আর্মেনিয়া সীমান্তের ৪ গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আজারবাইজান 



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আর্মেনিয়া সীমান্তবর্তী গাজাখ জেলার চারটি গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আজারবাইজান। শুক্রবার (২৪ মে) আজারবাইজানের সীমান্ত পরিষেবা গ্রাম চারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্ত চুক্তির অধীনে চারটি গ্রাম আজারবাইজানকে ফিরিয়ে দিয়েছে আর্মেনিয়া। এর আগে গত মাসে জনবসতিহীন গ্রামগুলোকে আজারবাইজানের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল দেশটি।

উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহিন মুস্তাফায়েভ বলেন, ‘আর্মেনিয়ার সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির অধীনে এ গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী আজারবাইজানকে ফেরত দেওয়া এই অঞ্চলের আয়তন ৬ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার।’

আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘ দিন ধরেই বৈরী। গত তিন দশক ধরে দেশ দুটি পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। এরমধ্যে এই চুক্তি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এদিকে চারটি গ্রাম আজারবাইজানের কাছে হস্তান্তর করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন একদল আর্মেনীয় বিক্ষোভকারী। তারা আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

   

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে বিশ্বের ১২ কোটি মানুষ : জাতিসংঘ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যুদ্ধ, সহিংসতা এবং নিপীড়নের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ কোটি মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের এই সংখ্যাকে বিশ্বের রাষ্ট্র সমুহের বিনুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ হিসাবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ফের আগের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গাজা, সুদান এবং মিয়ানমারের মতো জায়গায় সংঘাতের ফলে আরও বেশি লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা এখন জাপানের মোট জনসংখ্যার সমতুল্য।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির একটি বড় ধরনের কারণ হলো সংঘাত।’

ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরের শেষে ১১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এপ্রিলের শেষের দিকে সংখ্যাটি আরও বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে আনুমানিক ১২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, সংখ্যাটি এক বছর আগের ১১ কোটি থেকে বেড়েছে এবং টানা ১২ বছর ধরে বেড়ে চলে আসছে। নতুন এবং পরিবর্তনশীল সংকটের সংমিশ্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্যর্থতার কারণে ২০১২ সাল থেকে বর্তমান সময়ে এটি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

গ্র্যান্ডি এএফপি’কে বলেন, আট বছর আগে যখন তিনি চাকরি নিয়েছিলেন তখন উচ্চ স্থানচ্যুতির পরিসংখ্যানে তিনি হতবাক হয়েছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইউএনএইচসিআর গত বছর ২৯টি দেশে ৪৩ বার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, যা কয়েক বছর আগে ছিল তার চার গুণেরও বেশি।

গ্র্যান্ডি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যখন সংঘাত পরিচালিত হয়, তখন প্রায়শই তা বাস্তুচ্যুতিতে শক্তিশালী অবদান রাখে।

গ্র্যান্ডি স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন না মানার প্রবণতা কমার আশা বর্তমানে কম বলেই মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে পরিবর্তন না হলে বাস্তুচ্যুতির চিত্রটি ক্রমাগত বাড়তে থাকবে।’

জাতিসংঘের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষে ১১৭.৩ মিলিয়ন বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে ৬৮.৩ মিলিয়ন লোক তাদের নিজের দেশে অভ্যন্তরীণভাবেই বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। শরণার্থী এবং অন্যান্যের আন্তর্জাতিক সুরক্ষার প্রয়োজনের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৪৩.৪ মিলিয়নে বেড়েছে। সকল শরণার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসী ধনী দেশে যায় এমন ধারণার বিরুদ্ধে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটির মতে, অধিকাংশ শরণার্থীকে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ৭৫ শতাংশ নিম্নে ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বসবাস করে, যেগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের আয়ের ২০ শতাংশেরও কম উৎপাদন করে।

২০২৩ সালের পর থেকে সুদানের প্রতিদ্বন্ধী দুই জেনারেলের মধ্যে যুদ্ধ দেশটির ৯০ লাখেরও বেশি লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে। ২০২৩ সালের শেষে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সুদানিকে বাস্তুচ্যুত করেছে।

গ্র্যান্ডি প্রতিবেশী চাদে পালিয়ে আসা অনেকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যারা গত ১৪ মাসে প্রায় ৬ লাখ সুদানিকে আশ্রয় দিয়েছে।

গ্রান্ডি এএফপি’কে বলেছেন, ‘প্রতিদিন শত শত মানুষ একটি বিধ্বস্ত দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশে পাড়ি দিচ্ছে।’

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এবং মিয়ানমারে গত বছর ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের কারণে আরও লক্ষাধিক মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে গাজায় জাতিসংঘের অনুমান ১৭ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ, তারা ৮ মাস আগে শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর অনুমান করেছে যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ গত বছর দেশের অভ্যন্তরে নতুনভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সেখানে ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ মোট ৩৭ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত লোক নিবন্ধিত হয়েছে।

ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৫ হাজার থেকে বেড়ে ৬০ লক্ষে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, সিরিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ জোরপূর্বক দেশের ভিতরে এবং বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

;

আর্জেন্টিনার সিনেটে বাজেট সংস্কার বিল পাস, বাইরে বিক্ষোভ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় বাজেট সংস্কারের প্রস্তাব পাসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১২ জুন) দেশটির উচ্চ কক্ষ সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা সিনেট ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় তারা পেট্রোল বোমা ও পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে বিক্ষোভকারীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংস্কার বাজেটে সরকারি পেনশন ও শ্রম অধিকারসহ নাগরিক সুবিধা হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে। বিক্ষোভের সময় দেশটির রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

বাজেট সংস্কারের প্রস্তাব পাসের ফলে আর্জেন্টিনার লাখ লাখ নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা।

সংস্কার বাজেট বিলের প্রস্তাব করেন আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই। দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে জাগ্রত করতে মূলত তিনি এ সংস্কার চাচ্ছেন।

তবে দেশটির বিরোধীদল, শ্রম সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা তার এই সংস্কার প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে।

প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের এ সংস্কার প্রস্তাবটি সিনেটে সমান সমান (৩৬-৩৬) ভোটে আটকে ছিল। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েল তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি পাস করান।

;

গাজায় ‘বিপর্যয়কর ক্ষুধা’র ঝুঁকিতে ৮ হাজার শিশু: ডব্লিউএইচও



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নির্মম হামলায় মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে গাজা। গত আট মাস ধরে চলমান এই হামলা এখনো অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি তীব্র খাদ্যসংকট ও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে অবরুদ্ধ গাজায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেইসুস সতর্ক করে বলেছেন, গাজায় ‘বিপর্যয়কর ক্ষুধা’ ও ‘দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এ অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহ থাকলেও যাদের প্রয়োজন তারা পর্যাপ্ত এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৯৪ শিশু নিহত হয়েছে। ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু তাদের বা-মাকে হারিয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য এবং অপুষ্টিতে ভুগছে পাঁচ বছরের কম বয়সী আরও ৮ হাজারের বেশি শিশু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।


গাজার একজন সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, গাজার খাদ্য ঘাটতি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, বেশিরভাগ খাদ্যপণ্য এখন ফুরিয়ে গেছে।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৭ হাজার ২০২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮৫ হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিক। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জনে।

;

জেলেনস্কির শহরে রাশিয়ার হামলা, নিহত ৯



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৯ জন। 

সংবাদমাধ্যম ‍বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বুধবার (১২ জুন) একটি আবাসিক ভবনে হামলার ঘটনায় আহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। এর আগে চারজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে জরুরি সেবা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে সার্চ ডগ। হামলার পর ওই এলাকায় আগুন নেভাতে দেখা গেছে দমকল কর্মীদের।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা ডিএসএনএসের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত এক নারীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

;