রাশিয়ার বিরুদ্ধে খারকিভ হামলার অভিযোগ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে নতুন করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। খারকিভের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দুটি শহরে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইউক্রেনের। শনিবারের (১৮ মে) এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয় বেসামরিক আহত হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রসিকিউটরেরা জানিয়েছেন, খারকিভের আঞ্চলিক রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করছেন তারা। রুশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভোভচানস্ক শহরে হামলায় ৬০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া তিন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে।  

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার পুনঃআক্রমণ মোকাবিলায় তার দেশের সেনাদের সাফল্যের কথা জানিয়েছেন। এক ভিডিও ভাষণে তিনি বলেন, ‘খারকিভ অঞ্চলে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এ ছাড়া পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের চাসিভ ইয়ার শহরের চারপাশে রুশ হামলা প্রতিহত করা হচ্ছে। আমাদের সেনারা রাশিয়ার ২০টিরও বেশি সাঁজোয়া যান ধ্বংস করেছে।’

এদিকে বেসামরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। দেশটির বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। 

গত সপ্তাহে বেলগোরোদে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে  ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি রাশিয়ার। শনিবার বেলগোরোদের আঞ্চলিক গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ গ্ল্যাদকভ জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পেট্রোভকা গ্রামে একজন নারী ও একজন পুরুষ আহত হয়েছেন।

   

ইউক্রেনকে ৩১ কোটি ডলার সহায়তা দেবে ব্রিটেন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনের জন্যে ৩১ কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইতালির জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) তিনি এ ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের জন্য ব্রিটেনের ওই সহায়তার খবর নিশ্চিত করেছে ঋষি সুনাকের কার্যালয়।

বুধবার (১২ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্মেলনে ইউক্রেনের মানবিক সহায়তা, জ্বালানি ও স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদে পুনরুদ্ধারের ভিত্তির সমর্থনে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেবেন সুনাক।

এছাড়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ইউক্রেনকে সহায়তার কাজে লাগানোর জন্যে জি-৭ সম্মেলনে অন্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন সুনাক।

সুনাকের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এই সংকটময় মুহুর্তে ইউক্রেনকে সমর্থন এবং পুতিনের অবৈধ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রচেষ্টায় আমাদেরকে অবশ্যই সিদ্ধান্তমূলক ও সৃজনশীল হতে হবে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বের শক্তিধর জি-৭ নেতৃবৃন্দ ইতালির পুগলিয়াতে যে, এক শীর্ষ সম্মেলনে জড়ো হচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে এই শীর্ষ সম্মেলনে মূল এজেন্ডা হিসেবে থাকছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কিও যোগ দিচ্ছেন এতে।

;

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিবাদে আর্জেন্টিনায় ব্যাপক বিক্ষোভ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিবাদে দেশটিতে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বুধবার (১২ জুন) তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভ দমাতে শত শত পুলিশ সেখানে কাঁদুনে গ্যাস ও মরিচের গুড়া এবং জলকামান ব্যবহার করেছে।

সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক চলার সময় বাইরে বিক্ষোভকারীরা এ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। এ সময় কংগ্রেস ভবনের বাইরে দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা বেড়া টপকে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়লে তারাও মরিচের গুড়া ছুড়ে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মরিচের গুড়ার কারণে সাতজন বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনই আইনপ্রণেতা বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে আরও বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারী বুধবার রাতে দুটি গাড়ি উল্টে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর মধ্যে একটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের গাড়ি।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সঘের্ষে নয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে এক এক্স বার্তায় বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো লাঠি, পাথর, এমনকি গ্রেনেড নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছে। তারা অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টায় আছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইর অর্থনৈতিক সংস্কারের বিল নিয়ে কংগ্রেসের ভেতরে সিনেটররা তুমুল বিতর্ক করেছেন। তারা মূল বিলটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

গত এপ্রিলে বিলে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যরা। সেটার অনুমোদন দিয়েছেন সিনেটররাও।

প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারে রয়েছে এক বছরের জন্য দেশটিতে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে প্রেসিডেন্ট মিলেইকে ক্ষমতা দেওয়া, রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাসহ কয়েক ডজন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া। এছাড়া ন্যূনতম অবসরকালীন ভাতা পাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।

বামপন্থীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারে শিক্ষানবীশকালের মেয়াদ বাড়িয়ে শ্রম অধিকার দূর্বল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সিনেটের আলোচনায় বিরোধী আইনপ্রণেতারা এ সংস্কার কার্যক্রম আর্জেন্টিনার অগ্রগতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।

বিলটির বিরোধিতায় রয়েছে সামাজিক সংগঠন, বামপন্থী রাজনৈতিক দল, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।

;

শেষ মুহূর্তে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে গাজা যুদ্ধ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে চাওয়ার ঘোষণার মধ্যে মারাত্মক যুদ্ধে কাঁপছে ফিলিস্তিনি ভূখন্ড।

যদিও মধ্যপ্রাচ্য সফর সমাপ্ত করে শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক এন্টনি ব্লিঙ্কেন বুধবার (১২ জুন) বলেছেন, গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তি এখনো সম্ভব।

এরই মধ্যে হামাসের মিত্র লেবাননের ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হওয়ার একদিন পর তারা এই হামলা চালালো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের গাজা যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য সফরের শেষ পর্যায়ে দোহায় পৌঁছে ব্লিঙ্কেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি সম্পন্ন করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

হামাস গত মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারী কাতার এবং মিশরের কাছে তাদের সংশোধনী জমা দিয়েছে এবং ব্লিঙ্কেন বলেছেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর কিছু সমর্থনযোগ্য এবং কিছু গ্রহনযোগ্য নয়।’

হামাসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ওসামা হামদান বলেছেন, তারা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সানাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছেন। এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এবং আরব শক্তিগুলোর অনুমোদিত তিন-পর্যায়ের পরিকল্পনায় ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি, জিম্মি-বন্দী বিনিময় এবং গাজার আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেছেন, হামাসের অনেক দাবি অপ্রত্যাশিত নয়।’

ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ইসরায়েল এই পরিকল্পনার পেছনে ছিল, তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের উগ্র ডানপন্থী সদস্যরা এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে সমর্থন করেনি।

এদিকে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, দেশটির উত্তরের (লেবানন) পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জিম্মি মুক্তির ইস্যুতে হামাসের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আলোকে বুধবার একটি নিরাপত্তা মূল্যায়ন বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

ব্লিঙ্কেন আশা প্রকাশ করেছেন, চুক্তির মতপার্থক্যগুলোর নিরসন করা যেতে পারে। তিনি বলেন ‘আমাদের দেখতে হবে আগামী দিনে সেই ফাঁকগুলো পূরণ করা যায় কি না।’

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ব্লিঙ্কেনকে ইসরায়েলের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

হামাস বলেছে, ‘তিনি ইসরায়েলের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের চুক্তির বিষয়ে কথা বলে চলেছেন। কিন্তু, আমরা কোনো ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কথা বলতে শুনিনি।’

অন্যদিকে, রক্তক্ষয়ী গাজা যুদ্ধ এখন নবম মাসে চলে এসেছে। লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে সহিংসতা তীব্র হয়েছে।

লেবাননের একটি সামরিক সূত্র বলেছে, গত মঙ্গলবার একটি ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় প্রতিদিন গুলি বিনিময় হচ্ছে।

বুধবার হিজবুল্লাহ প্রায় ১৫০টি রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর ইসরায়েলে আছড়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, এতে আগুনের খবর পাওয়া গেছে কিন্তু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উপর একটি ড্রোন হামলাসহ আরও ১০টিরও বেশি হামলার দাবি করেছে।

;

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে বিশ্বের ১২ কোটি মানুষ : জাতিসংঘ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুদ্ধ, সহিংসতা এবং নিপীড়নের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ কোটি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের এই সংখ্যাকে বিশ্বের রাষ্ট্র সমুহের বিনুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ হিসাবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ফের আগের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গাজা, সুদান এবং মিয়ানমারের মতো জায়গায় সংঘাতের ফলে আরও বেশি লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা এখন জাপানের মোট জনসংখ্যার সমতুল্য।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির একটি বড় ধরনের কারণ হলো সংঘাত।’

ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরের শেষে ১১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এপ্রিলের শেষের দিকে সংখ্যাটি আরও বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সংখ্যাটি এক বছর আগের ১১ কোটি থেকে বেড়েছে এবং টানা ১২ বছর ধরে বেড়ে চলে আসছে। নতুন এবং পরিবর্তনশীল সংকটের সংমিশ্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্যর্থতার কারণে ২০১২ সাল থেকে বর্তমান সময়ে এটি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

গ্র্যান্ডি এএফপি’কে বলেন, আট বছর আগে যখন তিনি চাকরি নিয়েছিলেন তখন উচ্চ স্থানচ্যুতির পরিসংখ্যানে তিনি হতবাক হয়েছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইউএনএইচসিআর গত বছর ২৯টি দেশে ৪৩ বার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, যা কয়েক বছর আগে ছিল তার চার গুণেরও বেশি।

গ্র্যান্ডি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যখন সংঘাত পরিচালিত হয়, তখন প্রায়শই তা বাস্তুচ্যুতিতে শক্তিশালী অবদান রাখে।

গ্র্যান্ডি স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন না মানার প্রবণতা কমার আশা বর্তমানে কম বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তন না হলে বাস্তুচ্যুতির চিত্রটি ক্রমাগত বাড়তে থাকবে।’

জাতিসংঘের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষে ১১৭.৩ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৬৮.৩ মিলিয়ন লোক তাদের নিজের দেশে অভ্যন্তরীণভাবেই বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। শরণার্থী এবং অন্যান্যের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪৩.৪ মিলিয়নে বেড়েছে। সকল শরণার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসী ধনী দেশে যায় এমন ধারণার বিরুদ্ধে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ শরণার্থীকে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ৭৫ শতাংশ নিম্নে ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করে, যেগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের আয়ের ২০ শতাংশেরও কম উৎপাদন করে।

২০২৩ সালের পর থেকে সুদানের প্রতিদ্বন্ধী দুই জেনারেলের মধ্যে যুদ্ধ দেশটির ৯০ লাখেরও বেশি লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে। ২০২৩ সালের শেষে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সুদানিকে বাস্তুচ্যুত করেছে।

গ্র্যান্ডি প্রতিবেশী চাদে পালিয়ে আসা অনেকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যারা গত ১৪ মাসে প্রায় ৬ লাখ সুদানিকে আশ্রয় দিয়েছে।

গ্রান্ডি এএফপি’কে বলেছেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ একটি বিধ্বস্ত দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশে পাড়ি দিচ্ছে।’

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং মিয়ানমারে গত বছর ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের কারণে আরও লক্ষাধিক মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে গাজায় জাতিসংঘের অনুমান ১৭ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ, তারা ৮ মাস আগে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর অনুমান করেছে যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ গত বছর দেশের অভ্যন্তরে নতুনভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সেখানে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ মোট ৩৭ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোক নিবন্ধিত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে বেড়ে ৬০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, সিরিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ জোরপূর্বক দেশের ভিতরে এবং বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

;