এতদিনে ‘ব্ল্যাক পিট’ প্রথার বিলুপ্তি চান ডাচ প্রধানমন্ত্রী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রিসমাসের আগে ‘ব্ল্যাক পিট’ উদযাপন কৃষাঙ্গদের নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক প্রথা হিসেবে সমালোচিত। এ ব্যাপারে ২০১৩ সালে ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট বলেছিলেন, ‘ব্ল্যাক পিট কালো এবং এ ব্যাপারে আমার তেমন কিছু করার নেই’। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন গত কয়েক বছরে এই প্রথার ব্যাপারে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি এই প্রথার একদম বিলুপ্তি চান।

মিনিয়াপোলিসে নিরস্ত্র কৃষাঙ্গ ব্যক্তি জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলছে তীব্র আন্দোলন। এর সাথে সংহতি জানিয়ে নেদারল্যান্ডের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন বিষয়ে সংসদীয় বিতর্কে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তিনি একথা জানান।

ডাচ সংস্কৃতিতে সেইন্ট নিকোলাস বাচ্চাদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন। তার সাথে থাকে অসংখ্য পিট। সাধারণত সাদা চামড়ার লোকেরা মুখে কালো রঙ মেখে, মাথায় কোঁকড়ানো নকল চুল পরে এবং ঠোঁটে লাল লিপস্টিক দিয়ে ভাঁড়সুলভ চাকর পিট সাজে।

রুট বলেন, ২০১৩ সাল থেকে শিশুসহ অনেকের সাথে তার কথা হয়েছে যারা জানিয়েছে, পিটের কালো হওয়ার বিষয়টি তারা ভয়ানক বৈষম্য হিসেবে দেখে; ‘এবং আমি ভেবেছিলাম বাচ্চাদের জন্য ছুটিতে আমরা এটিই চাই’।
ডাচ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করছি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্ল্যাক পিট আর থাকবে না’।

যখন সমালোচকরা ব্ল্যাক পিটকে আক্রমণাত্মক হিসেবে বলছেন তখন সাদা চামড়ার ডাচদের সংকুচিত একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যুক্তি দেখিয়েছে, পিট একটি জাদুকরি কাল্পনিক চরিত্র। কোন জাতির প্রতিরূপ নয়।

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ডাচ স্লেভারি অ্যান্ড ইটস লিগ্যাসি এর প্রধান লিন্ডা নুইটমিয়ার বলেন, যে দেশ বর্ণবাদকে ঠিকমত স্বীকারই করতে চায় না সেখানে রুটের এমন বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

ইতোমধ্যে এই প্রথা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ব্ল্যাক পিটের গালে এমনভাবে রঙের আঁচড় দেওয়া থাকে যেন মনে হয় চিমনি গলে উপহার দিতে আসার সময় তার গালে কালি লেগেছে। অন্যরা বিভিন্ন রঙের পিট সাজিয়ে নাম থেকে ‘কালো’ কথাটা বাদ দিয়েছে।

ফ্লয়েড স্মরণে চলতি সপ্তাহে আমস্টার্ডাম এবং রটারডামে আন্দোলনে হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) রুট স্বীকার করেন, নেদারল্যান্ডে বৈষম্য একটি ‘নিয়মতান্ত্রিক সমস্যা’।