করোনার টিকা নেওয়ার পর ভারতে দুইজনের মৃত্যু!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতে করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার তিন দিনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এর সঙ্গে করোনার টিকা নেওয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ৫৮০ জনের শরীরে।

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। সারা দেশের তিন হাজার ছয়টি কেন্দ্রে একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের সরকারি হাসপাতালের একজন কর্মী টিকা নেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর মারা যান। তার বয়স ছিল ৪৬ বছর। তবে জেলার প্রধান মেডিকেল অফিসার বলেছেন টিকা নেওয়ার সঙ্গে এই মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই।

হার্ট এবং ফুসফুস জনিত রোগ ওই হাসপাতালকর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে।

মারা যাওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তিটি হলেন- কর্ণাটকের বেলারির ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। এই ব্যক্তিও হার্ট এবং ফুসফুস জনিত রোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে তার ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, তিন দিন টিকা দেওয়ার পর ৫৮০ জনের নানা ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, এবং বমিভাব। সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি সাত জনের মধ্যে তিন জন দিল্লির। দিল্লির তিন জনের মধ্যে দু'জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একজনকে ম্যাক্স হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কর্ণাটকে দুই জনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, একজন রোগী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

এসব উপসর্গকে টিকাদানের বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স ইভেন্ট ফলোইং ইমিউনাজেশন (এইএফআই) বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

অবশ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়া এসব ব্যক্তির মধ্যে কারা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার ‘কোভিশিল্ড’ আর কারা ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত ‘কোভ্যাক্সিন’ নিয়েছিলেন, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি দেশটি।

দেশটিতে এখনও অবধি ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফায় স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির তিন কোটি মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার। স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সেনাবাহিনী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নাম রয়েছে প্রথম তালিকায়।