রমজানে মহানবীর (সা.) আমল



মাহমুদ আহমদ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশককের মাগফিরাতের দিনগুলো আমরা অতিবাহিত করছি, আলহামদুলিল্লাহ। রমজান এমন এক প্রিয় মাস যে মাসের আগমনে ঊর্ধ্বলোকেও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় এবং জান্নাত সুসজ্জিত করা হয়। হুজুর পাক (সা.) বলেন, ‘রমজানের শুভাগমন উপলক্ষে সমস্ত বছর জুড়ে জান্নাতকে সুসজ্জিত করা হয়। আর যখন রমজানের আগমন হয় তখন জান্নাত বলে, হে খোদা! এ মাসে তুমি তোমার বিশেষ বান্দাদেরকে আমার জন্য মনোনীত করো’ (বায়হাকি, সা’বুল ইমান)।

মহানবী (সা.) অন্যত্রে বলেন, রমজানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখো, কেননা এটি আল্লাহতায়ালার মাস, যা অতি বরকতমণ্ডিত এবং অতি উচ্চ পর্যায়ের। তিনি তোমাদের জন্য ঐ এগার মাস ছেড়ে দিয়েছেন, যে মাসগুলোতে তোমরা নিশ্চিন্তে পানাহার করে থাকে এবং সকল প্রকার স্বাদ আশ্বাদন করে থাকো কিন্তু তিনি নিজের জন্য একটি মাস মনোনীত করেছেন’ (মাজমাউয যাওয়ায়েদ)।

রমজানুল মুবারককে সাইয়্যেদুশ শুহুর অর্থাৎ সকল মাসের সরদারও বলা হয়েছে। এ মাস অগনিত বরকতের মাস। চৌদ্দশত বছর পূর্ব থেকে কোটি কোটি পুণ্যাত্মা এ মাস থেকে বরকত মণ্ডতি হয়ে এসেছে আর বর্তমানেও কোটি কোটি পবিত্রাত্মা এ মাস থেকে লাভবান হচ্ছে। এ দিনগুলোতে নিষ্ঠাবান রোজাদারদের দোয়া কবুলিয়্যতের মর্যাদা লাভ করে। তাদের প্রতি আধ্যাত্মিক নূর বর্ষিত হয়। তারা কাশফ বা দিব্যদর্শন, সত্য স্বপ্ন এমনকি ইলহামের কল্যাণও লাভ করতে সক্ষম হয়।

রমজানের দিনগুলোতে মহানবী (সা.)-এর ইবাদত সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন: রমজানে তিনি (সা.) কোমর বেধে নিতেন এবং পূর্ণ চেষ্টা-প্রচেষ্টা করতেন। মহানবী (সা.)-এর ইবাদতের অবস্থার বর্ণনা এভাবেও এসেছে যে, ‘রাতে ইবাদতের সময় তার (সা.) বক্ষ আল্লাহতায়ালার সমীপে কান্নাবনত হতো, হৃদয় বিগলিত হতো এবং বুকের মাঝে এমন কান্নার শব্দ শোনা যেত যেভাবে হাড়িতে পানি টগবগ করলে শব্দ হয়’ (শামায়েলে তিরমিজি)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাবার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (কানযুল উম্মাল, কিতাবুস সওম)।

একবার মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতা রোজাদারের জন্য দিন-রাত এস্তেগফার করতে থাকে’ (মাযমাউয যাওয়ায়েদ)।

হজরত আবু আমামা বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কছে আরয করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন কোন কাজ বলে দিন যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবো। তখন হুজুর (সা.) বললেন, আবশ্যকীয় কর্ম হিসেবে রোজা রাখো, কেননা এটি সেই আমল যার কোন উপমা বা পরিবর্তন নেই’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব, নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যে বান্দা খোদার পথে এক দিন রোজা রাখে আল্লাহতায়ালা তার চেহারা থেকে আগুনকে দূরে সরিয়ে দেন’ (মুসলিম ও ইবনে মাজা)। অপর একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, মহানবী (সা.) বলেনে, ‘খোদার জন্য এক দিনের রোজা পালনকারী থেকে জাহান্নাম শত বছর দূরত্বে পাঠিয়ে দেয়া হয়’ (নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।

হাদিসে এসেছে, হজরত আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) রমজান মাসকে ইবাদতের দিক থেকে সকল মাসের তুলনা সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানি অবস্থায় এবং নিজেকে যাচাই-বাছাই করে রাতে উঠে ইবাদত করে সে তার গুনাহসমূহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে সেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল’ (সুনানে নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।

সুবহানাল্লাহ! পবিত্র এই রমজান আমাদেরকে নিষ্পাপ হওয়ার জন্য আহ্বান করছে অথচ আমরা চলছি কোন পথে। আমরা আদৌ নিষ্পাপ হওয়ার চেষ্টা করছি? আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করে তার দয়ার চাদরে ঢেকে রাখুন, আমিন।

লেখক: ইসলামী গবেষক কলামিস্ট, -মেইল- [email protected]