ভারতের নির্বাচনে-সংসদে মুসলিমদের সংখ্যা কমছে



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবং জাতীয় সংসদে মুসলিমদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১২ জুন) ভয়েস অব আমেরিকার একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ২৭ জন মুসলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ২০২৪ সালে নির্বাচিত হয়েছেন ২৪ জন অর্থাৎ গত ২০১৯ সালের নির্বাচন থেকে ৩ জন কম।

২০১৯ সালে যত মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছিল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার থেকে ৪১ জন কম মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ভারতে এবারের লোকসভায় সংসদে অংশ নেবেন ২৪ জন মুসলিম সংসদ সদস্য। এর মধ্যে জাতীয় কংগ্রেসের জন্য নির্ধারিত বেঞ্চে ৭ জন বসবেন। এরপরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল থেকে নির্বাচিত ৫ সংসদ সদস্য।

উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন ৪ জন মুসলিম প্রার্থী। কেরালার ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ থেকে ৩ জন এবং কাশ্মিরের ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে ২ জন, হায়দ্রাবাদের অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সংখ্যা ১ জন এবং নির্দলীয় ২ জন। এছাড়া জাতীয় কংগ্রেস দল থেকে ১ জন সংসদে অংশ নেবেন।

জনসংখ্যার ১৪.২ শতাংশ, লোকসভার ৪.৪২
ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-র ২শ ৯৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মুসলিম, খ্রিস্টান বা শিখ সমাজের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য একজনও নেই। উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশ থেকে বিজেপির এক বৌদ্ধ প্রার্থী এবারেও বিজয়ী হয়েছেন।

বিজেপি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরে লোকসভায় কখনোই মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ৫ শতাংশের বেশি হয়নি।

ভারতে মুসলিম জনপ্রতিনিধি ১৯৫৭ এবং ১৯৯৯ সাল ছাড়া প্রতিবারই ছিল ৫ শতাংশের ওপরে। সর্বোচ্চ মুসলমান জনপ্রতিনিধি ছিল ১৯৮০ সালে ৯.০৪ শতাংশ এবং ১৯৮৪ সালেও ছিল ৮ শতাংশের ওপরে। এবারে তা নেমে এসেছে ৪.৪২ শতাংশে, যা ২০১৯-এর থেকেও বেশখানিকটা কম।

ভারতে ২০১১ সালের শেষ জনশুমারি অনুসারে দেশে মুসলিম জনসংখ্যা ১৪.২ শতাংশ অর্থাৎ ১শ ৭২ কোটি। ভারতে অতীতেও এই হারের ধারে কাছেও যায়নি লোকসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব। সেইসঙ্গে ২০১৪ সালের পর থেকে তো আরো দ্রুত কমছে।

মুসলিম প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন না
মুসলিম সংসদ সদস্যের সংখ্যা ২৭ থেকে কমে ২৪ জনে এসে দাঁড়ালেও ২০২৪-এর নির্বাচনে সব দলই কমসংখ্যক মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। অতীতে কখনোই এত কমসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

১০ বছর আগে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সব দল মিলিয়ে ৩শ ২০ জন মুসলিম প্রার্থী ছিলেন, যা ২০১৯-এ নেমে আসে ১শ ১৫ জনে। এবারে তা কমে হয়েছে ৭৮ জনে অর্থাৎ প্রতি নির্বাচনে ভারতে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা দ্রুত হারে কমছে।

সম্ভবত তার চেয়েও লক্ষণীয় বিষয় হলো, ভারতের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসে এই প্রথম কেন্দ্র সরকারে কোনো মুসলমান মন্ত্রী নেই। এটা ২০১৪ এবং ২০১৯ সালেও হয়নি। ১০ বছর আগে লোকসভায় মুসলমান সংসদ সদস্যের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম, মাত্র ২৩ অর্থাৎ এবারের চেয়েও একজন কম। কিন্তু সে সময়েও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন নাজমা হেপতুল্লা।

বিজেপি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৩শয়ের বেশি আসন পায় কিন্তু তখনও একজন মুসলমান মন্ত্রী ছিলেন সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। তার নাম মুখতার আব্বাস নাকভি। এর অর্থ দাঁড়ায় ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ভারতের রাজনীতি ক্রমশ ‘বহুত্ববাদী চরিত্র’ হারিয়ে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে আগাচ্ছে। শুধু তাই-ই নয়, হিন্দুত্ববাদী দক্ষিণপন্থী দলের শক্তি যাই হোক, বিজেপিবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো এখন আরো কমসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রধান বিরোধী দলগুলি, যারা নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বলে দাবি করে, তাদের মধ্যে কংগ্রেস ২০১৯ সালে ৩৪ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল। এবারে দিয়েছে মাত্র ১৯ জন। যদিও তখন তারা জিতেছিলেন ৪টি আসনে। এবারে কমসংখ্যক মুসলিম প্রার্থী দিয়ে জিতেছেন ৭টি আসনে।

তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিল ১৩ জন। এবার সেখানে দিয়েছে ৬ জন। সমাজবাদী পার্টি দিয়েছিল ৮ জন। এবার তারা দিয়েছে মাত্র ৪ জন। বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল দিয়েছিল ৫ জনকে এবং ২০২৪ সালে মনোনয়ন দিয়েছে ২ জন মুসলিম প্রার্থীকে। অর্থাৎ বিজেপি-বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিতেও মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

মুসলিম প্রার্থী কম দিলেও বেশি জিতলেন কেন
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কম প্রার্থী দিলেও শতাংশের হারে মুসলিম প্রার্থী জিতেছেন বেশি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে কলকাতার প্রতীচী ইনস্টিটিউটের জাতীয় গবেষণা সমন্বয়ক এবং রাজনীতি বিশ্লেষক সাবির আহমেদ বলেন, গত ১০ বছরের ‘ট্রেন্ড’ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, বিজেপির আসন যত বাড়ছে, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব লোকসভায় তত কমছে।

এবার এনডিএ এবং প্রধানত বিজেপির আসন হ্রাস পাওয়ার ফলে, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিরোধীরা আগের থেকে প্রার্থী অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল এবার। ফলে, একটা চিন্তার জায়গা তৈরি হয় যে, শেষপর্যন্ত কতজন মুসলিম প্রার্থী লোকসভায় যেতে পারবেন।

এবার বিরোধীরা যদি ২০১৯ সালের বা অতীতের মতো মুসলিম প্রার্থী দিতেন তবে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল বলে মনে হয়।

কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ রিয়াজও মনে করেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার কারণেই লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব আরো কমে গেছে।

আগামী দিনের ভারতের রাজনীতি সম্পর্কে এটি কী ইঙ্গিত দেয়, এ প্রশ্নের উত্তরে অধ্যাপক রিয়াজ বলেন, ভারতের রাজ্য বিধানসভা বা লোকসভায় মুসলিমদের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব কখনোই ছিল না। এর পরে আবার জোরালো হিন্দুত্ববাদী হওয়ার জেরে তারা আরও প্রান্তিক হয়েছেন বা বলা যায় লোকসভা থেকে কার্যত অদৃশ্য হয়ে গিয়েছেন।

এর প্রধান কারণ হিসেবে বিজেপি-বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে দায়ী করেন তিনি।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি ধরেই নিয়েছে যে, মুসলিম ভোট তারাই পাবে, এই ধরে নেওয়ার রাজনীতি মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ক্রমাগত কমাচ্ছে। যে সব আসনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, সেখানে তাদের জেতার সম্ভাবনাও ক্রমেই কমছে।

এটাকেই হিন্দুত্ববাদের সবচেয়ে বড় জয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা, যখন বিজেপি আসন কম পেলেও পরাজয়ের আশঙ্কায় ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।

চীনে শপিং মলে আগুন, নিহত ১৬



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান প্রদেশের একটি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানায়, জিগং শহরের একটি হাই-টেক জোনের ১৪ তলা বিল্ডিংয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘন ধোঁয়ায় আশেপাশের এলাকা ঢেকে যায়।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী সিসিটিভি জানিয়েছে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টায় উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে।

সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে নির্মাণকাজ থেকে আগুন লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

;

উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা, ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৮ জুলাই) রাজ্যের ত্রাণ কমিশনারের অফিসের বরাতে দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

নিহতদের মধ্যে মোরাদাবাদ এবং গোরখপুর গ্রামের ৩ জন এবং পিলিভীত, ললিতপুর, গাজিপুর এবং ইটাতে একজন মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের ১৩টি জেলা বন্যা কবলিত। জেলাগুলো হল- লখিমপুর খেরি, কুশিনগর, শাহজাহানপুর, বারাবাঙ্কি, সিদ্ধার্থনগর, বালিয়া, গোরখপুর, উন্নাও, দেওরিয়া, হারদোই, অযোধ্যা, বুদাউন এবং মহারাজগঞ্জ। এ অঞ্চলের নদীগুলি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

;

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নিহত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৮১ ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘের স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৮১ জন নিহত হয়েছেন।

ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেছেন, গাজায় যুদ্ধের সব নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে, গত ১০ দিনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনি ফিলিস্তিনের অন্তত আটটি স্কুলে হামলা চালিয়েছে। এসব স্কুলে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মনসুর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে (ইউএনএসসি) বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলা ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নথিভুক্ত গণহত্যা’।

জাতিসংঘ বলেছে, দেইর এল-বালাহে এলাকায় জাতিসংঘের অপারেশন সেন্টারের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের এই অপারেশন সেন্টার থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় করা হয়।

জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, গত ৯ মাসের যুদ্ধে গাজায় জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্কুলগুলো বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়শিবির হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত এসব স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৬২০ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গত ৯ মাসে ইসরায়েলি হামলায় ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এছাড়াও ৮৯ হাজার ৩৬৪ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, গত ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। এছাড়া হামাসের হাতে বন্দি রয়েছেন দুই শতাধিক ইসরায়েলি নাগরিক।

;

কোটা আন্দোলনে যা ঘটছে, তা নজরে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে বাংলাদেশে যা ঘটছে তা ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দুতাবাস এবং ওয়াশিংটন থেকে গভীরভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এছাড়া বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে নিজেদের উদ্বেগের বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টের পোডিয়াম থেকে জানান দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।

বিগত দেড় দশক ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ যে নির্যাতন এবং সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে সেজন্য সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সরাসরি কোনো কথা বলা যাবেনা বলে জানান এই মুখপাত্র।

ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে ছাত্রলীগ এবং আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর দ্বারা পরিচালিত সহিংসতার বিষয়টি উত্থাপন করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, 'বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন সরকার। সরকারের মদদপুষ্ট আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর, বিশেষ করে ছাত্রীদের ওপর নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। গত প্রায় দেড় দশক ধরে এই সংগঠনটি এধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে। আপনারা কী ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত করবেন কীনা?'

জবাবে মিলার বলেন, 'আপনি যে বিষয়ের কথা বলেছেন (ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা) সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কোন কথা বলতে যাচ্ছিনা। ঢাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তা আমরা নজরে রেখেছি। আন্দোলন যেন শান্তিপূর্ণ হয় আবারও সেই আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে যেকোন ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই।'

অপর এক প্রশ্নে এই প্রতিবেদক জানতে চান, 'বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আবু সাঈদ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন তার সহপাঠিদের নিরাপত্তার জন্য। পুলিশ তাকে গুলি করতে কোনো দ্বিধা করেনি। তিনি নিজেও বুঝে উঠতে পারেননি যে সহপাঠিদের সুরক্ষা দেবার সময় পুলিশ তাকে এভাবে গুলি করবে। জালিয়াতির নির্বাচনের পর এরকম নির্যাতন করেই শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেছিলেন, ‘পুরো বিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ কিন্তু জনগণের অধিকারই যেখানে লুট করে নেয়া হয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে আপনারা একদম নিরব হয়ে গেলেন। কেনো এমন হলো?'

জবাবে মিলার বলেন, 'প্রথম কথা হচ্ছে, আপনি যেটা বলেছেন সেটা ঠিক নয়। আমরা নিরব হয়ে যাইনি। আপনি সপ্তাহজুড়ে আমাকে বারবার কথা বলতে দেখেছেন। গত সোমবার বলেছি এবং আজকে আবারও বলছি, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিপক্ষে যেকোনো ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানাই।'

তিনি বলেন, 'ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং ওয়াশিংটন থেকে আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে যা ঘটছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা নিহত হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে এটা আমাদের নজরে রয়েছে।'

মিলার বলেন, 'আমরা সরকারকে আহ্বান জানাবো তারা যেনো একজন নাগরিকের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান জানায়।'

;