লিসবনে বরিশাল অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
লিসবনে বরিশাল অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

লিসবনে বরিশাল অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

পুর্তগালের রাজধানী লিসবনে বৃহওর বরিশাল অ্যাসোসিয়েশন অব পর্তুগালের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) লিসবনের একটি স্থানীয় হল রুমে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে পর্তুগালে  অবস্থানরত বৃহত্তর বরিশালের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির সভাপতি শাহীন সাঈদ এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি মিজানুর রহমান খান, বর্তমান সেক্রেটারী এম কে নাসির, মহিলা সম্পাদিকা মারিয়া অলী, উপদেষ্টা মাওলানা হেলাল উদ্দিন সহ-সভাপতি আবদুস সালাম ও  ফরিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েলসহ কমিটির  সদস্যবৃন্দ । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কমিউনিটির প্রচার সম্পাদক স্বপ্নীল নিশান।


অনুষ্ঠানে বক্তারা পর্তুগালে বসবাসকারী বাংলাদেশী কমিইনিটির সদস্যদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা কাজের মাধ্যেমে পর্তুগালের মূলধারায় আরো বেশী করে সম্পৃক্ততা, দেশের সুনাম বৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরো উন্নত ও দৃড় করার জন্য সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে নতুন কমিটির পক্ষ থেকে উপদেষ্টা জনাব মিজানুর রহমান খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগ্রহী মালদ্বীপ ইসি



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগ্রহী মালদ্বীপ ইসি

বাংলাদেশের নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগ্রহী মালদ্বীপ ইসি

  • Font increase
  • Font Decrease

ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের চেয়ারম্যান ও সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন-এর মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী (শনিবার ১৪ মে) মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ফুয়াদ তৌফিকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময়ে দুই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক দলসমূহের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ায় আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সার্কভুক্ত দেশসমূহের নির্বাচন কমিশনার এবং মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী। আগামী দ্বাদশ নির্বাচনে আমন্ত্রণ পেলে পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রতিনিধি প্রেরণ করবে মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশন।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই। আর নির্বাচন আয়োজনের মূখ্য ভূমিকা পালন করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সরকারের সহযোগিতা থাকবে, হস্তক্ষেপ নয়। রাজনৈতিক দলসমূহের উচিত নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মালদ্বীপের বিশেষ প্রতিনিধি ও মালদ্বীপ নির্বাচন কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান ইসমাইল হাবিব, মালদ্বীপের কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমজাদ মোস্তফা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নিউজ বিএন -এর সম্পাদক মিজানুর রহমান মজুমদার, কেন্দ্রীয় পরিচালক বঙ্গবন্ধু গবেষক ড. মুহম্মদ মাসুম চৌধুরী ও এম এ মালেক।

;

ইতালিতে বাংলা স্কুলের বই বিতরণ



ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি থেকে
ইতালিতে বাংলা স্কুলের বই বিতরণ

ইতালিতে বাংলা স্কুলের বই বিতরণ

  • Font increase
  • Font Decrease

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে বর্তমান সরকার। সেই লক্ষ্যে প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা শিক্ষা, বাংলা সংস্কৃতি, বাংলাদেশের ইতিহাসকে জানতে রোম দূতাবাসের সহায়তায় বিনামূল্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের নতুন বই বিতরণ করেছে পালেরমো পিয়াচ্ছা নসে বাংলা স্কুল।

স্থানীয় সময় রোববার (৮ মে) বইগুলো বিতরণ করা হয়। নাজমুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামরুল আহসান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পালেরমো আওয়ামী লীগ সভাপতি সেকান্দর মিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি জাহিদ আহমেদ রুবেল,সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, রুহুল আমীন আলম, ইতালি বিএনপির সদস্য খোরশেদ আলম, পালেরমো বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুল আলম শিপু, উপদেষ্টা সানি ভূঁইয়া, নাজমুল হুদা তুহিন, স্কুলের শিক্ষিকা নাছিমা আক্তার, শিউলি আক্তার, আক্তারুজ্জামান সেন্টু, মোশাররফ হোসেন, খায়রুল ইসলাম, শেখ আলমগির, আবুল বাশার যুবলীগের সভাপতি এম এ হালিম, শাহিদুল আব্দুল রিফাত প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, প্রবাসের মাটিতে আমাদের প্রজন্মকে দেশের জন্য যোগ্য দায়িত্বশীল শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিসীম। উপস্থিত সকলে এমন অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

;

ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘গোল্ডেন জুবলি বাংলাদেশ’ কনসার্টের জমকালো আয়োজন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘গোল্ডেন জুবলি বাংলাদেশ’ কনসার্টের জমকালো আয়োজন

ম্যাডিসন স্কয়ারে ‘গোল্ডেন জুবলি বাংলাদেশ’ কনসার্টের জমকালো আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

নিউইয়র্কে জমকালো আয়োজন আর গৌরবের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমৃদ্ধ বর্তমানকে উদযাপন করেছে বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্টে বিশ্ব দেখলো স্বাধীনতার অর্ধ শতক পর বাংলাদেশ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে। উন্নয়নের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয় দেশ বিদেশের দর্শকদের সামনে। নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই কনসার্টে অংশ নেয় জার্মানির বিশ্ববিখ্যাত রক ব্যান্ডদল স্করপিয়ন্স। আর বাংলাদেশের চিরকুট।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনেই আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহাসিক একটি কনসার্টের। বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সেই মহাআয়োজন ইতিহাসের পাতায় দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নামেই উজ্জ্বল হয়ে আছে। জগৎবিখ্যাত ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে তখন সেই কনসার্টের উদ্যোগ নিয়েছিলেন দ্য বিটলস ব্যান্ডখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীত তারকা জর্জ হ্যারিসন। সেই ম্যাডিসন স্কয়ার গাডেনেই এবার আয়োজন করা হলো গোল্ডেন জুবলি কনসার্টের।  


গোল্ডেন জুবলি বাংলাদেশ কনসার্ট শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। শিল্পী কাদেরি কিবরিয়ার সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠমেলান, সেখানে উপস্থিত মন্ত্রী ও এমপিরা। এরপর স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও যোগযাগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কনসার্ট আয়োজনের কারণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থে দরিদ্র ও অনুন্নত দেশগুলোর শিশুদের সাইবার নিরাপত্তায় ব্যয় হবে। আর ইউএনডিপি সঙ্গে মিলে কাজটি করা হবে বলে জানান তিনি।

এরপর মঞ্চে আসে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট। ধনধান্যে পুষ্পে ভরা এই দেশের গানটি দিয়ে চিরকুট তাদের পরিবেশনা শুরু করে। এরপর একে একে তারা গেয়ে শোনয় দেশের গান, জাগরণের গান এবং নিজেদের মৌলিক গান। এসময় চিরকুট ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী ও দলনেতা শারমিন সুলতানা সুমী বলেন, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে গাইতে পারাটা তাদের জন্য বিরাট এক অর্জন।

অনুষ্ঠানে মিলনায়তন ভর্তি ছিল মানুষের ঢল। তাদেরকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে কয়েকটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশনের হাইটেক পার্ক অথরিটি আয়োজিত সেই কনসার্ট দেখার জন্য একই স্রোতে মিশেছিল নানান দেশের, নানান মানুষ। শুরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট নিয়ে তেমন কিছু জানতে পারেননি বলে ক্ষোভ রয়েছে। এরপরও শেষ পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশি জড়ো হয়েছিলেন সেখানে।

কনসার্ট দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এমন পরিচ্ছন্ন ও চমৎকার আয়োজন দেখে তাদের মনে হয়েছে, এটি তাদের জীবনের জন্য আনন্দ ও গর্বের খোড়াক হয়েই থাকবে। গানে গানে আনন্দ দিয়েছে চিরকুট। আর স্কনপিয়ন্সের পরিবেশনা বুঝিয়ে দিয়েছে কেন তারা আলাদা এবং কেন তারা সেরা।

;

লন্ডনে আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করলেন লুৎফুর রহমান



সাঈদ চৌধুরী
লুৎফুর রহমান

লুৎফুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তৃতীয়বারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লুৎফুর রহমান। ৪০ হাজার ৮০৪ ভোট (৫৪.৯%) পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার দলীয় জন বিগ্সকে হারিয়ে তিনি বিজয় নিশ্চিত করেছেন। দুইবারের মেয়র জন বিগ্স পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট (৪৫.১%)।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জনগণ শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট প্রদান করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে প্রথম প্রিফারেন্সে লুৎফুর রহমান ৩৯ হাজার ৫৩৩ ভোট (৪৭.০%) আর জন বিগ্স ২৭ হাজার ৮৯৪ ভোট (৩৩.২%) লাভ করেন। ১১ হাজার ৬৩৯ ভোটে লুৎফুর রহমান এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু বৃটেনের নিয়মানুযায়ী এককভাবে ৫১% ভোট না পেলে দ্বিতীয় প্রিফারেন্সের ভোট গণনা করতে হয়। দ্বিতীয় পছন্দে লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ২৭১ ভোট আর জন বিগ্স ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। এতে লুতফুর রহমানের মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮০৪ এবং জন বিগ্স পেয়েছেন মোট ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। অর্থ্যাৎ লুতফুর রহমান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ হাজার ৩১৭ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে ৬ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে লিবডেমের রাবিনা খান তৃতীয় এবং ৪ হাজার ২৬৯ ভোট পেয়ে কনজারভেটিব পার্টির এলিয়ট উইভার চতুর্থ হয়েছেন। অনেক অপেক্ষা ও উৎকন্ঠার প্রহর কাটিয়ে বহু হিসেব নিকেশের পর আসে বিজয়ের ঘোষণা। আনন্দে মেতে ওঠেন উপস্থিত লুৎফুর সমর্থক অসংখ্য মানুষ। জনতার মেয়র খ্যাত লুৎফুর রহমান পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় উল্লসিত জনতা আল্লাহু আকবর বলে স্লোগান দিয়ে মহান স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করেন। তারা মেয়রকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

শত অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার পরও জনগণ তাদের হৃদয় উজাড় করে ভালোবেসে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়েছেন। তবে যারা তাকে ভোট দেননি তাদেরও সেবা করতে চান তিনি। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নব নির্বাচিত মেয়র।

জনতার কাতারে এসে লুৎফুর রহমান বলেন, কাউন্সিলের জনগণ আমার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন। তাদের কাছে আমার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল। সবাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

৫ মে যুক্তরাজ্যের সর্বত্র স্থানীয় নির্বাচন হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচন। ২০১৫ সালে বিশেষ ইলেক্টোরাল কোর্টের রায়ে লুৎফুর রহমান পদচ্যুত হন। তখনও তিনি নির্বাহী মেয়র ছিলেন। এটাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে নিজের সততার প্রমাণ ও স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস তিনি অব্যাহত রাখেন। তবে আইনের বাধ্যবাধকতায় ৫ বছর কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। ২০২১ সালে মেয়রাল রেফারেন্ডামে লেবার, কনজারভেটিব এবং লিবডেমসহ সকল দলের বিপরীতে লুৎফর রহমান নির্বাহী মেয়র নির্বাচনের পক্ষে বিজয়ী হন। এরপর তিনি এবারের মেয়র নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।

মূলত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ২০১০ সালের ২১ অক্টোবরের নির্বাচনে লুৎফুর রহমানের বিজয়ের মধ্যদিয়ে বৃটিশ বাংলাদেশিরা বৃটেনে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেন। ১ম বাংলাদেশি নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান লুৎফুর রহমান। বৃটেনে ১৩ জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি মেয়র। অন্য সকলেই শ্বেতাঙ্গ। তখন তার দায়িত্বে ছিল ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেট ও ১১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তখন বৃটেনের শীর্ষ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন মেয়র লুতফুর রহমান। টানা ৩য় বারের মতো তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আগের বারের চেয়ে পরের বার তিনি ১৫ ধাপ এগিয়ে ৫৩ নম্বরে স্থান করে নেন। টপ হান্ড্রেডস মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ব্যক্তিদের মধ্যে লুৎফুর রহমান ২০১১ সালে ৭৮তম স্থান লাভ করেন। ২০১২ সালে তিনি ১০ জনকে টপকে যান। এভাবে দু বছরে ২৫ জনকে ছাড়িয়ে ৭৮ থেকে ৫৩তে স্থান করে নেন। তবে এই ধরনের প্রভাব ও সাফল্য দেখে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।

ব্রিটেনে কোয়ালিশন সরকার যখন ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করেছে তখন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে প্রাইমারি স্কুলের রিসেপশন ও ইয়ার ওয়ানের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। এ বাবত বরাদ্দ করেন প্রায় পৌনে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড । তার এই সাহসী ও সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করে বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকা নিবন্ধ প্রকাশ করে। বিবিসির সানডে পলিটিক্স অনুষ্ঠানসহ মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় তার কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে। লুৎফুর রহমান ফ্রি স্কুল মিল চালুর অল্প দিনের মাথায় পুরো ব্রিটেনে এই ফ্রি স্কুল মিল চালুর ঘোষণা দেন তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার নিক ক্লেগ।

নির্বাহী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে লুৎফুর রহমান ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে দু টার্ম কাউন্সিল লিডার ছিলেন।পেশাগত জীবনে তিনি ফ্যামিলি এন্ড চাইলড প্রটেকশন ল স্পেশালিষ্ট ও সিনিয়র সলিসিটর।

মেয়র লুৎফুর রহমানের তৃতীয় বারের বিজয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটস সহ গ্রেট বৃটেন এমনকি ইউরোপে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, লুৎফুর রহমান বিগত সময়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এই বিজয় তারই প্রতিদান। বৃটেন সরকার যখন সারাদেশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল বন্ধ করে দেয় তখন লুৎফুর রহমান তা অব্যাহত রেখেছেন। এমনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট, বৃদ্ধদের জন্য ফ্রি হোম কেয়ার সুবিধা, পুরো বৃটেনে সর্বোচ্চ সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই তাকে এই সম্মান দিয়েছে বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসে সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচনের প্রথা গণভোটের মাধ্যমে চালু হয়। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য লুৎফুর রহমান লেবার পার্টির কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন চান। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিক থাকলেও পরে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কমিউনিটির স্বার্থের ব্যাপারে তার স্পষ্ট ও সাহসী অবস্থানের কারনেই বাদ পড়েন তিনি।

এরপর জনতার সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বাঙালি অধ্যুষিত এ বারার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেন, যা দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসিত হয়। দ্বিতীয় বার নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠান টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের দারুণভাবে হতাশ করে। বিবিসির বিখ্যাত প্যানারমা অনুষ্ঠানে মেয়র লুৎফুর রহমানকে বলা হয়, তিনি বাঙালিদের বিভিন্ন সংগঠন ও মসজিদে বারার তহবিল থেকে অনৈতিকভাবে বেশি অর্থ প্রদান করেছেন। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই প্রচারণায় তার ইমেজ সংকট দেখা দেয়। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তার এক সময়ের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থিরা বিবিসির এই অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে তাকে কোণঠাসা করতে চান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্তও চলে। অবশ্য পুলিশি তদন্তে তার বিরুদ্ধে কিছু না পাওয়ায় এটি ষঢ়যন্ত্রকারিদের জন্য ছিল হিতে বিপরীত।

দৃঢ়চেতা ও সাহসী ব্যক্তিত্ব লুৎফুর রহমান ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রেসিজমের বিরুদ্ধে ঐক্য ও ভালবাসার মন্ত্রে উজ্জিবিত হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তার নতুন দল আসপায়ার, ক্যাম্পেইন টিম ও সমর্থকদের। ফলে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তার বিজয়ের মাধ্যমে জনতার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। অবশ্য লুৎফুর বিরোধী প্রচারণায় কতিপয় বাঙালির তৎপরতাও কম ছিল না। কাউন্সিলার পদে জনতার রায়ে এরা অনেকেই ধরা খাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের যে কোনও কাউন্সিলের তুলনায় বেশি সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণের পুরস্কার হিসেবে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ হাউজিং বোনাস পেয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে টানা দুবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণের কারণে সরকারের বিশেষ স্কিম থেকে সাড়ে ১৯ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত বরাদ্দ পেয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। এর আগের মেয়াদেও প্রায় ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড বোনাস পেয়েছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ফলে ২০১১ সালের পর থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসের মোট বোনাস বরাদ্দ দাঁড়াবে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি।

হাউজিং বিষয়ক ইন্ডাস্ট্রি ম্যাগাজিন ইনসাইড হাউজিং সহ বৃটেনের মেইনস্ট্রিম সংবাদ মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের এ সফলতার খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিল এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণকে উৎসাহিত করতে ২০১১ সালে সরকার নতুন এ স্কিম চালু করে। লীগ টেবিলে বোনাস পাওয়ার দৌড়ে প্রথম স্থানে ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এর আগের মেয়াদেও টাওয়ার হ্যামলেটস প্রথম স্থান দখল করেছিল। এক্ষেত্রে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, হাউজিং আমার অন্যতম অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাত। গত টার্মে ইংল্যান্ডে আমরাই সর্বোচ্চ সংখ্যক এফর্ডেবল সোস্যাল হাউজ নির্মাণ করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ এ স্বীকৃতি তারই সাক্ষ্য বহন করে।

পারিবারিক জীবনে বিবাহিত লুৎফুর রহমান দু সন্তানের জনক। ১৯৫৭ সাল থেকে তার পিতা বৃটেনে বসবাস করছেন। তিনি চার বছর বয়সে বৃটেনে আসেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রাম থেকে। সিলেট তথা বাংলাদেশের এই কৃতিমান রাজনীতিকের প্রতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অফুরান শুভেচ্ছা।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী। সাংবাদিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক।

;