বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন নতুন মসজিদে নামাজ শুরু



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন নতুন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন নতুন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই মসজিদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী এলাকাবাসী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারবেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) আসর নামাজের পূর্বে মসজিদের নামফলক উন্মোচন এবং দোয়ার মধ্য দিয়ে মসজিদের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০ শতাংশ জমির ওপর ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজসহ তিনতলা এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মসজিদটিতে একইসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের ফ্লোরে ব্যবহার করা হয়েছে মার্বেল পাথর। রয়েছে ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেম।

মসজিদের চারপাশে কিছু কাজ এখনও বাকি। সব কাজ সম্পন্ন হলে গুঠিয়া মসজিদের পর এটি হবে বরিশালের দ্বিতীয় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ।

 মসজিদের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন, ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে। মসজিদটি নির্মাণের ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রদের নামাজ আদায়ে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান হলো।

বিরিশালের অন্যতম আরেকটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হলো- গুঠিয়া জামে মসজিদ। বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুড়িয়া গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর মসজিদটি শৈল্পিক বৈচিত্র্যের জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডারে বিদেশি মসজিদের সঙ্গে স্থান করে নিয়েছে গুঠিয়া বায়তুল আমান মসজিদ।

মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পৃথিবীর ২২টি দেশের সুন্দর স্থাপনাশৈলীর মসজিদ ঘুরে একটি সুন্দর নকশা তৈরি করান। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০০৬ সালে সমাপ্ত হয়। প্রায় তিন বছরে দুই লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে পরিপূর্ণতা পায় গুঠিয়া বায়তুল আমান মসজিদ।

মসজিদের সামনে তৈরিকৃত স্তম্ভটিতে ব্যবহৃত হয়েছে- মক্কা, মদিনা, জান্নাতুল বাকী, জাবালে নূর, আরাফাতের ময়দান ও মহানবী (সা.)-এর জন্মস্থানের মাটিসহ পৃথিবীর ২১টি স্থানের মাটি ও জমজম কূপের পানি।

গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

মসজিদটি নির্মাণে- কাচ, মার্বেল পাথরসহ উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। মসজিদে পুরুষ ও নারীদের নামাজের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।

১৪ একর জমির ওপর নির্মিত মসজিদের চারপাশে ছোটবড় মোট ২০টি গম্বুজ ও ১৯৩ ফুট উচ্চতার একটি মিনার রয়েছে। ২০ হাজার মানুষ ধারণক্ষমতা সমৃদ্ধ এ মসজিদে আরও রয়েছে ঈদগাহ ময়দান, কবরস্থান, এতিমখানা, হাফিজিয়া মাদরাসা, গাড়ি পার্কিং এলাকা, সীমানাজুড়ে মায়াবী লেক, একটি দীঘি, নার্সারি ও ফুলের বাগান। পুকুরে অজু কিংবা গোসলের জন্য রয়েছে টাইলস করা একটি সুন্দর ঘাট, তার ওপরে দু’টি বাদাম গাছ সামিয়ানার মতো ডাল বিছিয়ে ছায়া দিচ্ছে ঘাটলাজুড়ে।