রমজান পর্যন্ত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রমজান পর্যন্ত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন, ছবি: সংগৃহীত

রমজান পর্যন্ত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজরি মাসগুলোর মধ্যে ‘রজব’ বিশেষ ও মহিমান্বিত একটি মাস। এ মাস আসে রমজানের আগমনী বার্তা নিয়ে। তাই রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে হয়। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর থেকে রজব মাস শুরু।

এ মাসের বড় বৈশিষ্ট্য হলো- এ মাস আল্লাহ প্রদত্ত চারটি সম্মানিত মাসের (আশহুরে হুরুমের) একটি। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাস সম্পর্কে খুব গুরুত্ব দিতেন। ফলে রজবের চাঁদ দেখা গেলে তিনি কিছু বিশেষ আমল শুরু করতেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আনাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, যখন রজব মাস শুরু হতো, নবী করিম (সা.) তখন এ দোয়াটি পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধি করে দিন।’ –আল মুজামুল আওসাত: ৩৯৩৯

সুতরাং এখন থেকে রমজান পর্যন্ত দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়া দরকার। আলেমরা বলেছেন, ‘আশহুরে হুরুমের বৈশিষ্ট্য হলো, এসব মাসে ইবাদত-বন্দেগির প্রতি যত্নবান হলে বাকি মাসগুলোতে ইবাদতের তওফিক হয়। আর আশহুরে হুরুমে কষ্ট করে গোনাহ থেকে বিরত থাকতে পারলে অন্যান্য মাসেও গোনাহ পরিহার করা সহজ হয়।’ –আহকামুল কোরআন, জাসসাস: ৩/১১১

বর্ণিত দোয়া ছাড়াও এ মাসে এই আমলগুলো করা যেতে পারে।

রজবের প্রথম রাতের দোয়া কবুল হয়
পবিত্র হাদিস শরিফে রজবের প্রথম রাতে দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ এসেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘পাঁচটি রাত এমন আছে, যেগুলোতে বান্দার দোয়া আল্লাহতায়ালা ফিরিয়ে দেন না, অর্থাৎ অবশ্যই কবুল করেন। রাতগুলো হলো- জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার রাত।’ -মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭

রজব মাসের রোজা
রজব মাসে রোজা রাখার ভিন্ন কোনো ফজিলত নেই। তবে হ্যাঁ, এমনিতেই নফল রোজা রাখা অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল। মুহাদ্দিস হাকেম ইবনে হাজার (রহ.) লিখেছেন, বিশেষভাবে রজব মাসে রোজার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ ও আমলযোগ্য কোনো হাদিস নেই। -তাবইনুল আজার বিমা ওরাদা ফি ফজলি রজব: ১১

ইসলামি শরিয়তে রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ দিনগুলো ছাড়া যেকোনো দিনই নফল রোজা রাখা যায়। এর অনেক ফজিলত রয়েছে। তবে রজবের বিশেষ রোজা হিসেবে ফজিলতপূর্ণ মনে করে রোজা রাখা সুন্নত নয়। বিশেষত, রজবের রোজাকে সুন্নত ও মুস্তাহাব মনে করে নফল রোজা রাখা ঠিক নয়।

সমাজের প্রচলন আছে, ২৭ রজবে রোজা রাখা অনেক ফজিলত। এমনকি অনেকের মধ্যে এ বিশ্বাস রয়েছে যে এই একটি রোজার ফজিলত এক হাজার রোজার সমান। এ জন্য তাকে হাজারি রোজা বলে অভিহিত করা হয়। অথচ এ রোজার ব্যাপারে সহিহ ও গ্রহণযোগ্য কোনো বর্ণনা নেই।

রজব মাসে খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজারে তার ওফাত উপলক্ষে যে ‘উরস’ হয় সেখানে এমন অনেক পশু জবাই করা হয় যা মূর্খ লোকেরা হজরত খাজা (রহ.) বা তার মাজারের নামে মান্নত করে থাকে। এগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কারও নামে মান্নত করা, তা যদি পীর-বুজুর্গের নামেও হয়- তবুও তা শিরক।

আজমিরের ওরসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে লাল কাপড়ে মোড়ানো বিরাট ‘আজমিরি ডেগ’, ‘খাজার ডেগ’ আবার কোথাও কোথাও মাজারের আদলে অস্থায়ী মাজার স্থাপন করা হয়। পরে আজমির এর উদ্দেশ্যে মান্নত কিংবা প্রয়োজন পূরণের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, চাল-ডাল ইত্যাদি ওঠানো হয়। যা দেওয়াও হারাম এবং ওখান থেকে কিছু খাওয়াও হারাম। যারা এগুলো উঠায় তারা এগুলো দিয়ে আনন্দ-ফূর্তির আয়োজন করে। ঢোল-তবলা ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে নাচ-গানের আসর বসায়, নাচ-গানসহ নানা ধরনের গর্হিত কাজ করে, যা নিঃসন্দেহে হারাম।

   

হজ শেষে নবীর শহর মদিনায় যাচ্ছেন হাজিরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মদিনার উহুদ পাহাড় পরিদর্শন করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

মদিনার উহুদ পাহাড় পরিদর্শন করছেন হাজিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এবার মক্কায় পবিত্র কাবাঘর শেষ তাওয়াফ করে হাজিরা ফিরছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। যারা হজের আগে মদিনায় গিয়েছেন তারা চলে যাচ্ছেন নিজ দেশে। আর যারা হজের যারা আগে মদিনায় যাননি তাদের গন্তব্য এবার প্রিয় নবীর শহর পবিত্র মদিনা মোনাওয়ারা।

বুধবার (১৯ জুন) হাজিদের প্রথম কাফেলা মদিনায় পৌঁছেছে। তারা মসজিদে নববিতে নামাজ পড়ে নির্ধারিত সময়ে রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায় এবং পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করেন।

হজের পর পরই মদিনায় হাজিদের বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। হাজিদের অবস্থান নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মদিনার গভর্নর প্রিন্স সালমান বিন সুলতান। বুধবার মসজিদে নববিতে হাজিদের বরণ করেন তিনি।

এদিকে গত মঙ্গলবার (১৯ জুন) চলতি বছরের হজ পরিকল্পনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মক্কার ডেপুটি আমির ও কেন্দ্রীয় হজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল। তিনি বলেন, ‘এই বছরের হজ মৌসুমের সাফল্য ঘোষণা করতে পেরে আমি আনন্দিত। মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে আমরা আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে সক্ষম হয়েছি।’

এ সময় তিনি আগামী হজ মৌসুমের ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা অবিলম্বে শুরু হবে বলে জানান। তিনি বলেন, ‘হজযাত্রীদের সেবায় অর্জিত সাফল্য নতুন পর্বের সূচনা মাত্র। শিগগির আগামী বছরের হজ মৌসুমের পরিকল্পনার কাজ শুরু হবে।’

হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলিম পুরুষ ও নারীর ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ।

সৌদি সরকারের হিসাব অনুসারে, এ বছর ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ করেছেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন বিদেশি এবং দুই লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী রয়েছেন।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের জন্য গেছেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন। এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৩০ জন মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) থেকে হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়ে আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

;

উমরা ভিসা দেওয়া শুরু করেছে সৌদি আরব



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র মক্কা, ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কা, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় হজ-পরবর্তী মৌসুমের জন্য উমরা ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে হবে এবং আগের সব আইন কার্যকর রয়েছে। তবে ভিসা পেলেও এখনই সৌদি আরব যাওয়া যাবে না। ১ মহররম থেকে বিদেশিরা উমরার জন্য দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সৌদি প্রেস এজেন্সি এসব তথ্য জানিয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়, হজের পর ১ মহররম থেকে নতুন উমরা মৌসুম শুরু হবে। এদিন আরবি নববর্ষ, শুরু হবে হিজরি ১৪৪৬ সাল।

সদ্য সমাপ্ত হজের অভিজ্ঞতার আলোকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগামী উমরা ও হজ মৌসুম আরও সহজ, গতিশীল এবং মসৃণ করতে চায় বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সৌদির তরফে।

এসপিএ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সৌদি নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে এবং উমরা যাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা এবং তাদের চাহিদা পূরণের জন্য সেবা প্রদানের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব উমরা ভিসা সহজ করেছে। উমরা ভিসার মেয়াদ তিন মাস এবং উমরা ভিসায় সৌদি আরবের দর্শনীয় সব স্থানে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মূলত সারা বিশ্ব থেকে আসা হজযাত্রীদের ভ্রমণকে সহজ করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে এক কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি মুসলিম উমরা পালন করেছেন। এটা সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী উমরা মৌসুমে দুই কোটির বেশি মুসল্লি উমরা পালন করবেন।

আর চলতি বছর সৌদি সরকারের হিসাব অনুসারে, ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন পবিত্র হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন বিদেশি এবং দুই লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন সৌদি নাগরিক ও দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী রয়েছেন।

;

সন্তানের কাঁধে চড়ে মায়ের হজ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সন্তানের কাঁধে চড়ে মায়ের হজ, ছবি: সংগৃহীত

সন্তানের কাঁধে চড়ে মায়ের হজ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছর হজের দিন অর্থাৎ আরাফাতের ময়দান এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে। এক হজযাত্রী তার বৃদ্ধ মাকে কাঁধে নিয়ে ছায়ার খোঁজে পথ চলছেন। এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সৌদি গণমাধ্যম আল-আখবারিয়ায় প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, আরাফাতের ময়দানের এক রাস্তায় একজন হজযাত্রী গরম থেকে বাঁচতে তার মাকে কাঁধে নিয়ে পথ চলছেন। অন্য একজন হজযাত্রী ওই বয়স্ক নারীকে সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য তার ওপর ছাতা ধরে হাঁটছেন।

এমনিতে এবার হজের দিন অস্বাভাবিক গরম ছিলো। ফলে হজযাত্রীর বৃদ্ধ মা তীব্র গরমে ক্লান্তবোধ করছিলেন এবং হাঁটতে কষ্ট হচ্ছিল। এ সময় তিনি মাকে কাঁধে বসিয়ে পথচলা শুরু করেন।

প্রকাশিত ভিডিওটি মায়ের প্রতি প্রেম এবং ভক্তির একটি স্বতঃস্ফূর্ত চিত্রকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। মায়ের প্রতি ছেলের অটল আনুগত্যের প্রতীক এই ছবি। যদিও ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। কিন্তু গলায় থাকা পরিচয়পত্রের ফিতার রঙ দেখে অনুমান করা হচ্ছে, তারা ভারতীয়। তবে ভিডিওতে দেখা গেছে, মাকে কাঁধে নিয়ে তার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ ছিলো স্পষ্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়রা ওই ব্যক্তির কাজের প্রশংসা করে এটিকে মা-বাবার প্রতি সম্মানের একটি সুন্দর অভিব্যক্তি বলে অভিহিত করেছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। অনেকেই ব্যক্তির নিঃস্বার্থ কাজের জন্য তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।

কিছু মানুষ জানিয়েছেন, ছেলের সদয় আচরণ দেখে আল্লাহতায়ালা তাকে রহমত দান করবেন।

আবার কেউ লিখেছেন, অন্তর থেকে ভালোবাসা এমন ভাগ্যবান সন্তানদের জন্য। এমন সন্তান শুধু পরিবারেরই নয়, সমাজের আলোকিত দর্পন। আল্লাহ এই সন্তানের চেষ্টাকে তুমি কবুল করো।

;

আলোচিত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক স্ত্রীর বদলি হজ আদায় করলেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আল জাজিরার ফিলিস্তিন প্রতিনিধি ওয়ায়েল হামদান ইবরাহিম আদ-দাহদুহ, ছবি: সংগৃহীত

আল জাজিরার ফিলিস্তিন প্রতিনিধি ওয়ায়েল হামদান ইবরাহিম আদ-দাহদুহ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের রাজকীয় মেহমান হিসেবে স্ত্রীর বদলি হজ আদায় করলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ফিলিস্তিন প্রতিনিধি ওয়ায়েল হামদান ইবরাহিম আদ-দাহদুহ। আরব বিশ্বে তিনি ‘আবু হামজা’ নামে পরিচিত।

সৌদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এ নিয়ে দুই বার হজ পালন করেছেন তিনি।

যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনের গাজায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি পরিবারের অধিকাংশ সদস্য হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। আমার স্ত্রীর রয়ে যাওয়া ফরজ হজ আদায় করতে পেরে আমি আনন্দিত। স্ত্রীকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করাটা আমার হজে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। আনন্দের আরেকটি কারণ হলো, এটি পৃথিবীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণ-জমায়েত। মুসলমানদের অধিকাংশই এক স্থানে একই সময়ে হজের উদ্দেশ্যে একত্রিত হোন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা শুরুর পর অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সর্বশেষ আপডেট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য তিনি পৃথিবীব্যাপী প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

বিশ্ববাসীর সামনে গাজায় ইসরায়েলের বর্বরতা তুলে ধরার জন্য তিনি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পান। এমনকি একবার তার অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাও চালায় ইসরায়েলি সেনারা। গুরুতর আহত হলেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। এরপর লোকজন তাকে ‘গাজী’ উপাধিতে ভূষিত করে।

গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় তিনি বেঁচে গেলেও হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনির ন্যায় পৃথক পৃথক ইসরায়েলি হামলায় শহীদ হয়- তার ২ ছেলে, মেয়ে, নাতনি এবং স্ত্রী।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা শুরু হলে তার বড় সন্তান সাংবাদিক হামজা আদ-দাহদুহ (২৭), ভাতিজা আহমদ (৩০) ও মুহাম্মদ আদ-দাহদুহ নির্মমভাবে প্রাণ হারান।

১৬-১৭ জানুয়ারিতে কাতার ও মিসরীয় সাংবাদিকদের সিন্ডিকেটের তৎপরতায় ওয়ায়েল আদ-দাহদুহকে গাজা থেকে প্রথমে মিসর তারপর কাতারে সরিয়ে আনা হয়। এর আগে তার অন্য ৪ সন্তানকে মিসর নেওয়া হয়।

;