রমজানে আল কোরআনের বিশেষত্ব অনুধাবণ



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাহে রমজান পবিত্র কোরআনের মাস বিধায় এ মাসে আল কোরআনের বিশেষত্ব তথা গুরুত্ব ও মর্যাদা অনুধাবণ করে আমল করা অতীব জরুরি। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার কালামে এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে আল কোরআনের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব সম্পর্কে একাধিক বার বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন:

১. এটি (কোরআন) সেই কিতাব, যে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। (এটি) মুত্তাকীদের জন্যে পথনির্দেশিকা। (সুরা আল বাকারা: আয়াত: ২)

২. আর এটি একটি কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, এটি বরকতময়, সুতরাং তোমরা তা অনুসরণ কর এবং (আল্লাহকে) ভয় কর, যাতে তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হতে পার। (সুরা আল আনআম: আয়াত ১৫৫)

৩. এবং যখন কোরআন পড়া হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং চুপ করে থাক যাতে তোমরা দয়াপ্রাপ্ত হতে পার। (সুরা আল আরাফ: আয়াত ২০৪)

৪. এ কোরআন এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা রচনা করতে পারে এবং এটি এর সামনে যা আছে তার (অর্থাৎ পূর্ববর্তী কিতাবের) সত্যায়নকারী এবং সকল (আসমানী) কিতাবের বিস্তারিত বর্ণনা, যে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, যা জগৎসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (অবতীর্ণ)। (সুরা ইউনুস: আয়াত ৩৭)

৫. সুতরাং যখন কোরআন পাঠ করবে তখন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে। (সুরা আন নাহল: আয়াত ৯৮)

৬. নিশ্চয় এ কোরআন পথপ্রদর্শন করে সে (পথের) দিকে যা সর্বাধিক সরল-সঠিক এবং সুসংবাদ দেয় মুমিনদেরকে, যারা সৎকাজ করে তাদের জন্যে রয়েছে মহা প্রতিদান। (সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৯)

৭. এবং আমি কোরআন অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্যে আরোগ্য ও দয়া, আর তা জালিমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করে না। (সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ৮২)

৮. (এটি) একটি কোরআন, যাকে আমি (বিভিন্ন অংশে) পৃথক করেছি যাতে তুমি তা মানুষের নিকট থেমে থেমে পাঠ করতে পার এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে অবতীর্ণ করেছি। (সুরা বনী ইসরাঈল: আয়াত ১০৬)

৯. আর অবশ্যই আমি এই কোরআনে মানুষের জন্যে সব ধরনের দৃষ্টান্ত পেশ করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। আরবি ভাষার এই কোরআনে কোনো বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। (সুরা আয যুমার: আয়াত ২৭-২৮)

১০. অসীম দয়াময় ও পরম দয়ালুর নিকট থেকে অবতীর্ণ। এটি এমন একটি কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে আরবি কোরআনরূপে এমন সম্প্রদায়ের জন্যে যারা জানে। (সুরা হা-মীম আস সাজদা: আয়াত ২-৩)

১১. আর অবশ্যই আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্যে, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি? (সুরা আল কামার: আয়াত ১৭)

১২. এবং নিশ্চয় তা অবশ্যই বিরাট কসম, যদি তোমরা জানতে। নিশ্চয় এটি অবশ্যই সম্মানিত কোরআন। (যা) রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (লওহে মাহফুজে)। অতি পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না। (এটি) জগৎসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (সুরা আল ওয়াকিয়া: আয়াত ৭৬-৮০)

১৩. আর নিশ্চয় এটি (কোরআন)- মুত্তাকীদের জন্যে অবশ্যই একটি স্মারক। এবং আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যা অভিহিতকারী। আর নিশ্চয় (কোরআন) কাফিরদের জন্যে (আখেরাতে) অবশ্যই পরিতাপ। এবং এটি (কোরআন) অবশ্যই নিশ্চিত সত্য। অতএব তুমি তোমরা মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ঘোষণা কর। (সুরা আল হাক্কাহ: আয়াত ৪৮-৫২)

১৪. বল, ‘আমার প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেছে’ এবং বলেছে, ‘নিশ্চয় আমরা শ্রবণ করেছি এক বিস্ময়কর কোরআন’। (সুরা আল জিন: আয়াত ১)

এমন আরো বহু আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা পবিত্র কোরআনের পরিচিতি, গুরুত্ব, মর্যাদার বর্ণনা দিয়েছেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কোরআন সম্পর্কে একাধিক হাদিসে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ফলে প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর জন্য মাহে রমজানে পবিত্র কোরআন পাঠ, চর্চা ও গবেষণার বিশেষ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উচিত এবং কোরআনের সঙ্গে একাকার হয়ে কোরআনের আলোকে জীবন গঠন ও পরিচালনা করে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় সাফল্য অর্জন করা একান্ত কর্তব্য।