষ্টে লালন করে তাদের যাপিত জীবনধারায়, সৌখিনতায় যার খোঁজে মানুষ যায় দোয়েল চত্বর সংলগ্ন হস্তশিল্প মেলায়।

;

বাঙালির চৈত্র সংক্রান্তি



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
চৈত্র সংক্রান্তি / ছবি : সংগৃহীত

চৈত্র সংক্রান্তি / ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চৈত্র মাসের শেষ দিনে পালন করা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। বাঙালি ঐতিহ্যের অন্যতম উৎসব সংক্রান্তি। পুরাতনকে বিদায় দিয়ে জীর্ণতা দূর করার আনন্দ উৎসব এই সংক্রান্তি। চৈত্র মাসের শেষ দিনে সংক্রান্তি পালন করার মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হয় বাঙালিরা।

ঘরবাড়ি, পথঘাট সেজে ওঠে রঙিন আলপনায়। ধানের ছড়া, কলসি, ফুল, লতা-পাতা নানারকম নকশা ফুটে ওঠে আলপনায়। তার সাথে বাঘ, পেঁচা, পাখি নানারকম রঙিন মুখোশ তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং র‌্যালিতে নামে মানুষ।     

এছাড়াও খাওয়া দাওয়া আছেই! মুড়ি, মুরকি, নিমকি, বাতাসা, নকুলদানা, গুড় সহ নানারকম খাবারের আয়োজন করা হয় সংক্রান্তিতে।ৎ

চৈত্র সংক্রান্তি

বাঙালির উৎসব হলেও হিন্দু ধর্মানুসারীদের জন্য একটি ধর্মীয় উৎসবও বটে। লোকাচার অনুযায়ী এই দিনকে পুণ্য লাভের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই সংক্রান্তিতে নানারকম হিন্দুধর্মীয় রীতিও পালন করা হয়। নতুন বছর যেন ভালোভাবে কাটে এই প্রার্থনায় ব্রত করা হয়। তাছাড়া দান সেবাও করে তারা। সংক্রান্তির আগের দিন তারা নীল পূজা করে, যা মূলত শিব নীলকণ্ঠের উপাসনা। এছাড়া, সংক্রান্তির দিন শিবের গাজন পূজা করা হয়। অনেক স্থানে একে চড়ক পূজাও বলা হয়।  

সময় যত যাচ্ছে মানুষ তত আধুনিক হচ্ছে। তবে কেমন যেন এক গোড়ামি ধারণা মানবমনে ধারন করা হয়েছে যে, পশ্চিমা সংস্কৃতি মানেই আধুনিক! নিজস্ব সংস্কৃতির লালন পালনের মাধ্যমেও যে আধুনিকতা বহন করা যায় যা যেন সকলে ইচে্ছ করেই ভুলে যেতে চায়। আগে, বঙ্গগ্রামে প্রতিটি বাংলা মাসেই সংক্রান্তি পালন করা হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই ঐতিহ্য বিলুপ্ত প্রায়। কোনো রকমে বেঁচে আছে বছরের দুই মাসের সংক্রান্তি। কনকনে শীতে পৌষ মাসের শেষ দিন পালন করা হয় পৌষ সংক্রান্তি। অন্যদিকে বছরের শেষ মাস, চৈত্রের শেষেও বাঙালিরা চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপন করে।     

;

‘আলোর স্কুল’ জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

জামাল স্যারের পাঠাগার উদ্বোধন করছেন ড. মাহফুজ পারভেজ/ বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশবে ফেনী শহরে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রজীবনে। সর্বশেষে চট্টগ্রাম শহরের পাঁচলাইশে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে পথ ও পন্থা খুঁজছিলেন তিনি। চেষ্টা করছিলেন তাদের মননশীলতার চর্চাকে উন্মুক্ত করতে। সেই কাজ করতে গিয়ে সরকারি চাকরি বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করেন নি। থেকে গেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেই। তার আসল নাম কাজী জামালউদ্দিন বলে এখন কম লোকেই ডাকে। সবাই বলে জামাল স্যার, চট্টগ্রামের পাঁচশাইশের জামাল স্যার।

জামাল স্যার দিন-রাত এক করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গ দেন। তাদের দুর্বলতা কাটাতে চিন্তা-ভাবনা ও চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে দফায় দফায় বসেন মটিভেশনাল সেশানে। তারপর একজন ছাত্র বা ছাত্রী যখন শিক্ষাজীবনে সফলতার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন তার চোখের কোণে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। আর পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীটির পরিবার জুড়ে বয়ে যায় খুশির হিল্লোল। ‘এমন পরিস্থিতি আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময়‘, বললেন জামাল স্যার।

‘সঠিক দিক-নির্দেশনা না পেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সফল হতে পারে না। তারা হতাশ ও জীবনবিমুখ হয়ে যায়। স্কুল ও বাবা-মা ব্যস্ততার কারণে তাদের সমস্যাগুলো দরদ ও মনোযোগ দিয়ে দেখার সময় ও সুযোগ পান না।  ফলে সম্ভাবনা থাকার পরেও অনেকেই সফল হয় না। আমি তাদের দুর্বলতা ও সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করি। সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরিত করি,‘ জানালেন জামাল স্যার।

তিনি বলেন, ‘আমি গতানুগতিক কোচিং এ বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, প্রতিটি সিলেবাস ও পাঠ্যক্রমে কিছু অপূর্ণতা থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ হয় না। এই গ্যাপটি ধরিয়ে দিতে পারলেই সমস্যা পরিণত হবে সম্ভাবনায়।‘

বই উপহার পেলো শত শিক্ষার্থী/বার্তা২৪

জামাল স্যারের মতে, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী একই রকমের সমস্যার সম্মুখীন হয় না। তাদের সমস্যা বহুমাত্রিক। আবার স্কুলগুলোর সমস্যাও নানামুখী। এগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণ করে সংযোগ সাধন করা আমার কাজ।‘

তিনি জানান, ‘আমাদের স্কুলগুলো মূলত আধাদিনের। বাকী সময় শিক্ষার্থী থাকে মাঝিবিহীন নৌকার মতো। অভিভাবকরাও নিজের কাজের শেষে সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীরা জীবনের মূল পথ খুঁজে পায় না। অথচ তাদেরকে সঠিক দিশা দেখানো হলে দেশের মানবসম্পদ বিকাশের কথ মসৃণ হবে। তাদের অন্যান্য সুপ্ত প্রতিভা এবং লাইফস্কিল ডেভেলপ করলে সে শুধু ভালো ছাত্রই হবে না, ভালো ও সফল মানুষ হবে।‘

এ কারণেই বিকল্প স্কুলের মতো একটি লাইব্রেরি গড়েছেন তিনি। শিশু-কিশোরদের উপযোগী বিষয়ভিত্তিক সমায়ক বই রয়েছে সেখানে। তার মতে, ‘ইন্টারনেটে অনেক ফেক ও অসম্পূর্ণ তথ্য থাকে। শুধু নেটে বসে হাজারো তথ্যের অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল চিন্তা ও মননশীল প্রচেষ্টার শক্তি হারাবে। এজন্য তাদেরকে বই ও পাঠাগার মুখী করতে হবে।“

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান ফেনী শহরেও জামাল স্যার শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ভিন্নধর্মী, জীবনমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাষা আন্দোলনের অমর স্মৃতি বিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে একযোগে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বই উপহার দিয়েছেন তিনি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ডা.সালাউদ্দীন ভবনে আনন্দমুখর পরিবেশে এই বই উপহার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামে সৃজনশীল পাঠদানের পথিকৃৎ জামাল স্যারের সভাপতিত্বে বই উৎসব ও পাঠাগার উদ্বোধনে প্রধান অতিথি ছিলেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বার্তা২৪.কম‘র অ্যাসোসিয়েট এডিটর, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত ছিলেন আরো অনেক শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক।

অনুষ্ঠানে ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, সভ্যতার আদি সূচনা থেকে আজকের অত্যাধুনিক জগত পর্যন্ত গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরির উপস্থিতি বিদ্যমান এবং মানব জাতির সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি ও বিকাশের প্রতীক রূপে বিবেচিত। লাইব্রেরি-বিহীন সমাজের ঐতিহ্যগত শেকড়, সাংস্কৃতিক দ্যুতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দুর্বল। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আজকের পৃথিবীতে বিশেষায়িত ও সাধারণ গ্রন্থাগার যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে গণগ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি, যা সভ্যতার চাকাকে সচল রেখেছে এবং মানব জাতির মেধার ভাণ্ডারকে প্রজন্মব্যাপী সম্প্রসারিত করে চলেছে। জামাল স্যারের স্বপ্নের পাঠাগার আসলে একটি ‘আলোর স্কুল‘।

;

১৮ ক্যারেটের সোনার টয়লেট চোরকে পাওয়া গেল!



ফিচার ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ারের ৩০০ বছরের পুরনো বাড়ি ব্লেনহিম প্যালেস থেকে চুরি হওয়া একটি সোনার টয়লেটের চোরকে ধরতে সক্ষম হয়েছে দেশটির পুলিশ। ওই টয়টেলটি ১৮ ক্যারাটের সোনা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। তৎকালীন সোনার দাম অনুযায়ী এর মূল্য ছিল ৪৮ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

দ্য গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

এনডিটিভি জানায়,  এ ঘটনায় নর্থহ্যাম্পটনশায়ারের ওয়েলিংবোরোর বাসিন্দা জেমস 'জিমি' শিন (৩৯) নামে এক ব্যক্তি আদালতে তার দোষ স্বীকার করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওই টয়লেটটি চুরি হয়। ওই সময় অক্সফোর্ডশায়ারের বাড়িটিতে ইতালির শিল্পী মাউরিজিও ক্যাতেলানের 'ভিক্টরি ইজ নট এন অপশন' প্রদর্শনীতে টয়লেটটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই চুরি হয় সেটি।

পুলিশের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি প্রাসাদের সুয়ারেজ লাইনের সাথে যুক্ত থাকায় চুরির সময় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পানিতে প্রাসাদের নির্দিষ্ট অংশ ভেসে গিয়েছিল।

ব্লেইনহিম প্রাসাদের এক মুখপাত্র জানান, টয়লেটটির নামকরণ করা হয়েছিল ‘আমেরিকা’ নামে। ওই প্রাসাদের যে ঘরে উইংস্টন চার্চিল জন্মেছিলেন, তার পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছিল।

জেমসকে এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অক্সফোর্ড ক্রাউন আদালতের শুনানিতে যুক্ত করা হয়েছিল। এইচএমপি ফাইভ ওয়েলস যুক্তরাজ্যের একটি কারাগার।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে শিন বর্তমানে ১৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন। এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকি তিনজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের বিচার হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই ঘটনা এবারই শিনের প্রথম নয়। এর আগে যুক্তরাজ্যের নিউমার্কেট এলাকার জাতীয় ঘোড়দৌড়-বিষয়ক জাদুঘর থেকে চার লাখ পাউন্ড দামের ট্রাক্টর ও অত্যন্ত দামি স্মারক বস্তু চুরি করেছিলেন জেমস।

;