খাদ্য সংকটের জন্য রাশিয়া নয়, দায়ী পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
খাদ্য সংকটের জন্য রাশিয়া নয়, দায়ী পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা!

খাদ্য সংকটের জন্য রাশিয়া নয়, দায়ী পশ্চিমা কঠোর নিষেধাজ্ঞা!

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটকে গুরুতর করেছে। আর এ জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করেছে দেশটি।

ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানির পথে রাশিয়া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সেইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের খাদ্য সরবরাহ জিম্মি করেছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ।

রুশ-ইউক্রেন সংঘাত কৃষ্ণ সাগরের প্রধান বন্দরগুলোকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউক্রেন প্রধান গম রফতানিকারক দেশ। বন্দরে এখনও লাখ লাখ টন শস্য আটকে আছে। ফলে ইউক্রেনের উপর নির্ভরশীল দেশগুলো ব্যাপক খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছে।

এত কিছুর পরও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলছেন, কৃষ্ণ সাগর এবং আজভ সাগরের বন্দরে বিদেশি জাহাজগুলো আটকে রাখার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার পশ্চিমাদের প্রচেষ্টা একেবারে ভিত্তিহীন।

বিদ্যমান বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের জন্য মূল কারণ পশ্চিমাদেশগুলোর রুশ-বিরোধী কঠোর নিষেধাজ্ঞা, যা বৈশ্বিক লজিস্টিক এবং পরিবহন অবকাঠামোতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার এ মুখপাত্র দাবি করে বলেন, ইউক্রেনের ওপর সামরিক অভিযানের ফলে কৃষিপণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ ২০২০ সাল থেকেই কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধি শুরু হয়েছিল। এ সময় তিনি কোভিড সংকটকেও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দায়ী করেন।

ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন পুতিন

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্লাদিমির পুতিন চলতি সপ্তাহে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত মধ্য এশিয়ার দুই দেশ তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সফরে যাবেন।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘রসিয়া-১’- এর ক্রেমলিন সংবাদদাতা পাভেল জারুবিন বলেছেন, পুতিন তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সফর শেষে মস্কোতে
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জকো উইদোদোর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমোমারি রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পুতিন। যিনি রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন দীর্ঘমেয়াদি শাসক।

এরপর পুতিন তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাতে আজারবাইজান, কাজাখস্তান, ইরান ও তুর্কমেনিস্তানের নেতাদেরসহ কাস্পিয়ান দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

ইউক্রেনে হামলার আগে গত ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বেইজিং সফরে করেন প্রেসিডেন্ট পুতিন, যেখানে শীতকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। নানা বিষয়ে আলাপ হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সঙ্গে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ২৪ ফেব্রুয়ারির আগ্রাসনে হাজার হাজার মানুষ নিহত, আরও লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যার ফলে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

যার জন্য পুতিন চীন, ভারত এবং ইরানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।

;

এক শতাব্দী পর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি রাশিয়া

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে দেশটির অর্থনীতির ওপর। বলশেভিক বিপ্লবের পর এই প্রথমবারের মতো সময়মত বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি রাশিয়া। রোববার (২৬ জুন) দেশটির ঋণ পরিশোধ করার শেষ সময় ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক (নিউইয়র্ক) ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ পরিশোধের রোববারের সময়সীমা মিস করায় রাশিয়া এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো তার বৈদেশিক ঋণে খেলাপি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬ জুন ১০০ মিলিয়ন ডলারের সুদ পরিশোধ করার কথা ছিল রাশিয়ার। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারের পরিবর্তে রুবলে শোধ করতে চেয়েছিল ক্রেমলিন, কিন্তু ঋণদাতাদের রুবলে অর্থ প্রদান করতে না পারায় ঋণ খেলাপের দায়ে পড়তে রাশিয়াকে। যা দেশটির মর্যাদার জন্য একটি বড় আঘাত।

রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ এ পরিস্থিতিকে একটি প্রহসন হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।

শেষবার রাশিয়া ঋণ খেলাপি হয়েছিল ১৯১৮ সালে বলশেভিক বিপ্লবের সময়। যখন নতুন কমিউনিস্ট নেতা ভ্লাদিমির লেনিন রাশিয়ান সাম্রাজ্যের ঋণ পরিশোধ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে রাশিয়া ডিফল্টের একটি অনিবার্য পথে বলে মনে হচ্ছে।

রাশিয়ান সরকার বলেছে, তারা তার সমস্ত অর্থপ্রদান সময়মতো করতে চায়। তবে ইউক্রেন আক্রমণের পরে রাশিয়াকে একের পর এক নিষেধাজ্ঞার জালে জড়িয়ে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ। এর ফলে বিদেশে মজুত রাশিয়ান রিজার্ভের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অকেজো হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া এ ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে তা বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা, পৃথিবীর অন্যতম প্রধান উৎপাদনশীল দেশ হওয়ার কারণে এর ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পৃথিবীব্যাপী দ্রব্যমূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

;

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ করল নাসা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় বাণিজ্যিক মহাকাশবন্দর থেকে সফলভাবে রকেট উৎক্ষেপণ করছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- নাসা।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ জুন) ভোরে উপ-অরবিটাল রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।

এটি অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অধ্যয়নকে সক্ষম করবে যা শুধুমাত্র দক্ষিণ গোলার্ধে করা যেতে পারে জানিয়েছে নাসা। ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এই প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন এই রকেটটি তাদের কাছাকাছি গ্রহের বাসযোগ্যতার উপর একটি তারার আলোর প্রভাব অধ্যয়ন করতে সাহায্য করবে।

আর্নহেম স্পেস সেন্টারটিকে একটি বড় মহাকাশ বন্দরের রূপ দেওয়া হয়েছে। যাতে প্রতি বছর এখান থেকে বহু রকেট উৎক্ষেপণ করতে পারে। যেমন করে বিমানবন্দরগুলোতে অনেক এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলে।

এখান থেকে আগামী তিন সপ্তাহে তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ করার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইএলও টার্গেট করছে প্রতি বছর কেন্দ্রটি থেকে যাতে ১০টি রকেট উৎক্ষেপণ করা যায়। বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণে এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম উদ্যোগ। একইসঙ্গে নাসার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্যিকভাবে অন্য মহাকাশ কেন্দ্র থেকে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ।

সূত্র: বিবিসি

;

জি–৭ সম্মেলন চলাকালীন ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি

  রুশ-ইউক্রেন সংঘাত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জার্মানির মিউনিখে চলছে বিশ্বের ধনী ও উন্নয়নশীল দেশের সমন্বয়ে গঠিত জি-৭ সম্মেলন। এই সম্মেলনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো। আর এদিকে সম্মেলন চলাকালীন ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বইছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ সময় কখনো তীব্র হামলা, কখনো আবার হামলার মাত্রা কমিয়েছে রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মুহূর্মূহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। রোববার কিয়েভের বিভিন্ন নিশানায় অন্তত ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এতে ৯ তলা একটি ভবন ধ্বংস হয়ে অন্তত ১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক মেয়েসহ ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ বাহিনী প্রধান।

আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়েছে খালি একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের খেলার মাঠে। কিয়েভের মেয়র বলেছেন, ইউক্রেনকে ‘ভীত-সন্ত্রস্ত’ করতে রাশিয়া এমন হামলা শুরু করেছে।

কেবল কিয়েভই নয় গোটা ইউক্রেনজুড়েই রোববার জোর হামলা শুরু করেছে রুশ সেনারা। কিয়েভ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরের চেরকাসি অঞ্চলে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ খবর জানিয়েছে।

অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহর চেরকাসি, যেখানে একজন মারা গেছে এবং উত্তর-পূর্ব খারকিভ অঞ্চল।

উত্তর-পূর্বের সামি অঞ্চলে মর্টার হামলায় একজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে খারকিভ অঞ্চলের কাছেও হামলা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামলায় সেখানে ৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে হিসাব দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে জি-৭ ভুক্ত দেশের নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধকে আলোচ্যসূচির শীর্ষে রেখে দক্ষিণ জার্মানির বাভারিয়ায় তিন দিনের শীর্ষ সম্মেলন শুরু করার সময় এই হামলা চালানো হয়৷ এই সম্মেলনে তারা কিয়েভের জন্য আরও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং মস্কোর ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজকে সম্মেলনের ঠিক আগে বলেন, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভাবছেন কোনো না কোনোভাবে ন্যাটো ও জি-৭ ভেঙে যাবে।

বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেল বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে যুদ্ধের বিষয়ে পশ্চিমা ঐক্য ভেঙে পড়েছে, কিছু নেতা রাশিয়ার সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করছেন এবং অন্যরা ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী, স্থায়ী সমর্থনের ওপর জোর দিচ্ছেন।

;