প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েই ব্যবসা শুরু করল শিশুটি!



মাজেদুল নয়ন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৬ বছর বয়সী কায়সার রিফকি মার্টিন

৬ বছর বয়সী কায়সার রিফকি মার্টিন

  • Font increase
  • Font Decrease

মালয়েশিয়ার সাবাহ অঞ্চলের ঘটনা। বছরের দ্বিতীয় দিনে স্কুলে যাওয়ার সময় ৬ বছর বয়সী কায়সার রিফকি মার্টিনকে মাত্র ২ রিঙ্গিত বা ৪০ টাকা দিলেন মা হাসমি সামসুদ্দিন। ২ রিঙ্গিত দিয়ে প্রয়োজনে কিছু খেতে পারবে সন্তান। কিন্তু দুপুরে যখন মার্টিন ঘরে ফিরলেন, মা অবাক। ২ রিঙ্গিতের বদলে ৪ রিঙ্গিত বা ৮০ টাকা নিয়ে ঘরে ফিরেছে পুত্র।

এরপর সন্তানের মুখে যা শুনলেন, সেটাতে থ হয়ে গেলেন হাসমি। সন্তানের কৌশলী মার্কেটিংয়ে যেমন বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি রাগও করেছেন!

প্রথম বছরের দ্বিতীয় দিন নয় শুধু, কায়সারের স্কুল জীবনের শুরুও এই বছরেই। ছেলে যে স্কুলে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এমন অবাক কাণ্ড করে বসবেন, সেটা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেননি মা।

হাসমি বলেন, আমি কোনোভাবেই হিসেব মিলাতে পারছিলাম না। সে দুই রিঙ্গিত নিয়ে স্কুলে যেয়ে কিভাবে ৪ রিঙ্গিত নিয়ে ফিরলো। প্রথমে খুব রেগে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, সে হয়তো সহপাঠীদের থেকে টাকা চুরি করেছে।

সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে যেয়ে হাসমি বলেছেন, দুপুরে স্কুল থেকে ফিরে কায়সার তার টাকা জমানোর ছোট ব্যাংকটি খুঁজতে থাকে এবং বলতে থাকে, ‘আমার বোকা ব্যাংকটি কই? আমার কিছু টাকা ডিপোজিট করতে হবে।’

‘এটা ছিলো তার স্কুলের মাত্র দ্বিতীয় দিন। আমি সত্যি বিস্মিত যে সে স্কুল থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে এসেছে। যেখানে আমি তাকে মাত্র ২ রিঙ্গিত দিয়েছিলাম।’

‘আমি প্রথমে ভাবি, সে তার বন্ধুদের থেকে টাকা চুরি করেছে। তবে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে সে জানালো, একটি ফড়িং বিক্রি করেছে তার বন্ধুর কাছে।’

সন্তানকে চুরির জন্য দায়ী করার পর যখন মূল ঘটনা শুনলো তখন ৩৬ বছর বয়সী হাসমি বুঝতে পারছিলো না, তার কি অনুভূতি প্রকাশ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম। পরে অবশ্য বিস্মিত হয়েছি এটা ভেবে যে সন্তান তার নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেছে স্কুলে। এটা ভেবে একটু মজা পাচ্ছিলাম। তাই তার বাবাকে সন্তানের এই দুষ্টু বুদ্ধির কথা জানাতেই বিষয়টি ফেসবুকে আপ করি।

কায়সারের বাবা মার্টিন তামরিন পেশায় একজন নাবিক। অধিকাংশ সময় সাগরে জাহাজে কাটে। মার্টিনকে সন্তানের শৈশবের ঘটনাগুলো জানাতেই হাসমি মাঝে মধ্যেই এসব কিছু ফেসবুকে শেয়ার করেন।

‘আসলে আমি ওর বাবাকে বোঝাতে চাচ্ছিলাম, সে যখন সাগরে রয়েছে, তখন তার সন্তান কিভাবে বেড়ে উঠছে। সাগরে ফোনের নেটওয়ার্ক ভালো নয়। তাই সব সময় কথা বলাও যায় না। ফলে আমি ফেসবুকে দিয়ে রাখি। সে নেটওয়ার্ক পেলেই দেখতে পারে।

হাসমি ফেসবুকে তার সন্তানের এই কৌশলী ব্যবসার বিষয়টি শেয়ার করলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। ৬ বছর বয়সী এই ছেলের ব্যবসায়িক কৌশলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আবার অনেকে তাদের স্কুল জীবনে এই চকলেট বা খেলনা বিক্রির অতীতকেও স্মরণ করে পোস্ট দিয়েছেন।

অনেকেই বলছেন, কায়সার তাদেরকে উদ্দীপ্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় পড়াশোনা করা ঠিক হবে। আবার অনেকেই তার ফড়িং বিক্রির ব্যবসাকে ইউনিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।