রমজানে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজান মাসের রোজা ব্যক্তিগত আমল হলেও তা মুসলিম উম্মাহ এবং সমাজের সকল মানুষকে নানাভাবে উজ্জীবিত ও উদ্বেলিত করে এবং সৃষ্টি করে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। কারণ, মতাদর্শগত দিক থেকে, বিশ্বের সকল মুসলমান এক দেহ, এক প্রাণ, এক অন্তর। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের একটি শরীরের মতো বলেছেন। কারণ, নানা দেশের নানা রকমের মানুষগুলো ইসলামের আদর্শে একতাবদ্ধ রয়েছেন। ঈমান ও আমল তাদেরকে করেছে নিকটবর্তী ও পরস্পরের স্বজন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে:

‘আর তিনি তাদের অন্তরসমূহের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছেন। অথচ তুমি যদি দুনিয়ার যাবতীয় সম্পদও ব্যয় করতে, তবুও এ মানুষগুলোর অন্তরের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধন স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এদের মাঝে প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন। অবশ্যই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সুরা আনফাল: আয়াত ৬৩)।

‘হে মানব সম্প্রদায়, আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর আমি তোমাদের জন্য জাতি ও গোত্র বানিয়েছি, যাতে করে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। কিন্তু আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে আল্লাহ তায়াকে বেশি ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সবকিছু জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন’ (সুরা হুজুরাত: আয়াত ১৩)।

‘তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো’ (সুরা বাকারা: আয়াত ৪৩)।

ফলে ইসলাম গোষ্ঠী, বর্ণ, অঞ্চল, গোত্র নয়, ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে সমগ্র মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও একাকার হওয়ার আহ্বান ও অনুপ্রেরণা জাগায়। তৌহিদের ভিত্তিতে সুন্নাহর আলোকে বিশ্বের সকল মুসলমানের মধ্যে প্রীতি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা সৃষ্টি করে ইসলাম। সেই ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জাতিসত্ত্বার কাছে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার বিশেষ নেয়ামত হলো মাহে রমজান। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে:

‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের জন্য রোজার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের প্রদান করা হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযমশীল হতে পারো’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৮৩)।

‘তোমরা সবাই মিলে আল্লাহ রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমরা তোমাদের উপর দেওয়া আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের মনের মাঝে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন। অতঃপর তোমরা তাঁর অনুগ্রহে একে অপরের ভাই হয়ে গেলে’ (সুরা বাকারা: আয়াত ১৯৮)।

‘তোমরা তাদের মতো হয়ে যেও না, যাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে, এরাই হচ্ছে সেসব মানুষ, যাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে’ (সুরা আলে ইমরান: আয়াত ১০৫)।

মহানবী সাল্লøাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য হাদিসেও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:

‘আমার কাছে প্রত্যাদেশ এসেছে যে, তোমরা পরস্পরে বিনয় অবলম্বন করো। কেউ কারো উপর জুলুম করো না। কেউ কারো উপর দম্ভ করো না’ (মুসলিম শরিফ: ৬৪)।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ দেখার তাগিদ করা হয়েছে। ঈমান ও আমলের ভিত্তিতে প্রতিটি মুসলমান একে অপরের ভাইয়ের মর্যাদা পেয়েছে। তার হক যেমন আদায় করতে হবে, তেমনি তাকে কোনোভাবেই কষ্ট দেওয়া ও দম্ভ করা যাবে না। রমজানের পবিত্র পরিস্থিতিতে কেবল নিজের সাওয়াব ও লাভের চিন্তা না করে মুসলিম উম্মাহর অপর ভাইয়ের কথা চিন্তা

করাও তাই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র ও অসহায়কে সাহায্য করা এবং রোজা পালনের জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাও প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের একান্ত কর্তব্য।

তদুপরি যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সকল মুসলমানের লক্ষ্য রাখা উচিত তা হলো, কোনোভাবেই কোনো মুসলমানকে কষ্ট না দেওয়া বা বিপদে না ফেলা। বিশেষত যারা ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত, তাদের দ্বারা ভেজাল বা দ্রব্যমূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায়, সেটা লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য। মানুষকে কষ্ট দিয়ে বা বিপদে ফেলে কখনোই আল্লাহকে খুশি করা সম্ভব নয়। বরং এতে ঈমান ও আমল বরবাদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যতই নামাজ, রোজা করা হোক না কেন, উপার্জন যদি হালাল না হয়, ঘুষ, দুর্নীতি, মজুতদারি, মূল্যবৃদ্ধি ও ভেজালের মাধ্যমে  হয়, তবে সেসব আমল কবুল না হওয়ারই কথা।

ফলে রমজানে নিজের সাওয়াব ও আর্থিক লাভের জন্য প্রচ-ভাবে ব্যক্তি স্বার্থের অনুসারী হওয়া ইসলামের ‘উম্মাহ কনসেপ্ট’ এবং ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য চেতনার সম্পূর্ণ বিরোধী। রোজার সময় নিজের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর অন্য সদস্যদের স্বার্থের দিকে মনোযোগী হওয়াও কর্তব্য। বিশেষ করে, দরিদ্র ও অসহায়দের আর্থিক ও নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা একান্ত অপরিহার্য। তদুপরি, চাকরিজীবীরা ঘুষ-দুর্নীতির দ্বারা এবং ব্যবসায়ীরা ভেজাল-মূল্যবৃদ্ধির দ্বারা সমাজের অন্য সদস্যদের বিন্দুমাত্র কষ্ট ও দুর্ভোগের কারণ হলে তাদের রোজা বা ইবাদত নস্যাৎ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে রমজান মাসে নিজের আমলের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহ, সমাজ ও অপরাপর মুসলমান নর-নারী তথা মানবতার স্বার্থ দেখাও বিশেষ কর্তব্য রূপে বিবেচিত হওয়া দরকার।       

ইন্দোনেশিয়ার অগ্রযাত্রায় ইসলামি প্রভাব



ফারুক হোসাইন, অতিথি লেখক, ইসলাম
মসজিদে ইস্তিকলাল তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ

মসজিদে ইস্তিকলাল তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বিখ্যাত মার্ডিকা স্কয়ার। সেখানে অবস্থিত নান্দনিক ও অনিন্দ্য সুন্দর ইস্তিকলাল মসজিদ। এটি দেশটির জাতীয় মসজিদ ও স্থাপনা। ধারণ ক্ষমতার বিচারে দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মসজিদ এটি। আরবি ‘ইস্তিকলাল’ শব্দের অর্থ- স্বাধীনতা। ১৯৪৯ সালে নেদারল্যান্ড থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ইন্দোনেশিয়া। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম হওয়ায় স্বাধীনতা লাভের পরপরই সেখানে ‘ইস্তিকলাল’ নামে জাতীয় মসজিদ নির্মাণের আওয়াজ তুলে ধর্মপ্রাণ জনগণ। গণদাবির প্রেক্ষিতে এই মসজিদ নির্মিত হয়। আর নাম রাখা হয় ‘মসজিদুল ইস্তিকলাল’ তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমদ সুকর্ণ ১৯৫৪ সালে মসজিদের নকশা তৈরির দায়িত্ব দেন তৎকালীন ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ফ্রেডরিক সিলাপানকে। ডিজাইন অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়ে প্রায় ১৭ বছর চলে। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট সূকার্ণ মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসই বলে দেয় দেশটিতে মুসলিম প্রভাব কতটা বিদ্যমান। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনবহুল দেশ। যেখানে ২৭ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে বিশ্বের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটিও এই ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাসের এই দেশটিতে রয়েছে সহস্রাধিক দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপের সংখ্যা নিয়ে নানা মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক সিআইএর এক জরিপে দেশটিতে ১৭ হাজার ৫০৮ দ্বীপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামিক ব্যাংকিং ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে দেশটির অর্থনীতিতে 

 

নানা জাতি আর ভাষার বৈচিত্র্যময় দেশ ইন্দোনেশিয়া। রাজধানীর নাম জাকার্তা। এখানে ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ মুসলিম, ৮ দশমিক ৭ শতাংশ খ্রিস্টান, আর ৩ শতাংশ হিন্দু ধর্মের অনুসারী রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের দেশ। এর জীব ও উদ্ভিদ শ্রেণির মধ্যে এশীয় ও অস্ট্রেলীয় সংমিশ্রণ দেখা যায়। সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও ও বালিতে এশীয় প্রাণীদের বিচিত্র সমারোহ। এখানে রয়েছে হাতি, বাঘ, চিতা, গণ্ডার ও বৃহদাকার বানর। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বনভূমি। অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত পাপুয়ায় ৬০০ প্রজাতির পাখির বাস। পাখিদের ২৬ শতাংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দেশটির সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৮০ হাজার কিলোমিটার। দেশটির জীববৈচিত্র্যের প্রধান কারণ এই দীর্ঘ উপকূলরেখা।

নানা ভাষা ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া এই দেশটি নানা সময়ে ভিনদেশি আগ্রাসনের শিকার হলেও এর ধর্ম ও জাতির সংস্কৃতিতে তেমন কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি। দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী ইসলামের রীতি-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার কারণেই দিন দিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। ইসলামি শরিয়া মোতাবেক নিজেদের পরিচালনা করেই অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

এখানকার মুসলিমদের ধর্মচর্চায় উচ্চাকাঙ্ক্ষার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে- এ দেশের কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষ হজ সম্পাদন করা ছাড়া বিয়ের পাত্র বা পাত্রী পান না।

এখানে রয়েছে ইসলামিক অর্থনীতি ব্যবস্থার ব্যাপক অনুশীলন। যার কারণে হালাল খাবার পরিবেশন, ধর্মীয় পোশাকে ফ্যাশন, সঠিক নিয়মতান্ত্রিক বৈধ আবাসন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ভ্রমণপ্রেমী মুসলিমদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি জায়গা।

বিভিন্ন মুসলিম স্কলার ও সংগঠন অনলাইনে ধর্মীয় জীবনাচার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও দাওয়াতি কাজ করেন। ফলে ধর্মে-কর্মে উদাসীন মানুষও আস্তে আস্তে ধর্মীয় জীবনাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সার্বিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আবাসন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং খাত পর্যন্ত সর্বত্র শরিয়া পরিপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর এতে ব্যাপক সাড়াও মিলছে। কেননা ইন্দোনেশিয়ার ২১৫ মিলিয়ন মুসলিম ঐতিহ্যগতভাবেই ধার্মিক।

কোরআন শিখছে ইন্দোনেশিয়ার শিশু-কিশোররা

 

এখানে ধার্মিক লোকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থানকারী সংস্থাগুলোকে ইসলামিক ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং পদ্ধতি বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে। হোটেল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তারা দেখানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করে যে তারা খাবার ব্যবস্থাপনায় ইসলামি আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এমনকি ওষুধশিল্পে জড়িতরাও তাদের ভোক্তাদের এ কথার জানা দিচ্ছেন যে, তারা হালাল প্রক্রিয়ায় ওষুধ প্রস্তুত করছেন। বিশ্ববিখ্যাত জাপানি ব্র্যান্ড ‘শার্প’ও ইন্দোনেশিয়ায় তাদের রেফ্রিজারেটরের ওপর হালাল লেবেল লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতেও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের সুযোগ্য ইসলামি স্কলারদের নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে মেনে চলে। ইন্দোনেশিয়ার ওলামা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মারুফ আমিন ইসলামি শরিয়ায় অভিজ্ঞ আলেমদের সঙ্গে নিয়ে দেশটিতে পরিপূর্ণ ইসলামি ব্যাংকিং ও হালাল সনদ প্রবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন।

;

বার্তা২৪ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের সময় বাড়ল



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বার্তা২৪ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের সময় ৩১ জানুয়ারি (২০২২) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিযোগীরা নিবন্ধন শেষে ভিডিও পাঠাতে পারবেন।
নিবন্ধনের জন্য এই লিংকে ফরম পাওয়া যবে। নিবন্ধন শেষে এই +8801943552885 নম্বরে হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং অথবা [email protected] এই মেইলে ভিডিও পাঠাতে হবে।

দেশের জনপ্রিয় মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যম বার্তা২৪.কম-এর অনলাইনভিত্তিক এই হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে থাকবেন দেশের খ্যাতিমান হাফেজ ও কারিরা। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র।

অংশগ্রহণের নিয়মাবলী
এক. অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের হাফেজরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ইতিপূর্বে কোনো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা অংশ নিতে পারবেন না।

দুই. প্রতিযোগীকে অবশ্যই পবিত্র কোরআনের হাফেজ হতে হবে।

তিন. প্রতিযোগীকে নিবন্ধন শেষে পবিত্র কোরআনের যেকোনো জায়গা থেকে পাঁচ মিনিটের তেলাওয়াতের ভিডিও পাঠাতে হবে।

চার. আগে ধারণকৃত কোনো অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগিতার ভিডিও পাঠানো যাবে না।

পাঁচ. ভিডিও স্পষ্ট হতে হবে এবং একজন একাধিক ভিডিও পাঠাতে পারবেন না।

ছয়. ভিডিও রেকর্ডের সময় কণ্ঠ পরিবর্তনের জন্য কোনো ধরণের অ্যাপ, মাইক্রোফোন, স্পিকার, ইকো ও রিভার্ব ব্যবহার করা যাবে না।

সাত. প্রতিযোগীকে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রতিযোগীকে ছবি,পূর্ণ নাম-ঠিকানা, বয়স, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

আট. প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ও ফাইনাল রাউন্ড লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বার্তা২৪.কম এর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

নয়. প্রতিযোগিতার বিষয়ে বিচারক প্যানেল ও বার্তা২৪.কম কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

দশ. প্রতিযোগীদের পাঠানো ভিডিও বার্তার ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। সেখান থেকে বিচারকরা দশজনকে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করবেন। তাদের নিয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণদের নাম বার্তা২৪.কম-এ প্রকাশ করা হবে।

পুরস্কার
প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার নগদ ২৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫ হাজার টাকা। এছাড়া সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় পর্বে উর্ত্তীণদের জন্যও রয়েছে আর্কষণীয় পুরস্কার।

আরও পড়ুন

বার্তা২৪’র আয়োজনে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

;

নামাজে শয়তান বিঘ্ন ঘটালে করণীয়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নামাজের সময় শয়তান প্রভাব সৃষ্টি করলে, নামাজকে আরও লম্বা করা

নামাজের সময় শয়তান প্রভাব সৃষ্টি করলে, নামাজকে আরও লম্বা করা

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালে হঠাৎ তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘আউজুবিল্লাহি মিনকা, অর্থাৎ আমি তোমার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ এরপর তিনি বললেন, ‘আল-আনুকা বি লানাতাল্লাহি অর্থাৎ আমি তাকে লানত করছি, যেমন আল্লাহ লানত করেছিলেন।’ তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন।

সাহাবি হজরত আবু দারদা (রা.) এ অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, নামাজ শেষ করলে আমরা নবী কারিম (সা.)-কে বললাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা নামাজের মধ্যে আপনাকে এমনকিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে আর কোনো সময় বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম, আপনি হাতও বাড়ালেন! হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, আল্লাহর শত্রু ইবলিস (শয়তান) আমার মুখের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নিশিখা নিয়ে এসেছিল। তাই আমি তিনবার বললাম, ‘আউজুবিল্লাহি মিনকা।’ এরপর ‘আল-আনুকা বি লানাতাল্লাহি’ কথাটি তিনবার বললাম। তবু সে পিছু হটলো না। অবশেষে আমি তাকে ধরার ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সোলায়মান (আ.) যদি দোয়া না করে থাকতেন, তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকতো। আর সকালবেলা মদিনাবাসীদের শিশুরা তাকে নিয়ে খেলা করতো।’ -সহিহ মুসলিম : ১০৯৮

সকালবেলা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে বললেন, গত রাতে এক দুষ্টু জিন (শয়তান) আমার নামাজ নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহতায়ালা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছে হলো, তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখি যাতে সকালবেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলো, আমার ভাই নবী সোলায়মান (আ.)-এর দোয়ার কথা। তিনি দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য, যা আমার পরে আর কারও জন্য প্রযোজ্য হবে না।’ -সুরা সোয়াদ : ৩৫

হাদিসে ওই দুষ্টু জিনকে খিনজাব বলে অভিহিত করা হয়েছে। খিনজাব হলো, এক শ্রেণির জিন। যারা (জিনেরা) মানুষ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন তাদেরকে নানা রকম চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয় এবং নামাজের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। খিনজাব নামের এই জিনের বর্ণনা হাদিস থেকে জানা যায়। হজরত উসমান বিন আবিল আস (রা.) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শয়তান আমার নামাজ ও কেরাতের মাঝে এসে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং আমার মনে সংশয় সৃষ্টি করে। অতঃপর নবী কারিম (সা.) বললেন, এটি খিনজাব নামক শয়তানের কাজ। যখন তুমি এর প্রভাব অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং বামদিকে তিনবার থুথু (থুক্) ফেলবে। আমি তাই করলাম এবং আল্লাহতায়ালা তাকে আমার থেকে বিতাড়িত করলেন।’ -সহিহ মুসলিম : ২২০৩

তাবেয়ি হারিজ বিন কায়িস (রহ.) বলেন, ‘নামাজরত অবস্থায় শয়তান যদি তোমার কাছে এসে বলে, তুমি লোকদের দেখিয়ে নামাজ পড়ছো। তাহলে তোমার নামাজকে তুমি আরও লম্বা করে দেবে।’ -তালবিসু ইবলিস, পৃষ্ঠা ৩৮

;

ইসলামে জ্ঞান চর্চার গুরুত্ব



তাসফিয়া ইয়াসফা, অতিথি লেখক, ইসলাম
ইসলাম জ্ঞান চর্চায় মানুষকে উৎসাহ দেয়

ইসলাম জ্ঞান চর্চায় মানুষকে উৎসাহ দেয়

  • Font increase
  • Font Decrease

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। দুনিয়ায় সৃষ্টিকর্তার যত রকম সৃষ্টি রয়েছে, সবার ওপরে মানুষের স্থান। মানুষের সুবিধার্থে আল্লাহতায়ালা এত রকমের নেয়ামত দান করেছেন। তার পরিধেয় বস্ত্র থেকে নিত্য আহার্য পর্যন্ত মানুষ সৃষ্টিকূল থেকে সংগ্রহ করে। তাই মহান আল্লাহ যা বলেছেন বা যা সৃষ্টি করেছেন, এসব সম্পর্কে জানা এক প্রকার ইবাদত। যেখানে আমরা জ্ঞান অন্বেষণকে শুধুমাত্র পার্থিব জীবনে অর্থ উপার্জনের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করি, সেই জ্ঞান অর্জনকে ইসলামিক জীবনাদর্শে ফরজ করা হয়েছে। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেন, ‘ইলম (জ্ঞান) অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ।’ -ইবনে মাজাহ

জানা, জ্ঞান ইত্যাদি শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে- ইলম। ইসলামি পরিভাষায় এর অর্থ, কোনো বস্তুর প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করা। মহান আল্লাহ মানুষকে শুধুমাত্র একটি শরীর দিয়ে এই দুনিয়াতে পাঠান। পরবর্তীতে তার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের মাধ্যমে সে জীবন উপলব্ধি করতে শেখে। ভালো-মন্দের পার্থক্য, ভুল-সঠিকের পথ, সত্য-মিথ্যা সবকিছু সম্পর্কে তার ধারণা আসে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে। তাই কোনো কিছু জানার ইচ্ছাকে সমুন্নত রাখতে হবে, সচল রাখতে হবে। নবী-রাসুলদের জীবনী থেকে, হাদিস-কোরআনের বাণী থেকে দ্বীনি ইলম সম্পর্কে জানতে হবে এবং অন্যান্য বই-পুস্তকের মাধ্যমে দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মুমিন বান্দা কল্যাণ হতে কখনও তৃপ্তি পায় না। কল্যাণ অর্থ জ্ঞানার্জন এবং শিক্ষা। অতপর বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করে।’ –সুনানে তিরমিজি

যে ব্যক্তি দ্বীন-দুনিয়া সম্পর্কে জানে, সে কখনও দুশ্চরিত্রবান হতে পারে না। কারণ সে ভালো-খারাপের তফাৎ করতে জানে। সে জানে মন্দের শাস্তির ব্যপারে। একজন মূর্খ এবং একজন বিজ্ঞ কখনও এক হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলে দাও, যারা জ্ঞানী এবং মূর্খ তারা কি সমান হতে পারে?’ -সুরা যুমার

বস্তুত শেখার কোনো শেষ নেই। নানা রকম ডিগ্রী অর্জন করতে পারলে কিংবা জীবনের পঞ্চাশ-ষাট বছর কাটিয়ে দিতে পারলেই মানুষে নিজেকে মহাজ্ঞানী ভাবতে পারে না, সে জ্ঞানী হয়ও না। অনেক বিষয় সম্পর্কে জানা শেষ হলেও, প্রকৃত অর্থে মানুষ বিশাল এ সৃষ্টিজগত সম্পর্কে খুব সামান্য পরিমাণ জানার সুযোগ পায়।

তাই জ্ঞানার্জনের প্রচেষ্টা সবসময় চালিয়ে যেতে হবে। জানার মধ্যে যে আনন্দ রয়েছে, তা পৃথিবীর কোনো ধন-সম্পদ উপার্জনের মধ্যে নেই।

;