ব্রিটিশ রাজার চেয়েও ধনী ঋষি-অক্ষতা দম্পতি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও তার স্ত্রী অক্ষতা মূর্তির ব্যক্তিগত সম্পদ দেশটির রাজা চার্লসের চেয়েও বেশি। গত বছর এই দম্পতির সম্পদ ১২২ মিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে ৬৫১ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। এর আগের বছর তাঁদের সম্পদ ছিল ৫২৯ মিলিয়ন পাউন্ড।

সানডে টাইমস প্রকাশিত শীর্ষ ধনীদের তালিকার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ঋষি সুনাকের স্ত্রী অক্ষতা মূর্তি ভারতীয়। তার বাবা নারায়ণ মূর্তি ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা। গত বছর নারায়ণ মূর্তি তাঁর নাতিকে ইনফোসিসের তিন কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার উপহার দিয়েছেন। ওই শেয়ারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই ঋষি–অক্ষতা দম্পতির সম্পদ বেড়েছে বলে গণমাধ্যমডগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ রাজা চার্লসের সম্পদ ৬১০ মিলিয়ন পাউন্ড। গত বছর এটি ঋষি সুনাক দম্পতির চেয়ে বেশি ছিল। এ বছর ঋষিদের সম্পদ ৬৫১ মিলিয়ন পাউন্ড হওয়ার শীর্ষ ধনীর তালিকায় পিছিয়ে পড়লেন রাজা চার্লস।

তবে ব্রিটিশ রাজ পরিবারের হাতে কত সম্পদ রয়েছে, তা প্রকাশ্য নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। ফলে রাজা চার্লসের প্রকৃত সম্পদ অনুমান করাও কঠিন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাবমতে, রাজপরিবারের অধীনে থাকা একাধিক প্রাসাদ ও জায়গার দাম মিলিয়ে ১২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।

প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনীর তালিকা প্রকাশ করে থাকে সানডে টাইমস। এবারের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে গোপী হিন্দুজা অ্যান্ড ফ্যামিলি (৩৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড)। এরপর ধারাবাহিকভাবে স্যার লিওনার্দ ব্লাভাতনিক (২৯ দশমিক ২৫ বিলিয়ন পাউন্ড), ডেভিড অ্যান্ড সাইমন রুবেন অ্যান্ড ফ্যামিলি (২৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন পাউন্ড), স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ (২৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন পাউন্ড), স্যার জেমস ডাইসন অ্যান্ড ফ্যামিলি (২০ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড), বারনাবি অ্যান্ড মার্লিন সুয়্যার অ্যান্ড ফ্যামিলি (১৭ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড), ইডান অফার (১৪ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন পাউন্ড), লক্ষী মিত্তাল অ্যান্ড ফ্যামিলি (১৪ দশমিক ৯২ বিলিয়ন পাউন্ড), গাই জর্জ অ্যাল্যান্নাহ অ্যান্ড গ্যালেন ওয়েস্টন অ্যান্ড ফ্যামিলি (১৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন পাউন্ড) ও জন ফ্রেডরিকসেন অ্যান্ড ফ্যামিলি (১২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন পাউন্ড)।

রাজনীতিতে প্রবেশেরও আগে থেকে যুক্তরাজ্যের ধনী হিসেবে পরিচিত ঋষি সুনাক। তিনি হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। গত বছর তার দেওয়া আয়কর তথ্য থেকে জানা যায়, ঋষির মোট সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড।

ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনীর তালিকায় এসেছেন মূলত তার স্ত্রীর ইনফোসিসের শেয়ারের কারণে। বর্তমানে তাদের শেয়ারের দাম ৫৯০ মিলিয়ন পাউন্ড।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রি ঋষি সুনাকের সম্পদের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের কোনও জানায়নি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিট।

   

ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা-গঙ্গার পানি ভাগাভাগি সম্ভব নয়: মোদিকে মমতা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজ্যের অংশগ্রহণ ছাড়া তিস্তা ও গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কোনো আলোচনা করা উচিত হবে না বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে মমতা মোদিকে পাঠানো চিঠিতে তিস্তা এবং ফারাক্কার পানি বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা করেছেন। এমনকি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের মানুষের সেচ ও খাওয়ার জন্য পানির প্রয়োজন হয়।'

তিনি বলেন,`তিস্তায় পানির প্রবাহ বছরের পর বছর ধরে কমে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পানি ভাগাভাগি করা হলে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ সেচের পানির অপর্যাপ্ততার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।'

'এ ছাড়া, উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের খাবার পানির প্রয়োজনীয়তা মেটাতেও তিস্তার পানি প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি ভাগাভাগি করা সম্ভব নয়', চিঠিতে উল্লেখ করেন মমতা।

চিঠিতে মমতা লেখেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই চিঠি লিখছি। মনে হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তিস্তা ও গঙ্গা পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পরামর্শ ও মতামত ছাড়া এ ধরনের একতরফা আলোচনা গ্রহণযোগ্য বা কাম্য নয়।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা আরও লিখেছেন, ‘রাজ্যের ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আমি বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি এবং সর্বদা তাঁদের মঙ্গল কামনা করি। পশ্চিমবঙ্গ অতীতে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশ-ভারত ছিট মহল বিনিময়ের চুক্তি, ইন্দো-বাংলাদেশ রেলওয়ে লাইন ছাড়াও বাস পরিষেবাগুলো এই অঞ্চলে অর্থনীতির উন্নতির মাইলফলক।’

পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পানি খুবই মূল্যবান এবং মানুষের জীবন রেখা। আমরা এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আপস করতে পারি না, যা জনগণের ওপর মারাত্মক এবং বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের চুক্তির প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমি বুঝতে পেরেছি ভারত সরকার, ভারত-বাংলাদেশ ফারাক্কা চুক্তি নবীকরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হবে। এটি একটি চুক্তি যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জল বণ্টনের নীতিগুলো বর্ণনা করে।’

এরপর সেই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে মমতা লিখেছেন, ‘আপনি জানেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা বজায় রাখার জন্য নদীর পানি একটি বিশাল প্রভাব রয়েছে। ফারাক্কা ব্যারেজে পানি সরানো হয়, তা কলকাতার বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।’

‘আমি আপনার নজরে আনতে চাই, ভারত ও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের নদীর রূপতত্ত্ব পরিবর্তিত হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করেছে এবং রাজ্যের পানির প্রাপ্যতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং কিছু ঘোষণাও এসেছে। সেখানে তিস্তা-গঙ্গার পানিবণ্টনসহ পশ্চিমবঙ্গ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হলেও ডাক পাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে মমতা কড়া ভাষায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।

আলোচনার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে তিস্তার পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য শিগগির একটি কারিগরি দল বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।

;

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রধান নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রধান হানি আল জাফরি নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ জুন) গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটির একটি ক্লিনিকে বিমান হামলাটি চালানো হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হানি আল জাফরির মৃত্যু সংবাদটি বিবৃতি দিয়ে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (আইডিএফ) দাবি করেছে, বিমান অভিযানে হানি আল জাফরি নন, নিহত হয়েছেন হামাসের কমান্ডার ও অস্ত্র প্রস্তুত বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সালাহ।

আইডিএফের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সালাহ ছিলেন সন্ত্রাসীগোষ্ঠী হামাসের কৌশলগত সামরিক অস্ত্র প্রস্তুত প্রকল্পের নির্বাহী। এই প্রকল্পে হামাসের যত লোকবল রয়েছে, তাদের সবাই সালাহর নির্দেশ মেনে চলে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত এক হামলার জবাবে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলই নিরাপত্তা বাহিনী (আইডিএফ)। হামাস নির্মূলের নামে এখনও অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে হামলা-অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলই সেনারা। সাড়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ আগ্রাসনে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনি, যাদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

;

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব পড়বে তরুণ দৃষ্টিভঙ্গির



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা

ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২২ সালে হিজাব না পরায় গ্রেফতারের পর মৃত্যু হয় মাহসা আমিনির। এরপর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইরানে। সে বিক্ষোভে দেখা যায় মতাদর্শের দিক থেকে তরুণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা। দেশটির বর্তমান সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই তরুণ হওয়ায় তাই এবারের নির্বাচনের মূল প্রভাবক তারাই। 

ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তরুণ ভোটারই নিয়ামক হিসেবে দেখা দিয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাস তরুণদের রক্ষণশীলতা এবং সংস্কারবাদ দুই ভাগে ভাগ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সাথে কথা বলেন ২০২২ সালের হিজাব বিরোধী আন্দোলনে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থী আতুসা। নিরাপত্তার কারণে পুরো নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

২২ বছর বয়সী আতুসা ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, সে বিক্ষোভ দমনেই যোগ দিয়েছিলেন বর্তমান সরকারের অনুগত আরেক তরুণ রেজা। দুই তরুণ ইরানির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিগত দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। আর সেটিই এবার প্রভাব রাখতে পারে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও, বদলে দিতে পারে ফলাফল।

আগামী শুক্রবার (২৮ জুন) ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আতুসা এ নির্বাচনকে সার্কাস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইব্রাহিম রাইসির উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার জন্য শুক্রবারের ব্যালটে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন তিনি।

কিন্তু রেজা কট্টরপন্থী হওয়ায় তিনি ভোট দিতে চান, এবং ভোট দেওয়াকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। ফলে নির্বাচনে বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্যণীয়। যা ৪৫ বছরের ইতিহাসে দেশটি আবারও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে।

আতুসা বলেন, ‘ইরানের সব নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও একটি সার্কাস। আমি যখন শাসনের পতন চাই, তখন কেন আমি ভোট দেব? এমনকি যদি এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনও হয় এবং যদি সমস্ত প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তারপরও ভোট দিব না, কারণ আমি জানি ইরানের প্রেসিডেন্টের কোন ক্ষমতা নেই।’

গত কয়েক সপ্তাহে ইরানিরা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ হ্যাশট্যাগ ‘ইলেকশন সাকার্স’ ব্যাপকভাবে পোস্ট করেছে। দেশে এবং বিদেশে কিছু ইরানি নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের রাজনৈতিক ধারায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হলেন সুপ্রিম লিডার, যে পদে এখন আছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আর ইরানের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাবলে দ্বিতীয়। তবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কট্টরপন্থী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে।

২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে আটক করে দেশটির পুলিশ। ঠিকমতো হিজাব না পরায় মাহসাকে গ্রেফতারের পর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইরানে। বিক্ষোভে অনেকেই হিজাব না পড়ে অংশ নেন।

সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে আটক হোন আতুসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হোন। ইরানের সরকার বিরোধীদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির তৎতকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ওই হিজাব বিরোধী আন্দোলনে দমনে পুলিশি হামলায় ৫ শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।

আতুসা বলেন, ‘আমি আশাবাদী ছিলাম, আমি ভেবেছিলাম অবশেষে পরিবর্তন আসবে এবং আমি একটি স্বাধীন দেশে কোনো দমন-পীড়ন ছাড়াই জীবনযাপন করতে পারব। আমি চরম মূল্য দিয়েছি, কিন্তু শাসন এখনও সে অবস্থায় আছে।’

উল্লেখ্য, ইরানের ১৪তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনই রয়েছেন কট্টরপন্থী। একজন রয়েছেন স্বল্প-মধ্যপন্থী, তবে তিনিও কট্টরপন্থী সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের কম। ফলে, সকল প্রার্থীই সোশ্যাল মিডিয়ায়, বক্তৃতায় এবং প্রচারে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

;

ভারতে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে নিহত বিয়ের কনে



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নিহত কাজল আহিরওয়ার

নিহত কাজল আহিরওয়ার

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ২২ বছর বয়সী কাজল আহিরওয়ার নামে এক তরুণীকে বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাক্তন প্রেমিক গুলি করে হত্যা করে।

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির একটি বিউটি পার্লারে বিয়ের মেক-আপ করাচ্ছিলেন কাজল। তখন তার প্রাক্তন প্রেমিক জোর করে ভিতরে প্রবেশ করে এবং তাকে একাধিক গুলি করে। রোববার (২৩ জুন) তার বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত দীপক গুলি করার আগ মুহুর্তে বলছিল, ‘কাজল বাহার আও, তুমনে হুমে ধোখা দিয়া হ্যায় (বাইরে এসো, কাজল। তুমি আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ)।’

এ সময় দীপকের মুখ রুমালে ঢাকা ছিল। গুলি চালানোর পরপরই বিউটি পার্লার থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ দুটি দল গঠন করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং পার্লারের মালিক জাহ্নবী ঝা বলেন, মেয়েটি দাতিয়াতে থাকেন। তিনি এখানে তার মেক-আপের জন্য এসেছেন। তার সাথে চারটি মেয়ে এসেছিল। আমি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এখানে এসেছি। তখন মেক-আপের কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। হঠাৎ একজন লোক তার সঙ্গে প্রবেশ করেন। মুখ ঢেকে বললেন, 'কাজল, প্লিজ বাইরে এসো'। কাজল বাইরে যেতে আপত্তি জানালে কাঁচের দরজা ভেঙে জোর করে লোকটি ভিতরে ঢুকে এবং তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার বলেন, ‘যে লোকটি মেয়েটিকে গুলি করেছে সে তার গ্রামেরই। সে তাকে চিনত। কেন সে তাকে গুলি করেছে তা তদন্তের বিষয়। পরিবারের সাথে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি যে তারা বিয়ের জন্য ঝাঁসি যাচ্ছিল। লোকটি এখানে তাকে অনুসরণ করে এবং গুলি করে।’

;