মসজিদে হারাম ও নববি চালু হচ্ছে পুরোদমে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মসজিদে হারাম ও নববি চালু হচ্ছে পুরোদমে

মসজিদে হারাম ও নববি চালু হচ্ছে পুরোদমে

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক মহামারি করোনা শুরু হওয়ার ১৮ মাস পর সৌদি আরবে শিথিল হচ্ছে করোনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থাপনা। একইসঙ্গে পুরোদমে চালু করা হচ্ছে মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববি।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের নির্দেশক্রমে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে জানানো হয়, সৌদি আরবে করোনা মহামারির হার লক্ষণীয়ভাবে কমে আসায় এবং দেশটির বাসিন্দাদের বিপুল মাত্রায় টিকা গ্রহণের কারণে রোববার (১৭ অক্টোবর) থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সতর্কতায় বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা শিথিল করা হচ্ছে।

এর মধ্যে বাইরে উন্মুক্ত স্থানে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না। তবে অফিস-আদালতে আবদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরে থাকতে হবে।

একইসঙ্গে মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববি পূর্ণ ধারণক্ষমতায় জেয়ারতকারী ও মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে মসজিদে প্রবেশে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, আগের মতোই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ইতামারনা ও তাওয়াক্কালনা অ্যাপের মাধ্যমে পবিত্র দুই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। বর্তমানে যারা করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন, তাদেরকেই মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় ছাড়াই সকল রেস্টুরেন্ট, সিনেমা হলসহ বিভিন্ন সামাজিক সমাবেশের স্থান পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথা বিবৃতিতে জানানো হয়।

একইসঙ্গে গণপরিবহনও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব ছাড়াই পুরোদমে চালুর আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে গত বছরের মার্চে সৌদি আরবে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে দেশটিতে পূর্ণ লকডাউন দেওয়া হয় এবং মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিস্থিতির অগ্রগতি হওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইসলামি সংগীত চ্যানেল হলি টিউন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইসলামি সংগীত চ্যানেল হলি টিউন, ছবি : সংগৃহীত

জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইসলামি সংগীত চ্যানেল হলি টিউন, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়।
আয় রে সাগর আকাশ বাতাস দেখ্বি যদি আয়।।
ধূলির ধরা বেহেশ্তে আজ,
জয় করিল দিল রে লাজ।
আজকে খুশির ঢল নেমেছে ধূসর সাহারায়।।’

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর গজলের একটি। এই গজলের ভাব, আবেদন ও হৃদছোঁয়া সুরে আন্দোলিত হয়নি- এমন মানুষের খোঁজ মেলা মুশকিল। কবি নজরুল বাংলা ভাষায় সার্থক বেশ কিছু গজল লিখে গেছেন, যা দেশ ও বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। নাশিদ, গজল, হামদ, নাত কিংবা ইসলামি ভাবধারার সংগীত যারা শুনেন তাদের কাছে এই গজল নিয়ে নতুন করে আর বলার কিছু নেই। তবে নজরুলের এই গজলের প্রসঙ্গ উত্থাপনের কারণ হলো, এই গজলগুলো নতুনভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইসলামি সংগীত চ্যানেল- হলি টিউন।

ইউটিউবে চ্যানেলটি কার্যক্রম শুরু ২০১৬ সালে। এখন পর্যন্ত ৭৭০টির ভিডিও তারা আপলোড করেছে। তন্মধ্যে গুণগত মান, সংগীতায়োজন, হৃদকাড়া সুর, বিষয় নির্বাচন, সমকালীনতা ইত্যাদির কারণে দর্শকদের কাছে চার শতাধিক সংগীত ব্যাকভাবে সমাদৃত হয়েছে। হলি টিউনের সর্বমোট ভিডিও দেখা হয়েছে একশ এক কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি বার। তন্মধ্যে পঁচিশটির ভিডিও দর্শকরা দেখেছেন কোটি বার।

হলি টিউনের লোগো

 

হলি টিউনের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ বদরুজ্জামান। পরিচালক হিসেবে রয়েছেন সাঈদ আহমাদ। শিল্পী হিসেবে তারাও দেশব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়। জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরব এবং বিভিন্ন ইসলামি সংগীত শিল্পীদের ইসলামি সংগীত ও নাশিদ প্রকাশ করে হলি টিউন। সংগীতের বিষয় নির্বাচনে সম-সাময়িক প্রসঙ্গকে প্রাধান্য দেওয়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাভাষী দর্শকরা হলি টিউনের সংগীতগুলো শুনে থাকেন। তাদের সর্বশেষ গজল বেকারত্ব নিয়ে ‘আমার মামু খালু নাই।’ ২১ জানুয়ারি রাতে গজলটি আপলোড করা হয়েছে। দুই দিনে ভিডিওটি দেখা হয়েছে তিন লাখ পাঁচ হাজার ২১৮ বার। এর দ্বারাই চ্যানেলটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে কিছুটা অনুমান করা যায়। আপাতত প্রতি মাসে মানসম্পন্ন চারটি ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হয় এই চ্যানেল থেকে।

ইসলামি ভাবধারার সংগীতকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় করে তুলতে হলি টিউন বিশাল ভূমিকা রাখছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘হলি টিউনের আগে এভাবে কেউ ইসলামি ধারার সংগীত নিয়ে কেউ কাজ করেনি।’ চ্যানলেটির আনুষ্ঠানিক পথ চলায় প্রথম ভিডিও ছিলো- মুহাম্মদ বদরুজ্জামানের একক কন্ঠের ‘চলার পথে’ সংগীতটি। এই চ্যানেলের সংগীতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিউ শিশু-কিশোরদের কন্ঠে গাওয়া ‘রমজানের ওই রোজার শেষে’ সংগীতটি। এর ভিউ প্রায় ৫ কোটি।

কলরবের শিল্পীরা

 

বাংলাদেশে ইসলামি সংগীত জগতে ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার নিয়ে প্রথম গোল্ডেন প্লে বাটন পাওয়া এই চ্যানেলটি পাঁচ বছরে পরিণত হয় পঞ্চাশ লাখের পরিবারে। ইতিমধ্যে চ্যানেলটি সব মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই অর্জন সম্পর্কে অনুভূতি জানাতে গিয়ে হলিটিউনের সিইও মুহাম্মাদ বদরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আল্লাহতায়ালার কাছে শোকরিয়া আদায় করছি এবং দর্শক শ্রোতাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা আমাদের কাজগুলো গ্রহণ করেছেন। ইসলামি সংগীত অঙ্গনে এ অর্জন সত্যিই বিরল। আমরা ধন্যবাদ জানাই হলি টিউনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে।’

হলি টিউনের জনপ্রিয় শিল্পীরা হলেন- সাঈদ আহমাদ, মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, আবু রায়হান, আহমদ আব্দুল্লাহ, শিশু কারী আবু রায়হান, মাহফুজুল আলম, তাওহীদ জামিল, আহনাফ খালিদ, ফজলে এলাহী সাকিব, রিফাত রহমান, জাহিদুল ইসলাম শাওন ও শিশুশিল্পী হোজায়ফা প্রমুখ।

লিরিকিস্ট হিসেবে রয়েছেন, সাইফ সিরাজ, আহমদ আবদুল্লাহ, জাফর আহমদ রাবি, রাজিব হাসান, আমিনুল ইসলাম মামুন, তাওহিদ জামিল প্রমুখ।

অধিকাংশ গানের সুর করেছেন- সাঈদ আহমাদ, মুহাম্মদ বদরুজ্জামান ও আহমদ আব্দুল্লাহ।
সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মাহফুজুল আলম ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন, ২০২১ সালের জুলাই মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। আলোচিত অনেক সংগীতের সাউন্ড ডিজাইন করেছেন তানজিম রেজা।

হলি টিউনের জনপ্রিয় কিছু সংগীত

 

উন্মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এই সময়ে ইসলামি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে ধারণ করে পথচলা হলি টিউন নিয়ে মুহাম্মদ বদরুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা অনেক আগ থেকেই স্বপ্ন দেখি, অপসংস্কৃতির বদলে সবাই একদিন ইসলামি সংস্কৃতি চর্চা করবে। ইসলামি গান শুনতে অভ্যস্ত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা অবিরাম কাজ করছি। আলহামদুলিল্লাহ, মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় আমরা অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি।’

অনেক দর্শক হলি টিউনের নিত্যনতুন সংগীতের অপেক্ষায় থাকেন। তবে মাঝে-মধ্যে তাদের সংগীতায়োজন, কথা ও দৃশ্যায়ন ইত্যাদি নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অগ্রযাত্রা অব্যাহতে রয়েছে হলি টিউনের। এটাও একটি বিরাট প্রাপ্তি ও সাফল্য।

হলি টিউনের উল্লেখযোগ্য সংগীতগুলো হলো- ঈদের গান এলো খুশির ঈদ, ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ, এলো খুশির বারাত নিয়ে শবে বারাত, আমি দেখিনি তোমায়, প্রতিবাদী সংগীত তুমি কেমন মুসলমান, মরমি গজল হারিয়ে যাবো একদিন, নাতে রাসুল হৃদয় মাঝে মালা গাঁথি, হামদ আল্লাহ আল্লাহ, আজব টাকা, সাল্লিআলা মুহাম্মাদ, ইশকে নাবী জিন্দাবাদ ইত্যাদি।

;

ইন্দোনেশিয়ার অগ্রযাত্রায় ইসলামি প্রভাব



ফারুক হোসাইন, অতিথি লেখক, ইসলাম
মসজিদে ইস্তিকলাল তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ

মসজিদে ইস্তিকলাল তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বিখ্যাত মার্ডিকা স্কয়ার। সেখানে অবস্থিত নান্দনিক ও অনিন্দ্য সুন্দর ইস্তিকলাল মসজিদ। এটি দেশটির জাতীয় মসজিদ ও স্থাপনা। ধারণ ক্ষমতার বিচারে দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মসজিদ এটি। আরবি ‘ইস্তিকলাল’ শব্দের অর্থ- স্বাধীনতা। ১৯৪৯ সালে নেদারল্যান্ড থেকে স্বাধীনতা লাভ করে ইন্দোনেশিয়া। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম হওয়ায় স্বাধীনতা লাভের পরপরই সেখানে ‘ইস্তিকলাল’ নামে জাতীয় মসজিদ নির্মাণের আওয়াজ তুলে ধর্মপ্রাণ জনগণ। গণদাবির প্রেক্ষিতে এই মসজিদ নির্মিত হয়। আর নাম রাখা হয় ‘মসজিদুল ইস্তিকলাল’ তথা স্বাধীনতা স্মারক মসজিদ।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমদ সুকর্ণ ১৯৫৪ সালে মসজিদের নকশা তৈরির দায়িত্ব দেন তৎকালীন ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ফ্রেডরিক সিলাপানকে। ডিজাইন অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়ে প্রায় ১৭ বছর চলে। ১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট সূকার্ণ মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসই বলে দেয় দেশটিতে মুসলিম প্রভাব কতটা বিদ্যমান। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম জনবহুল দেশ। যেখানে ২৭ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে দেশটিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে বিশ্বের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটিও এই ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাসের এই দেশটিতে রয়েছে সহস্রাধিক দ্বীপপুঞ্জ। দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপের সংখ্যা নিয়ে নানা মতপার্থক্য থাকলেও সাম্প্রতিক সিআইএর এক জরিপে দেশটিতে ১৭ হাজার ৫০৮ দ্বীপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামিক ব্যাংকিং ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে দেশটির অর্থনীতিতে 

 

নানা জাতি আর ভাষার বৈচিত্র্যময় দেশ ইন্দোনেশিয়া। রাজধানীর নাম জাকার্তা। এখানে ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ মুসলিম, ৮ দশমিক ৭ শতাংশ খ্রিস্টান, আর ৩ শতাংশ হিন্দু ধর্মের অনুসারী রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ব্রাজিলের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের দেশ। এর জীব ও উদ্ভিদ শ্রেণির মধ্যে এশীয় ও অস্ট্রেলীয় সংমিশ্রণ দেখা যায়। সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও ও বালিতে এশীয় প্রাণীদের বিচিত্র সমারোহ। এখানে রয়েছে হাতি, বাঘ, চিতা, গণ্ডার ও বৃহদাকার বানর। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বনভূমি। অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি অবস্থিত পাপুয়ায় ৬০০ প্রজাতির পাখির বাস। পাখিদের ২৬ শতাংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দেশটির সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৮০ হাজার কিলোমিটার। দেশটির জীববৈচিত্র্যের প্রধান কারণ এই দীর্ঘ উপকূলরেখা।

নানা ভাষা ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়া এই দেশটি নানা সময়ে ভিনদেশি আগ্রাসনের শিকার হলেও এর ধর্ম ও জাতির সংস্কৃতিতে তেমন কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেনি। দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী ইসলামের রীতি-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার কারণেই দিন দিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই দ্বীপরাষ্ট্রটি। ইসলামি শরিয়া মোতাবেক নিজেদের পরিচালনা করেই অর্থনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

এখানকার মুসলিমদের ধর্মচর্চায় উচ্চাকাঙ্ক্ষার অন্যতম প্রমাণ হচ্ছে- এ দেশের কোনো মুসলিম নারী বা পুরুষ হজ সম্পাদন করা ছাড়া বিয়ের পাত্র বা পাত্রী পান না।

এখানে রয়েছে ইসলামিক অর্থনীতি ব্যবস্থার ব্যাপক অনুশীলন। যার কারণে হালাল খাবার পরিবেশন, ধর্মীয় পোশাকে ফ্যাশন, সঠিক নিয়মতান্ত্রিক বৈধ আবাসন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ভ্রমণপ্রেমী মুসলিমদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি জায়গা।

বিভিন্ন মুসলিম স্কলার ও সংগঠন অনলাইনে ধর্মীয় জীবনাচার নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও দাওয়াতি কাজ করেন। ফলে ধর্মে-কর্মে উদাসীন মানুষও আস্তে আস্তে ধর্মীয় জীবনাচারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সার্বিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আবাসন থেকে শুরু করে ব্যাংকিং খাত পর্যন্ত সর্বত্র শরিয়া পরিপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আর এতে ব্যাপক সাড়াও মিলছে। কেননা ইন্দোনেশিয়ার ২১৫ মিলিয়ন মুসলিম ঐতিহ্যগতভাবেই ধার্মিক।

কোরআন শিখছে ইন্দোনেশিয়ার শিশু-কিশোররা

 

এখানে ধার্মিক লোকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থানকারী সংস্থাগুলোকে ইসলামিক ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং পদ্ধতি বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে। হোটেল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় তারা দেখানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করে যে তারা খাবার ব্যবস্থাপনায় ইসলামি আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এমনকি ওষুধশিল্পে জড়িতরাও তাদের ভোক্তাদের এ কথার জানা দিচ্ছেন যে, তারা হালাল প্রক্রিয়ায় ওষুধ প্রস্তুত করছেন। বিশ্ববিখ্যাত জাপানি ব্র্যান্ড ‘শার্প’ও ইন্দোনেশিয়ায় তাদের রেফ্রিজারেটরের ওপর হালাল লেবেল লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতেও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের সুযোগ্য ইসলামি স্কলারদের নির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে মেনে চলে। ইন্দোনেশিয়ার ওলামা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মারুফ আমিন ইসলামি শরিয়ায় অভিজ্ঞ আলেমদের সঙ্গে নিয়ে দেশটিতে পরিপূর্ণ ইসলামি ব্যাংকিং ও হালাল সনদ প্রবর্তনে কাজ করে যাচ্ছেন।

;

বার্তা২৪ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের সময় বাড়ল



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বার্তা২৪ হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় নিবন্ধনের সময় ৩১ জানুয়ারি (২০২২) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিযোগীরা নিবন্ধন শেষে ভিডিও পাঠাতে পারবেন।
নিবন্ধনের জন্য এই লিংকে ফরম পাওয়া যবে। নিবন্ধন শেষে এই +8801943552885 নম্বরে হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রাম এবং অথবা [email protected] এই মেইলে ভিডিও পাঠাতে হবে।

দেশের জনপ্রিয় মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যম বার্তা২৪.কম-এর অনলাইনভিত্তিক এই হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে থাকবেন দেশের খ্যাতিমান হাফেজ ও কারিরা। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র।

অংশগ্রহণের নিয়মাবলী
এক. অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের হাফেজরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ইতিপূর্বে কোনো আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা অংশ নিতে পারবেন না।

দুই. প্রতিযোগীকে অবশ্যই পবিত্র কোরআনের হাফেজ হতে হবে।

তিন. প্রতিযোগীকে নিবন্ধন শেষে পবিত্র কোরআনের যেকোনো জায়গা থেকে পাঁচ মিনিটের তেলাওয়াতের ভিডিও পাঠাতে হবে।

চার. আগে ধারণকৃত কোনো অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগিতার ভিডিও পাঠানো যাবে না।

পাঁচ. ভিডিও স্পষ্ট হতে হবে এবং একজন একাধিক ভিডিও পাঠাতে পারবেন না।

ছয়. ভিডিও রেকর্ডের সময় কণ্ঠ পরিবর্তনের জন্য কোনো ধরণের অ্যাপ, মাইক্রোফোন, স্পিকার, ইকো ও রিভার্ব ব্যবহার করা যাবে না।

সাত. প্রতিযোগীকে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় প্রতিযোগীকে ছবি,পূর্ণ নাম-ঠিকানা, বয়স, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

আট. প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় ও ফাইনাল রাউন্ড লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বার্তা২৪.কম এর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হবে।

নয়. প্রতিযোগিতার বিষয়ে বিচারক প্যানেল ও বার্তা২৪.কম কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

দশ. প্রতিযোগীদের পাঠানো ভিডিও বার্তার ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। সেখান থেকে বিচারকরা দশজনকে দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য নির্বাচন করবেন। তাদের নিয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণদের নাম বার্তা২৪.কম-এ প্রকাশ করা হবে।

পুরস্কার
প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার নগদ ২৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার ১০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫ হাজার টাকা। এছাড়া সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হবে। দ্বিতীয় পর্বে উর্ত্তীণদের জন্যও রয়েছে আর্কষণীয় পুরস্কার।

আরও পড়ুন

বার্তা২৪’র আয়োজনে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

;

নামাজে শয়তান বিঘ্ন ঘটালে করণীয়



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নামাজের সময় শয়তান প্রভাব সৃষ্টি করলে, নামাজকে আরও লম্বা করা

নামাজের সময় শয়তান প্রভাব সৃষ্টি করলে, নামাজকে আরও লম্বা করা

  • Font increase
  • Font Decrease

হজরত আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালে হঠাৎ তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘আউজুবিল্লাহি মিনকা, অর্থাৎ আমি তোমার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ এরপর তিনি বললেন, ‘আল-আনুকা বি লানাতাল্লাহি অর্থাৎ আমি তাকে লানত করছি, যেমন আল্লাহ লানত করেছিলেন।’ তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন।

সাহাবি হজরত আবু দারদা (রা.) এ অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, নামাজ শেষ করলে আমরা নবী কারিম (সা.)-কে বললাম, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমরা নামাজের মধ্যে আপনাকে এমনকিছু কথা বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে আর কোনো সময় বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম, আপনি হাতও বাড়ালেন! হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, আল্লাহর শত্রু ইবলিস (শয়তান) আমার মুখের ওপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নিশিখা নিয়ে এসেছিল। তাই আমি তিনবার বললাম, ‘আউজুবিল্লাহি মিনকা।’ এরপর ‘আল-আনুকা বি লানাতাল্লাহি’ কথাটি তিনবার বললাম। তবু সে পিছু হটলো না। অবশেষে আমি তাকে ধরার ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সোলায়মান (আ.) যদি দোয়া না করে থাকতেন, তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকতো। আর সকালবেলা মদিনাবাসীদের শিশুরা তাকে নিয়ে খেলা করতো।’ -সহিহ মুসলিম : ১০৯৮

সকালবেলা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘটনাটি সবাইকে জানিয়ে বললেন, গত রাতে এক দুষ্টু জিন (শয়তান) আমার নামাজ নষ্ট করার জন্য আমার ওপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহতায়ালা আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছে হলো, তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখি যাতে সকালবেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হলো, আমার ভাই নবী সোলায়মান (আ.)-এর দোয়ার কথা। তিনি দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে দান করুন এমন এক রাজ্য, যা আমার পরে আর কারও জন্য প্রযোজ্য হবে না।’ -সুরা সোয়াদ : ৩৫

হাদিসে ওই দুষ্টু জিনকে খিনজাব বলে অভিহিত করা হয়েছে। খিনজাব হলো, এক শ্রেণির জিন। যারা (জিনেরা) মানুষ যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন তাদেরকে নানা রকম চিন্তার মধ্যে ফেলে দেয় এবং নামাজের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। খিনজাব নামের এই জিনের বর্ণনা হাদিস থেকে জানা যায়। হজরত উসমান বিন আবিল আস (রা.) বলেন, ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, শয়তান আমার নামাজ ও কেরাতের মাঝে এসে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং আমার মনে সংশয় সৃষ্টি করে। অতঃপর নবী কারিম (সা.) বললেন, এটি খিনজাব নামক শয়তানের কাজ। যখন তুমি এর প্রভাব অনুভব করবে, তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে এবং বামদিকে তিনবার থুথু (থুক্) ফেলবে। আমি তাই করলাম এবং আল্লাহতায়ালা তাকে আমার থেকে বিতাড়িত করলেন।’ -সহিহ মুসলিম : ২২০৩

তাবেয়ি হারিজ বিন কায়িস (রহ.) বলেন, ‘নামাজরত অবস্থায় শয়তান যদি তোমার কাছে এসে বলে, তুমি লোকদের দেখিয়ে নামাজ পড়ছো। তাহলে তোমার নামাজকে তুমি আরও লম্বা করে দেবে।’ -তালবিসু ইবলিস, পৃষ্ঠা ৩৮

;