রমজানের সাধনা ও সফলতা



মোহাম্মদ সালেক পারভেজ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানের উদ্দেশ্য বয়ান করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পার।(২ : ১৮৩)

উপরোক্ত আয়াতে পুরোপুরি পরিষ্কার করে মহান আল্লাহ্ জানিয়ে দিয়েছেন, রমজানের উদ্ধেশ্য তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া-অর্জনকারীকে মুত্তাকী বলে। 

তাকওয়ার বিনিময় অসংখ্য, তবে আমি ৩টি উল্লেখ করছি। প্রথমটি হলো: কুরআনের মাধ্যমে উপকৃত হয়, কারণ “এই গ্রন্থটি মুত্তাকীদের জন্য পথ-নির্দেশ।”(২:২)। দ্বিতীয়টি: “যে ব্যক্তি আল্লাহ্কে ভয় করে, তিনি তার সকল সমস্যা সমাধান করে দেবেন এবং তার ধারণাতীত স্থান থেকে তাকে রিযিক দেবেন।(৬৫ : ২-৩) (এই খোশ-খবর ব্যষ্টিক । বুজুর্গদের ব্যক্তিগত জিন্দেগীতে এর প্রতিফলন দেখতে পাই)। তৃতীয়টি: “যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত ও তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে তাদের জন্য আকাশমণ্ডলীর ও পৃথিবীর যাবতীয় কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম।” (৭ : ৯৬)  ( এই সুখবর সমষ্টির জন্য। যেমন, সাহাবীগণ দলগতভাবে এই সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন।)

এবার তাহলে জানা দরকার তাকওয়া কি? তাকওয়া হচ্ছে মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহ্-ভীতির এমন একটি পর্যায়, যার কারণে সে সকল প্রকার গুনাহের কাজ বর্জন করে। সুতরাং যে ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত, বুঝতে হবে যে তার তাকওয়া হাসিল হয় নি।

তাকওয়া অর্জনের উপায়: প্রারম্ভে উদ্ধৃত (২ : ১৮৩) নং আয়াতটি হতে বুঝা যায় যে, সঠিকভাবে রোযা পালন করলে, তাকওয়া অর্জিত হয়। 

সঠিকভাবে সিয়াম সাধনা পালনে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কার।  রোযা পালনের কল্যাণে যে মুত্তাকী হয়ে গেছে, সে পুরোপুরি সার্থক। কিন্তু মহান আল্লাহ্ এতই দয়াবান যে, সঠিকভাবে রোযা রাখার জন্যও তিনি মহামূল্যবান  পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। যেমন পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ইফতারের সময় রোযাদার যখন দুআ করে, তখন তার দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।  (ইবনে মাজাহ-১৭৫৩) । রোযা হল (জাহান্নাম থেকে পরিত্রান লাভের) ঢাল এবং সুরক্ষিত দুর্গ। (মুসনাদে আহমদ-৯২২৫)। আললাহ তাআলা বলেন, ‘‘প্রত্যেক ইবাদতই ইবাদতকারী ব্যক্তির জন্য, পক্ষান্তরে রোযা  আমার জন্য। আমি নিজেই এর প্রতিদান দিব।” (বুখারী-১৯০৪)

লেখক: মোহাম্মদ সালেক পারভেজ, শিক্ষক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি