দ্বিতীয় দিনেও চলছে ফ্রান্সে ধর্মঘট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আন্দোলনের ছবি, ছবি: রয়টার্স

আন্দোলনের ছবি, ছবি: রয়টার্স

  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সর্বজনীন পেনশন সংস্কার পরিকল্পনা ও বাধ্য করে চাকরির সময়সীমা বাড়ানোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মত ধর্মঘটে পালন করছে দেশটির জনগণ। যার ফলে স্থবির হয়ে গেছে পুরো দেশ।

ম্যাক্রোঁ তার নীতি থেকে সরে না আসলে ধর্মঘটে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ট্রেড ইউনিয়নগুলো। আর ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার রূপরেখা তৈরির জন্য প্রধান প্রধান ট্রেড ইউনিয়নগুলো শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে একটি বৈঠক করে।

বৃহস্পতিবারের (৫ ডিসেম্বর) ন্যায় শুক্রবারেও ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলনকারীরা। এর আগে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের বিমানবন্দরের কর্মী, পরিবহন কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, পুলিশ, দমকল বাহিনী ও সরকারি কর্মচারীরা ধর্মঘটে অংশ নিয়ে আন্দোলন করে। তবে ফ্রান্সের কিছু শহরে আন্দোলন সহিংসতার দিকে গেলে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এছাড়া কয়েক ডজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

রেল কর্মীরা শুক্রবারও ধর্মঘট পালন করছে। যার ফলে প্যারিসের ১৬টির মধ্যে ১০টি মেট্রো লাইন বন্ধ হয়ে যায়। রেল কর্মীদের সংগঠন রাটপা থেকে বলা হয়, সোমবার পর্যন্ত তারা ধর্মঘট পালন করবে।

ধর্মঘটের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে রেল ব্যবস্থা, ছবি: রয়টার্স

এদিকে ধর্মঘটের ফলে রাজধানীর আশেপাশে ৩৫০ কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়েছে। ধর্মঘটের বিষয়ে ৫০ বছর বয়সী প্যারিস পরিবহন কর্মচারী প্যাট্রিক ডস সান্টোস বলেন, আমরা কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য প্রতিবাদ করতে যাচ্ছি। আর এ সপ্তাহের শেষের দিকে সরকার তার নীতি থেকে সরে আসবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।

শুক্রবারের ধর্মঘটে স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী জিন-মিশেল ব্ল্যাঙ্কার। আর ধর্মঘটে সহিংসতা বন্ধে রাজধানী প্যারিসে ৬ হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যা মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফ্রান্সে আগে ৪০ ধরনের পেনশন স্কিম চালু ছিল। কিন্তু বর্তমান ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ ব্যয় কমানোর জন্য পয়েন্ট বেসড পেনশন পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ফলে কর্মজীবীদের পেনশন কমে যাবে বলে ধারণা করে। আর তাই তারা আন্দোলনে নামে।

আপনার মতামত লিখুন :