অন্তরের রোজা



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

শরীর বা দেহ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতোই অন্তর ও হৃদয়কে রোজায় শামিল করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অন্তর ও হৃদয়কে পাপাচার, কুচিন্তা, বক্রতা, শত্রুতা, কুটিলতা থেকে সরল, সোজা ও পবিত্রতায় ভরপুর ঈমানের পথে রাখাই ঈমানদারের কর্তব্য এবং রোজার দাবি। অন্তরের রোজার বিষয় অনুধাবণ করার জন্য প্রথমে অন্তর/মন/হৃদয় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন:

‘যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, আল্লাহ তার অন্তরকে সরল পথ দেখান’ (সুরা তাগাবুন: আয়াত ১১)।

বস্তুত পক্ষে অন্তরের সরল পথ বা হেদায়েত হলো সকল হেদায়েতের মূল এবং তাওফিকের শিকড় তথা সকল সুকর্মের অনুপ্রেরণার উৎস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

‘শোন, দেহের মধ্যে একটি মাংসপি- রয়েছে, যখন তা সুস্থ থাকে তখন গোটা দেহটাই সুস্থ থাকে আর যখন তা অসুস্থ হয়ে যায়, তখন গোটা দেহটাই অসুস্থ হয়ে যায়। জেনে রাখো, তা হলো অন্তর’ (বোখারি শরিফ: ৫২)।

অন্তর সুস্থ থাকা কেবল মানুষের শরীর বা দেহের জন্যেই নয়, মানুষের যাবতীয় কল্যাণের জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষের সুস্বাস্থ্য, শান্তি, কল্যাণ বহুলাংশে নির্ভর করে তার অন্তর, মানসিকতা ও মনের সুস্থতার উপর। দুনিয়া এবং আখেরাতের সাফল্য ও কল্যাণের প্রয়োজনে দেহের পাশাপাশি অন্তরকেও সুস্থ, সচল, পবিত্র রাখতে হয়। কারণ, শারীরিক অসুস্থতার মতোই অন্তরের অসুস্থতা ও সমস্যা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দুনিয়ার কাজে এবং আখেরাতের কাজে পিছিয়ে দেয়। অন্তরকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন:

‘নিশ্চয় এর মাঝে যে ব্যক্তির জন্য প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে, যার একটি জীবন্ত অন্তর রয়েছে, অথবা যে ব্যক্তি একাগ্র চিত্তে শুনতে চায়’ (সুরা কাফ: আয়াত ৩৭)।

ফলে জীবন্ত, আগ্রহী, সুস্থ অন্তর একজন মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু অন্তর থাকলেই হবে না, একে জীবন্ত, সুস্থ ও পবিত্র রাখতে হবে। যদিও প্রতিটি মানুষেরই অন্তর আছে তথাপি অন্তর পবিত্র, সুস্থ ও জীবন্ত না হলে সেই অন্তর কোনো কাজে আসবে না।

সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে দুই ধরনের অন্তরের উপস্থিতি দেখা যায়। একটি হলো জীবন্ত অন্তর, যা ঈমানের নূরে উজ্জ্বল, তাকওয়া ও বিশ্বাসে ভরপুর। আরেক প্রকার অন্তর হলো মৃত, যা বেখেয়ালী, বেপরোয়া এবং ধ্বংস, অসুস্থতা ও অকল্যাণের কারণ। এরূপ অন্তর সত্য, কল্যাণ, আলো ও সুস্থতা থেকে বিমুখ হয়ে ধ্বংসের পথে গমনকারী। যাদের সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে:

‘মূলত এদের অন্তরে রয়েছে মারাত্মক ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তায়ালা এদের সে রোগ বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে পীড়াদায়ক শাস্তি। কেননা, তারা মিথ্যা বলেছিল’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১০)।

এইসব মৃত, অসুস্থ ও পথভ্রষ্ট অন্তর সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আরো ইরশাদ করা হয়েছে:

‘তারা বলে আমাদের অন্তরের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। মূলতঃ তাদের ক্রমাগত অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। অতঃপর তাদের সামান্য পরিমাণ লোকই ঈমান গ্রহণ করেছে।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ৮৮)।

‘তবে কি তারা এ কোরআন সম্পর্কে কোনো রকম চিন্তা গবেষণা করে না! নাকি এদের অন্তরসমূহের উপর তালা ঝুলে আছে!’ (সুরা মুহাম্মদ: আয়াত ২৪)।

‘তারা বলে, যে বিষয়ের দিকে তুমি আমাদের ডাকছো, তার জন্য আমাদের অন্তরসমূহ আবরণে আচ্ছাদিত হয়ে আছে, আমাদের কানেও রয়েছে বধিরতা’ (সুরা হা-মীম সাজদা: আয়াত ৫)।

পবিত্র কোরআনের এমন বহু আয়াতের মাধ্যমে মূলতঃ এটাই স্পষ্ট হয় যে, মানুষের অন্তরও অসুস্থ হয়, তালাবদ্ধ হয় এবং সত্য জানতে বিমুখ হলে অন্তর এক সময় মরেও যায়। যদিও খোদাদ্রোহী, পথভ্রষ্ট ও অন্যায়কারীর বুকেও একটি অন্তর আছে, তথাপি সে অন্তর জীবন্ত, কল্যাণকামী, পবিত্র, আলোকিত ও সঠিক পথে বিচরণশীল নয়। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি করে এই দোয়া পড়তেন:

‘হে আল্লাহ, হে হৃদয়ের পরিবর্তনকারী, আপনি আমার হৃদয়কে দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন’ (তিরমিজি শরিফ: ২১৪০)।

ফলে হৃদয় বা অন্তরকে সব সময় দ্বীনের দিকে রাখা দরকার এবং রোজার সময় সেটি আরো দৃঢ়ভাবে রাখা জরুরি, যাতে অন্তরের কুচিন্তা ও মন্দ প্ররোচনা দ্বারা ঈমান ও রোজার কোনো ক্ষতি না হয়। ইসলামী স্কলারগণ বলেছেন যে, অন্তরের রোজা হলো অন্তরকে ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুমন্ত্রণা, কুচিন্তা, খারাপ ও গর্হিত চিন্তা বা কল্পনা থেকে মুক্ত রাখা।

বিশ্বাসী, ঈমানদার, মুমিন-মুসলমানের অন্তর সর্বদা ঈমানের নূরে আলোকিত থাকতে হবে। ঈমান, দ্বীন ও কল্যাণের চিন্তায় মুমিন-মুসলমানের হৃদয় সর্বদা আলোকিত থাকে। মিথ্যা, কুফর, অসৎ চিন্তা, ষড়যন্ত্র, কুচিন্তা, কুমন্ত্রণা ইত্যাদি অন্ধকার সেখানে স্থান পাবে না। এসব অন্ধকার এবং হিংসা অহংকার, গিবত, বড়ত্ব ইত্যাদি থাকলে অন্তর কালিমাময় হয়ে যায়। সে কারণে রোজার মাধ্যমে শারীরিক কৃচ্ছ্বতা সাধনের পাশাপাশি অন্তর বা হৃদয়কেও অন্ধকারাচ্ছন্ন বিষয় থেকে পরিপূর্ণভাবে সরিয়ে রাখতে হবে।

রোজায় শরীর যেমন পানাহার করবে না, অন্তরও তেমনিভাবে খারাপ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবে। রোজায় শারীরিকভাবে পানাহার বন্ধ করে অন্তরে অসৎ চিন্তা ও পরিকল্পনা বহাল থাকলে রোজার হক আদায় হবে না। পানাহারের কষ্ট হলেও মন-মানসিকতায় উন্নতি এবং অন্তর আলোকিত হবে না। এজন্য রোজার সময় শারীরিকভাবে পানাহার বন্ধ করা, রিপুকে দমন করা যেমন দরকার, তেমনি অন্তরকে ঈমানের চিন্তায় মশগুল রাখা এবং যাবতীয় অন্ধকারময় কুচিন্তাকে পরিশুদ্ধ রাখাও বিশেষভাবে অপরিহার্য্য। কারণ সুস্থ দেহে যেমন সুস্থ মনের অবস্থান, তেমনি সুস্থ মনে বা অন্তরেও তেমনিভাবে সুস্থ দেহের অবস্থান। দেহ ও মন পারস্পরিকভাবে গভীর সম্পর্কযুক্ত। ফলে শরীর ও মন উভয়টিকেই পবিত্র, স্বচ্ছ, নিষ্কলুষ, কালিমাহীন রাখা একজন ঈমানদারের শারীরিক-মানসিক-আত্মীক কল্যাণের জন্য অতীব জরুরি। রোজার সময় এ বিষয়ে অধিক মনোযোগী হতে হবে, যাবে শরীরের পাশাপাশি মনও পবিত্রতা, কৃচ্ছ্বতা আর ঈমানের আলোয় আলোকিত হয়।

একটি হাদিস থেকে জানা যায় যে:

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবি সম্পর্কে তিনবার বললেন, লোকটি জান্নাতি। সেই সাহাবিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে, আপনি কোন আমলের দ্বারা জান্নাতের অধিকারী হলেন? সাহাবি বললেন, আমি যখন ঘুমাই তখন কারো প্রতি কোনো হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা থাকে না (খুতবাতুর রামাদান, পৃ. ৭৬)।

অতএব রোজায় দেহের পাশাপাশি মনের পরিশুদ্ধি সাধনের জন্যেও সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য। যার মাধ্যমে ঈমানের নূরে অন্তর আলোকিত হবে এবং আধ্যাত্মিকতা বা রুহানিয়্যাতের সৃষ্টি হবে।

   

পবিত্র শবে বরাত রোববার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পবিত্র শবে বরাত রোববার

পবিত্র শবে বরাত রোববার

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামীকাল রোববার (২৫ ফেব্রুযারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুুটি থাকবে।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর কিছু দিন পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। এ প্রেক্ষিতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরম করুণাময় সকল সংঘাত-সংকট থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন।’

রাষ্ট্রপতি পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী উল্লেখ করে এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

অপর এক পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র শবেবরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র শবেবরাত রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র শবে বরাত ১৪৪৫ হিজরি উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার এ উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ‘পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ‘পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন মাদারীপুর জামেআতুছ সুন্নাহ শিবচরের মুহতামিম হযরত মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ ফরিদী।

রোববার দিবাগরাত সাড়ে ১২টায় ‘আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলীর শাহাজাদ লেন জামে মসজিদের খতীব শায়খুল হাদিস মুফতী নজরুল ইসলাম কাসেমী। আর রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে ‘নফল নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর সাড়ে ৫ টায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন।

মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

;

বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তিতে সম্মাননা পেলেন বিশিষ্ট লেখকরা



নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামি ধারার সৃজনশীল প্রকাশনী বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী। মাসউদুল কাদির ও শেখ মুহাম্মদ রিয়াজের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাসিক মুসলিম নারী পত্রিকার সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল।

ক্বারী ইলিয়াস লাহোরীর তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। ফাঁকে ফাঁকে হামদ- নাত ও ইসলামি সংগীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে অনুষ্ঠান।

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. অ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ছাড়াও সংবর্ধিত লেখকরা বক্তব্য দেন। তারা লেখালেখি ও প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। জাতির ক্রান্তিকালে লেখকদের একতাবদ্ধ হয়ে লেখালেখি করার আহ্বান জানান বক্তারা। প্রকাশকদের উদার মনে লেখকদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

ইসলামি ও মৌলিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন: মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, মুফতী মুবারকুল্লাহ, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাসুদ মজুমদার, নূরুল ইসলাম খলিফা, অধ্যাপক এম. মুজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, আবদুল কাদির সালেহ, আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, ফরীদ আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ড. মুহাম্মদ সোলায়মান, মুহাম্মদ এনায়েত আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, ড. সালেহ মতীন, মো. শরীফ হোসেন, ড. মুহাম্মদ নুরউদ্দিন কাওছার, মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ মনজুরে মাওলা, শেখ মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. খায়রুল হাসান, জহির উদ্দিন বাবর, মাওলানা মুনীরুল ইসলাম, আইয়ূব বিন মঈন, মাসউদুল কাদির, মুফতী ফারুক আহমাদ, মুফতী মাহফূযুল হক, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, কাজী সিকান্দার, সাইফুল হক।

অনুবাদ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় উৎসাহ প্রদানে সম্মাননা পেলেন মুফতী আবু সাঈদ, মুফতি আবু উসায়মা আখতার, মুফতী আমিনুল ইসলাম আরাফাত, মুফতী শরীফুল ইসলাম, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ, মুফতী আশরাফ আলী, মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয় মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. (মরণোত্তর), এমদাদিয়া লাইব্রেরীর আব্দুল হালিম ও ইসলামিয়া কুতুবখানার মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে বই পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে পবিত্র ওমরার ব্যবস্থা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ল্যাপটপ ও তৃতীয় বিজয়ীকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৪০ জন বিজয়ী পুরস্কার লাভ করেন। বই পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মোস্তাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় খুলনার উম্মে হাবিবা এবং তৃতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইশতার জাহান। অনুষ্ঠানে কাজী সিকান্দার রচিত ‘লেখক হওয়ার ব্যাকরণ’ এবং মো. শরীফ হোসেন রচিত ‘চিন্তাগুলো যাক ছড়িয়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের লেখক ও পাঠকদের পক্ষ থেকে ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রকাশনাটির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

;

দুশ্চিন্তা দূর হয় দরুদ পাঠে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দরুদ একটি ফজিলতময় আমল, ছবি : সংগৃহীত

দরুদ একটি ফজিলতময় আমল, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশনা পবিত্র কোরআন-হাদিসে রয়েছে। মহান আল্লাহ তার রাসুলের প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত নাজিল করেন এবং তার ফেরেশতারাও নবীর জন্য রহমতের দোয়া করে। হে ঈমানদাররা! তোমরাও নবীর প্রতি রহমতের দোয়া করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ -সুরা আহজাব : ৫৬

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার মাধ্যমে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং পাপ মোচন হয়।

ইরশাদ হয়েছে, হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার ওপর অনেক বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করি। আপনি আমাকে বলে দিন, আমি (দোয়ার জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ করে রেখেছি তার) কতটুকু সময় আপনার ওপর দরুদ প্রেরণের জন্য নির্দিষ্ট করব? জবাবে নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি এক-তৃতীয়াংশ করি? নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরও বেশি করো, তাহলে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি অর্ধেক সময় নির্ধারণ করি? নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়। যদি আরও বেশি নির্ধারণ করো, তাহলে তা তোমার জন্যই ভালো। আমি বললাম, যদি দুই-তৃতীয়াংশ করি। নবী কারিম (সা.) বলেন, তোমার মন যা চায়।

যদি আরও বেশি নির্ধারণ করো তা তোমার জন্যই কল্যাণকর হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে আমি আমার (দোয়ার) সবটুকু সময়ই আপনার ওপর দরুদ পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট করে দেব? নবী কারিম (সা.) বলেন, তাহলে তোমার চিন্তা ও ক্লেশের জন্য তা যথেষ্ট হবে এবং তোমার গোনাহ মাফ করা হবে। -জামে তিরমিজি : ২৪৫৭

;

হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ, ছবি : সংগৃহীত

হজ মৌসুমে মক্কা-মদিনায় কাজের সুযোগ, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন পবিত্র হজ মৌসুমে সৌদি আরবের তিনটি শহরে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ রয়েছে। দেশটির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা, মদিনা ও জেদ্দা শহরে হজের সময় শূন্য পদে বেশ কিছু লোক নিয়োগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে পদগুলো হলো- হজ কন্ট্রোলার, কাস্টমার সার্ভিস, মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান, ড্রাইভার ও প্রকৌশলী। এসব পদে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

আগ্রহীদের লিংকে (https://hajcareers.haj.gov.sa/) আবেদন করতে বলা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে বসবাস করা স্থানীয় নাগরিক ও মুসলিম অভিবাসীদের জন্য হজের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এবার সৌদি হজযাত্রীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে চার হাজার ৯৯ রিয়াল থেকে ১৩ হাজার ২৬৫ রিয়ালের মধ্যে চারটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা দেওয়া হয়। পুরো অর্থ চার ধাপে পরিশোধ করা যাবে।

এর মধ্যে ২০ শতাংশ রমজান মাস শুরুর আগে এবং ৪০ শতাংশ ২০ রমজানের আগে শোধ করতে হবে।
গত বছর করোনা-পরবর্তীকালের সর্ববৃহৎ হজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৫ জন বিদেশি মুসলিম ছিলেন।

এদিকে গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে ১৩ কোটি ৫৫ লাখের বেশি মুসলিম ওমরাহ পালন করেন, যা ছিল সৌদি আরবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। একই বছর ২৮ কোটির বেশি মুসল্লি পবিত্র মসজিদে নববীতে নামাজ পড়েন ও রওজা শরিফ জিয়ারত করেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১ মার্চ হজের ভিসা ইস্যু শুরু হয়ে ২৯ এপ্রিল শেষ হবে। এরপর ৯ মে থেকে সৌদি আরবে হজযাত্রীদের গমন শুরু হবে।

;