ডিসিদের উপজেলা বাজিতপুর!

আশরাফুল ইসলাম, অতিথি লেখক
বাজিতপুরের সন্তান তিন ডিসি, ছবি: সংগৃহীত

বাজিতপুরের সন্তান তিন ডিসি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা এক সময় পরিচিত ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তি জহিরুল ইসলামের কারণে। এর আগে, হাওরস্পর্শী উজানভাটির জনপদ বাজিতপুর আলোচিত ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বিতর্কিত ও সুদীর্ঘকালের গভর্নর আবদুল মোনেম খানের জন্য।

ভৌগোলিক কৌশলপূর্ণ যে বাজিতপুর বৃহত্তর সিলেট (হবিগঞ্জ), কুমিল্লা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও ঢাকার (নরসিংদী) সংলগ্ন, তা এখন আলোচিত ডিসিদের উপজেলা নামে! অনন্য রেকর্ড হলো, বাজিতপুরের তিনজন দেশের তিন জেলার ডিসি। সম্ভবত এই প্রথম বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিসের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। আবার তাদের মধ্যে দুইজন একই ইউনিয়নের।

বাজিতপুর উপজেলার যে তিনজন সন্তান জেলা প্রশাসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা হলেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুল মতিন, মাগুরা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. আশরাফুল আলম এবং বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জিয়াউল হক।

গাইবান্ধা জেলার ডিসি মো. আবদুল মতিন ও মাগুরা জেলার ডিসি ড. আশরাফুল আলম এর বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নে। অন্যদিকে বগুড়া জেলার ডিসি মো. জিয়াউল হক এর বাড়ি বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া ইউনিয়নে।

গাইবান্ধা জেলার ডিসি মো. আবদুল মতিন বিসিএস ২১তম ব্যাচের এবং মাগুরা জেলার ডিসি ড. আশরাফুল আলম ও বগুড়া জেলার ডিসি মো. জিয়াউল হক ২২তম ব্যাচের।

মো. আবদুল মতিন ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পিরিজপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন আহমেদ এর ছেলে।

ড. আশরাফুল আলম ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মাগুরা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পিরিজপুর ইউনিয়নের নবুরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. তাহের উদ্দিনের ছেলে।

মো. জিয়াউল হক গত ৫ জুলাই বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি হিলচিয়া ইউনিয়নের সরিষাপুর গ্রামের খ্যাতিমান রাজনৈতিক কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. আলাউল হক এর ছেলে।